...

New Bengali Story 2023| গল্পগুচ্ছ | মনসুর আলি

Sharing Is Caring:
Bengali Story

স্বপ্ন যখন একটা সাইকেল – মনসুর আলি [Bengali Story]

সালটা ১৯৯৮। আজ থেকে অনেক কাল আগের কথা। সবে মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল বার হয়েছে তখন। সমীরণ স্টার মার্কস পেয়ে পাস করেছে। আহা! বাড়িতে যেন মহা আনন্দের ধুম পড়ে গেল। নবারুণবাবুর দুই ছেলের মধ্যে সমীরণ বড়। নবারুণবাবু নিজে গ্র‍্যাজুয়েট। কিন্তু সেভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেননি। সবই ভাগ্যের খেলা মনে করে মেনে নিয়েছেন। ছেলেকে নিয়ে তাই তিনি স্বপ্ন দেখেন। ছোটো ছেলে নিলয়ের এখন নিচু ক্লাস। ফাইভ। তাই ওর ব্যাপারটা বর্তমানে অতটা মাথায় নেই তাঁর। এই মুহূর্তে সমীরণকে নিয়ে দারুণ ব্যস্ত। তাকে সায়েন্স নিয়ে পড়তে হবে। হয় ডাক্তার না-হয় ইঞ্জিনিয়ার কিছু একটা হতে হবে।

তবে সমীরণের মেডিক্যাল দিকটা বেশি পছন্দের। নবারুণবাবু তো চারদিকে সবাইকে হাসি-হাসি মুখ করে বলে বেড়াচ্ছেন তাঁর ছেলে মাধ্যমিকে স্টার পেয়েছে। সবাই অভিনন্দনসূচক নানান কথা বলছে। কেউ বলছে, ‘বাবা! হবে না? সারাদিন বই নিয়ে বসে থাকত ছেলেটা।’ কেউ বলছে, ‘বাবা-মাটা কেমন দেখো। বাপ-মা ভালো বলেই না ছেলেটা ভালো হয়েছে।’ আবার কেউ-কেউ নবারুণবাবুর আগতপ্রায় সৌভাগ্যের কথাও বলছে। যেমন, ‘নব এবার দেখবে তোমার কষ্টের পালা শেষ হবে। ছেলে তো চাকরি পাবেই।’ ইত্যাদি নানান রকম কথা। শুনে নবারুণবাবুর মন্দ লাগছে না।

সমীরণের কিন্তু মনে সুখ নেই। তার উপযুক্ত কারণ অবশ্য আছে। সে বরাবর লেখাপড়ায় ভালো। স্কুলের সব পরীক্ষায় রেজাল্ট ভালো হয়েছে। সুতরাং বোর্ডের এক্সামেও হবে। এ আর এমন কী। তার যে-ই বিমর্ষ মুখ সে-ই বিমর্ষ রয়ে গেল। ওর মা অর্চনাদেবী ওকে ডাকলেন। সমীরণ ওদের মাটির দাওয়াতে মাদুরের ওপর মুখে হাত ঠেস দিয়ে চুপ করে বসে ছিল।

অর্চনা বললেন, ‘হ্যাঁরে সমু, কাল তোর রেজাল্ট বেরল। কত ভালো নম্বর তুললি। আর এখন এমন মুখ করে বসে রয়েছিস কেন? আমি কাল থেকে লক্ষ করে যাচ্ছি তোর মুখে হাসি নেই।’
সমীরণ বলল, ‘বাবা কী বলেছিল মনে আছে তোমার? সাইকেল কিনে দেবে বলেনি? আর এখন বলছে কিনে দিতে পারবে না।’

নবারুণবাবু সত্যি মাস ছয় আগে থেকে বলে আসছিলেন তাঁদের সমীরণ মাধ্যমিক পাস করলে ওকে একটা ছোটো সাইকেল দেবেন। সেই মেরুন রঙের চকচকে সাইকেলে চেপে সমীরণ পড়তে যাবে স্যারেদের বাড়িতে। বিকেল হলে মাঠে খেলতে যাবে। কখনও পাড়ার মদনদার দোকানে যাবে এটা-ওটা কিনে আনতে। বাজারে যাবে। তো সেই থেকে আজ অবধি দু’ নয়ন ভরে সেই সুন্দর একখানা সাইকেলের স্বপ্ন দেখে আসছিল ষোলো বছরের কিশোর ছেলে সমীরণ। আজ যখন সেই বহু অপেক্ষিত সময়টি এসে হাজির হলো, তার সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নের পথে ছেদ পড়ে গেল! এ তো সত্যিই দুঃখের কথা।

অর্চনা বললেন, ‘তোর বাবা কোথায়, ডাক।’
সমীরণ বলল, ‘নকুল কাকার চায়ের দোকানে। দাঁড়াও ডেকে আনছি।’

নবারুণবাবু আসতেই অর্চনা বললেন, ‘এতদিন ছেলেটাকে সাইকেল কিনে দেবে বলে আশা দিয়ে-দিয়ে এসেছ, আর এখন বলছ কিনে দিতে পারবে না?’
নবারুণবাবু বললেন, ’কী করব, কাছে অত টাকা যে নেই এখন! একটা ছোটো সাইকেলের দাম কমসেকম দেড় হাজার থেকে ষোলো-শ’ তো হবেই।’
অর্চনা বললেন, ‘আমার কাছে কিছু টাকা আছে। মাটির ভাণ্ডারটাতে জমিয়েছিলাম। ওটা ভাঙছি। আশা করি তাতে ওর একটা সাইকেল হয়ে যাবে। ওকে আজ সন্ধেয় বাজারে নিয়ে গিয়ে সুন্দর দেখে একটা সাইকেল কিনে দাও। অনেক খেটে লেখাপড়া করছে বাছা আমার।’

পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলে সমীরণের ঠোঁটে মৃদু হাসির আভা ফুটে উঠল। আজ তাহলে তার স্বপ্ন সত্যিই পূরণ হতে চলেছে! সাইকেল নিয়ে সে কত দূর দূর চলে যাবে! আবার সন্ধে হলে ঘরে ফিরে আসবে। সাইকেলটাকে জল দিয়ে ধুইবে। শুকনো কাপড় দিয়ে মুছবে। যত্ন করে ঘরের একপাশে রেখে দেবে। আবার সকাল হলে কিছু খেয়েদেয়ে ব্যাগ নিয়ে মনের সুখে সাইকেলখানায় চেপে পড়তে যাবে স্যারেদের বাড়িতে। উফ! কী আনন্দই না হবে! সে ছুটে যায় ঘরে জামাপ্যান্ট পরতে। একটু পরে যে বাবার সাথে বেরতে হবে!

সৎ সাহস – মনসুর আলি [Bengali Story]

নির্মলের মতো শান্ত ছেলে দু’টি নেই। ক্লাস সেভেনে পড়ে। জয়রামপুর হাই স্কুলের ওই ক্লাসের প্রতিটা ছেলে ওকে ভদ্র আর লাজুক ছেলে হিসেবে জানে।

গতদিন বলাই এসে নির্মলকে ধরল, ‘এই নির্মল একটা প্রস্তাব আছে।’

‘কী?’ নির্মল ওর স্বভাবসিদ্ধ লাজুকতা মেশানো গলায় জিগ্যেস করল।

বলাই বলল, ‘আগে বল যা বলব তাই করবি। তাহলে বলব। নাহলে বলব না।’

নির্মল বলল, ‘সাধ্যে কুলোলে করব। না পারলে করব না।’

বলাই বলল, ‘তোর সাধ্যের মধ্যেকার কাজ। তুই বল করবি?’

নির্মল বলল, ‘অকাজ কুকাজ কিছু করতে পারব না। আমার দ্বারা হবে না। ভালো কাজ হলে আছি।’

‘আরে বোকা অকাজ কুকাজ নয়। চল কাল স্কুল কেটে বাঁশরিপল্লিতে রাসের মেলায় যাই। আমি, ঘন্টু, ফেলা, শুভ, অনিরুদ্ধ সবাই যাব।’ বলাইয়ের এই কথায় নির্মল বলল, ‘না ভাই। ও আমার সাহসে কুলোবে না। যদি ধরা পড়ি, খুব মার খেতে হবে। আমাদের স্কুলের কানাই স্যারকে তো আমি জানি। কড়া স্যার। তোরা যা। আমি যেতে পারব না।’

‘এই তো ভাই কথার খেলাপ হয়ে গেল!’ বলাই হতাশভাবে ওর দিকে তাকায়।

‘ক্লাস বাঙ্ক করা তো অন্যায়। আমরা স্কুলে আসি পড়ালেখা করতে। আর সেকাজে ফাঁকি দেওয়া তো আদৌ ভালো কথা নয়।’ নির্মল বলল।

নির্মলের কথায় বলাইয়ের উচিত শিক্ষা হয়ে গেল। সে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকল কয়েক মুহূর্ত। মনে মনে ভাবল, নির্মল সত্যিই একজন ভালো ছেলে। আর ভালো ছাত্রও বটে। একে দিয়ে এসব করানো যাবে না।

নির্মলের প্রতি বলাইয়ের শ্রদ্ধা দ্বিগুণ হয়ে গেল। সে চলে গেল সেখান থেকে।

সুশোভন এসে আকাশের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নির্মলকে বলল, ‘নির্মল, কাল দিনটা আমাদের খুব আনন্দে কাটবে। কাল তো নাটকের দিন। বাৎসরিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হবে। তিনদিন ধরে চলবে। আমি নাটকে একটা রোল করছি।’

‘তাই নাকি! আমি দেখবই। যত রাত হোক। তোর অভিনয় আমাকে দেখতেই হবে। মিস করা যাবে না। অভিনয় জিনিসটা তুই দারুণ পারিস।’ নির্মলের এই কথায় সুশোভন একটু মিষ্টি করে হাসল।

পরদিন নাটক হলো। সবার খুব ভালো লাগল। স্কুলের ছেলেরা খুব আনন্দ করেছে। রাত তখন ন’টা। সবাই বাড়ি ফিরবে বলে স্টেশনে এসেছে। নির্মল থাকে মধুপুরে। জয়রামপুর থেকে দুটো স্টেশন পর। সেও স্টেশনে এসেছে। সাথে অভিজিৎ স্যার আর প্রায় বারো-তেরোজন ছাত্র। সবাই আপ-ট্রেন ধরবে।

গরম কাল। নির্মল একটা কোল্ড ড্রিংকসের বোতল কিনেছে। সেটাতে চুমুক দিচ্ছে দাঁড়িয়ে। ট্রেন আসতে আর দু’মিনিট বাকি। ততক্ষণে খাওয়া হয়ে যাবে।

দু’মিনিট পর ট্রেনের হুইশেল বাজল। ট্রেন ঢুকছে। সবাই অবাক হয়ে দেখল রেললাইনে এক বৃদ্ধা বসে। এ কী! এ তো কাটা পড়বে!

এতক্ষণ লাইনের জায়গাটা প্রায় অন্ধকারে ঢাকা ছিল। ফলে বৃদ্ধাকে কেউ লক্ষ করেনি। ট্রেনের হেডলাইটের আলোয় সবাই দেখতে পেল।

আর হয়ত দশ সেকেন্ড বাকি বৃদ্ধার শরীরটা ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে। কেউ লাইনে নামতে সাহস পাচ্ছে না। অনেকে ভয়ে চোখ বুজল।

কেউ কেউ ‘ও মাগো!’ বলে চেঁচিয়ে উঠল।

নির্মল কোল্ড ড্রিংকসের বোতল ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে এক লাফে লাইনে ঝাঁপ দিল। মুহূর্তে বৃদ্ধাকে কোলে তুলে নিয়ে লাইনের ওপারে চলে গেল। ট্রেন চলে গেল। স্টেশনে থামল। বৃদ্ধা প্রাণে বেঁচে গেল।

উপস্থিত জনতা ‘সাবাস! সাবাস!’ ধ্বনি তুলতে লাগল নির্মলকে ঘিরে ধরে। অভিজিৎ স্যারের চোখে জল। মাস্টারমশাই হয়ে যে কাজ তিনি করতে পারলেন না, তাঁর ছাত্র তা করে দেখাল!

ড্রাইভার, গার্ড দু’জনেই নেমে এলেন ট্রেন থেকে।

ড্রাইভার নির্মলকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। বললেন, ‘বাবা, গাড়ির গতি ছিল। হঠাৎ ব্রেক কষা সম্ভব ছিল না। তুমি অতি সাহসী কাজ করেছ।’

জিআরপি অফিস থেকে পুলিশ এসে নির্মলের ছবি তুললেন। নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর নিয়ে আগামীকাল সকাল দশটায় জিআরপি অফিসে আসতে বললেন। নির্মলকে সরকারের তরফ থেকে বিশেষ সম্মান ও পুরস্কার দেওয়া হবে। এতকিছু শুনেও নির্মল শান্ত। কোনও উচ্ছ্বাস নেই। যেন সেই আগের নির্মল।

পরদিন জিআরপি অফিস থেকে ঘুরে সে স্কুলে গেল। হেডস্যার হলঘরে সব ছাত্রদেরকে হাজির করে নির্মলের জন্য প্রশংসা-সভার আয়োজন করলেন।

নির্মল ডায়াসে বসে আছে। হেডস্যার ছেলেদের উদ্দেশে বললেন, ‘তোমরা নির্মলকে কেমন ছেলে হিসেবে জানতে?’

সবাই একবাক্যে বলল, ‘আমরা ভাবতাম ও খুব ভীতু আর শান্ত।’

হেডস্যার এবার নির্মলকে ডাকলেন কিছু বলার জন্য। নির্মল মাইক্রোফোনের সামনে এসে বলল, ‘হ্যাঁ, আমি ভীতু। তবে সেটা অন্যায় কাজে, মন্দ কাজে। আমি ক্লাস বাঙ্ক করতে পারি না। স্কুল কামাই করতে পারি না। বন্ধুদের টিফিন চুরি করতে পারি না। তবে কেউ বিপদে পড়লে তাকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারি।’

এবার পুরো হলঘরটা হাততালিতে ফেটে পড়তে লাগল যেন। তালি থামছে না। অন্য স্যারেরা এসে কেউ ওকে জড়িয়ে ধরলেন। কেউ কপালে চুমু খেতে লাগলেন। কেউ পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন।

নির্মল সরকার থেকে এক লক্ষ টাকা পুরস্কার পেয়েছিল তার সেইদিনের সাহসিক কাজের জন্যে। তার সৎ সাহসের জন্যে।

মনসুর আলি | Mansur Ali Gazi

Living next to tiger | বাঘের পাশে বাস করা | 2023

Salt Water | নোনা জল – জয়নাল আবেদিন | 2023

Bharatpur Patachitra | ভরতপুরের পটচিত্র | 2023

The legend of Jagannath | জগন্নাথের কিংবদন্তি

স্বপ্ন যখন একটা সাইকেল | সৎ সাহসের প্রয়োজনীয়তা | সৎ সাহস মানে কি | সততা ও সৎ সাহস | সত্য বলার সৎ সাহস | দেশপ্রেম ও সৎ সাহস | সাইকেলে স্বপ্ন বেঁধে অ্যাডভেঞ্চার | সাইকেলে বাঁধা স্বপ্ন | আমার সাইকেলবেলা | দু’চাকায় স্বপ্নপূরণ | স্বপ্নের ডানা | স্বপ্নভঙ্গের কথা | সাইকেল চালাতে চালাতে প্রাণ | স্বপ্নে সাইকেল চালাতে | বাইক হারানোর স্বপ্ন কেন | আপনার স্বপ্নের মোটর বাইক | আমার সোনার বাংলা | স্লিপ সাইকেল | শব্দদ্বীপের লেখক | শব্দদ্বীপ | সেরা বাংলা গল্প | গল্প ও গল্পকার | সেরা সাহিত্যিক | সেরা গল্পকার ২০২৩ | বাংলা বিশ্ব গল্প | বাংলা গল্প ২০২৩ | বাংলা ম্যাগাজিন | ম্যাগাজিন পত্রিকা | শব্দদ্বীপ ম্যাগাজিন

bengali story new | indian poems about death | bengali story | bengali story books for child pdf | bengali story books for adults | bengali story books | bengali story books for child | bengali story books pdf | bengali story for kids | bengali story reading | short story | short story analysis | short story characteristics | short story competition | short bengali story definition | short story english | short story for kids | short bengali story generator | bengali story 2023 | short story ideas | short story length | long story short | long story short meaning | long bengali story | long story | long story instagram | story writing competition | story writing competition topics | story writing competition for students | story writing competition malayalam | story writing competition india | story competition | poetry competition | poetry competitions australia 2022 | poetry competitions uk | poetry competitions for students | poetry competitions ireland | poetry competition crossword | writing competition | writing competition malaysia | writing competition london | bengali story writing | bengali story dictation | writing competitions nz | writing competitions ireland | writing competitions in africa 2022 | writing competitions for high school students | writing competitions for teens | writing competitions australia 2022 | writing competitions 2022 | writing competitions uk | bengali article writing | bangla news article | bengali story news| article writing on global warming | article writing pdf | article writing practice | article writing topics | trending topics for article writing 2022 | what is article writing | content writing trends 2022 | content writing topics 2022 | Bangla Prabandha | Probondho | Definite Article | Article Writer | Short Article | Long Article | Bangla kobita | Kabitaguccha 2022 | Galpoguccha | Galpo | Bangla Galpo | Bengali Story | Bengali Article | Shabdodweep Writer | Shabdodweep | Shabdodweep Founder

Leave a Comment

Seraphinite AcceleratorOptimized by Seraphinite Accelerator
Turns on site high speed to be attractive for people and search engines.