...

Bharatpur Patachitra | ভরতপুরের পটচিত্র | 2023

Sharing Is Caring:
BENGALI ARTICLE

ভরতপুরের পটচিত্র – প্রদ্যোৎ পালুই [Bharatpur Patachitra]

না, রাজস্থানের ভরতপুর কিম্বা মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের কথা বলছি না। বাঁকুড়া জেলার ছাতনার অদূরে শুশুনিয়া পাহাড়ের কোলে ছোট একটি অখ্যাত গ্রাম ভরতপুর। শ’চারেক মানুষের বাস। তার মধ্যে আদিবাসী এবং তপশীলিদের সংখ্যাধিক্য। গ্রামের বিশেষত্ব বলতে তেমন কিছু নেই। শিক্ষা-দীক্ষা, চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য কোন কিছুতেই বলার মতো জায়গায় নেই ভরতপুর। তবুও মাঝে মাঝে ভরতপুর আলোচনার শিরোনামে আসে। তা মূলত ওখানকার পটচিত্রের জন্য। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, বদি বাস্কে নামের এক আদিবাসী মানুষ গ্রামের আঠারোটি ভূমিহীন আদিবাসী পরিবারের জন্য পনেরো ডেসিম্যাল জমি দান করেন। সেই জমিতেই আঠারোটি পটচিত্র শিল্পী পরিবারের বাস। নিজেদের এক কাঠাও নিজস্ব জমি নেই। ঐ জায়গাটুকুতেই কোনমতে মাথা গুঁজে তাঁদের দিন গুজরান। ফলে অভাব তাঁদের নিত্যসঙ্গী। অপরের বাড়িতে কাজ করে দুটো পয়সা রোজগার করতে পারলে তবেই বাড়িতে হাঁড়ি চড়ে। তা সত্ত্বেও বাপ-ঠাকুরদার আমলের পটচিত্র তাঁদের মজ্জাগত। তেমন কিছু লাভ নেই জেনেও আঁকড়ে ধরে আছেন এই শিল্পকে। বিশেষ লাভের আশায় নয়, ভালবেসে। তেমনই জানালেন, ভাগবত চিত্রকর, রামহরি চিত্রকর, সহদেব চিত্রকরেরা। বর্তমানে ন’জন শিল্পী পট তৈরী করেন। বাকি আরও বেশ কয়েকজন পটচিত্রের কাজ শিখছেন। আঠারোটি পরিবারের কেউ না কেউ এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের কথায়, পট এঁকে পেট চলে না। বিক্রির বাজার নেই। গ্রামগঞ্জে ঘুরে ঘুরে পট দেখিয়ে গান গেয়ে কাহিনীর বর্ণনার মাধ্যমে মানুষকে খুশি করে কিছু রোজগারের চেষ্টা করেন। সেও যৎসামান্য। তাতে নিজের পেট কোনমতে চললেও সংসার চালানো যায় না। তাই পটশিল্পীর বাইরে তাঁরা স্রেফ দিনমজুর। কেউ বা হাটেবাজারে দোকান করেন, রিক্সা টানেন। আরও নানা কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন। সংসারের তাগিদে। একদিকে টানে পটচিত্র, অন্যদিকে পেটের জ্বালা।

কি আঁকেন তাঁরা? প্রশ্ন করায় উত্তর এল, যমলীলা, কৃষ্ণলীলা, আদিবাসী জন্মকাহিনী, দাতাকর্ণের কাহিনী, আদিবাসী শিকারের কাহিনী মূলত এইগুলিই তাঁদের পটচিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপনার বিষয়। চিত্র আঁকা হয় সব প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে। বাবলা আঁঠা, কুঁদরি পাতা ও সিম পাতার রসের সঙ্গে পাথর ঘসে রঙ তৈরী হয়। এজন্য সোনামুখির পাঁচাল থেকে সংগ্রহ করে আনেন বিশেষ এক ধরনের পাথর। কাঁচা হলুদ, ভুষাকালি, গিরিমাটিও রঙ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আর তুলি হিসেবে ব্যবহার করা হয় ছাগলের লোম। এককথায় কোন কেমিক্যাল একাজে ব্যবহার করা হয় না। সবই প্রাকৃতিক সম্পদ। ওঁদের কথা থেকেই জানা গেল, পটের বিক্রি যেহেতু প্রায় নেই তাই কেমিক্যাল রঙ কিনে কাজ করা তাঁদের সামর্থের বাইরে। তবে দেখা গেছে, বিষ্ণুপুরের দশাবতার তাস আঁকার ক্ষেত্রেও শিল্পীরা প্রাকৃতিক উপদানকেই প্রাধান্য দেন। কোন কেমিক্যাল রঙ ব্যবহার করেন না। এটাই বোধ হয় আঁকার শিল্পীদের একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

দুই ধরনের পট তাঁরা তৈরী করেন। দীঘল পট এবং চৌকো পট। চৌকো পট একটা কাগজে কয়েকটা ছবি এঁকে একটা বিশেষ ঘটনাকে বোঝানো হয়। আর দীঘল পটে ধারাবাহিক কাহিনীর বর্ণনা দেওয়া হয় একের পর এক ছবির মাধ্যমে। তাই এই পটের দৈর্ঘ্য পনেরো থেকে কুড়ি ফুট পর্যন্ত হয়। দীঘল পটে যেহেতু একটা কাহিনীর দীর্ঘ বর্ণনা থাকে তাই তুলনামূলক ভাবে এই পটের কদর বেশী। শুধু কাগজের উপর নয়, অনিল চিত্রকর পটচিত্র আঁকেন কলসী, গ্লাস, গামলা প্রভৃতির বাইরের দিকে। সেখানেও নানা ঘটনাকে পটের মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। অবশ্য নতুন কোন কাহিনী উপস্থাপনার মাধ্যমে নিজেদের অনুসন্ধিৎসু ভাবনাকে তুলে ধরার আগ্রহ বিশেষ দেখ গেল না। পূর্বপুরুষের কাছ থেকে পাওয়া কয়েকটি বিষয় চিত্রায়নের ধারা তাঁরা আজও বয়ে নিয়ে চলেছেন মাত্র। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শিল্পের মূল আঙ্গিক অপরিবর্তিত রেখে পরিবর্ধন এবং পরিমার্জন করে আধুনিকতার ছোঁয়া দেওয়া দরকার। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চাহিদার অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। এই ধরনের ভাবনা না আসার কারণ সম্ভবত তাঁদের আর্থিক এবং বাজারের সংকট। চাহিদা যোগানের বিরাট পার্থক্য থাকায় তাঁরা নতুন কিছু করার ভাবনা হারিয়েছেন।

একসময় মেদিনীপুর জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পটের গান গেয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করার প্রচলন ছিল। বন্যা, খরা বা অন্য কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলেই দু-তিনজনের দল একসঙ্গে বেরিয়ে পড়তেন পটচিত্র নিয়ে। পটচিত্রের মাধ্যমে তাঁদের কাহিনীর উপস্থাপনা ছিল বেশ সুনিপুণ এবং আধুনিক মানের। বাস্তবের ঘটনাকে নিয়ে তারা পটচিত্র বানিয়ে গান গেয়ে রোজগারের চেষ্টা করতেন। এখনও এধরনের পটচিত্রের চল বর্তমান পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম, চন্ডীপুর-সহ কয়েকটি এলাকায় রয়েছে। তাঁরা বর্তমানের চাহিদা অনুযায়ী ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’ কিম্বা ‘বাল্য বিবাহ’ ‘বধূ নির্যাতন’ ইত্যাদি বর্তমান বিষয়কেন্দ্রিক পট এঁকে গান বাঁধেন। সুন্দর সুর দিয়ে সেই গান গাইতে পারেন। ফলে সেখানকার পটচিত্রের আকর্ষণ একেবারে হারিয়ে যায় নি। ভরতপুরের চিত্রকরেরা এদিক থেকে একটু পিছিয়ে। তবুও পিতৃপুরুষের থেকে পাওয়া শিল্পকে আজও কোনক্রমে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে চলেছেন। চরম প্রতিকুল পরিস্থিতিতে এই শিল্প হয়তো এতদিন হারিয়ে যেত, যদি না রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে শিল্পী ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা হত। রাজ্য সরকারের তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর থেকে এই পটশিল্পীরা মাসিক এক হাজার টাকা করে ভাতা পান। জানা গেল, বর্তমানে পনেরো জন এই ভাতা পান। অন্যান্য অনেকের একাজে আগ্রহ না থাকলেও ভবিষ্যতে ভাতা পাবার আশায় অন্য পেশার মধ্যে থেকেও পটচিত্রকে আংশিক সময়ের কাজ হিসেবে ধরে রেখেছেন।

এই আদিবাসী পরিবারগুলি তাঁদের ছবি আঁকার জন্য সরকারী ব্যবস্থাপনায় শেড চাইছেন যেখানে তাঁরা একসঙ্গে বসে কাজ করতে পারবেন। আবার প্রদর্শনীর মত করে পটচিত্র সাজিয়ে রাখতে পারবেন। শিল্পের গুণমানের উৎকর্ষতা বাড়ানো এবং বহুল প্রচারের জন্য তাঁদের এই দাবি ন্যায্য। কিন্তু এই দাবি তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিতে পারেননি। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা নিজেরা কেউ পড়াশোনা জানেন না। তখনও পর্যন্ত পাড়ায় একজনই মাধ্যমিকের গেট পার হতে পেরেছিল বলে জানা গেল। তাই কোথায় কাকে কিভাবে বলবেন তা ভেবে উঠতে পারেন নি। অবশ্য বাঁকুড়া জেলা পুলিশের সহায়তায় শুশুনিয়াতে একটি স্টলের ব্যবস্থা হয়েছিল। কিন্তু বিক্রি না হওয়ায় তা বন্ধ হয়ে পড়ে আছে।

শুধু ভরতপুর নয়, কোন পটশিল্পের চাহিদা আজকের দিনে বিশেষ নেই। তবুও গুণমান উন্নত করার মধ্য দিয়ে কিছুটা আকর্ষণীয় করা যেতে পারে। সেজন্য উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা এবং প্রশিক্ষণের দরকার। নতুন প্রজন্মের অনেকে পটচিত্র আঁকায় আগ্রহী নয়। ছবির আঁকার পরে তার যথাযথ ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ঘাটতি আছে। ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন করে পটের শৈল্পিক কারুকার্য উন্নত করতে পারলে বাজার তৈরি করা যেতে পারে। এজন্য পটচিত্রের পাশাপাশি গ্রামের শিক্ষার পরিবেশকেও সম্প্রসারিত করার দিকে নজর দেওয়া দরকার। আশার কথা, ২০২৩ সালে ভরতপুরের পটচিত্রের উন্নতিকল্পে রাজ্য সরকার কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। সেগুলি রূপায়িত হলে শিল্পী এবং শিল্পের উন্নতি ঘটবে বলে আশা করা যায়।

প্রদ্যোৎ পালুই | Pradyut Palui

New Bengali Article 2023 | রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তি জীবনে নারী প্রেম

Andaman Cellular Jail | আন্দামানের কুখ্যাত সেলুলার জেল | 2023

মানব কল্যাণে রামকৃষ্ণ মিশন | Ramakrishna Mission | 2023

Odisha Goddess Durga | ওড়িশার পটচিত্রে দেবী দুর্গা | 2023

bengali article writing competition | writing competition malaysia | writing competition london | writing competition hong kong | writing competition game | writing competition essay | writing competition australia | writing competition prizes | writing competition for students | writing competition 2022 | writing competitions nz | writing competitions ireland | writing competitions in africa 2022 | writing competitions for high school students | writing competitions for teens | writing competitions australia 2022 | writing competitions 2022 | writing competitions uk | bengali article writing | bangla news article | bengali article rewriter | article writing | bengali article writing ai | bengali article writing app | bengali article writing book | bengali article writing bot | bengali article writing description | bengali article writing example | article writing examples for students | article writing for class 8 | article writing for class 9 | bengali article writing format | article writing gcse | bengali article writing generator | article writing global warming | article writing igcse | article writing in english | bengali article writing jobs | article writing jobs for students | article writing jobs work from home | article writing lesson plan | article writing on child labour | article writing on global warming | article writing pdf | article writing practice | article writing topics | trending topics for article writing 2022 | what is article writing | content writing trends 2022 | content writing topics 2022 | Bangla Prabandha | Probondho | Definite Article | Article Writer | Short Article | Long Article | Bangla kobita | Kabitaguccha 2022 | Galpoguccha | Galpo | Bangla Galpo | Bengali Story | Bengali Article | Shabdodweep Writer | Shabdodweep | Shabdodweep Founder | Bharatpur Patachitra | Bharatpur Patachitra history | Bharatpur Patachitra pdf | Bharatpur Patachitra pdf book | Bharatpur Patachitra article | Bharatpur Patachitra bengali pdf | Unknown history Bharatpur Patachitra | trending news Bharatpur Patachitra | Bharatpur Patachitra viral photo | Bharatpur Patachitra wallpaper | Bharatpur Patachitra photo download | Bharatpur Patachitra videos

Leave a Comment

Seraphinite AcceleratorOptimized by Seraphinite Accelerator
Turns on site high speed to be attractive for people and search engines.