...

Best Kobita Bangla Collection | Shabdodweep Bengali Poetry

Sharing Is Caring:

Kobita Bangla Collection – Subhas Narayan Basu

বসন্ত এসে গেছে – সুভাষ নারায়ণ বসু

আকাশে বাতাসে রঙের খেলা
দিগন্তে ছেয়ে গেছে
ওরে তোরা চেয়ে দেখ
বসন্ত এসে গেছে।
গাছে গাছে ফুলে ফুলে
রঙের বাহার নিয়ে
কোকিলের কুহু ডাকে
বসন্ত এসে গেছে।
ফাগুন আগুন লাগে
মনে দেয় দোলা
শিমুল পলাশ লালে লাল
যায় কি তা ভোলা।
কে যেন আবির ছড়িয়ে দিল
প্রকৃতির কোলে বনে বনে
রাঙিয়ে দিল তারই ছোঁয়ায়
অন্তরে দেহ মনে।
পাগল হাওয়ায় উতলা মন
ছুটে বেড়ায় কীসের টানে
বুঝি বসন্ত এসে গেছে
উদাস বাউলের গানে।

মনে দেয় দোলা – সুভাষ নারায়ণ বসু

ফাগুন আগুন লাগে
মনে দেয় দোলা
পলাশ মাসে পলাশ প্রিয়া
তোমায় যায় না ভোলা
লালে লাল হয়ে হাতছানি দিয়ে
কাছে ডাকো বারেবারে
বসন্ত এসে ধরা দেয়
তাই তোমার দ্বারে।
রঙে রঙে সেজে ওঠে প্রকৃতি কেমন
কোকিলের কুহু ডাক শুনি দিয়ে মন
ফুলেরা সুবাস বিলিয়ে
তারই সাথে হাসে
উড়ু উড়ু করে মন
এই মধুমাসে।

তারই প্রতীক্ষায় – সুভাষ নারায়ণ বসু

কতো বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছি
তোমার ধ্যান করে
কখনো নির্জন নদী তীরে
শান্ত নদীর জলে
অথবা দুর্গম স্থানে
লোকচক্ষুর অন্তরালে
আমার ব্যাকুল মন খুঁজে বেড়ায়
শুধু তোমাকে।
কবে তুমি রাজহংসের ডানায়
ভর করে
বীণা পুস্তক হস্তে এসে বলবে
আমি আছি লেখনীতে
আপন সাধনায় থাক রত
সৃষ্টি কর নব নব কাব্য
সাহিত্য সঙ্গীত নৃত্যকলা
যে কথা হয়নি এতকাল বলা
তারাই প্রতীক্ষায় পথচলা।

থেকো না উদাসীন – সুভাষ নারায়ণ বসু

রাতের আকাশের পানে চেয়ে
কতো রাত কাটিয়েছি তারা গুনে
বিস্ময় প্রকাশ করা ছাড়া
তুমি কী করবে শুনে।
স্বপ্নের ভেলায় চেপে মহাকাশ মহাশূন্যে
পাড়ি দিয়েছি মনে মনে
তারারা মিটিমিটি হেসে
কী যেন বলেছিল কানে কানে।
হয়তো বলেছিল মহাগগনে আমরা অগুনতি
আমাদের শেষ নেই
তোমাদেরও আশা আকাঙ্ক্ষা চাওয়া পাওয়ার
সীমা পরিসীমা নেই।
মিছে একরাশ ভাবনায় কাটাও সারাদিন
দেখ, গাছে গাছে ফুল ফোটে এখনো প্রতিদিন
এখনো সুন্দর পৃথিবীতে পাখি গান গায়
আর বুকের ভিতরে পাখিটা ডানা ঝাপটায়
জীবন সংগ্রামে থেকো না উদাসীন

মুক্ত করো আপনাকে থাকো চির নবীন।

আশা – সুভাষ নারায়ণ বসু

কতো আশা নিয়ে
আকাশের একখণ্ড মেঘ এনে
তোমায় দিয়ে বলেছি
রাখো একে যত্ন করে

প্রচণ্ড গ্রীষ্মে এর বারিধারা
তোমার তৃষ্ণা মেটাবে
দেবে শীতলতা
ধরণী পরে।
তুমি হাসিমুখে বললে
দাও একে ছেড়ে মুক্ত আকাশে
ভেসে বেড়াক আপন মনে
মেঘদূত হয়ে যক্ষের লাগি
যে আছে তারই প্রতীক্ষায়
আদি অনন্তকাল ধরে।
যদি দিতে চাও দিও শুধু মোরে
তোমার অকৃত্রিম ভালোবাসা
শীত গ্রীষ্মে আমার সেই ভরসা
সেই মিটাবে সব আশা।

নববর্ষ – সুভাষ নারায়ণ বসু

আবার আসলো ফিরে
নববর্ষ ঘরে ঘরে
নতুন জামা কাপড় পরে
না জানি কী বারতা নিয়ে
বুক করে দুরু দুরু
তবু মনে জাগে আশা
হে নববর্ষ তোমায়
বরণ করবো কী দিয়ে।
নববর্ষের পুণ্য সায়রে
মুছে ফেলে সব গ্লানি
নব উদ্যমে পা ফেলি সবে
দেখি নতুনের হাতছানি ।
পুরাতন যা আছে পিছে
ভুলে যাও সব মিছে
তাকাও সমুখ পানে
নবজীবনের টানে।

অনাচার – সুভাষ নারায়ণ বসু

অভাবের তাড়নায় অভুক্ত পেটে
কাড়াকাড়ি করে খায় রুটি
রাস্তায় ডাস্টবিন থেকে
ছোট ছোট পথশিশু দুটি
অথচ পাশেই পাঁচতারা হোটেলে
কতকিছু খাবার নিয়ে নাড়াচাড়া করে
শুধুই নষ্ট করে বেড়িয়ে যায়
বড়লোকের বখাটে ছেলেমেয়ে দুটি ।
হায়রে বিধাতা এই তব বিচার !
কতো দেখবো আর এই অনাচার
মানুষের চেতনায় হান আঘাত
এই বৈষম্য দূর হয়ে যাক।

জীবনের রঙ্গমঞ্চে – সুভাষ নারায়ণ বসু

রেসকোর্সে ঘোড়া ছুটে চলেছে
এই বুঝি বাজিমাৎ করলো
দুরন্ত বেগে সময় গড়িয়ে যায়
মধ্য গগনের সূর্য
ঢলে পড়ে পশ্চিম আকাশে ।
ক্লান্ত হরিণের ন্যায় আটকে পড়েছি ঝোপে
প্রেমের মৃত্যু ঘটাতে
পিছনে উদ্ধত শর হাতে ব্যাধ
সমাপ্তি সঙ্গীত ঐ বুঝি বেজে উঠলো
জীবনের রঙ্গমঞ্চে
এখন অধীর আগ্রহে শুধু অপেক্ষা
ড্রপসিন পরার আগে
জীবন সংগ্রামে তোমার আলিঙ্গন ।

কী করি উপায় – সুভাষ নারায়ণ বসু

বাঁশি বাজয়ে তুমি
জানিনা লুকালে কোথায়
আমার ব্যকুল মন
তোমাকে যে চায় ।
আমার নূপুর বাজে
তোমার মধুর সুরে
সে আওয়াজ ভেসে বেড়ায়
দূর থেকে বহুদূরে
তবুও তার নাগাল
কেহ নাহি পায়।
দিবস শেষে ধরায় যখন
সব নিঝুম হয়ে যায়
আঁধার এসে ঘনায় চোখে
কী করি উপায়।

অনুভব – সুভাষ নারায়ণ বসু

পূর্ণিমার চাঁদ ঝলমল করে হাসে
দূরে ঐ আকাশে
বাতাসে বাতাসে মেঘ বেড়ায় ভেসে
তারই আসে পাশে ।
চাঁদ খেলে লুকোচুরি মেঘেদের সাথে
যেমন তুমি করো নিশীথ রাতে
তবু তুমি আছ আমার হিয়ার মাঝে
তেমনি আমার ভালোমন্দ সকল কাজে।
আকাশের চাঁদ যত দূরে থাক
জ্যোৎস্না দু’নয়নে ভাসে
তোমার উপস্থিতি অনুভব করি যখন
তোমার সুবাস ভেসে আসে।

জিজ্ঞাসা – সুভাষ নারায়ণ বসু

আকাশ আছে বাতাস আছে
আছে পাহাড় পর্বত নদী
সবকিছু থেকেও বেশি ভালো লাগতো
তুমি থাকতে পাশে যদি।
আমার সকল চাওয়া পাওয়ার মাঝে
দেখি তোমার মুখ ছবি
হারিয়ে যাই তাই বারেবারে ওগো
আমি যে এক কবি।
নতুন প্রভাতের গান গেয়ে যায়
আকাশে উদীয়মান রবি
তোমার তরে আমার লেখা কবিতা
পড়বে কি ভবিষ্যতের নবী ?

হে সমুদ্র – সুভাষ নারায়ণ বসু

হে সমুদ্র
তোমার বিশাল জলরাশি দিয়ে
ঘিরে রেখেছো পৃথিবীর তিনভাগ
অথচ পারো না তৃষ্ণার্ত মানুষের
একবিন্দু তৃষ্ণা মেটাতে
অদৃষ্টের হায় এ কী পরিহাস !
রুষ্ট হলে ভাসিয়ে দিতে পার
একের পর এক নগর জনপদ
ধ্বংস করতে পার
বহুকষ্টে চাষ আবাদ করা
বিস্তীর্ণ এলাকার শস্য ক্ষেত
সবাই তখন দেখে তোমার
তাণ্ডব নৃত্য তর্জন গর্জন
কিন্তু তোমার চাপা কান্না নিয়ে
যখন আছড়ে পড় বালুকাবেলায়
তার খবর কে রাখে।

ভুলের মাশুল – সুভাষ নারায়ণ বসু

খোকা খুকু ভুল করলে
তোমরা বকাঝকা করো
আর অংকের সমাধান না পারলে
কানটি মলে শাসন করো ।
ঢিলটি যদি কভু ছোড়ে খোকা
খেলার ছলে কারুর বাড়ির চালে
ছুটে এসে তোমরা সবাই
চড়টি কষাও তার গালে ।
অথচ দেখ সমাধানের পথে না গিয়ে
গণ্ডগোল করে কতো লোকে
ভুলের মাশুলে হয় জীবনহানি
তোমরা মিছিল করো তারই শোকে ।

আশা – সুভাষ নারায়ণ বসু

সারারাত বসে আছি
কাগজ পেন নিয়ে নিরালায়
তবু তুমি নাই
আমি যে শুধু তোমাকেই চাই
বল কোথা খুঁজে পাই ?
স্বর্গ মর্ত পাতাল থেকে
বাছাই করা শব্দ এনে
তুমি ছাড়া কে দেবে আমায় উপহার
সাজিয়ে নিয়ে শব্দের ডালি
রচে যাব আমি খালি
কবিতার বাহার
তুমি ধরা দাও এসে
একটুখানি থাকো পাশে
পরাবো তোমায় মণিহার।

নিশুতি রাত – সুভাষ নারায়ণ বসু

নিশুতি রাত
অন্ধকারে আচ্ছন্ন
ভুতুড়ে বাড়ি।

নিশুতি রাত
আসো না তুমি চড়ে
ফিটন গাড়ি।

নিশুতি রাত
জমিয়ে গল্প শোনা
বাকি যে আছে।

নিশুতি রাত
ভুতেরা নৃত্য করে
শেওড়া গাছে।

নিশুতি রাত
নিস্তব্ধ চারিধার
কে দিচ্ছে হাঁচি।

নিশুতি রাত
ভয় কোর না তুমি
আমিতো আছি।

মেঘবালিকারা – সুভাষ নারায়ণ বসু

বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ গেল আষাঢ় এলো
কৃষকরা বৃষ্টি চায়
মেঘবালিকারা ভেসে বেড়ায়
নীল আকাশের গায়।
কী বারতা এনেছে তারা
তপ্ত ধরণী দিশাহারা
ঝরুক পড়ে আকাশ থেকে
একটু বারিধারা।
মেঘবালিকারা চুপিচুপি কয়
এবার বুঝি হয়েছে সময়
দেখ বৃষ্টি ঐ এলো বলে
সঙ্গে ঝোড়ো বাতাস বয়।
কৃষকরা সব লাঙ্গল নিয়ে
মাঠের পানে যাচ্ছে চলে
আপন শ্রমের বিনিময় দিয়ে
সোনার ফসল ফলাবে বলে।

চাহিদা – সুভাষ নারায়ণ বসু

দিন যত বদলায় মানুষের চাহিদা যায় বেড়ে
তাইতো আনন্দ একটু একটু করে যায় সরে।
শৈশব কৈশোরের সামান্য চাহিদা মেটাতে
ছিল কতোই আনন্দ আর মজা
যা কিছু প্রাপ্তি ভাগ করে নিতাম বন্ধু পরিজনে
না হলে জুটতো দুঃখ ও সাজা।
বড় হয়ে সেসব হারিয়ে গেছে
অপরিসীম চাহিদার বেড়াজালে
প্রকৃত সুখ বলে আর কিছু নাই
দেখছি নিত্য নতুন কালে কালে।
আমাদের অভাব আমাদের দুঃখ
আমরাই ডেকে আনি
মিছে চাহিদার পিছে হাত বাড়িয়ে
জীবনের দাড়ি টানি।

পিছু টানে – সুভাষ নারায়ণ বসু

ফেলে আসা দিনগুলো একটু একটু করে
কেমন যেন হারিয়ে যাচ্ছে
আর কাছের লোকগুলো দিন দিন
একটু একটু করে দূরে সরে যাচ্ছে।
তুমি চাইলেই পারবে না নিজের মতো
সেইসব দিনগুলো বা মানুষগুলোকে
আঁকড়ে ধরে থাকতে যতনে
হারিয়ে যাবার জন্য যাদের আনাগোনা
নিত্য নতুন এমনি করে
এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে কালের বিধানে।
প্রকৃতির নিয়মে আমরা মানুষ
এগিয়ে চলি সমুখ পানে
পিছন ফিরে তাকাই যখন
অতীতটা শুধুই পিছু টানে।

খুঁজে পাবে – সুভাষ নারায়ণ বসু

আকাশ জুড়ে মেঘ করেছে
কীসের তোমার এতো তাড়া
যাই যাই করে বঁধু তুমি
কেন হচ্ছ দিশাহারা।
বাদল দিনে এমনি করে
কাছে থাকো যেওনা দূরে
একই সুরে বাজুক গান
তোমার আমার হৃদয় জুড়ে।
সেই গানের মধুর ধ্বনি
বাতাসে বাতাসে ভেসে যাবে
ভালোবাসার মানুষেরা শুনবে যখন
তোমায় আমায় খুঁজে পাবে।

ভালোবাসার পরশে – সুভাষ নারায়ণ বসু

আষাঢ় গিয়ে শ্রাবণ এলো
মেঘবালিকারা ঘুরে বেড়ালো
তোমার চিঠি আনেনি তারা
আমি প্রতীক্ষায় রই ।
জানিনা এই বসে থাকা
আকাশ পানে চেয়ে চেয়ে
হাজার তারার মাঝে খুঁজে বেড়াই
তোমার দেখা পেলাম কৈ !
জানিনা কবে মুচকি হেসে
আসবে তুমি আমার পাশে
জীবন নদীতে ভাসাবো তরণী
তোমার ভালোবাসার পরশে ঐ ।

থাকবে পাশে – সুভাষ নারায়ণ বসু

আকাশ জুড়ে মেঘ কালো
ঐ বুঝি বৃষ্টি এলো
পথে আর থেকো না তুমি
এবার বাড়ি ফিরে চলো ।
শুরু হলো রিম ঝিমঝিম বৃষ্টি
আমার হারিয়ে গেছে দৃষ্টি
পৌঁছাতে হবে লক্ষ্যে তবু
সেকথা শুধু বলো।
মনের রুদ্ধ দ্বার খোল
বয়স তো নাহয় অনেক হলো
তবু থাকবে পাশে আমার
বাসতে অনেক ভালো।

প্রেমের জয়গান – সুভাষ নারায়ণ বসু

অশান্ত মনকে শান্ত করতে
গাও না কেন আজ গান
সবই বুঝি তব অভিমান
আমি চাইনা কোন প্রতিদান।
বধূ বেশে নাইবা এলে
ওগো বঁধু আমার
হৃদয়ের মাঝে পরশ
পাই যেন তোমার
তুমিই কর তার সমাধান।
মরমের মাঝে যে প্রেম এনেছে তুফান
কী দিয়ে ঘুচাবো বল তার অবসান
দু’জনার হৃদয়ে একই গান একই সুরে
গাক না সে প্রেমের জয়গান।

তমসা ঘনায় – সুভাষ নারায়ণ বসু

কেন যে বারেবারে মনে পড়ে তোমায়
বুঝি না আমি ওগো কোন সে মায়ায়
তোমারি মুখখানি ভেসে ওঠে নয়নে
কেমনে ভুলি বল শয়নে স্বপনে
সে কি তবে তোমার ভালোবাসায় ।
আমার মন বুঝি তোমাকে চায়
বসে আছি তাই প্রিয়া
শুধু তোমারি আশায়
তুমি ছাড়া কিছু আর চাইনা এ ধরায়
তব প্রেম বিনা জীবনে তমসা ঘনায় ।

কী করি উপায় – সুভাষ নারায়ণ বসু

বাঁশরী বাজায়ে তুমি
লুকালে কোথায়
আমার ব্যাকুল মন
তোমারে যে চায় ।
আমার নূপুর বাজে
তোমার মধুর সুরে
সে আওয়াজ ভেসে বেড়ায়
দূর থেকে বহু দূরে
তবু তার নাগাল কেহ নাহি পায় ।
দিবস শেষে সব
নিঝুম হয়ে যায়
আঁধার এসে ঘনায় চোখে
কী করি উপায়।

রক্তদান – সুভাষ নারায়ণ বসু

তোমরা সবে কর রক্তদান
বাঁচবে কতো অমূল্য প্রাণ।
জীবন যুদ্ধে গাব
তাদের জয়গান
স্বেচ্ছায় রক্ত যারা
করছেন দান
এমনি করে বিপন্ন মানুষের পাশে
এস আজ দাঁড়াই সবাই মিলেমিশে।
অপারেশন টেবিলে কত রোগী
রক্ত না পেলে
প্রাণটাই বুঝি যাবে চলে
এমনি অকালে
চেয় না আর এর কোন প্রতিদান
এই হোক মানুষের বড় অবদান।
এখানে ছোট বড় উঁচু নীচু ভেদাভেদ নাই
রক্তদান করুক সবাই সেটাই চাই
তাই রক্ত দেবে বাঁচবে প্রাণ
কর সেই প্রতিজ্ঞা সকলে।

সুন্দর শুধু – সুভাষ নারায়ণ বসু

তুমি আকাশের চাঁদকে দেখিয়ে বলেছিলে
দেখ, কী সুন্দর তাইনা ?
আমি বললাম, যতক্ষণ না মেঘ ঢেকে ফেলে।
তোমার নিস্পলক দৃষ্টি ফুলের দিকে রেখে বললে
কী সুন্দর!
আমি উদাসভাবে বললাম, যতক্ষণ না ঝরে পড়ে।
সুন্দর বলার সাহস হারিয়ে
তোমার বিষণ্ণ মন উঁকি দেয়
জীবনের দিকে।
রাস্তা দিয়ে চলেছে মিছিল
চারিদিকে ড্রাগনের থাবা ওৎ পেতে আছে
সমস্ত সুন্দর জিনিসকে দলে পিষে দিতে।
তোমার কাব্যময় জীবনে ছন্দপতন,
সুন্দর শুধু কবিতা গান শিল্পে।

একদিন যাচ্ছিলাম – সুভাষ নারায়ণ বসু

একদিন যাচ্ছিলাম ট্রেনের কামরায় চড়ে
তুমি ছিলে বসে একটুখানি সরে।
জানালা দিয়ে আকাশ পানে
ভাবছিলে কী মনে মনে
আমি এসে দিলেম ধরা
হাত দুটি ধরে।
বুঝিনি পরিচয় হবে এমনি করে
জীবনে চলার পথে আপন করে।
যত দুঃখ যত ব্যথা
মনের যত না বলা কথা
উজাড় করে দিলে তুমি
শুধু আমারই তরে।

তোমায় ভালোবেসে – সুভাষ নারায়ণ বসু

হাওয়ায় হাওয়ায় ভেসে ভেসে
মন চলে যায় দূর দেশে
তবু তুমি দাওনা দেখা
একটুখানি হেসে।

হয়তো ফুলপরীর বেশে
আছো কোন অচিন দেশে
তাই পার না দিতে ধরা
আমার কাছে এসে।

সারাদিনের কাজের শেষে
তুমি আমি মিলে মিশে
নতুন করে গড়বো জগৎ
তোমায় ভালোবেসে।

খুঁজে পেতে কূল – সুভাষ নারায়ণ বসু

মানুষের ঘুচে গেছে সব সুখ
বুঝি বিধাতা হয়েছেন বিমুখ
জানিনা কার অনাচারে আজ
পৃথিবীর হয়েছে অসুখ।
তাই পৃথিবীর ভালো চেয়ে
অদৃশ্য কোন সংকেত পেয়ে
দেবতাকে স্মরণ করি
ভাসালাম আমার তরী।
বসে আছি হাতে নিয়ে
এক ডালি ফুল
নৌকা চলেছে নদীবক্ষে
খুঁজে পেতে কূল।
পৃথিবী আবার শান্ত হবে
শিশুর মুখে হাসি রবে
নতুন করে করো না ভুল
হয় না এখনই ব্যাকুল।

নৌকা চলেছে নদীবক্ষে
খুঁজে পেতে কূল।

শব্দ – সুভাষ নারায়ণ বসু

শব্দদ্বীপের শব্দ এনে
ছড়িয়ে দিলাম সবার মাঝে
লিখে যাও মনের মতো
কবিতা ছড়া আজি এ সাঁঝে।
ভালোবাসা ভালোলাগার কথা
বলতে কেন এতো লাজে
ওটাই হ’ল জীয়নকাঠি মরণকাঠি
নব উদ্যম আনে কাজে।
চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা
তোমার চোখে হয় হারা
শব্দভেদী বাণ ছুড়ে আমি
হই যে কভু দিশেহারা।
পাহাড় পর্বত নদী ছুটে যায়
পাখি গান গায় অন্তরে হায়
শব্দ দিয়ে রচিব মালা
তোমার তরে বঁধু কী উপায়।

বর্ষায় খেলার ছলে – সুভাষ নারায়ণ বসু

ছোটবেলার বর্ষায় মাঠ ঘাট থৈ থৈ
খেলার সাথী বন্ধুরা তোমরা কৈ।
আকাশটা মেঘে ঢেকে আছে গুরু গুরু শব্দ
সূর্যিমামার নেই দেখা আজ হয়ে গেছে জব্দ।
টাপুর টুপুর করে পড়ে অবিরাম বৃষ্টি
মন বসে না ঘরে যে আর একি অনাসৃষ্টি।
স্কুলের পাট নেই যে তায় সেটাই যা মজা
তা বলে ঘরে বসে অংক করা সে কি কম সাজা !
সারাদিন একটানা বর্ষায় হারিয়ে গেছে ছন্দ
গ্যাঙর গ্যাঙর ব্যাঙের ডাক লাগে না মন্দ।
ছোটবেলার বর্ষায় মায়ের আঁচল ধরে ঘুরি
কখন মা রেঁধে দেবে গরম গরম খিচুড়ি।
পড়ার ফাঁকে সুযোগ পেলেই বর্ষায় খেলার ছলে
কাগজের নৌকা তৈরি করে ভাসিয়ে দেই জলে।

প্রাণভরে নিঃশ্বাস – সুভাষ নারায়ণ বসু

দেখো পাহাড় সমুদ্র আকাশ
তোমার দিকে তাকিয়ে আছে
ফেলে দীর্ঘশ্বাস।
চলো যাই বেড়িয়ে পড়ি
বলে না কেউ আর হাত ধরি
নেই কোন আশ্বাস।
ভালো থাকাই এখন দায়
মহামারী একদিন হবে বিদায়
আছে মনে বিশ্বাস।
চারিদিকে হাহাকার চলে গেছে সুখ
পৃথিবীর হয়েছে যে কঠিন অসুখ
তবু নিতে চাই প্রাণভরে নিঃশ্বাস।

সেদিন কি হবে নিশ্চিহ্ন – সুভাষ নারায়ণ বসু

আমার প্রিয় শহর
আমি তোমায় ভালোবাসি
তোমার বুকেই করেছি খেলা
শৈশবে কতো কান্না হাসি।
মায়ের আঁচল ছেড়ে তোমার ক্রোড়ে
বড় হয়ে ওঠা ধীরে ধীরে
ছাত্র ও কর্মজীবনে হারিয়ে গেছি
কতো সহস্র লোকের ভীড়ে।
কতো আন্দোলন কতো নির্যাতন
দেখেছো তুমি মুখ বুজে
প্রতিবাদের ভাষা তুমিই দেখিয়েছ
সত্যিকারের মানুষ খুঁজে।
তোমার অলিতে গলিতে পড়েছে
আমার পদচিহ্ন
যেদিন আমি থাকবো না
সেদিন কি হবে নিশ্চিহ্ন?

লিখে রাখি সযতনে – সুভাষ নারায়ণ বসু

তোমার কথা মনে হলেই
গান আসে শুধু মনে
কেমন করে গাইবো বলো
তাই লিখে রাখি সযতনে।

অশান্ত মনকে শান্ত করতে
গাওনা কেন আজ গান
সবই বুঝি তব অভিমান
চাই না কোন প্রতিদান।
বধূ বেশে নাইবা এলে ওগো বঁধু আমার
হৃদয়ের মাঝে পরশ পাই যেন তোমার।

মরমের মাঝে যে প্রেম এনেছে তুফান
কী দিয়ে ঘুচাবো বল তার অবসান
দুজনার হৃদয়ে একই গান একই সুরে
গাক না সে প্রেমের জয়গান।

সুভাষ নারায়ণ বসু | Subhas Narayan Basu

Bengali Famous Story | গল্পগুচ্ছ | মনিকা চক্রবর্তী | Top New 2023

Paribartan Bengali Story | পরিবর্তন | অঙ্গনদীপ চ্যাটার্জী | Top New 2023

Natun Bangla Kobita Lekha | কবিতাগুচ্ছ | শ্রাবনী দত্ত | Top New 2023

Bangla Online Kobita | কবিতাগুচ্ছ | সুমিতা চৌধুরী | Top New 2023

Kobita Lyrics Poetry In Bengali | Bangla kobita | Words of bangla kobita pdf | Words of bangla kobita for students | bangla kobita lyrics | bengali kobita for child | bengali poem in english | Bangla-English Poem Books | Bangla Poem for school Kids | Quotes by Jibanananda Das | Bangla kobita on Tumblr | Rahur Prem Bangla Kobita | Poem in Bengali | Shabdodweep Web Magazine | High Challenger | Shabdodweep Founder | Sabuj Basinda | Bengali Poetry | Bangla kobita | Kobita Bangla Collection 2024 | Poetry Collection | Book Fair 2024 | bengali poetry | bengali poetry books | Kobita Bangla Collection pdf | writing competition game | Best Bengali Poetry Folder pdf | Trending Kobita Bangla Collection | Kobita Bangla Collection – video | Shabdodweep Writer | bee poem | poem about self love | story poem | poetry angel | narrative poetry examples | poetry reading near me | prose poetry examples | elegy poem | English Literature | Kobita Bangla Collection examples | poems about life and love | Kobita Bangla Collection Ranking | positive Best Bangla Kobita Collection | Bengali Poem Lines for Caption about life struggles | toni morrison poems | good bones poem | google poem | funny poems for adults | inspirational poems about life | friendship poem in english | paul laurence dunbar poems | freedom poem | sad poetry about life | freedom poem | sad poetry about life | Natun Bangla Kabita 2023 | Kobita Bangla Lyrics 2023 book | New Kobita Bangla Collection | Writer – Kobita Bangla Collection | Top Writer – Natun Bangla Kabita 2023 | Top poet – Natun Bangla Kabita 2023 | Poet list – Kobita Bangla Lyrics 2023 | Archive – Kobita Bangla Collection | Bangla Full Kobita | Online Full Kobita Bangla 2023 | Full Bangla Kobita PDF | New Bangla Kabita Collection | Shabdodweep Online Poetry Story | Poetry Video Collection | Audio Poetry Collection | Bangla Kobitar Collection in mp3 | Bangla Kobitar collection in pdf | Indian Bengali poetry store | Bangla Kobita Archive | All best bengali poetry | Indian Kobita Bangla Collection | Best Poems of Modern Bengali Poets | Best Collection of Bengali Poetry in pdf | Bengali Poetry Libray in pdf | Autograph of Bengali Poetry | India’s Best Bengali Writer | Shabdodweep Full Bengali Poetry Book | Bengali Poetry Book in Google Bookstore | Google Bengali Poetry Book | Shabdodweep World Web Magazine | Shabdodweep International Magazine | Top Poems of Modern Bengali Poets | Bangla Kobita in Live | Live Kobita Bangla Collection | Online Kobita Bangla Collection | New Bengali Poetry House | Full Bengali Poetry Collections PDF | Library of Bangla Kobita | Bengali Poetry and Story | Bengali Poetry Writing Competition | World Record of Bengali Poetry Writing | Peaceful Poetry | Online High Trend Bangla Kobita Selection | High Trend Bangla Kobita translation in english | High Trend Bangla Kobita | High Trend Bangla Kobita for instagram | romantic bengali poem lines | Kobita Bangla Collection lyrics

Leave a Comment

Seraphinite AcceleratorOptimized by Seraphinite Accelerator
Turns on site high speed to be attractive for people and search engines.