New Bangla Kobita Status | Best Bengali Poetry

Sharing Is Caring:

New Bangla Kobita Status – Subhas Narayan Basu

মেঘ ও বৃষ্টি – সুভাষ নারায়ণ বসু

মেঘবালিকারা ভেসে বেড়ায়
সুদূর ঐ আকাশের গায়
দেখবো চেয়ে ক্ষণিক বাদে
বৃষ্টি হয়ে নামবে ধরায়।
কালো মেঘে ভর করে
বৃষ্টি তুমি পড় ঝরে
পশুপাখি বৃক্ষ লতা
নেবে তোমায় আপন করে।
অতি বৃষ্টি হোয় না তবে
ভাসিয়ে দিয়ে ধরা তলে
ফসল সব নষ্ট করে
মাঠে ঘাটে জমা জলে।
মেঘলা দিনে প্রিয়া আমার
যদি চায় আসতে সব ফেলে
বৃষ্টি তুমি ক্ষণিক থেমো
তার আসার খবর পেলে।

আবেগ – সুভাষ নারায়ণ বসু

যাচ্ছ যাও এসো ফিরে
রাত্রি শেষে প্রভাত এলে
মান অভিমান সব ভুলে
ভালোবাসা পেতে হলে।
জীবন মানে এগিয়ে চলা
পিছন ফিরে না চেয়ে
চলার পথে হাতটি ধরো
আপন করে কাছে পেয়ে।
আবেগ ভরা তোমার চিঠি
পড়লো এসে আমার হাতে
কতো কথাই ভেবেছি শুধু
ঘুম হ’ল না সারাটি রাতে।
ভোরের বেলায় দেখি চেয়ে
তুমি এলে ঘরে
ভালোবাসা উজাড় করে
দিলাম তোমার তরে।

দুঃখের ডালি নিয়ে – সুভাষ নারায়ণ বসু

সুখ আর দুঃখ জীবনের অঙ্গ
কখনো আসে কখনো যায়
সুখের জন্য দুঃখকে ভুললে
অলক্ষ্যে কবিতা কোথায় পালায়।
সুখ আসে ক্ষণিকের তরে
দুঃখ থাকে জীবনভর সাথে
বহু কালজয়ী কবিতা হয়েছে সৃষ্টি
দুঃখের ডালি নিয়ে হাতে।
কবিতায় আছে সুখ দুঃখ
হাসি কান্না বিরহ বেদনা
দুঃখ ভুললে ভালো কবিতা আসে না
সত্যি বলছি বিপন্ন বিস্ময়ে মনের যাতনা।

বিষণ্ণ বিকেলে – সুভাষ নারায়ণ বসু

তোমার কাছে ছুটে এলাম
দুপুর কাটিয়ে এই বিকেলে
শুনবো বলে শ্রুতিমধুর গান
অস্তগামী জীবনে সব ফেলে।
বিষণ্ণ বিকেলে বেসুরো কণ্ঠ
মনকে কেন নাড়া দিল
এই তো প্রভাতে ভৈরবী রাগে
চনমনে সতেজ প্রাণ ছিল।
পাহাড় সমুদ্র হাতছানি দেয়
পারি না যেতে তাদের কাছে
বৃদ্ধাশ্রমে দিন গুনে যাই
আর কি বল সামর্থ্য আছে ?
বেসুরো কণ্ঠ হয়তো সুরেলা হবে
রাতের শেষে প্রভাত হলে
তখন হয়তো থাকবো না আর
যাব অচিন দেশে চলে।

আগামীর স্বপ্ন – সুভাষ নারায়ণ বসু

আগামীর স্বপ্ন দেখি
পৃথিবী হোক সুন্দর আরো বেশি
থাকবে না হিংসা দ্বেষ
মানুষে মানুষে রেষারেষি।
বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব বোধ
জাগ্রত হোক সবার তরে
ধর্ষণ নারী নির্যাতন
দূর হোক চিরতরে।
শিক্ষা জ্ঞান বিজ্ঞানে
আসুক নব জোয়ার
কুসংস্কার মুক্ত করে
খুলে দাও দুয়ার।
দূষণ মুক্ত হোক
বায়ু ও প্রকৃতি
সবুজের সমারোহে
সেজে উঠুক ধরিত্রী।
যুদ্ধ নয় শান্তি চাই
এই শ্লোগান ভালোবাসি
দুচোখ ভরে দেখতে চাই
শিশুর মুখের হাসি।

শীতের পরশ – সুভাষ নারায়ণ বসু

সব পুজো শেষ হয়ে গেল
একটি একটি করে
উদাস বাউল গান গেয়ে যায়
একতারাটি ধরে
শীতের পরশ একটু একটু করে
লেগেছে বুঝি গায়
নলেন গুড় আর খেঁজুর রস
সবাই পেতে চায়
মিঠে রোদে এলিয়ে গা
মেয়েরা উল বুনে যায়
ব্যাট বল নিয়ে ছেলেরা
ক্রিকেট খেলে আনন্দ পায়
শীতের পোশাক সোয়েটার চাদর
দিচ্ছে দেখা সবার গায়
গরিব মানুষ আগুন পোহায়
গরম পোশাক কোথায় পায়।

সুখ – সুভাষ নারায়ণ বসু

সুখ কে না চায়
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে
দুমুঠো অন্নের জন্য
যে দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনি খাটে
সেও একটু সুখের জন্য
সে সুখ হলো তার পরিবারের
সবার মুখে হাসি ফুটানো
কথায় বলে কুঁজোও চিৎ হয়ে শুতে চায়
কিন্তু সে কি তা পায়?
সে সুখের জন্য তার মনে যে অসুখ
তবু সে নিরুপায়।
সুখের কোন ব্যাপ্তি নেই
সুখের সাগরে ভেসেও কেউ কেউ তার
কূল কিনারা পায়না
মরীচিকার মতো ছুটে বেড়ায় তার পিছনে
আবার কেউ পরম সুখে দিন কাটায়
আপন কুঁড়েঘরে
যখন তার শিশুর নির্মল হাসির সাথে
ফুটো চাল দিয়ে সারা ঘরময়
চাঁদের আলো এসে মেশে।

জীবনে চলার পথে – সুভাষ নারায়ণ বসু

জীবনে চলার পথে যদি হোঁচট খাও
ভয় পেয়ো না হাতটি বাড়িয়ে দাও
তার দেখা পাও আর না পাও
সে যে আছে তোমার অন্তরে
সদা বিরাজমান
সুখে দুঃখে হাসি কান্নায়
করে নিয়ে তার স্থান
জীবনে চলার পথ বন্ধু
হয়তো এখনো অনেক বাকি
ঘুরেফিরে আবার পাবে তার দেখা
তারই প্রত্যাশায় থাকি।

ভালোবাসা – সুভাষ নারায়ণ বসু

একেই বলে ভালোবাসা
মনের কোণে জাগায় আসা
জীবন নদী পেরিয়ে যাবো
যদি পাই তার ভরসা।
মনের যত দুঃখ বেদনা
ভুলিয়ে দেয় সব যাতনা
অনাবিল আনন্দে ভরিয়ে তোলে
মনের সব বাসনা।
সবকিছুকেই লাগে ভালো
জীবনের স্রোতে পলে পলে
হাসিমুখে সব গ্রহণ করে
একেই ভালোবাসা বলে।
ভালোবাসা অসাধ্য সাধন করায়
এ এক মহান শক্তি
জীবনের অর্থ খুঁজে পায় মানুষ
সংকীর্ণতা থেকে পায় মুক্তি।

আবার নতুন করে – সুভাষ নারায়ণ বসু

ভালোবাসার রাজপ্রাসাদকে পিছনে ফেলে
অন্ধকার রাস্তায় চলেছি একা
নিরুদ্দেশের পথে
বিষন্ন মনে
বুঝিনি কখন নীরবে নিঃশব্দে
তুমি এসে ধরলে হাত
ভঙ্গ দিয়ে রণে।
এবার তুমিই দেখাও পথের দিশা
যেখানে আমরা মিলিত হবো
সব মান অভিমান ভুলে
গড়বো স্বপ্নের কুঁড়েঘর
আবার নতুন করে
ফোটাবো ফুল ভালোবাসার
রঙিন প্রজাপতিরা উড়ে আসবে
তারই তরে জানালা দিয়ে।

মন তুমি আছ – সুভাষ নারায়ণ বসু

এই আছে এই নেই
কোথা চলে যায়
পারি না ধরে রাখতে তাকে
আমি নিরুপায়।
সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হতে
লাগে না সময় অকারণ
তোমার একান্ত পছন্দের জায়গায়
নির্বিঘ্নে কর বিচরণ।
আনন্দে হও উৎফুল্ল দুঃখে বিষণ্ণ
এই তোমার ধরণ
মন তুমি আছ সবার মাঝে
জীবন মরণ।

ধরা দেবে – সুভাষ নারায়ণ বসু

জীবনটা নয়টি- ২০ খেলা
এসেই ব্যাট হাতে চালাবে
কখনও বল ছাড়তে হয়
আগে তো উইকেট বাঁচাবে।
একবার হাত সেট হয়ে গেলে
কে তোমায় আউট করবে
সুযোগ মতো মারো চার ছয়
কে আর বল ধরবে।
সংযত হয়ে আগে বেঁচে থাকো
জীবন গড়ো আপন লক্ষ্যে
প্রেম পিরিতি কাঙ্ক্ষিত বস্তু
ধরা দেবে সবার অলক্ষ্যে।

পথ শিশু – সুভাষ নারায়ণ বসু

পথে পথে ঘুরে বেড়ায় যে শিশু
ভিক্ষা পাত্র নিয়ে
তার পরিচয় কেবা জানে
হয়তো জন্মেছে ঝুপড়িতে
অথবা অজানা ফুটপাতে
ভাগ্যের নিদারুণ পরিহাসের টানে।
বিধাতা তাকে দেয়নি সুযোগ
মানুষ হবার সুস্থ পরিবেশ
শিক্ষা দীক্ষা দূরে থাকুক
জোটে না দুমুঠো ভাত দিনশেষ।
লেখাপড়া শিখে তারাও হবে মানুষ
আসবে কবে সে সুদিন
যেদিন সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেব
আমরা সবাই একদিন।

পাল্কি – সুভাষ নারায়ণ বসু

মেঠো পথে গাঁয়ের বধূ
আসছে কেমন পাল্কী চড়ে
ইতি উতি চাইছে শুধু
মুখটি তুলে ঘোমটা ধরে।
সঙ্গে যে যায় বেয়ারাগুলো
দিচ্ছে হাক হুম নারে হুম না
তাই শুনে ছুটে আসে
ছেলে মেয়ে কম নারে কম না।
এসব এখন ভাবাই যায় না
পাল্কির যুগ হয়েছে শেষ
লুপ্ত হয়েছে সমাজ জীবন থেকে
পাবে না খুঁজে দেশ বিদেশ।

প্রতীক্ষায় – সুভাষ নারায়ণ বসু

যেদিন তোমায় প্রথম দেখেছি
হৃদয়ে দিয়েছিল দোলা
তোমার স্নিগ্ধ চোখের ভাষা
আজও যায়নি ভোলা।
আমার সকল কাজের ফাঁকে
ছুটে গিয়েছি বারবার
তোমার না বলা কী সে ভাষা
জানতে চেয়েছি একবার।
জীবন জোয়ারে চলেছি ভেসে
নদীর স্রোতের মতো হায়
তবু ফিরে ফিরে আসি
বসি নির্জনে তোমার প্রতীক্ষায়।

শরৎ এসেছে – সুভাষ নারায়ণ বসু

শরৎ এসেছে মনে লাগে দোলা
পুলকিত হরষে দেখি চেয়ে
শিশিরে ভেজা শিউলি আছে পড়ে
বাড়ির উঠোন জুড়ে
নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা
মাঠে মাঠে নদীর তীরে
কাশফুলের মেলা
মাথা নাড়িয়ে হাওয়ায় দেয় দোলা
পদ্ম দীঘির জলে রাজহংস করে খেলা
খুশির ঝলক উথলে পরে এইবেলা।
চুপি চুপি বাতাস এসে
ফিসফিস করে কানে কয়
মা আসছেন মা আসছেন
আগমনীর বার্তা শুনি
আর কি কেউ চুপটি করে
আপন ঘরে বসে রয় !

একদিন না একদিন – সুভাষ নারায়ণ বসু

নিস্তব্ধ নিশুতি রাতে
আকাশের পানে চেয়ে দেখি
তারারা মিটিমিটি করে হাসে
ওদের মাঝে আছে আমার তাঁরা
যাঁরা একে একে গেছে চলে
আমাকে ছেড়ে পরবাসে
পরপারের কোন ডাক শুনে
নিয়তির ঘোর করালে
না জানি কোন অচিন দেশে।
শৈশব কৈশোরের সেই মধুর দিনগুলো
যতই চাই আসবে না আর ফিরে
হারিয়ে গেছে তা চিরতরে
যা ছিল আমার প্রিয়জনদের ঘিরে
তাই এক বিপন্ন বিস্ময় গ্রাস করে প্রতিদিন
হয়তো আমিও যাব এমনি করে
বিলীন হয়ে ঐ আকাশে
তাদের মাঝে একদিন না একদিন।

পথের সন্ধান – সুভাষ নারায়ণ বসু

সবকিছু হারিয়ে আজ তুমি এসে
দাঁড়িয়েছ পথে
অজানা অচেনা মানুষের ভিড়ে
দিশেহারা মনে
খুঁজে পেতে পরশপাথর
শূন্য এ জীবনে।
পূর্ণিমা রাত ঝলমলে জ্যোৎস্না
সবই ছিল একদিন ঘরে
ভাগ্যের দোষে জানিনা কার রোষে
হারালে তা চিরতরে।
বেঁচে থাকার তরে জানিনা কবে
এ তামসী-রাত্রির হবে অবসান
নতুন প্রভাতে আশার আলোয়
মিলবে পথের সন্ধান।

কবিতা হয়ে – সুভাষ নারায়ণ বসু

চাঁদ ফুল পৃথিবী নিয়ে
কবিতা লেখা আর নয়
এবার এসে দাঁড়াও অসহায় মানুষের পাশে
তাদের সুখ দুঃখ হাসি কান্নায়
সমৃদ্ধ হোক তোমার লেখনী
তাদের প্রেম পিরিতি ভালোবাসা
মনের কোনে একটু আশা
জীবন সংগ্রামে বেঁচে থাকার
মূলমন্ত্র ও প্রেরণা
ঝরে পড়ুক তোমার কলমে
দেখাক পথের দিশা
কবিতা হয়ে বিশ্ব-মাঝারে।

মেঘবালিকা – সুভাষ নারায়ণ বসু

মনের হরষে শারদ আকাশে
মেঘবালিকারা যায় ভেসে
দুষ্টুমি করে কখনো আবার
স্নান করিয়ে দেয় নিমেষে।
পালিয়ে যায় হেসে হেসে
সোনালী রোদকে ভালোবেসে
আবার আমরা আসবো ফিরে
চুপি চুপি কয় কানে এসে।
ভিজে যায় চুল, শিউলি ফুল
গন্ধ ছড়ায় বাতাসে
মাথা দোলায় সাদা কাশফুল
ঐ বুঝি মা মর্তে আসে।

সারাটি জীবন ধরে – সুভাষ নারায়ণ বসু

হাজার কাজের ভিড়ে
সময় হয়নি তোমার
একবার দেখে যাওয়া
এ অভাগার তরে।
তাইতো মেঘদূত হয়ে
ভেসে বেড়াই বাতাসে
বিরহের চিঠি নিয়ে
তোমারি ঘরে।
যদি চোখে পড়ে তা
খুলে দেখো একবার
বসি বাতায়নে
সকলের অগোচরে।
মনের কোনে দেবে উঁকি
আমার করুণ মুখখানি
নয়ন থেকে পড়বে বারি
আমার চিঠির ‘পরে।
ছুটে যদি আস তবে
দেখবে সে আছে বসে
তোমার পথ পানে চেয়ে
সারাটি জীবন ধরে।

প্রতীক্ষায় হই বিভোর – সুভাষ নারায়ণ বসু

সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে
আমি তখন আকাশ পানে চেয়ে
স্বর্গ মর্ত পাতাল খুঁজে বেড়াই
একটুখানি সুখ আর শান্তির জন্য।
জানি পৃথিবীতে আজ তা দুর্লভ
ক্ষণিক সুখ যদি বা মেলে
শান্তি থাকে অধরা
অশান্তির বাতাবরণ সৃষ্টি করে
পথে ঘাটে সর্বত্র ঘুরে বেড়ায়
মনুষ্যত্বহীন মানুষ রূপী
দানব পিশাচেরা হয় অমানুষ
হায়নার মতো লোলুপ দৃষ্টি
বুঝি ধ্বংস করে দেবে
সমস্ত সুন্দর জিনিসকে
দলে পিষে দেবে
সভ্যতার শুভ নিদর্শন
তবু জানি তামসী রাত্রির সমাপ্তিতে
আবার হবে ভোর
নতুন প্রভাতে রবির কিরণে
খুলবে সবাই দোর
চেতনায় হানবে আঘাত
শুভবুদ্ধি জাগ্রত হয়ে
মানুষ আবার মানুষ হবে
তারই প্রতীক্ষায় হই বিভোর।

শীতের দুপুরে – সুভাষ নারায়ণ বসু

শীতের দুপুরে অলস বেলায়
মিঠে রোদে গা এলায়
বয়সের ভারে অতিক্রান্ত
প্রবীণ প্রবীণা অবহেলায়।
মহিলারা খাবার শেষে
উল নিয়ে বসে এসে
উল কাটা দিয়ে বুনে যায়
প্রিয়জনের সোয়েটার ভালোবেসে।
মনের সুখে বিড়ি টেনে
পুরুষেরা তাস খেলে
আড্ডা মারে যুবকেরা
একটুখানি সুযোগ পেলে।
কচিকাঁচারা ব্যাট বল নিয়ে
দল বেঁধে যায় ছুটে
এক চিলতে ফাঁকা জায়গায়
ক্রিকেট খেলে আনন্দ লুটে।

বনভোজন – সুভাষ নারায়ণ বসু

বনভোজন বনভোজন
সবারই মেতেছে মন
মিঠে রোদে খুশির ঝলক
আনন্দে ভরপুর জীবন।
শীতের পরশ লাগলে গায়ে
ছুটির দিনে পায়ে পায়ে
দল বেঁধে চললো সবাই
সঙ্গে হাতা খুন্তি হাঁড়ি কড়াই।
সারাদিন ছুটোছুটি
আনন্দে মাতামাতি
খেলার ছলে কখনো
করে না হাতাহাতি।
মিলেমিশে সকলে
কতকিছু রান্না
ঝাঁঝ ঝালে চোখে জল
মনে হয় কান্না।
মাছ মাংস মণ্ডা মিঠাই
আর বল কী চাই
নিজেদের রান্না নিজেরাই খাই
ভালো মন্দ সবেতেই তৃপ্তি পাই।
একসাথে ভোজনে
কী নিদারুণ সুখ
বুঝবে না কোনদিন তারা
যারা হয়েছে বিমুখ।

খুঁজে পেতে – সুভাষ নারায়ণ বসু

হারিয়ে যাওয়া সে দিনগুলিতে ছিল
প্রেম প্রীতির মধুর সম্পর্ক
যা আস্বাদন করেছি হৃদয় দিয়ে
জুড়িয়েছি দু’নয়ন
ভালোবাসার অনুভূতি দিয়ে
প্রকাশ করেছি তার রূপ রস গন্ধ
রঙিন খামে মোড়া আবেগ মাখানো
চিঠির মাধ্যমে
যা হাতের উষ্ণতা পেয়ে
বিচরণ করিয়েছে স্বপ্নের জগতে
না জানি কোন মায়াবী লোকে
স্বর্গের নন্দন কানন থেকে
পারিজাতকে খুঁজে পেতে।
কালের স্রোতে ভেসে গিয়ে
খুঁজে ফিরে দেখি চেয়ে
প্রেম প্রীতির সন্ধানে নিমগ্ন আছে সবাই
ফোন কলমের বন্ধনে।

স্নেহের পরশ – সুভাষ নারায়ণ বসু

একটু স্নেহের পরশ দিও
বঞ্চিত যারা তাদের তরে
পথশিশুরা পায়নি স্নেহ
পথে পথে ঘুরেই মরে।

শিক্ষা দীক্ষা পায়নি কিছু
স্কুলের গেটে দাঁড়িয়ে থাকে
ভিতরে ঢোকার নেই অধিকার
শিক্ষা তাদের আড়ালে থাকে।

কাছে ডেকে নাও যদি তাদের
বাড়িয়ে দাও হাতটি তোমার
স্নেহের পরশে তারাই একদিন
রাখবে মান দেশের আমার।

ভিক্ষা নয় দান নয়
শুধুই একটু স্নেহের পরশ
দিতে পারে বঞ্চিত মানবেরে
অনাবিল আনন্দ আর হরষ।

তোমার রঙে রঙ মিলাতে – সুভাষ নারায়ণ বসু

তোমার রঙে রঙ মিলাতে কতো বসন্ত গেল হায়
পারিনি তবু তেমন করে যেমন সকল মানুষ চায়
ফাগুন আগুন লাগে মনে দেয় দোলা
কোকিলের কুহু ডাক শুনি দুবেলা ।
ওরে তোরা চেয়ে দেখ বসন্ত এসে গেছে
ফুলে ফুলে সুশোভিত প্রকৃতি নবরূপে সেজেছে
হাতছানি দেয় লালে লাল পলাশ মহুয়ার স্পর্শ
রঙে রঙে রাঙাতে উঁকি দেয় ঐ দেখ কারা
সানাইয়ের করুণ সুর শুনবো নাতো আর
এইতো এসেছে পরম লগন ভালোবাসা বিলিয়ে দেবার
লাল মাটির পথ দিয়ে যেতে যেতে দেখি চেয়ে
লাল ফুল মাথায় গুঁজে আদিবাসী রমণী
হাতে হাত ধরে চলেছে আপন মরদের সাথে
যেন দুটি প্রেমের কুসুম প্রকৃতির মাঝে ঘোরেফেরে
বসন্ত তুমি যেওনা চলে হৃদয় দুয়ার দিয়েছি খুলে
তোমার রঙে রঙ মিলাতে রঙিন সব ফুলে ফুলে ।

রাঙিয়ে তোলো – সুভাষ নারায়ণ বসু

নব বসন্তের ডালি নিয়ে এসেছে ফাগুন
চারিদিকে রঙের বাহার
সেজেছে অপরূপ সাজে প্রকৃতি
হৃদয়ে জাগিয়ে দোলা
তোমার রঙে রঙ মেলাতে আমার যায় সারা বেলা
এসো রঙ খেলি এইবেলা ।
পলাশ মহুয়া লালে লাল হয়ে
হাতছানি দেয় রাঙিয়ে দিতে
মুঠো মুঠো আবির ছড়িয়ে দিয়ে
হোলির আনন্দে একটু মেতে
এসো রঙ খেলি মনের সব বিষাদ ঘুচিয়ে দিয়ে
পরস্পরকে আরো কাছে পেতে ।
চেয়ে দেখ আকাশ কেমন রঙে রঙে সেজেছে
মলয় বাতাস ধরণীর বুকে বইছে
রঙিন প্রজাপতি রঙিন ফুলে উড়ে উড়ে এসে বসেছে
কোকিলের কুহু ডাকে মনও আনন্দে মেতেছে
আপনাকে বন্দি করে রেখো না আর
খুলে দাও তব বন্ধ দুয়ার
রঙের এই উৎসবে এসো রঙ খেলি
নিভৃতে নিরালায় নয় সকলের মাঝে
সবার রঙে রাঙিয়ে তোলো আপনাকে নব সাজে।

ভালোবাসার বন্ধনে – সুভাষ নারায়ণ বসু

দেখতে দেখতে পঁয়ত্রিশটা বছর অতিক্রান্ত হ’ল
তোমার আমার গাঁটছড়া বাঁধনের
কতো সুখ দুঃখের সাক্ষী থেকে
আজও আমরা চলেছি হাতে হাত ধরে
পায়ে পা মিলিয়ে
জীবন সংগ্রামের অভীষ্ট লক্ষ্যে
তাই থামার নেই অবকাশ
এমনি করে যেন চলতে পারি
আরো দীর্ঘ বছর মাস ।
কতো বসন্ত পেরিয়ে গেছে
কতো মধুর স্মৃতি আজও মনে দেয় দোলা
গঙ্গার বুক দিয়ে জল যতই বয়ে যাক
জীবন সায়াহ্নে তা যায়না কভু ভোলা ।
দুঃখ কষ্ট এসেছে যা
হাসি মুখে নিয়েছি বরণ করে
ভরসা দিয়ে ছিলে পাশে
শক্ত করে হাতটি ধরে ।
জীবন মানে এগিয়ে যাওয়া
থেমে থাকা নয়
হাজার কাজের ভিড়েও যেন
মেলে তার পরিচয় ।
প্রেমময় জীবনে শত দুঃখ গ্লানি
দূর করে দিয়েছি পাড়ি
কতো সাগর নদী দুজনে
আমরা আর আমাদের পৃথিবীতে
রচেছি স্বর্গ সুখ
নিবিড় ভালোবাসার বন্ধনে ।

হৃদয় আকাশে – সুভাষ নারায়ণ বসু

রাতের বেলায় আকাশ বলে
আমার পানে চেয়ে চেয়ে
শুধুই খুঁজে বেড়াও কাকে
হাজার হাজার তারার মাঝে
আর কি তুমি পাবে তাকে
হারিয়েছ ওগো বন্ধু যাকে ।
প্রভাতের সূর্য বলে দিনের আলোকে
মিছেই থেকো না চেয়ে আকাশের পানে
আমার আবির্ভাবের তরে ঢাকা পড়ে গেছে
সব তারারা ঐ মহাকাশে ।
তেমনি তোমার তারাও আছে
কোথাও হারায়নি তোমার থেকে
লোকচক্ষুর অন্তরালে করছে বিরাজ
তোমার হৃদয় আকাশে ।

চেতনায় নজরুল – সুভাষ নারায়ণ বসু

যে বুকে ছিল বিদ্রোহের আগুন
দেখেছি সেথায় প্রেমেরও বন্যা
কবিতা আর গান হয়ে তাই
তোমার লেখনীতে তারা হয়েছে অনন্যা ।
কতো দুঃখ কষ্টে কেটেছে শৈশব
তাই বুঝি তুমি দুখু মিঞা
যুদ্ধক্ষেত্রেও গিয়েছো ছুটে
সৈনিকের বেশে ভুলে আপন হিয়া
নিপীড়িত মানুষকে শুনিয়েছ সাম্যের গান
জাতের নামে বজ্জাতি ঘুচিয়ে
গেয়েছো মানুষের জয়গান ।
সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ দূর করে
শুনিয়েছ মহামিলনের সেই অমৃত বাণী
মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম
হিন্দু মুসলমান
হাতে হাত ধরে এগিয়ে চলো
ভুলে মান অভিমান ।
এক অব্যক্ত যন্ত্রণা নিয়ে কোন অভিশাপে
বিধির বিধানে হয়ে গেলে নিশ্চুপ
স্তব্ধ হ’ল তব লেখনী বাকশক্তি হ’ল বিলুপ
কবিতা ও গানে আজও তুমি আছ
নয়নের মণি হয়ে
যুগ যুগ ধরে আমাদের কাছে
থাকবে অমর হয়ে ।
অগ্নিবীণায় ঝংকার তুলে
ভেঙেছো মনের ভুল
তোমার সৃষ্টি তোমার সুর
চেতনায় নজরুল ।

সভ্যতার উন্মেষ – সুভাষ নারায়ণ বসু

পাথরে পাথরে ঠোকাঠুকি
বিজ্ঞানের জয়যাত্রা
সভ্যতার উন্মেষ
জ্বললো আগুন।
সেই আগুন সবার বুকেই জ্বলছে
সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ে
পরস্পরের ঠোকাঠুকিতে
যা লেগে আছে প্রতিনিয়ত
পথে ঘাটে সর্বত্র
অজ্ঞানের আড়ালে
অসভ্যতার চূড়ান্ত
সভ্যতার অবক্ষয়।
অথচ সভ্যতার মুখোশ পরে
উলঙ্গ মনে ঘুরে বেড়ায়
অর্বাচীন একদল নরনারী
বিশ্বময়।
আর তাদেরই জন্য নামাবলী গায়ে
উদার মুক্ত পবিত্র মনে
শান্তির বাণী মৈত্রীর বাণী
শোনায় কারা
আমাদের এক তপোবনে।

আগমনীর সুর ছন্দে – সুভাষ নারায়ণ বসু

কাশফুলের সমারোহে আর
শিউলি ফুলের গন্ধে
আকাশ বাতাস মুখরিত হয়
আগমনীর সুর ছন্দে ।
মা আসছে ঐ দেখ চেয়ে
থাকিস না আর বন্ধ ঘরে
দুঃখ যন্ত্রণা ভুলে গিয়ে
সাজা বরণ ডালা তার তরে ।
বল মাকে চরণ ধরে
আর রেখো না এমনি করে
আনন্দময়ী মা তোমার বরে
সুখ আসুক সবার জীবন ভরে ।
ভুলে যাই লেখাপড়ার গল্পগাথা
কাজকর্মে কতোই বাধা
প্রেম বিরহে ব্যকুল কতো রাধা
শুধু ঘরে বসে গায় সারেগামাপাধা ।
মিলনের মহাযজ্ঞে দেখ চেয়ে
বাজে বিষাদের সুর
তোমার আগমনে হোক অবসান
এই ভয় ভীতি দূর ।
প্রকৃতির অপরূপ শোভার সাথে
দেখতে সবাই ভালোবাসি
নতুন জামা কাপড়ে ছুটোছুটি করা
ছোট ছেলেমেয়েদের মুখের হাসি ।

হারিয়ে গেছে – সুভাষ নারায়ণ বসু

হারিয়ে গেছে পোস্টকার্ড আজ
মানব জীবন থেকে
কিন্তু হারায়নি তার স্মৃতি।
আজও হৃদয় থেকে।
পোস্টকার্ডে লেখা আশীর্বাদ মাখা
মায়ের ছোট্ট সে চিঠি
আজও উষ্ণতা পায় আমার হাতে
যতই বাতিল হোক তা
সরকারি আদেশ নামাতে।
গরিবের বন্ধু হয়ে থেকেছো পাশে
যোগাযোগে চিরকাল
সেই মধুর স্মৃতি থেকে বঞ্চিত হয়েছে
তারা আজকাল।

চির নবীন – সুভাষ নারায়ণ বসু

রাতের আকাশের পানে চেয়ে
কতো রাত কাটিয়েছি তারা গুনে
বিস্ময় প্রকাশ করা ছাড়া
তুমি কী করবে তা শুনে।
স্বপ্নের ভেলায় চেপে মহাকাশ মহাশূন্যে
পাড়ি দিয়েছি মনে মনে
তারারা মিটি মিটি হেসে
কী যেন বলেছিল কানে কানে।
হয়তো বলেছিল মহাগগনে আমরা অগুনতি
আমাদের শেষ নেই
তোমাদেরও আশা আকাঙ্ক্ষা চাওয়া পাওয়ার
সীমা পরিসীমা নেই।
মিছে একরাশ ভাবনায় কাটাও সারাদিন
দেখ, গাছে গাছে ফুল ফোটে এখনো প্রতিদিন
জীবন সংগ্রামে থেকো না উদাসীন
মুক্ত করো আপনাকে থাকো চির নবীন।

আনন্দময়ী মা – সুভাষ নারায়ণ বসু

তোরা দেখ না চেয়ে মা এলো যে দুয়ার আলো করে
রইবো কি আর মনের দুঃখে এখনো আপন ঘরে ?
দুঃখ গ্লানি সব ভুলে আজ এই শরতের দিনে
নিয়ে আয় বরণ ডালা সাজিয়ে ফুল চন্দনে ।
অঞ্জলি দেব মায়ের চরণে কাতর প্রার্থনা নিয়ে
দূর করো সব অনাচার তোমার দশ হাত দিয়ে ।
বলবো মাকে ছেয়ে গেছে আজ মহাপাপেতে ধরণী
এ লগণে প্রকাশিত হও তুমি মা জগৎ জননী ।
আতঙ্কবাদী অসুরকে দিও মা তুমি সাজা
সব ভুলে তবে এই শরতে করবো তোমার পূজা ।
আগমনী তুমি দুর্গা তোমার পুণ্য আশীষ আলোকে
বিশ্ববাসীকে দাও আনন্দ সোনালী রোদের ঝলকে
আনন্দময়ী অসুর দলনী তুমিইতো মা মহামায়া
দূর করো সব ভয়ভীতি আর অশান্তির কালো ছায়া ।

সিঁদুর খেলা – সুভাষ নারায়ণ বসু

দশমীতে বিবাহিত রমণীরা
দেবী দুর্গাকে বরণ করে
পানপাতা , ধান দূর্বা ও মিষ্টি
আর সিঁদুর নিয়ে থালায় ধরে।
সিঁদুর নিয়ে মঙ্গল কামনায়
দুগ্গা মায়ের বিদায় কালে
এয়োরা সব সিঁদুর খেলে
পরস্পরকে রাঙিয়ে গালে।
বাপের বাড়ি কাটিয়ে পুজোর কদিন
উমা যাবে শ্বশুর বাড়ি
বিসর্জনের বাজনা বাজে করুণ সুরে
মায়ের মুখ যে বিষন্ন ভারি।
আসছে বছর আবার আসবে মা
তবু অজানা অমঙ্গলের ভীতি
দশমীতে বিদায় বেলায় বুঝি
তাই এ সিঁদুর খেলার রীতি।

যতই বাধা আসুক – সুভাষ নারায়ণ বসু

শিউলি আর কাশফুলের সমারোহে
শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা
বাতাসে পুজো পুজো গন্ধ আসে ভেসে
তোমার আমার উৎসবের মেলা।
কাশফুল মাথা দোলায়
ঝরা শিউলির গন্ধে
উৎসব তোমার আমার
এক অনাবিল সুর ছন্দে।
মুক্তা সম শিশির বিন্দু
ঘাসের ডগায় শোভা পায়
আগমনীর সুর বেজে ওঠে যেই
সবাই সুখ শান্তি চায়।
উৎসব তোমার আমার
আনন্দের বার্তা দিয়ে যায়
রইবো না কেউ ঘরে বসে
যতই বাধা আসুক তায়।

দেওয়ালি এলেই – সুভাষ নারায়ণ বসু

দেওয়ালি এলেই আলোর রোশনাই
পরিবারে আতসবাজির চাহিদা তাই
নানান রকমের আতসবাজি
ছোট বড় সবার চাই।
ফুলঝুরি, তারাবাতি আর রঙমশালে
দেখি ছোটদের মুখের হাসি
চরকি, রকেট ও তুবড়ি ছাড়তে
পরিবারের বড়রা ভীষণ ভালোবাসি।
শব্দবাজি ছেলেদের খুবই প্রিয়
কিন্তু এখন দিতে লাগে ভয়
ফানুস উড়িয়ে কেউ কেউ আবার
বুঝি করতে চায় বিশ্বজয়।
ঘুরছে চরকি উঠছে রকেট
তুবড়ির ঝারে আলো ঝরে
শব্দদূষণ এড়িয়ে সবাই
বোম পটকা বয়কট করে।
ভূত চতুর্দশীতে ভূতেরা যখন
অন্ধকারে নৃত্য করে
অন্ধকার দূর করতে মেয়েরা তখন
প্রদীপ জ্বালায় তারই তরে।

তোমাকে পেয়ে – সুভাষ নারায়ণ বসু

মনে হয় যেন একটু একটু করে হারিয়ে যাচ্ছি
তোমার ভালোবাসায় অতলে তলিয়ে যাচ্ছি
ফিরে আসার সব দ্বার রুদ্ধ।
আমার শৈশব কৈশোরের প্রথম ভালোলাগা
যৌবনের কাঙ্ক্ষিত একান্ত ভালোবাসা
বার্ধক্যের দোড়গোড়ায় তোমাকেই আঁকড়ে ধরে
আমার বেঁচে থাকার প্রেরণা পাই
স্বর্গ বা নরক যেখানেই হোক
আমি তোমাকেই চাই।
আমার হাত ধরে নাইবা এলো
তোমার কোন স্বীকৃতি
তবু এ জনমে আমার কাছ থেকে
নেই তোমার নিস্কৃতি।
তুমি হাতছানি দিয়ে ডাকলে
আমার পাশে পাশে থাকলে
জীবনের অর্থ খুঁজে পাই
জীবনের গান গেয়ে
তোমাকে কাছে পেয়ে।

ফোটে হাসি – সুভাষ নারায়ণ বসু

মাঠ ভর্তি সোনার ফসল
ঘরে ঘরে ওঠে ধান
কৃষকেরা থাকে আনন্দে মেতে
শুনে নবান্নের আহ্বান।
এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে সবে
উৎসবে মেতেছে আজ
আলপনা দিয়ে বাড়িঘর সাজায়
ফেলে দিয়ে সব কাজ।
নবান্নের আহ্বানে কচিকাঁচারা
নতুন জামা কাপড় পরে
ছুটোছুটি করে ঘুরে বেড়ায়
আনন্দে বাড়ি মাত করে।
নতুন ধান্যে হবে নবান্ন
পিঠে পায়েস রাশি রাশি
অভাব দৈন্য সব ভুলে
বড়দের মুখে ফোটে হাসি।

ওরে আমার নেড়ি – সুভাষ নারায়ণ বসু

শীতে দিয়ে চাদর মুড়ি
পথে পথে কোথায় ঘুরি
হাতে নিয়ে একটা ছড়ি
তোকে আমি খুঁজে মরি
ওরে আমার নেড়ি।
জনে জনে পায়ে পড়ি
কাকে ছেড়ে কাকে ধরি
শেষে জানলাম আমায় ছাড়ি
চলে গেছিস মেয়ের বাড়ি
ওরে আমার নেড়ি।
স্বভাবটা তোর এমনি ভারি
আমার কাছে মুখটি হাঁড়ি
আর মেয়ের কাছে আহ্লাদে
করিস তোর লেজটা নাড়ি
ওরে আমার নেড়ি।
আগে যদি জানতাম হরি
তোকে কি আর রাখতাম ধরি
চড়িয়ে দিয়ে ফিটন গাড়ি
পাঠিয়ে দিতাম মেয়ের বাড়ি
ওরে আমার নেড়ি।

ফিরে দেখা – সুভাষ নারায়ণ বসু

শীতের বেলা আসলে পরেই
মনে পড়ে কতো কথা
বার্ধক্যের দোরগোড়ায় আজ
ফিরে দেখা ফেলে আসা কথা।
শৈশবে মিঠে রোদে শীতের বেলা
মায়ের কাছে উঠানে বসে
অংক কষতাম আপনমনে
তারই নিবিড় কোলটি ঘেঁষে।
মা দিত নিপুণ হাতে ডালের বড়ি
থালার ‘পরে যতন করি
তারই মাঝে স্নেহের পরশ
দিত আমার চিবুক ধরি।
কৈশোরে বন্ধুদের সঙ্গে এই শীতের বেলা
চলতো সারা দুপুর ক্রিকেট খেলা
সেই অনুভূতি আর আনন্দের মেলা
জীবন সায়াহ্নে কি যায় ভোলা ?
যৌবনের সেই প্রাণচঞ্চল দিনে
শীতের বেলা তোমায় নিয়ে
স্বপ্নের জাল বুনে যেতাম
ভিক্টোরিয়া বা প্রিন্সেপঘাটে গিয়ে।

রেলপথ – সুভাষ নারায়ণ বসু

দিগন্তব্যাপী রেলপথ
সবুজ বনানী ভেদ করে চলে যায়
সুদূর প্রসারী তার যাত্রাপথ
যেন নিয়ে যায় কোন মায়াবী লোকে।
যেদিকে তাকাই শুধুই
সবুজের সমারোহ
যেন হাতছানি দিয়ে ডেকে বলে
আয় চলে আয় এই পথ ধরে
দিগন্তব্যাপী আমার সাম্রাজ্যে।
নিবিড় নিস্তব্ধ চারিধার
হয়তোবা পরিত্যক্ত রেলপথ
দুই দেশের মিলন সেতু
আজও চাপা কান্না নিয়ে
অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে
কবে আবার সংযোগস্থল হয়ে
দুই বাংলার মুখে হাসি ফোটাবে
ফিরে পাবে প্রাণের স্পন্দন
তারই প্রতীক্ষায় দিন গুনে যাওয়া
চির সবুজে ঘেরা
এই রেলপথ।

সুভাষ নারায়ণ বসু | Subhas Narayan Basu

Top Best Bengali Poetry 2023 | মহা রফিক শেখ | কবিতাগুচ্ছ

New Bengali Poetry 2023 | মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ | কবিতাগুচ্ছ ২০২৩

Top Best Bengali Poetry 2023 | কবিতাগুচ্ছ | তপন মাইতি

Bengali Story 2023 | ভবতোষ মাস্টার | গল্পগুচ্ছ ২০২৩

Shabdodweep Web Magazine | High Challenger | Shabdodweep Founder | Sabuj Basinda | Bengali Poetry | Bangla kobita | New Bangla Kobita Status 2024 | Poetry Collection | Book Fair 2024 | bengali poetry | bengali poetry books | New Bangla Kobita Status pdf | Bengali Poem Lines for Caption | bangla kobita | poetry collection books | poetry collections for beginners | poetry collection online | poetry collection in urdu | New Bangla Kobita Status Ebook | poetry collection clothing | new poetry | new poetry 2023 | new poetry in hindi | new poetry in english | new poetry books | new poetry sad | new poems | new poems in english | new poems in hindi | Bengali Poem Lines for Caption in pdf | new poems in urdu | bangla poets | indian poetry | indian poetry in english | indian poetry in urdu | indian poems | indian poems about life | indian poems about love | indian poems about death | Best Bengali Poetry Folder | Best Bengali Poetry Folder 2023 | story writing competition india | story competition | poetry competition | poetry competitions australia 2023 | poetry competitions uk | poetry competitions for students | poetry competitions ireland | Bengali Poem Lines for Caption crossword | writing competition | writing competition malaysia | Bengali Poem Lines for Caption in mp3 | writing competition hong kong | writing competition game | Best Bengali Poetry Folder pdf | Trending New Bangla Kobita Status | New Bangla Kobita Status – video | Shabdodweep Writer | bee poem | poem about self love | story poem | poetry angel | narrative poetry examples | poetry reading near me | prose poetry examples | elegy poem | poetry reading | poetry websites | protest poetry | prayer poem | emotional poetry | spoken word poetry | poem about god | percy shelley poems | jane hirshfield | spiritual poems | graveyard poets | chapbook | poems about life | poems to read | English Literature | New Bangla Kobita Status examples | poems about life and love | elizabeth bishop poems | poems about women | sister poems that make you cry | famous quotes from literature and poetry | mothers day poems from daughter | poem about community | New Bangla Kobita Status Ranking | positive Best Bangla Kobita Collection | Bengali Poem Lines for Caption about life struggles | toni morrison poems | good bones poem | google poem | funny poems for adults | inspirational poems about life | friendship poem in english | paul laurence dunbar poems | freedom poem | sad poetry about life | freedom poem | sad poetry about life | Natun Bangla Kabita 2023 | Kobita Bangla Lyrics 2023 book | New Bangla Kobita Status | Writer – New Bangla Kobita Status | Top Writer – Natun Bangla Kabita 2023 | Top poet – Natun Bangla Kabita 2023 | Poet list – Kobita Bangla Lyrics 2023 | Archive – New Bangla Kobita Status | Bangla Full Kobita | Online Full Kobita Bangla 2023 | Full Bangla Kobita PDF | New Bangla Kabita Collection | Shabdodweep Online Poetry Story | Poetry Video Collection | Audio Poetry Collection | Bangla Kobitar Collection in mp3 | Bangla Kobitar collection in pdf | Indian Bengali poetry store | Bangla Kobita Archive | All best bengali poetry | Indian New Bangla Kobita Status | Best Poems of Modern Bengali Poets | Best Collection of Bengali Poetry in pdf | Bengali Poetry Libray in pdf | Autograph of Bengali Poetry | India’s Best Bengali Writer | Shabdodweep Full Bengali Poetry Book | Bengali Poetry Book in Google Bookstore | Google Bengali Poetry Book | Shabdodweep World Web Magazine | Shabdodweep International Magazine | Top Poems of Modern Bengali Poets | Bangla Kobita in Live | Live New Bangla Kobita Status | Bengali Poetry Recitation Studio | Sabuj Basinda Studio for Bengali Poetry | Bangla Kobita Sankalan 2023 | Shabdodweep Kabita Sankalan | New Bengali Poetry Memory | History of Bengali Poetry | History of Bangla Kobita | Documentary film of Bengali Poetry | Youtube Poetry Video | Best Bangla Kobitar Live Video | Live Video Shabdodweep | Bengali to English Poetry | English to Bengali Poetry | Bengali Literature | Full Bengali Life of Poetry | Bangla Kobita Ghar | Online New Bangla Kobita Status | New Bengali Poetry House | Full Bengali Poetry Collections PDF | Library of Bangla Kobita | Bengali Poetry and Story | Bengali Poetry Writing Competition | World Record of Bengali Poetry Writing | Peaceful Poetry | Online High Trend Bangla Kobita Selection | High Trend Bangla Kobita translation in english | High Trend Bangla Kobita | High Trend Bangla Kobita for instagram | romantic bengali poem lines | bengali short poem lyrics

Leave a Comment