Bangla Golpo Reading | Best Bengali Story

Sharing Is Caring:

অনাবৃষ্টির অবকাশে – নাসির ওয়াদেন

এক

ছেলেটার হাত ধরে বাড়ি থেকে বের হয়ে হাঁটছে মইতুল। ছেলে বায়না ধরেছে একটা নতুন জামার; কিন্তু এই ঈদে একটা জামা কিনে দিতে পারেনি। জামা না-কেনার গ্লানি তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। তাই, সেই উদ্দেশ্যে ছেলেটাকে সাথে নিয়ে বাজারের দিকে যাচ্ছে। তিনদিন হয়েছে মহরমের চাঁদ উঠেছে। আরবী সন শুরু হল, এ মাসের দশ তারিখ আশুরার দিন। কারবালা ময়দানে সেকি ভীষণ যুদ্ধ। ছেলেবেলায় পাড়ার সাবের চাচার মুখে কিতাব পড়া শুনতো। কত ধরণের কিতাব তার আর মনে নেই। কারবালার কাহিনী শুনতে যেত, জৈগুন্নেসা বিবির কাহিনী, সিরি-ফরহাদের প্রেমকাহিনী, হাতেমতাই, আরব্য রজনী আরো কত্ত সব। এ মাসের দশ তারিখে আরো কত্ত কী ঘটেছিল তার কথা গাঁয়ের মৌলবী সাহেব সাহানাদের বাড়িতে ওয়াজ নসিহত করার সময় বলছিল। চলতে চলতে এসব কথাই মনে আসে মইতুলের। হাঁটতে হাঁটতে চলে আর মনে মনে সে ভাবে, ‘শোকের উচ্ছ্বাস এখন কোথা? শুধুই চারদিকে হৈ-হুল্লোড়। আমোদ প্রমোদ, নাচাগানা আর ছাইপাশ গেলানো।’ এ সব দেখে দেখে, তার আর ভাল লাগে না। তবুও পাড়ার সব বাড়িতে হালুয়া রুটি, গোটাগোটা ছোলা দিয়ে খিচরি ভাত হয়। কারো কারো বাড়িতে পোলাও, বিরিয়ানিও হয়। গিন্নির শখ সরণার চাল,যা এ-মাসে ফিরিতে পেয়েছে, তাই দিয়ে শুকনো খিচুর করবে। ছেলে শুধায়, বাপ,আর কদ্দূর?

— আর একটুখানিক বাপ, তাহলেই বড়ো রাস্তা। ওখানে ইবাস পেয়ি যাব।

— শুনছ বাপ, ও পাড়ার হামিরদ্দির ব্যাটা, মনসুর, জানো ইবারের ঈদে তিন সেট জামা কিন্যাছে, হামি একটোও পায়েনি, ইবার কিন্তু হামি একটো ভাল জামা লিব বুলি দিছি। হাঁটতে হাঁটতে বলে ছেলে।
বাপ ছেলের কথায় ‘হু, হুঁ’ করে আর সামনের দিকে হাঁটে। ছেলের কথা শুনে, বাবার বুকে শ্রাবণের শিলা পাথরের কষ্ট আছড়ে পড়ে। সাত দরগা ঝেটিয়ে ছেলে পেয়েছে, এমন কপাল যি ছেলের শখ আহ্লাদ মেটানোর মতো সামর্থ্যটুকু আল্লা দেয়নি। আকালের সময়ে সংসারের অভাব ঘাড়ে চেপে বসে।

তালদীঘির পাড় দিয়ে চলার ছোট্ট সরান। মাটির রাস্তা। পঞ্চায়েতের দৌলতে কয়েক বছর আগে লালমোরাম পড়েছিল। তারপর আর কিছু নেই। অনেকদিন থেকে শোনা যাচ্ছে পি সি সি হবে। ব্যস, ওই পর্যন্ত। কথা আর এগুয়নি। ছোট কাজ বলে কোন কন্ট্রাকটর নিতে চায়নি। ওদের চোখ বড় বড় রাস্তার দিকে। ওতে মুনাফা বেশি। মুনাফা না হলে কেন বেশি টাকা ঢালবে কনট্রাক্টররা। মনে মনে ভাবে মতু আর ছেলেকে তাড়া দেয়; তাড়াতাড়ি পা চালা বেটা। বাসের টাইম হুয়ে গেল, বলে মাঝেসাঝে সূর্যির দিকে তাকায়। ছেলে এদিক ওদিক দেখছে আর হাঁটছে। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে মাঝে মধ্যে হোঁচটও খাচ্ছে।

— কি রে, চোখের মাথা খেয়াছিস, ভাল করি হাঁটতে পারছিস না।
‘ও মাগো,’ বলে ছেলেটি মাটির ওপর বসে পড়ে। পঞ্চাশ টাকায় একজোড়া প্লাস্টিকের জুতো কিনে দিয়েছিল বাবা। মজুরির পয়সা বাঁচিয়ে ছেলের আবদার মেটাতে। অবশ্যি ইস্কুল থেকে একজোড়া ফুল জুতো পেয়েছে ছেলে। ওটা কেবল ইস্কুল যাওয়ার সময় পরে। বাকি সময়ে এই কিনে দেওয়া জুতোটা পরে বেড়ায়।
— কি আবার হলো, বসে গেলি যে বাপ? বলে ছেলের পায়ের দিকে দেখে মতু। ‘আহা রে, রক্ত বেরুচ্ছে । দাঁড়া,দাঁড়া, একটু মুছি দিই।’
পকেট থেকে আধময়লা রুমালটা বের করে। দেখতে পায়, সারা রুমালের গা-গতরে কালো কালো ছোপ, ঠিক যেন ন্যাবা রোগে পেয়েছে। যখন মতু বিড়ি খায়, তখন বিড়ির পেছনটা রুমালে ভরে বিড়ি টানে। মতু বলে, ও তে নাকি বিড়ির বিষ আটকে যায়।
— হামি আর হাঁটতে পারছি না বাপ! পা ব্যথা কোরছে। জুতার ফিতাও ছিঁড়ে গেলছে। ইবার কি পরব বাপ?
মতু বিভ্রাটে পড়ে। ছেলের উদ্দেশ্যে বলে — দেখেশুনে চলতি পারো না। এদিক ওদিক তাকায় হাঁটলে তো ওমনি হোবে, চ, চ বাপধুন, আর একটু কষ্ট করি চ, তাহুলেই বড় রাস্তায় এসি য্যাবো।
ছেলে উঠে দাঁড়ায়। খোঁড়াতে খোঁড়াতে হাঁটতে থাকে সামনের বড় রাস্তার দিকে।

দুই

শ্রাবণ মাস পেরিয়ে যাচ্ছে,হাতে আর গোটা তিনদিন। আকাশে একফোঁটাও বৃষ্টি নেই। রোদের তেজ দিন দিন বাড়ছে। পৃথিবীর গতিও বেড়ে গেছে আগের তুলনায়। দিনরাতের হেরফের ঘটবে,তার ফলে ঋতুরও পরিবর্তন আসন্ন। চারিদিকের মাঠঘাট খাঁ খাঁ করছে। মাঝেমধ্যে আকাশে হালকা মেঘ দেখা দিলেও সেরকম বৃষ্টি হচ্ছে না। চাষীদের মাথায় হাত। কীভাবে সংসার চলবে। আকাল, অনাবৃষ্টি হলে, বাৎসরিক ফসল ঘরে না উঠলে ,আমন ধানের চাষ না হলে মানুষেরা খাবে কী। মাঠের ঘাসগুলোও জ্বলে পুড়ে হলুদ হয়ে গেছে। মাঠে মাঠে গোরু-মোষ,ছাগল-ভেড়া চড়ে বেড়াচ্ছে ইতিউতি। সবুজ ঘাসে প্রাণের স্পন্দন নেই, মাঠ ধূসর রঙের। পশুগুলো শুকনো ঘাস ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেলেও জল পাচ্ছে না কোথাও। মাঠের মাঝে যে দু’একটা ডোবা আছে, তাতেও জল নেই। এবছর তিল কাটার সময়ে, জ্যৈষ্ঠ মাসে বারবার বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টিতে নাজেহাল হতে হয়েছে তাকে, আর এই আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে একবারে বৃষ্টি নেই।

বড় রাস্তায় যাওয়ার ধারে ছোট সরানটার পাশে হায়দার মিঞার শ্যালো। ভক্ ভক্ করে সেই শ্যালোতে জল বের হচ্ছে, ফলে শ্যালোর আশেপাশের কয়েক বিঘে জমিতে ধান রোয়া হয়েছে। হায়দার মিঞার বিঘে দশেক জমিতে ধান রোয়া হলেও বিস্তীর্ণ জমিতে চাষ হয়নি। বীজচারাগুলো জলাভাবে হলুদ হয়ে শুকিয়ে গেছে। এদিকে আবার ইলেকট্রিকেরও ঘাটতি চলছে। তাই শ্যালোতে ঠিকমতো জল উঠছে না। দিনেরাতে তিন-চারবার করে পাওয়ার হাউস থেকে ফেজ পাল্টাচ্ছে। তাই ঠিক মতো শ্যালোও চলছে না।

আকাশের বৃষ্টির অভাবে, বিদ্যুতের ঘাটতির ফলে শ্যালোর জলও কমে গেছে। হায়দার মিঞার কিরসান লতিবকে ডেকে মিঞাজী বলছিল, দ্যাখ, লতু! শ্যালো ঠিক মতুন চলছে না, রাত জেগে জমি কয়টাতে জল দিয়ে দিস।
লতিব বলে – সে কি আর বুলতে হবে মিঞাজী । হামি তো দিনরাত শ্যালোতে পড়ি আছি। এত খাটাখাটনিতে শরীলটো কেলান্তি আর ঘুমে পেয়ে বসছে। তবু পেরাণপণ চেষ্ঠা করি যেছি, হামি ঠিক সামলাই লিবো।
— হ্যাঁ, তাই করিস। বলে বুলেট বাইকটা স্টার্ট দিয়ে ভটভট শব্দ করে চলে যায় বাজারে।

মিঞাজীর হার্ডওয়ারের দোকান আছে বাজারে। সকালের নাস্তা পানি সেরে দোকানে যান। দুপুরে এসে স্নান খাওয়া সেরে ঘন্টাখানেক বিশ্রাম নেয়। তারপর বিকেলের দিকে আবার দোকান খোলেন। মাঠঘাট কম বের হন, এই আকালের সময়ে মাঠ যেতে ভাল লাগে না কারো।
রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ছেলে বাবাকে জিগ্যেস করে :– আর কদ্দূর বাপ? আর চলতে পারছি না।
মইতুল বলে, এই তো, চলি এসি গেলছি ব্যাটা। তালদিঘিটা পার হলেই ওপারে বড়রাস্তা।
পিচ রাস্তা চলে গেছে সোজা ঝাড়খণ্ডের দিকে। দিনে রাতে হাতে গোনা কয়েকটা বাস যায় মাত্র এই রুটে। অবশ্যি বাস না পেলেও টোটো, অটোরিক্সা, ভ্যান গাড়ি পাওয়া যাবে। পথ যেতে যেতে আবার ছেলে বাবাকে প্রশ্ন করে, বাস না পেলে কীসে য্যাবা বাপ ?
ছেলের কথার জবাব দেয় বাবা : টোটো,অটো য্যাহি পাবো তাতেই উঠি পড়ব ব্যাটা।

রোদের তেজ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে দিনদিন। মাথার উপর সূর্যি, ভয়ানক গরম। ঘাড়ের উপর রাখা গামছাটা মাথায় জড়িয়ে নেয়। মুখের ঘাম মোছে, ছেলের মুখ মুছে দেয়। — আর যি চলতে পারছি না বাপ। এ্যসো, এই দিঘিটোর ছাঙ্হায় একটুখানিক জিরাং লিই।
বাবা বলে -‘ তুই যখুন বলছিস, তখুন তাহি কর। একটু জিরাং লে। পায়ের ব্যথাটো কমাছে?
— একটুকু কমাছে মুনে লাগছে। খানিকখুন পর আবার ব্যথা করছে, চিনচন করছে, বলে ছেলে।
তারপর শুধায়, বাপ! বুলছিলাম কী কার দোকানে জামা লিবা?
হামি কিন্তু কম দামের জামা লিব না, এখুনি বুলি দিছি। দখিন পাড়ার ধানাই-এর মতুন কিন্তু জামা লিব। হাঁটতে হাঁটতে কথাগুলো বলে ছেলে।

‘ঠিক আছে। ঠিক আছে। তাহি লিস’ — বলে ছেলেকে সান্ত্বনা দেয় বাবা।

তিন

শাদা পাজামা আর শাদা পাঞ্জাবী পরে, মাথায় টুপি লাগিয়ে একদল মানুষ হেঁটে যাচ্ছে কারবালার মাঠের উত্তরদিকে। ওই মাঠে এলাকার সব মুসল্লিগণ জমায়েত হবে, দুই রাকাত এস্তেস্কার নামাজ পড়বে,আল্লার কাছে হাত তুলে বৃষ্টি চাইবে। কয়েকদিন ধরে এলাকার মহল্লায় মহল্লায় সকল মসজিদের ইমাম সাহেব মাইকে ঘোষণা করেছে সকল মানুষকে সামিল হতে। বেলা ১২টার সময়ে নামাজ শুরু হবে। সেদিন জুম্মাবারে ইমাম সাহেব খুতবা পড়ার আগে ওয়াজ নসিহত করছিল, এ বছর এখনো বৃষ্টি নামছে না। আল্লার গজব নেমে এসেছে, পাপে দুনিয়া ভরে গেছে। তাই আল্লার নির্দেশে বৃষ্টি হচ্ছে না। চাষাবাদ শুরু করা যাচ্ছে না। এস্তেসখার নামাজ পড়তে হবে। তাই এখানে আজ নামাজ পড়া আয়োজন করা হয়েছে। এলাকার বিশ-পঁচিশখানা গাঁয়ের মানুষকে ডাক দেওয়া হয়েছে। কোরআনে আছে, মানুষ অত্যাচারী হলে, আল্লার নির্দেশ অমান্য করলে আল্লার দয়া দান থেমে যায়। মানুষকে সতর্ক করতেই আল্লা নাকি অনাবৃষ্টি সৃষ্টি করে।

সেদিন আসরের নামাজ শেষ করে মোসাহাবা করার সময়ে ইমামসাহেব বলছিল যে, আল্লা দয়াবান, মেহেরবানকারী। মানুষ শত অপরাধ করে তা স্বীকার করলে, কান্নাকাটি করলে সব গুনাহ মাফ করে দেয়। তাই এই বিশেষ ধরণের নামাজ পড়া খুব দরকার। আল্লার হুকুমে ‘কুন’ শব্দ থেকে সব সৃষ্টি হতে পারলে, আল্লার ইচ্ছায় বৃষ্টি হয়ে মাঠঘাট ভাসাই দিতে পারবে।

ইমামসাহেরের কথা শুনে, আলোচনা করে কারবালার মাঠে নামাজ পড়ার ডাক দেয়া হয়েছে। একখানা মাইক টোটোতে বেঁধে গাঁয়ে গাঁয়ে এলান করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকেও আসতে বলা হয়েছে, কে-জানে কার কথা আল্লা কবুল করেন। মতু এক সাদাসিধে মানুষ। দিন খাটে, দিন খায় । অতসব সাতে-পাঁচে থাকে না। খাটাখাটনি করার ফলে সব দিন জুম্মার নামাজও পড়তে যেতে পারে না।

দলে দলে লোকে নামাজ পড়তে কারবালার মাঠের দিকে যাচ্ছে। মৌলবী সাহেব সেদিন মইতুলকে বলেছিল, কি গো, মতু ভাই! তিন কাল য্যাঙ্ এক কালে ঠেকেছ, ইবার নামাজ রোজার দিকে একটু পা বাড়াও। মরার আগে পরকালের জন্য কিছু নেকী সঞ্চয় করে নাও। আখেরাতে কী জবাব দেবে। হাবিয়া দোজখে যে অনন্তকাল পুড়ে মরতে হবে।
মতু মাথা নত করে বলে, তা তো, ঠিক, ইবার থেকি চেষ্টা করব।

আজরাইল ফেরেস্তা কীভাবে আসবে, জান কবজ করে নিয়ে যাবে। নানা কথা শুনাতে থাকে মোলভী সাহেব। কোনরকম ভাবে বেরিয়ে আসে মতু মৌলভীর খপ্পর থেকে। ছেলেবেলার কথা মনে আসে মতুর। ছেলের বয়সী হবে; কিংবা দু’তিন বছরের বেশি হতে পারে। সেসময় এরকমই খরা হয়েছিল,সারা আষাঢ়-শ্রাবণ মাস জুড়ে মেঘের কোন লক্ষণ ছিল না, বৃষ্টি হয়নি। অল্পস্বল্প বৃষ্টিতে ধান রোয়া হলেও বৃষ্টির অভাবে ধানের গাছ শুকিয়ে গেছিল। মতুরা মাঠ থেকে ধানগাছ কেটে এনে ছাগল গোরুকে খাইয়েছিল। ধানের অভাবে চালের চাহিদা গেছিল বেড়ে। কালোবাজারিতে বাজার ছেয়ে গেছিল। গরীব মানুষেরা একটু ফ্যানের জন্য গেরস্তের বাড়িতে হত্যে হয়ে বসে থাকত। সেবারে গুলির আঘাতে কয়েকজনের প্রাণও চলে যায়। বাড়ির পাশে সিমরানদের বাড়িতে একটা ফিলিপ্স রেডিও ছিল। তাতে দুনিয়ার খবর পাওয়া যেত, চীন-ভারত যুদ্ধ,ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ। আরো কত দেশের যুদ্ধের কথা শোনা যেত।

মতুর বাবারা ছিল খুব গরীব। মতুর এক চাচা তার ছেলেমেয়েদের খাওয়াতে পারবে না বলে বাড়ি থেকে একদিন হাপ্যিস হয়ে গেছিল আর কোনদিন বাড়ি ফিরে আসেনি। এখন মতুর চাচাতো ভাইয়েরা সবাই ব্যবসাপাতি করে দাঁড়িয়ে গেছে। ট্রাক্টর কিনে রোজগারপাতি করছে। এসব দেখে একদিন মতুর ছেলেটা, মতুকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘বাপ! হামাদের একটো ট্যাকটোর কিনো না ক্যানে?’
মতু মনে মনে ভাবে ট্যাক্টার কেনা ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখা। ই কথা কি তার সাজে। প্রকাশ্যে বলে — হ হ ব্যাটা! তুই বড় হ, নেকাপড়া শিখি চাকরি করবি, তখুন হামরা একটো ট্রাকটর্ কিনব।

— সত্যি বলছো বাপ! আহা কী মজা হবে।
মুখখানা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে ছেলের। ছেলের মুখের লাল আভা আর উচ্ছ্বাস দেখে মতুর বুক ভরে ওঠে।
বড় রাস্তার উপর আসার আগেই হুস করে একবাসখানা বেরিয়ে গেল।
বাবা ছেলেকে বলে — যা, বাসটো চলি গ্যালো, ধরতি পারলুম না। যদি একটু পা চালাং যেতিস, তাহলে বাসখান ধরতি পারতুম। এখুন দেখি কী পায়।
ছেলের কচি মুখখানা শুকিয়ে আমচুর শুখা হয়ে গেছে। ছেলে মনে মনে ভাবে, তাহলে কি তার জামাপ্যান্ট কিনা হোবে না!

বাড়ি হতে বের হওয়ার সময়ে মীনু চাচি মতুকে পেছন থেকে ডেকে বলেছিল –ও মতু! কত্তি যাচ্ছিস বাপ! শহর যেছিস নাকি? শহর গেলি হামার লেগি দু’টাকার মিঠা পান আর খানিক সাদা আনিস তো বাছা।
মতু হাঁটতে হাঁটতে বলেছিল -‘ হ গো চাচি, শহর যেছি ছেলার লেগি লতুন জামা কিনতে, তুমার লেগি পান আনব। তুমি ভেবো না।

বাসস্ট্যান্ডের বিশ্রামাগারে গিয়ে বসে দুজনে। এই ভর দুপুরে যদি কোন যানবাহন পাওয়া যায়, অটো, টোটো যা পাবে তাতেই উঠে পড়বে বাপ-ব্যাটা। দৌড়াতে দৌড়াতে পশ্চিমপাড়ার সুজনকে ছুটে আসতে দেখে মতু। সুজন বাসস্ট্যান্ডের দিক থেকে ছুটে আসছে। সুজনকে দৌড়াতে দেখে মতু জিগ্যেস করে, হ রে, সুজন! তুই ও-রকুমভাবে ছুটছিস ক্যানে?
বড় বড় শ্বাস ফেলে সুজন বলে, আর বুলো না ভ্যাই, বাজারে খুব ঝামেলা লেগ্যাছে। দুই পার্টির লোকেদের মধ্যে মারপিট চলছে। অনেক পুলিশ, মিলিটারি পোজ এস্যাছে। বাজারে ১৪৪ জারি হলছে। পুলিশ সামনে যাকেই প্যাছে, ধরি ভ্যানে তুলি লিছে। হামি কায়দা করে বাঁকা গলি দিঙে কোনরকুমভাবে পালাঙ্ এ্যালছি। আর একটু হলেই হামি ধরা পড়ি যেতুম।

— তাহুলে কি বাজারে যাওয়া হোবে না? শুধায় মতু।
— ক্ষেপ্যাছো! জান নিয়ে পালাও এখান থেকি। পুলিশের গাড়ি এদিক ওদিক ঘুরছে। সামুনে যাকে প্যাছে, তাকেই কেস দিছে। বাঁচবা তো বাড়ি ফিরি চলো।

ছেলেটা তার বাবার মুখের দিকে একবার তাকাল। বাবাকে শুধায়, ‘হামার লতুন জামা কি কিনা হোবে না, বাপ?’
কিছুটা দূরে একখানা জীপগাড়িকে এদিকেই আসতে দেখা যাচ্ছে। সুজন দৌড় দিল গাঁয়ের দিকে। মতুও ছেলের বাম হাতটা ধরে টানতে টানতে ছোট সরানের দিকে দৌড় লাগালো।

তৃতীয় পক্ষ – নাসির ওয়াদেন

(এক)

কথায় বলে মন্দ কথা বাতাসে বয়। বাতাসের ঘন স্রোতে কর্পূরের বিকট গন্ধ মন আর শরীরকে কটু করে তোলে। পচা নর্দমার জলে হাজার হাজার ব্যাকটেরিয়া কিলবিল করে। ওদের মুখের রাক্ষুসে দাঁত চিবিয়ে খায় শিশু কিশোরের ডগডগে লালচে হৃৎপিণ্ডটা, ঝাঁঝড়া করে দেয় বুকের কাঠিগুলো আর ফুসফুসের হাপড় কাটা নলটাকে অচল করে তোলে।

রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে আছলম চাচা। প্রতিদিন ভোরবেলায় ফজরের নামাজের আগে একবার মাঠ থেকে ঘুরে আসে। কি শীত, কি বর্ষা, কোন খামতি নেই তাতে। আপেলে রঙের সূর্যটা যখন পুব আকাশের বুকে উঁকি দেয়,তার কিছুটা আগেই চাচা মাঠ থেকে ফিরে এসে ফজরের নামাজ শেষ করে। জায়নামাজে বসে মনে মনে তসবি তেলায়ত ও দু’আ পাঠ করে এবং দু’হাত তুলে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানায়। বলে, “হে পরমেশ্বর! দিন দুনিয়ার মালিক। তুমি সর্বশক্তির অধিকারী। তুমি তোমার নফর বান্দাদের সকল গুনাহ মাফ করে দাও। যাদের বুকের ভেতরে, মনের সাগরে, হৃদয়-বনে হিংসার আগুন ঝরছে, তাঁদেরও উপর জান্নাতী ঝরনার স্রোত বইয়ে দিয়ে ধুয়েমুছে পরিস্কার করে দাও।”

চাচা মসজিদ থেকে বেরিয়ে সদর রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে তার বাড়ির দিকে। এমন সময় চাচার থেকে বছর দশেক ছোট মুছলিম খাঁ ওই রাস্তা দিয়েই মাঠের দিকে যাচ্ছিল। প্রতিদিন সে ওই রাস্তা দিয়ে প্রাতঃকৃত্য করতে খোলা মাঠের দিকে যায়। আকাশের দিয়ে তাকিয়ে দেখে সূর্য উঠতে আর কত দেরি।
— চাচা পিরান হাজীর কীর্তির কথা শুনেছ? বলেই দাঁড়িয়ে পড়ে মুছলিম।
— কি আবার হলো মছু, হঠাৎ এ-কথা তোমার মুখে? বিস্ময় প্রকাশ করে বলল আছলাম।
— তোবা, তোবা, বলতেই লজ্জা। বলতে লজ্জা লাগে গো চাচা। হাজী সাহেব গত রেতে আজমীর সেখের বিটি কুলছুমকে শাদী করে বাড়িতে তুলেছে।
— কি বলছো মজু, আবার বিয়ে? তাও, ওই বাপ-মা মরা ছুঁড়িটাকে। শুনেছিলাম ওই মেয়েটা ই-বছর কেলাস টেনে পরীক্ষা দিয়েছে?
— হ্যাঁগো চাচা, তুমি ঠিকই শুনেছ। এবার তো মেট্রিক পরীক্ষা দিলো। এদিকে ওর নানী লায়েকজান বিবি চায় মেয়েটির একটা গতি হোক।তার ইচ্ছেতেই বিয়েটা–
— তা, এত অল্পবয়সী মেয়েটা সত্তরের বুড়োটাকে বিয়ে করতে রাজি হলো?
— তাই তো! অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে মজু।
— শুনেছি মেয়েটা নাকি অন্য একটা ছেলেকে ভালোবাসে। ওদের ভাব ভালোবাসা চলছে। বিয়েও করবে বলে ঠিক করে ফেলেছে ওরা।
— কিন্তু শুনেছি ছোঁড়াটা ভাল লেখাপড়া জানে না।
কেলাস টেরেন পাশই করতে পারেনি । বাবার পারিবারিক অবস্থাও ভালো না।
— তিন বছর আগেই ম্যাট্রিক ফেল করে ছোঁড়াট চেন্নাইয়ে কাজ করতে যায়। সেখানে আর পাঁচজন লোকের সাথে রাজমিস্ত্রির কাজ করে।

আছলাম চাচা একটু হতাশ হয়ে পড়ল। বাপ-মা মরা মেয়েটার জন্য একটু করুণা হয় তার। এই বিক্রমপুরে অনেক ধরণের লোকের বাস। গাঁয়ের অধিকাংশ মানুষই দিনমজুর,গায়ে খেটে সংসার চালায়। হত-দরিদ্র পরিবারের সংখ্যাই বেশি, তবে কয়েকঘর ধনী পরিবারের বাস আছে। বেশিরভাগ জমির মালিক তাঁরাই। গরীবেরা তাঁদের চাষের জমিতেই মজুর খাটে আর কিছু লোক দেশে-বিদেশে মজুর খাটতে যায়।

পিরান হাজী ধনী ব্যক্তি। তিনি একবার হজ ও তিনবার ওমরাহ করে এসেছেন। রঙ-করা কাঁচা পাকা দাঁড়িতে বেশ মানানসই লাগে। গাঁয়ের আচার বিচার তাঁকে ছাড়া হয় না। পরখ করা হয়নি, তবে সকলের মনের বিশ্বাস, হাজী সাহেব হজের নামে অনেক সোনাদানা এনেছে। তাঁর দু’দুখানা ট্রাক্টর আছে। প্রথম পত্নী সাজিদা বিবির ইন্তেকাল হলে, তিনি দ্বিতীয়বার শাহজাদপুরের গুলজার বিশ্বাসের মেয়ে সমিরুন বিবিকে বিয়ে করেন। আজ থেকে পাঁচ বছর আগে তাঁদের এই বিয়েটা হয়। হাজীর প্রথম পক্ষের একটিমাত্র মেয়ে। তার বিয়েও হয়ে গেছে। স্বামীটা কলকাতায় চাকরি করে। সেই সুবাদে তারা ছেলেপুলে নিয়ে কলকাতায় থাকে। দ্বিতীয় পক্ষের বউ সমিরুনের কোন বাচ্চাকাচ্চা নেই।‌ সন্তানহীন পিরান হাজীর বুকখানা খাঁ খাঁ করে। কত ডাক্তার, বদ্দি, কবিরাজ করেও সন্তান হলনি। হওয়ার লক্ষণও নেই, তাই কিছুদিন থেকেই তাঁর মনটা খচখচ করছে।

Mokkhada Pishi

(দুই)

পশ্চিম থেকে একজন পীর সাহেব হর বছর এই সময়ে সফরে বের হয়ে এই বিক্রমপুরে এসে উপস্থিত হন। এখানেও তাঁর অনেকজন মুরিদ আছে। গত শীতেও তিনি এসে উঠেছিলেন হাজী সাহেবের বাড়িতে। এখানে এলেই তিনি তিনদিন অবস্থান করেন, নিয়ম বলুন, রীতি বলুন, তিনি না একদিন বেশি থাকেন, না কম, গোনা তিনদিন। গাঁয়ের লোকেরা তাঁকে বুজুর্গ বলে মান্য করে, শ্রদ্ধা করে। তিনি যেদিনে বিক্রমপুর ছেড়ে চলে যান, চলে যাওয়ার দিনে তাঁকে বিক্রমপুরের গরিব লোকেরা, অসহায় মানুষগুলো নিজের নিজের বাড়ি থেকে সাধ্যমতো চাল,ডাল, আনাজ, সবজি যা থাকে তাই সেলামি দিয়ে পুণ্য অর্জন করতে চায়। আকাঙ্ক্ষার জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে পীর সাহেব সেই উপহারগুলোকে একত্রিত করে তাঁর সাদারঙের মোটরগাড়িতে তুলে নিয়ে অন্য গ্রামের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যান।

সেদিন এশার নামাজ শেষ করে সকল শিষ্যকে নিয়ে পীর সাহেব ছহীফা করতে করতে সকলকে জানান যে, তাঁর অনেক বয়স হয়ে গেছে, তিনি হয়ত আর আসতে পারবেন না। সবই আল্লাহ ইচ্ছে, তাই সকলের কাছে নতুন বার্তা দিয়ে চলে যেতে চান ।
মুরিদ ছরিফুদ্দি বলে – হুজুর, ই-কথা বুলবেন না। আল্লাহ আপনার হায়াত দারাজ করুন।
পীর সাহেব বলেন, না হে, ছরিফ! আল্লাহ হয়তো আর চাহেন না আমি আসি। শরীরও ভেঙে গেছে। নানান অসুখও বাসা বেঁধেছে এই শরীরে। হয়তো এটাই আমার তোমাদের কাছে শেষ দিদার । দর্শন বলতে পারো। আমার খেলাফতি এবার আমার পুত্রকে দিতে চাই। সেই তোমাদের নতুন হুজুর হয়ে তোমাদের কাছে আসবে ইসলামের শান্তি পতাকা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে। তোমরা তাকে উপযুক্ত মর্যাদা দিও।
উপস্থিত সমবেত মুরিদগণ একসঙ্গে বলে উঠলেন, হুজুর ! আপনি কিছুই ভাববেন না। আমরা আপনার মতই আপনার সন্তানকে,নতুন হুজুরকে যথাযথ সম্মান জানাবো।
— আমি জানতাম। আমার বিশ্বাস, তোমরা আমার কথা শুনবে, মান্যতা দেবে । আল্লাহ বলেছেন, বিশ্বাস হচ্ছে আমানতের মতো মনের বস্তু। যাদের মনে বিশ্বাস নেই, তারা কেউই জান্নাতে যেতে পারে না। কে একজন কবি বলেছিলেন যে, বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর। আমরা আল্লাহকে, আল্লাহর ফেরেশতাকে চাক্ষুষ করতে পারিনি ঠিকই; কিন্তু মনেপ্রাণে তাদের বিশ্বাস করি। এটা তো আমাদের একধরনের আনুগত্য প্রদর্শন।

সালাম, কদমবুসি করতে করতে একে একে সকলেই নিজের নিজের বাড়ির দিকে পা বাড়াতে লাগল। হাজী সাহেব এক মনে চুপ করে বসে আছেন মাটির উপর বিছানো শতরঞ্চির উপর। এতক্ষণ পীর সাহেবের আশেপাশে যারা ছিলেন তাঁরাও চলে গেলেন। সেই নির্জন কক্ষে দুজন মানুষ মুখোমুখি নিভৃতে, নিস্তব্ধ নিরালায় বসে আছেন। মোমবাতির মৃদু আলোটা বাতাসের সাথ খেলাখেলি করছে। আগরবাতি ও বিদেশী পারফিউমের গন্ধে ঘরখানি মো মো করছে। এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা এসে ঘরখানাকে নীরব ও নিরুচ্চার করে রেখেছে।
পীর সাহেব একমনে চোখ বন্ধ করে আয়েত পাঠ করছেন। চারিদিকের নিস্তব্ধতা কিছুক্ষণ আগের কোলাহলকে চিবিয়ে খেলে ফেলল, ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক ছাড়া আর কোন শব্দ শোনা যাচ্ছে না। দু’তিনটে জোনাকি পোকা বাইরের অন্ধকার মাঠ থেকে উড়ে এসে ঘরের মধ্যে পাইকারি শুরু করেছে। এক অসীম স্বর্গীয় সুধা মগ্ন-শূন্যতায় ঘরখানিকে স্বর্গীয় আনন্দে ভরে তুলেছে।

হাজী সাহেব উঠে বসলেন। তারপর হঠাৎ পীর সাহেবের পা দু’খানা চেপে ধরলেন। পীর সাহেব আতঙ্কিত হয়ে চোখ খুলে দেখে বলেন,
কি, কি করছেন হাজী সাহেব ? এরকম কেন করছেন ? কিছু বলতে চাইছেন ?
— কিছু বলতে চাই, হুজুর।। ক’দিন থেকেই মনটা আমার খচখচ করছে। বলেই কাঁদতে লাগলেন হাজী সাহেব।
হাতের উপর তাঁর হাত দুটো চেপে ধরলেন পীর সাহেব। তারপর তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি তোমার মনের কথা বুঝতে পারি গো।
হাজী সাহেব ব্যস্ত হয়ে ওঠেন, শুধালেন, কি বুঝতে পেরেছেন হুজুর?

— মনের কথা গো, তোমার মনের কথা। তোমার মনে এক অজানা প্রশ্ন বিরাজ করছে।
— ঠিকই বলেছেন হুজুর ।
— তোমার মনে খুব কষ্ট তাই না? দু-দুটো শাদী করলে। এরমধ্যে একটা তো চলেই গেল আল্লাহর রাস্তায়। একটা পুত্র সন্তান হল’না ।
— হুজুর! হুজুর!
— তোমার পুত্র সন্তানের আকাঙ্ক্ষার কথা আমি জানি। প্রায়ই আমি স্বপ্নে দেখি। বুঝি তোমার অন্তরের কথা। আমিও তো চলে যাচ্ছি, হয়তো এটাই আল্লার ইচ্ছে। আমি আর তোমাদের সাথে দিদার করতে পারব না। আমারও মনে খুব দুঃখ থেকে গেল।
— সেই দুঃখে তো আমার রাত্রে ঘুম আসেনা হুজুর। আমি বড় কষ্টে আছি।
— সব বুঝি , সব বুঝি। তবে একটা উপায় আছে?
— কি উপায় হুজুর ? দ্রুততার সঙ্গে জিজ্ঞেস করেন পিরান হাজী।
— দেখো, আমাদের ধর্মে একজন পুরুষ চারবার বিয়ে করতে পারে। চারটে বিয়ে করার অনুমতি আছে। জায়েজ আছে, তুমি বরং আবার একটা বিয়ে করো।
— হুজুর, হুজুর ! এই বয়সে আবার বিয়ে?
— তাতে কি আছে? জানো না, ৭০ বছর বয়সেও সন্তানের পিতার হওয়া যায়।
তবে একটা কাজ করতে পারো।
— কি? কি কাজ করতে হবে, হুজুর? আপনি যা বলবেন, আমি তাই করবো।
— তোমাকে কিছু খরচাপাতি করতে হবে।
— আমি রাজি আছি হুজুর, বলেই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন হাজী সাহেব।
পীর সাহেব বলেন, তুমি বরং এবার একটা খুব অল্পবয়সী কিশোরীকে বিয়ে কর,যদি আল্লাহ একবার তোমার দিকে মুখ তোলেন।
একটা দমকা বাতাস বয়ে গেল ঘরের মধ্যে দিয়ে। তারই আঘাতে মোমবাতিটার শিখাটি দপ্ করে নিভে গেল। অন্ধকার এসে পেঁচিয়ে ধরল ঘরখানাকে। কেউ কাউকে তখন দেখতে পাচ্ছে না।

Natun Bangla Galpo 2023

(তিন)

নানীকে কিছু টাকার লোভ দেখিয়ে বশ করেছেন হাজী সাহেব। নানী তার বাপমা মরা নাতনির জন্য বেশ চিন্তিত ছিল। সব মা-বাবাদের ইচ্ছে তার মেয়েকে একটা ভালো পাত্রের হাতে তুলে দিয়ে শান্তিতে যেন মরতে পারে। সেই চিন্তায় বুড়ির চোখে ঘুম আসে না। হঠাৎ হাজী সাহেবের এমন প্রস্তাব শুনে তার মনের ভেতরে একটা আনন্দের বাতাস খেলে গেল। মনে মনে ভাবল, এত ভালো উপযুক্ত বর। বুড়ো হলো তো কি হয়েছে, কুলছুম বউ হলে প্রচুর সম্পত্তির মালিক হবে। তাতে যদি কোনো রকমে একটা পুত্র সন্তান হয়ে যায়, তাহলেই কেল্লাফতে। গোটা জমিদারি তার হাতে চলে আসবে । একেবারে রাজরানী হয়ে ঠ্যাঙের উপর ঠ্যাং তুলে হুকুম জারি করবে আমার কুলছুম।

কুসুমের নানী সেদিন রাতে নাতনির মাথায় হাত বুলিয়ে নাতনিকে অনেক বোঝাল। তার ভবিষ্যতের কথা ভেবে বুড়ি এসব করছে, সেটাও বুঝিয়ে বলল। কুলছুম কিছুতেই ওই বুড়ো হাজীকে বিয়ে করতে রাজি হচ্ছে না। মেট্রিক পাশ করে আরো পড়াশোনা করতে চায়। সে চায় গরিব মেয়েরাও লেখাপড়া শিখে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক। তাছাড়া, তার তো বিয়ের বয়স হতে আরো কিছুদিন বাকি। লায়েকজানকে বলে, নানি জান! আর দু’বছর পড়ি, তারপর না হয় বিয়ের কথা ভেবো। এখন কন্যাশ্রী থেকে টাকা পাচ্ছি, বিয়ে হয়ে গেলে লেখাপড়া হবে না, আবার টাকাও পাওয়া যাবে না।

নাতনিকে অনেক বুঝায় নানী। বলে, — কুসুম মা। এমন বর পাবেনে, বুড়োর ছেলেপিলে নেই। যদি আল্লাহ তোর কোলে একটা ছেলে দেয়। তো তুই রাজারানী হয়ে যাবি। অনেক কথাতেও কুলছুম কিছুতেই বিয়ে করতে রাজি হয়না, তার মন দখল করে আছে যে, সে এখন অনেক দূরে চেন্নাইয়ে কাজে ব্যস্ত। চেন্নাই যাওবার সময় কুসুমকে বলেছিল, কুসুম! আমি ফিরে এসে তোকে কলেজে ভর্তি করব।

নানী নাতনিতে কিছুক্ষণ কথা কাটাকাটি হয়। সারারাত তাদের ঘুম আসে না চোখে। সারারাত ঘুমাতে পারে না কুলছুম। তার দু’চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরে। এমন সময় ম’জিদের মৌলবি সাহেব ও উকিল সাক্ষীকে নিয়ে ঘরের মধ্যে ঢোকেন পিরান মিঁয়া।

নাসির ওয়াদেন | Nasir Waden

2023 New Bengali Article | বাংলায় মুসলিম বিজয় ও বাংলা সাহিত্য

Natun Bangla Galpo 2023 | গল্পগুচ্ছ | কুহেলী দাশগুপ্ত

Anabasarakalina besha of Jagannath | অনবসরকালীন বেশ | অভিজিৎ পাল

Shree Jagannath Bijay Kabya | ‘শ্রীজগন্নাথবিজয়’ কাব্য প্রসঙ্গে | 2023

Short bengali story | Bengali story pdf | pratilipi bengali story | Short Stories for Children | English Stories for Kids | Moral Stories for Kids | story in english | story hindi | story book | story for kids | short story | story for girls | short story in english | short story for kids | bangla golpo pdf | Bangla golpo pdf | Bangla golpo story | bangla romantic golpo | choto golpo bangla | bengali story | Sunday suspense golpo | sunday suspense mp3 download | suspense story in hindi | suspense story in english 200 words | Suspense story in english | suspense story in english 300 words | Suspense story examples | suspense story in english 100 words | suspense story writing | very short suspense stories for students | Bangla Golpo Reading | Top Bangla Golpo Online Reading | New Read Online Bengali Story | Top Best Story Blogs | Best Story Blogs in pdf | Sabuj Basinda | High Challenger | Famous Bangla Golpo Online Reading | Shabdodweep Read Online Bengali Story | Shabdodweep Writer | Bangla Golpo Online Reading pdf | Famous Story – Bangla Golpo Reading | Pdf Bangla Golpo Reading | Bangla Golpo Reading App | Full Bangla Golpo Reading Reading | Bangla Golpo Online Reading Blogs | Best Story Blogs in Bengali | Live Bengali Story in English | Bangla Golpo Online Reading Ebook | Full Bangla Galpo online | Bangla Golpo Reading 2024 | New Bangla Golpo Reading – Episode | Golpo Dot Com Series | Bangla Golpo Reading Video | Story – Bangla Golpo Reading | New Bengali Web Story Audio | New Bengali Web Story Video | Bangla Golpo Reading Netflix | Audio Story – Bangla Golpo Reading | Video Story – Bangla Golpo Reading | Shabdodweep Competition | Story Writing Competition | Bengali Writer | Bengali Writer 2024 | Trending Bangla Golpo Online Reading | Recent Bangla Golpo Reading | Top Bangla Golpo Reading | Bangla Golpo Reading Web Story | Best Read Online Bengali Story | Read Online Bengali Story 2024 | Shabdodweep Bangla Golpo Online Reading | New Bangla Golpo Reading | Bengali Famous Story in pdf | Modern Online Bangla Galpo Download | Bangla Golpo Online Reading mp3 | Horror Adult Story | Read Online Bengali Story Collection | Modern Online Bangla Galpo mp4 | Modern Online Bangla Galpo Library | New Bengali Web Story Download | Full Live Bengali Story | Bengali Famous Story 2023 | Shabdodweep Bengali Famous Story | New Bengali Famous Story | Bengali Famous Story in pdf | Live Bangla Golpo Reading – audio | Bengali Famous Story – video | Bengali Famous Story mp3 | Full Bengali Famous Story | Bengali Literature | Shabdodweep Magazine | Shabdodweep Web Magazine | Live Bengali Story Writer | Shabdodweep Writer | Story Collection – Modern Bangla Golpo Reading

Leave a Comment