New Bengali Article 2023 | ওড়িশার পটচিত্রে ভগবতী কালী দেবী | প্রবন্ধ ২০২৩

Sharing Is Caring:
BENGALI ARTICLE
Bengali Article

ওড়িশার পটচিত্রে ভগবতী কালী দেবী [Bengali Article]

পূর্ব-ভারত শক্তিসাধনার পীঠস্থান। বিষ্ণুক্রান্তা তন্ত্রের চৌষট্টি প্রকারের সাধনা পূর্ব-ভারতে প্রচলিত রয়েছে। তন্ত্রানুসারে আদ্যাশক্তি মহামায়ার অন্যতম দশবিধ রূপ—দশমহাবিদ্যা। দশমহাবিদ্যা তন্ত্র-সাধকের নিত্য আরাধ্যা। দশমহাবিদ্যার প্রথম মহাবিদ্যা হলেন কালী, দ্বিতীয় মহাবিদ্যা তারা, তৃতীয় মহাবিদ্যা ষোড়শী, চতুর্থ মহাবিদ্যা ভুবনেশ্বরী, পঞ্চম মহাবিদ্যা ভৈরবী, ষষ্ঠ মহাবিদ্যা ছিন্নমস্তা, সপ্তম মহাবিদ্যা ধূমাবতী, অষ্টম মহাবিদ্যা বগলা, নবম মহাবিদ্যা মাতঙ্গী, দশম মহাবিদ্যা কমলা। মহাবিদ্যা দেবীদের ঘিরে এক-একটি দেবীতত্ত্ব রয়েছে। দেবী কালীকে ঘিরে রয়েছে কালীতত্ত্ব বা মহাকালীতত্ত্ব। মহাবিদ্যা দেবীদের সঙ্গে তাঁদের ভৈরবও থাকেন। একমাত্র দেবী ধূমাবতীর সঙ্গে ভৈরব থাকেন না। দেবী কালীর ভৈরবের নাম মহাকাল। দেবীর ভিন্ননাম মহাকালী। মহাকালের শক্তি মহাকালী। মহাকালীকে ছাড়া মহাকাল নিষ্ক্রিয়। মহাকালী ও মহাকাল নিত্য লীলাময়। তাঁরা শ্মশানচারী হলেও সহজেই ভক্তের হৃদয়ে বিলাস করেন। ওড়িশা প্রদেশে প্রাচীন সময় থেকে জগন্নাথকে ঘিরে পঞ্চোপসানার রীতি রয়েছে। জগন্নাথ স্বয়ং দেবী বিমলার ভৈরব। অর্থাৎ উৎকলী শৈবতত্ত্ব ও শাক্ততত্ত্ব অনুযায়ী জগন্নাথ সাক্ষাৎ শিব। মহানির্বাণ তন্ত্রসূত্রে আবার জগন্নাথ হয়ে ওঠেন দক্ষিণাকালী। ওড়িশার তন্ত্রসাধকদের নিত্য আরাধ্যা বিমলাও সাক্ষাৎ কালীময়ী। ওড়িশায় দেবী সুভদ্রাও সাক্ষাৎ আদ্যাশক্তি মহামায়ার কল্পে পূজিত হন। বর্তমান সময়ে ওড়িশা প্রদেশে দেবী কালী বিশেষ জনপ্রিয় দেবী। এই জনপ্রিয়তার প্রভাবে ওড়িশা পটশিল্পে দেবী কালীর বিশেষ উপস্থিতি দেখা যায়।

দশমহাবিদ্যা পট

তন্ত্রোক্ত মহাবিদ্যা দেবীদের পটচিত্র ওড়িশায় শাক্ত-মতাদর্শীদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। বৈষ্ণব ঘরানার দশাবতার পটের মতোই দশমহাবিদ্যা পটের একটি বড় পটে পৃথক পৃথক ঘর এঁকে তাতে এক একজন মহাবিদ্যার পট আঁকা হয়। দশমহাবিদ্যা পটে দেবীদের ক্রম যথাক্রমে— কালী, তারা, ষোড়শী, ভুবনেশ্বরী, ভৈরবী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী, বগলা, মাতঙ্গী ও কমলা। দশমহাবিদ্যা পটে প্রথম ছবিটি দেবী কালীর। ওড়িশায় মূলত কালো ও আকাশবর্ণের কালীর পট দেখা যায়। দশমহাবিদ্যা পটে আঁকা হয় শুধুমাত্র কালো বর্ণের কালী। দেবীর লোলজিহ্বা রক্তবর্ণ। দেবী দিগম্বরী। তিনি এলোকেশী, মাথায় চন্দ্রমা। তাঁর গলায় মুণ্ডমালা-রত্নমালা, কটিতে হস্তমালা। দেবীর মাথায় মুকুট ও পায়ে রত্নময় মল। কানে কখনও কুণ্ডল, কখনও শিশু দেখা যায়। দেবীর চার হাতের বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন গহনা থাকে। সাধারণও দেবীর গহনাগুলি হলুদ ও সাদা বর্ণে আঁকা হয়। দেবীর বাঁ হাত দুটিতে খড়গ ও নৃমুণ্ড থাকে। দেবীর ডান হাত দুটিতে থাকে বর ও অভয়মুদ্রা। দশমহাবিদ্যা পটে দেবী কালী ভীষণা। তাঁর উগ্ৰ বীরভাব প্রকাশিত হয়। দেবী যতটা সক্রিয়া দেবীর পদতলে শিব ততটাই নিষ্ক্রিয়। শিবের গাত্রবর্ণ সমস্ত ওড়িশা পটচিত্রেই সবসময় সাদা। ওড়িশার পটচিত্রে শিবকে বাঘছাল ও পট্টবস্ত্র উভয়ই পরতে দেখা গেলেও কালী সংযুক্ত শিব শুধুমাত্র বাঘছাল পরিধান করেন। অনুমান করা যায় বঙ্গদেশে দেবী কালীর দক্ষিণাকালী রূপের যে প্রচলন শুরু করেছিলেন শাক্তশিরোমণি কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ সেই রূপই ওড়িশার পটচিত্রে পরোক্ষে হলেও দেবী কালীর পরিপোষণ করেছে। তবে রূপগত সাদৃশ্য থাকলেও দশমহাবিদ্যা পটে দেবী কালীর শ্মশানচারী বামাকালী রূপটিই থাকে বেশি। দেবী কালীর অনেক পটেই তাঁর বাহন হিসেবে ‘শিবা’কে দেখা যায়। শ্মশানের দৃশ্য তৈরি করার জন্য কোনো কোনো পটে চিতাগ্নি ও আকাশে শকুন জাতীয় গগনচর দেখা যায়।

দক্ষিণাকালী পট

ভগবতী কালীর দক্ষিণাকালী রূপটি বঙ্গদেশ থেকে ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণাকালীর স্নিগ্ধভাব ও মাতৃভাব দেবীর ভীষণ রূপকে ধীরে ধীরে সাধক ও অসাধক উভয়ের কাছেই সহনীয় করে তুলেছে। কালীর সঙ্গে ভক্তির সম্বন্ধ স্থাপনের জন্য দেবীর দক্ষিণাকালী রূপটির প্রসারিত প্রভাব রয়েছে। বঙ্গেদেশে চৈতন্য মহাপ্রভুর সমসাময়িক সময়ে পণ্ডিত কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ দেবীর প্রত্যাদেশে দক্ষিণাকালীর প্রথম মূর্তি তৈরি করেছিলেন। দেবীর এই রূপ বঙ্গদেশে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। অনুমিত হয়, সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতাব্দীতে বঙ্গের দক্ষিণাকালী ওড়িশায় প্রসিদ্ধ হয়ে উঠেছিলেন। ওড়িশায় দেবী দক্ষিণাকালীর গাত্রবর্ণ সাধারণত কালো ও আকাশবর্ণের। দুর্গোৎসবের পরবর্তী অমাবস্যায় দেবী দক্ষিণাকালীর পূজা ওড়িশায় এখন জনপ্রিয় ধর্মচর্চা। ওড়িশায় দক্ষিণাকালীকে পুরুষোত্তম জগন্নাথের প্রকৃতিরূপ ধরা হয়। জগন্নাথও কালো, কালীও কালো। ওড়িশা পটশিল্পে দেবী দক্ষিণাকালীর পটে একটু বৈচিত্র্য দেখা যায়। এই রকমের পটচিত্রে সাধারণত দেবী কালীর স্নিগ্ধ শোভন রূপের দিকে ঝোঁক দেখা যায়। দক্ষিণাকালী পটচিত্রে দেবী কালী দিগম্বরী, সালঙ্কারা। দেবীর দক্ষিণ পদ শিবের বুক স্পর্শ করে থাকে। এখানেও দেবীর বাঁ হাত দুটিতে খড়গ ও নৃমুণ্ড থাকে এবং দেবীর ডান হাত দুটিতে থাকে বর ও অভয়মুদ্রা। শিল্পীরা দক্ষিণাকালীকে আকাশরঙে আঁকেন। দেবী কালীর এই পটটি সাধারণ গৃহস্থ মানুষের গৃহে রাখা যায়। তাই দেবী কালীর এই ধরনের পটে দেবী কালীর পিছনে সাধারণত শ্মশানের দৃশ্য প্রকাশক কোনো কিছু আঁকা হয় না। এমনকি দেবীর মুখেও লাবণ্য ও স্নিগ্ধ মাতৃভাবের প্রকাশ দেখা যায়।

বামাকালী পট

দেবী কালীর বামাকালী রূপটি তন্ত্রপ্রসিদ্ধ। বঙ্গেদেশে বামাকালী আকাশবর্ণে দেখা গেলেও ওড়িশায় দেবী বামাকালী প্রায় সবক্ষেত্রেই ঘোরবর্ণা। দেবী কালীর এই রূপটি ভীষণা, উগ্ৰা ও প্রচণ্ডা। বামাকালী পটটিই দশমহাবিদ্যা পটের কালী অংশে দেখা যায়। বামাকালী পটে সবসময় দেবীর বাঁ-পদ সামনের দিকে এগিয়ে থাকে। লোকসংস্কার রয়েছে বামাকালী পট ঘরে রাখলে নিয়মিত পূজা ইত্যাদির প্রয়োজন হয়। তাই সাধারণত গৃহস্থেরা গৃহশোভা বা ব্যক্তিগত সংগ্ৰহের জন্য এই পট বিশেষ সংগ্ৰহ করেন না। সমাজের প্রচলিত ধ্যান-ধারণা যাই থাকুক না কেন, ওড়িশার ঐতিহ্যবাহী পটচিত্রশিল্পের দক্ষিণাকালী পট ও বামাকালী পট উভয়েই স্ব স্ব শিল্পনৈপুণ্যে শ্রেষ্ঠ।

রাজসিংহাসনে বিরাজিতা কালী পট

রাজসিংহাসনে বা রাজসিংহাসনের অনুকল্পে মহাপদ্মে বিরাজিতা কালী পট ওড়িশায় বহুল প্রচলিত নয়। তবে এই রকমের পটে বেশ কিছু বৈচিত্র্য রয়েছে। রাজসিংহাসনে বিরাজিতা কালী পটে দেবী কালী আসনে বিরাজিতা। আসন থেকে তাঁর দক্ষিণপদ নেমে এসে নিচে শুয়ে থাকা শিবকে স্পর্শ করে থাকে। স্বামীর শরীরে পদস্পর্শ ঘটায় দেবী এখানেও জিহ্বা বের করে রাখেন। তবে রাজসিংহাসনে বিরাজিতা কালী পটে দেবী দিগম্বরী নন। তাঁর উগ্ৰরূপও এখানে বিশেষ প্রকাশিত হয় না। রাজসিংহাসনে বিরাজিতা কালী পটের নিচের দিকে দেবীর সঙ্গী ডাকিনী-যোগিনী মতভেদে জয়া-বিজয়াকে দেখা যায়। এঁরাও দেবীর মতো সশস্ত্র অবস্থায় থাকেন। দেবী এখানে রাজরাজেশ্বরী‌।

কৃষ্ণ-কালী পট

ওড়িশায় কৃষ্ণ-কালীর ধারণাটি এসেছে রটন্তী কালী সূত্রে। ইতিহাসের সাক্ষী এই রকমের মিশ্র পটগুলি। পূর্ব-ভারতের শাক্ত-বৈষ্ণবের দ্বন্দ্বমোচনের জন্য কৃষ্ণ-কালীর ধারণাটি সমন্বয়াদর্শকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ধ্যান করা হয়েছে। দেবীর এই রূপকে রটন্তী কালীও বলেন অনেকে। এই রকমের পটে কালীর সঙ্গে শিব থাকেন না। দেবীর এই পটে একই সঙ্গে কৃষ্ণের অনুসঙ্গ ও কালীর অনুসঙ্গ মিশে থাকে। দেবী কালীর মুখমণ্ডলে ত্রিনয়ন ও জিহ্বা যেমন প্রকাশিত থাকে তেমনই আবার পায়ের ভঙ্গিতে ত্রিভঙ্গ দেখা যায়। দেবীর হাতে বাঁশি ও অসি উভয়ই দেখা যায়। এই পটে দেবী সাধারণত পদ্মের ওপর বা রত্নসিংহাসনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকেন। দেবীর দুই দিকে যুক্তকরে শ্রীমতী রাধা ও তাঁর স্বামী আয়ান ঘোষ দাঁড়িয়ে থাকেন। পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী রাধা কৃষ্ণের মিলনে কুঞ্জে গমন করলে সেই গোপন সংবাদ রাধার ননদিনী ও শাশুড়ি মাতা আয়ান ঘোষকে জানান। আয়ান ঘোষ রাধাকে সমাজ অননুমোদিত সম্পর্কে আবদ্ধ অবস্থায় ধরে ফেলতে চাইলে তিনিও কুঞ্জ অভিমুখে যান। কুঞ্জে গিয়ে শাক্ত আয়ান ঘোষ কৃষ্ণের মধ্যেই নিজের ইষ্টদর্শন করেছিলেন। রাধা ও আয়ান ঘোষকে কৃষ্ণ কালীরূপে দর্শন দিয়েছিলেন। কৃষ্ণ-কালী পটটি একাধারে কৃষ্ণ পট ও কালী পট হলেও এটি ওড়িশায় কালীর পট হিসেবেই প্রসিদ্ধ।

জগন্নাথ-কালী পট

ওড়িশার জগন্নাথ-কালী পট অপেক্ষাকৃত আধুনিক সময়ের সংযোজন। মহানির্বাণ তন্ত্রসূত্রে জগন্নাথ দক্ষিণাকালী, বলভদ্র তারা ও দেবী সুভদ্রা ভুবনেশ্বরী। ওড়িশার দক্ষিণাকালীর মূর্তিগুলির সঙ্গে জগন্নাথের আংশিক সাদৃশ্য রয়েছে। হর-গৌরীর অর্ধনারীশ্বর পটের মতো একই শরীরের অর্ধেক জগন্নাথ ও অর্ধেক কালীও আঁকা হয়েছে। কালীর এই রকমের পট বহুল প্রচলিত নয়।

বিরাটরূপ কালী পট

নারায়ণ ও শিবের বিশ্বরূপের যেমন ধারণা রয়েছে দেবী আদ্যাশক্তিরও তেমন বিশ্বরূপের ধারণা রয়েছে। দেবী আদ্যাশক্তি ব্রহ্মাণ্ড প্রসব করেছেন। যিনি ব্রহ্মাণ্ড প্রসব করেন তাঁর বিরাটত্ব চিন্তাতীত। এই ধারণার প্রসারিত চেহারা রয়েছে বিরাটরূপ কালী পটে। এই ধারার পটগুলি দুই রকমের। এক রকমের পটে দেবী কালীর দশ মুখ, বিশ হস্ত, বিশ পদ। দ্বিতীয় রকমের পটে দেবী কালীর অজস্র মুখ, অজস্র হস্ত-পদ।

ওড়িশার বিরজাক্ষেত্রে শাক্তমতের প্রাধান্য থাকলেও সমগ্র ওড়িশায় তাঁদের স্বধর্ম অর্থাৎ ‘জগন্নাথধর্মের’ প্রভাব রয়েছে। ওড়িশায় পটচিত্র যাঁরা আঁকেন তাঁদের সিংহভাগই বৈষ্ণব। তাই তন্ত্রপ্রসিদ্ধ শাক্ত দেবীদের পট ওড়িশায় স্বাভাবিকভাবেই কম আঁকা হয়।

অভিজিৎ পাল | Avijit Pal

New Bengali Poetry 2023 | শ্রাবনী দত্ত | কবিতাগুচ্ছ

New Bengali Story 2023 | খোঁজ | কুহেলী দাশগুপ্ত

New Bengali Story 2023 | ভালো লাগে | শওকত নূর

New Bengali Poetry 2023 | সুকান্ত মজুমদার | কবিতাগুচ্ছ

writing competition | writing competition malaysia | writing competition london | writing competition hong kong | writing competition game | writing competition essay | writing competition australia | writing competition prizes | writing competition for students | writing competition 2022 | writing competitions nz | writing competitions ireland | writing competitions in africa 2022 | writing competitions for high school students | writing competitions for teens | writing competitions australia 2022 | writing competitions 2022 | writing competitions uk | bengali article writing | bangla news article | bangla article rewriter | bengali article writing format | bengali article writing ai | bengali article writing app | article writing book | bengali article writing bot | bengali article writing description | article writing example | bengali article writing examples for students | article writing for class 8 | article writing for class 9 | bengali article writing format | article writing gcse | bengali article writing generator | article writing global warming | article writing igcse | article writing in english | bengali article writing jobs | article writing jobs for students | article writing jobs work from home | article writing lesson plan | article writing on child labour | article writing on global warming | bengali article writing pdf | bengali article writing practice | Bengali article writing topics | trending topics for article writing 2022 | what is article writing | content writing trends 2022 | content writing topics 2022 | Bangla Prabandha | Probondho | Definite Article | Bengali Article Writer | Short Bengali Article | Long Bengali Article | Bangla kobita | Kabitaguccha 2022 | Galpoguccha | Galpo | Bangla Galpo | Bengali Story | Bengali Article | Shabdodweep Writer | Shabdodweep | Shabdodweep Web Magazine | Shabdodweep Writer | Shabdodweep Founder

Leave a Comment