Sunday, September 18, 2022

মহালয়া এবং দুর্গা পূজা প্রসঙ্গে | Mahalaya and Durga Puja | সম্পাদকীয় কলম | সেপ্টেম্বর শেষ সংখ্যা [Editorial]

শব্দদ্বীপের অতিথি সম্পাদক

জুলাই - আগস্ট - সেপ্টেম্বর

কবি - শিবপ্রসাদ পুরকায়স্থ


মহালয়া এবং দুর্গা পূজা প্রসঙ্গে

- শিবপ্রসাদ পুরকায়স্থ


বহু চর্চিত বিষয় হলেও ম্লান হওয়ার নয়। সনাতনধর্মের সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকলেও সংকীর্ণতায় আটকে নেই। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অস্থির সময়ের মধ্যেও বেশি সংখ্যক সহমতে পৌঁছাতে পারে বলে আমিও মনে করি। একথা অন্তরের গভীর থেকে বলছি। আমার বিশ্বাসের আরও একটি প্রতীকী রূপ বলে ভাবতে পারে সকল পাঠক বন্ধুরা। এবার যে কথাটা বলার জন্য এই গৌরচন্দ্রিকার অবতারণা সেই প্রসঙ্গে আসি।

মহালয়া এবং দুর্গা পূজা, শব্দবন্ধ দুটি একে অন্যের পরিপূরক। কী জানি তবুও প্রায়শই মহালয়ের অর্থ খুঁজি। দুর্গা পূজার সাথে এমন কীসের যোগ। এই প্রসঙ্গে বলতে গেলে সবাই এক রকমভাবে ভাবে না। মহালয় যেন  দুর্গা পূজার সূচনা পর্বে আগমনীর ভূমিকায় ধরে থাকি। ভুল নেই, অনেকটা তাই। তবে বিশেষ অর্থে দীর্ঘকাল থেকে সনাতনপন্থীরা শ্রদ্ধার সাথে পালন করে আসছে বছরে এই শুভ দিনটি। তিথি নক্ষত্র অনুযায়ী মহালয়ার বিশেষ সময়ে পিতৃলোকে'র বিদেহী পিতৃপুরুষগণ মর্তলোকের খুব কাছেই অবস্থান করে। দুই লোকের মধ্যে সূক্ষ্মভাবে নৈকট্য অনুভব করে। বিগত পূর্বসূরির আশীষ এবং বর্তমান উত্তরসূরির শ্রদ্ধা যেন বিনিময় ঘটে। সবটাই বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে। এইভাবে চলে আসছে, চলতে থাকবে। আমি হয়তো হাতেকলমে প্রমাণ দিয়ে দেখাতে পারব না। তবে এই কথা বলতেই পারি। যে ধর্মের লোক হোক না কেন, তিনি কি চাইবেন নিজের বিগত পূর্বপুরুষদের ভুলে যেতে। শ্রদ্ধা না করতে। তবে সব ধর্মীয় গোষ্ঠীর স্মরণ, তর্পণ করার পদ্ধতি এবং সময় একই নাও হতে পারে। যে যেভাবেই করুক সবার একই উদ্দেশ্য পূর্বপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা। বিশেষত হিন্দুরা মহালয়ার দিনটিকে যথাযথ শুভ দিন বলে পালন আসছে। কোথাও না কোথাও নদীর কূলে তর্পণের কাজ ভোর ভোর সম্পন্ন করার চেষ্টা করে।

পৌরাণিক মতে মহালয়ার যাই ব্যাখ্যা থাক না কেন। সন্ধিবিচ্ছেদ করলে তো মহান ও আলয় এই দুটো শব্দ পাই। তার সঙ্গে ইহলোক পরলোকের কী যোগসূত্র সত্যি বলতে জানি না। আর এতটা জানার কৌতূহল নেই। আমি মনে করি যাঁরা আমাদের গুরুজন দৃষ্টিগোচরে আছেন তাঁদের প্রতি ভক্তি, শ্রদ্ধা, কর্তব্য ভুলে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসা নতুবা কোথাও বাটি হাতে বসিয়ে আসা নিশ্চিত শ্রদ্ধাশীলের পরিচায়ক নয়। যাইহোক যে কথায় ছিলাম ফিরে আসি। শরতের দুর্গা পূজা কেন্দ্র করে মহামিলনের সুপ্রশস্ত জায়গা সূচনা পর্বের এই মহালয়া।

আমি যাকিছু বলতে চলেছি, দুর্গা পূজাকে উপলক্ষ করে। এই দুর্গা পূজা অবলম্বন করে শরৎকালীন দুর্গোৎসবের আয়োজন। কবি লেখক আবেগ উজাড় করে তাদের সৃষ্টি সম্ভার তুলে ধরে শারদীয় পত্রিকার মাধ্যমে। চতুর্দিকে যেন সাজ সাজ রব। যুদ্ধকালীন তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। গ্রামবাংলার প্রতিটি বাড়িতে ঝাড়পোছের ধূম পড়ে যায়। বছরান্তে মা দুর্গা বাপের বাড়িতে আসবে। আমরা সবাই জানি তিনি হিমালয়ের কন্যা। শস্য শ্যামলা গ্রামবাংলা হলো পিত্রালয়। সাধ্য মতো সবাই প্রস্তুতির ঘাটতি রাখতে চায় না। মন থেকে না চাইলেও অর্থনৈতিক ভাবে টানাটানির সময়। পুজোর পরে কার্তিক মাসের ভাঁড়ার শূন্যের ইঙ্গিত। গ্রামাঞ্চলে প্রান্তিক চাষী, ক্ষেত খামারে খেটে খাওয়া মানুষের কথাই বলছি। তারাও যেন উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে চায় না। আসন্ন যতই সমস্যা থাক।

পারিবারিক দুর্গা পূজা থেকে এখন বারোয়ারি পূজার সময় এসেছে। প্রতিটি মানুষ আমাদের পূজা বলতে পারে বুক ফুলিয়ে। আগে তো তা ছিলনা। বিভিন্ন নাম বা পদবির সঙ্গে পুজো জড়িয়ে থাকত। অমুকের পূজা, অমুকদের পূজা বলে সবাই জানত। এখনো দুএকটি ঘরোয়া পুজো তার ঐতিহ্য মেরে চলে এসছে। এবার অন্য কথা পাড়ি। বারোয়ারি পুজো শুরু হওয়াতে সাধারণ মানুষ নিজের বলে বটে, স্বতঃস্ফূর্ত ভাব বজায় থাকে বলে মনে হয় কি? এখন তো গ্রামে বা শহরতলীতে দাদাদের কবজায় শুধু দুর্গা কেন মনসা থেকে শীতলা তাদের হাত গলে কোন দেবতা পুজোয় ছাড় পায় না। চাঁদার জুলুম থাকে। তাই নিয়ে অশান্তি কম হয় না। এখন সরকার পুজো কমিটির মোটা অঙ্কের অনুদান দিচ্ছে। বাজেট বহির্ভূত ধর্মীয় ব্যয় পরবর্তীতে বজায় থাকবে কি না আমার জানার কথা। বৈধ-অবৈধ ভালো-মন্দের বিতর্কে যাব না। এখন নীরবে চাঁদার টাকা তুলতে দেখা যায়, রক্তচক্ষু দেখাচ্ছে কি না বোঝার উপায় নেই। হয়তো বলে যাচ্ছে "মাষ্টার মশাই, আপনি কিন্তু কিছু দেখেননি" হয়তো এইভাবে ঠান্ডাভাবে শাসিয়ে যেতে পারে। আপাতত আগের মত জুলুম চোখে পড়ে না। যাইহোক আগে আভিজাত্য দেখাতো, এখন দাদাগিরি দেখায়। নিরীহের ওপর প্রভাব খাটিয়ে পুজোতে একশ্রেণীর কাছে অর্থনৈতিক ভাবে গড়ে ওঠার সুবর্ণ সুযোগ। আমার বদ্ধমূল ধারণা অনেকে সহমত নাও হতে পারে। বারোয়ারি যেকোনো পূজা পার্বণে যুক্ত থেকে যে জনসংযোগ তৈরি হয়, পরবর্তী সময়ে রাজনীতি করার কাজে লাগে। সবার নাড়ি নক্ষত্র জানা হয়ে যায় বলে। ধর্ম দিয়ে হাতেখড়ি হয় সমাজকে মুঠোয় রাখার। সবচেয়ে সহজতম পথ।

দুর্গা পূজা বা আরাধনা বলতে আকাশে বাতাসে মুহুর্মুহু যে শব্দই ব্রহ্ম নামক শব্দগুলো ব্রহ্মদৈত্যের মতো আমাদের কর্ণকুহরে ঢুকে পড়ে, শ্রী শ্রী চণ্ডী পাঠের নামে। সেখানে শুধুই চাওয়া-পাওয়ার কথা ছাড়া আর কিছুই পাবেই না। প্রাধান্য পায় ভক্তি শ্রদ্ধা তোষামোদের ভাষা রূপে। প্রকৃত শ্রী শ্রী চণ্ডী বলে যা চেঁচিয়ে পাঠ হয় তা স্তুতি। পৌরাণিক সময়ে যেমন স্বর্গলোকের দেব-দেবীকে ভালো ভালো কথা বলে শান্ত করা হতো। এখন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ভালো ভালো কথা বলে খুশী করা হয়। ফলস্বরূপ আগে বর দিতেন এখন প্রতিশ্রুতি দেয়। ভক্ত বা ভোটার জীবনে যা পায় কঠোর পরিশ্রমের ফল না বলে বলা বরং ভালো নিজেকে রাতুল চরণে সঁপে দেওয়ার পারিশ্রমিক। ফাটকা ভাবে পাওয়া বলে কিছু হয় না। দুর্গা পূজা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আজেবাজে কথা বলে ফেললাম। ছেড়ে দিন ওসব কথা।

মনের কথা বলি, দুর্গা পূজা  আমার কাছে মিলনোৎসব। প্রশস্ত মহা মিলনের মহাক্ষেত্র। আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলাম। এই পুজোকে কেন্দ্র করে হিন্দু বাঙালির আবেগ জড়িয়ে আছে। তাদের ঘরের মেয়ে দুগ্গাকে দেখার কী আকুতি। আবার মেয়ের ফেলে যাওয়া,চেনা পরিবেশে বছরান্তে আসার কী অসীম আনন্দ মনের মধ্যে। এই আবেগ উচ্ছ্বাস বোধহয় ধর্মের গণ্ডীতে দেখিনা। প্রতিটি বাঙালির ঘরে ঘরে একই চিত্র ফুটে ওঠে। কী ভালো না লাগে।

শরতে মা দুর্গা দেখার জন্য সবাই মুখিয়ে থাকে। এখন সেই প্রতিমার মুখ দেখা যায়না। এখন দেখছি থিমের  বাড়বাড়ন্ত। প্রথমে প্যাণ্ডেলের চাকচিক্যে চোখ আটকাবে। আবার মনে হবে ফাঁকফোকর দিয়ে যদিওবা ভেতরে ঢোকা গেল ঠাকুর কোনটা বুঝে ওঠা দুষ্কর। মানুষের বেঁচে থাকর জন্য যে যে খাদ্য শস্য লাগে। মনে হবে গোলাজাত করা হয়েছে। ছুঁড়ে ফেলা বর্জ্য জড়ো করে রাখা হয়েছে কর্পোরেশনের গাড়ি এলে তুলে দেওয়ার অপেক্ষায়। এখন এইসব দিয়ে প্রতিমা নির্মাণ করা চলছে। উচ্চমানের শিল্পকলার নিদর্শন। ভালো বা মন্দ সেভাবে না বলে বলব, এতটা বাড়াবাড়ি না করলে খুব কি মন্দ হতো। এভাবেই তো রুচিশীল মন বিষয়ে যায়। সমাজে খারাপ প্রভাব পড়ে। শিল্পের নামে শিল্পীর নিচু মানসিকতার পরিচয় দেয় বলে আমার মনে হয়। সৃজনশীল যারা প্রত্যেকে নতুন কিছু দেখালে,সবাই তাকে নিয়ে আলোচনায় মশগুল থাকে বটে, তার স্থায়িত্ব কোথায়। যে যাই ব্যাখ্যা দিয়ে শিল্পের নামে পাগলামিকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় চাক না। আখের কিছুই লাভ হয় না। গুটিকয়েক পয়সা ছাড়া। তবে সূক্ষ্ম শিল্প বোধ আমার মধ্যে সেভাবে নেই স্বীকার করে নিলাম। এই রাজ্যে তো তোলপাড় হয়ে গেল। বিশিষ্ট শিল্পীর আঁকা ছবি কোটি কোটি টাকায় বিক্রি হওয়াতে। আমি সেই ছবি দেখে কিছুই বুঝিনি এই ছবির কেন বাজার দর আকাশ ছোঁয়া। যা বুঝি না তা নিয়ে চর্চা না করাই ভালো। তবে আমি যেমনটি বুঝি তেমন অংকন শিল্পীর আকাল এদেশে এখনো পড়েনি।

এই মহা পূজাকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক স্তর ভেদে কতরকমের বৈষম্য চোখে পড়ে। তবুও বলব আনন্দ মুখর উৎসবে তার খুব একটা ছাপ চোখে পড়ে বলতে পারিনা। তবে সাধারণ এক শ্রেণির মানুষজনেরা অনেক কিছু মানিয়ে নেয়। বাহ্যিক পোশাক-আশাক নিয়ে খুব একটা ভাবিত নয় তারা। তাদের কাছে মা দুর্গা দর্শন হলো মূল। দূরে বেড়াতে নাইবা গেল। আশপাশের মধ্যে ঘুরে পূর্ণ আনন্দ ভোগ করে। তাদের পুজোর কটাদিন নতুন নতুন জামা পরার বিড়ম্বনা থাকার কথা নয়। একটা পুরোনো জামায় মেলা কাটিয়ে দেয়। ঠাকুর দেখার পরে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফেরে। বিনিদ্র চোখে আরো একবার মাকে দেখার জেদ চেপে যায়। স্বপ্নের মধ্যেও জাবর কাটতে থাকে। কুঁকড়ে থাকা আধপেটা খাওয়া হাড়জিরজিরে শরীর। প্রকটিত হাড়গুলো যেন দশপ্রহরণধারিণী। অশুভ নাশের প্রতীকী রূপে সময়ের অপেক্ষায় অপেক্ষমাণ। রাত জেগে মাকে দেখার আড়ষ্টতা সারা শরীরে জড়িয়ে থাকে।

সম্পাদকীয় | Editorial

মহালয়া : অসুর দলনী দেবী দুর্গা | মহালয়া শুভ নাকি অশুভ | দুর্গাপূজা - উইকিপিডিয়া | বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র | দূর্গা পূজার ইতিহাস | দূর্গা পূজার ছবি | দুর্গা পূজা ২০২২ | দুর্গাপূজা রচনা ছোটদের জন্য | দেবী দুর্গার ইতিহাস | দূর্গা নাকি দুর্গা | দূর্গা পূজা পদ্ধতি | দূর্গা পূজা কবে | পূজা আলাপন: মহালয়া প্রসঙ্গ | দুর্গাপূজা - ধর্ম্মতত্ত্ব - ধর্মতত্ত্ব | মহালয়া আজ | আজ মহালয়া | প্রেমিকের সাথে প্রথম দুর্গা পুজো | মহালয়া (মাতৃপক্ষ) | পিতৃপক্ষের শেষে মাতৃপক্ষের সূচণা | মহালয়া সম্পর্কে | বাংলা মহালয়া | মহালয়া ২০২২ তারিখ | মহালয়া চন্ডীপাঠ | মহালয়া কি | মহালয়া কবে | বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র মহালয়া | দুর্গা ঠাকুরের মহালয়া | শুভ মহালয়া | শুভ মহালয়ার শুভেচ্ছা বার্তা | মহিষাসুরমর্দিনী মহালয়া | মহালয়া কি ও এর ইতিহাস | মহালয়া কেন পালন করা হয় | বাঙালির মহালয়া ও মহিষাসুরমর্দিনী | মহালয়ার কথা ও কাহিনী | মহালয়া ও দুর্গাপুজো | কলকাতার দুর্গাপূজা | ২০২২ দূর্গা পূজা ক্যালেন্ডার | এবার মর্ত্যে দেবী দুর্গার আগমন | শারদীয় দুর্গা পূজা ২০২২ | দুর্গাপূজা রচনা | প্রবাসে দুর্গা পূজা | কলকাতা দুর্গা পূজা ২০২২ | দুর্গা পূজা (১৪২৮) | দুর্গাপুজোর চারদিনের মাহাত্ম্য | ২০২২ দুর্গা পূজার নির্ঘন্ট | দুর্গাপূজা - বাংলা রচনা | সম্পাদকীয় প্রতিবেদন | উপ-সম্পাদকীয় | সমকাল সম্পাদকীয় | নয়া দিগন্ত সম্পাদকীয় | সম্পাদকীয় লেখার নিয়ম | সম্পাদকীয় ভোরের কাগজ | সম্পাদকীয় চিঠি | সম্পাদকীয় লেখার নিয়ম | সম্পাদকীয় প্রবন্ধ | শব্দদ্বীপ সম্পাদকীয় | সম্পাদকীয় কলম শব্দদ্বীপ

 Editorial News Articles | Editorial | Shabdodweep Editorial | July Month Editorial | editorial today 2022 | editorial format 2022 | editorial letter 2022 | editorial examples 2022 | editorial article 2022 | Mahalaya 2021 | Mahalaya 2022 | Durga Puja 2021 | Durga Puja 2022 | Mahalaya | Mahalaya 2022 | Mahalaya 2022 Date & Time | mahalaya amavasya 2022 | Mahalaya in India in 2022 | When is Mahalaya 2022 | when is mahalaya in 2022 | mahalaya wikipedia | mahalaya place | mahalaya 2001 | mahalaya meaning | mahalaya song | mahalaya birendra krishna bhadra | dasara | durga puja 2022 | dussehra | durga puja 2021 | vijayadashami 2021 | dasara 2021 date | happy vijayadashami | dussehra 2020 date | durga puja near me | mahalaya amavasya | dussehra 2022 | dasara festival | dussehra date | burj khalifa pandal | durga puja festival | navratri puja | mahalaya amavasya 2020 | mahalaya paksha | about durga puja | mahalaya 2021 zee bangla | fd block durga puja | dussehra information | barisha club durga puja | ahiritola durga puja | durga puja 2025 | phalaharini kali puja 2021 | bengali durga puja 2021 | Durga Puja Essay | Bengali Essay on Durga Puja | Mahalaya (film) | Mahalaya Projects | 2,509 Mahalaya Images | Mahalaya in Bangladesh





No comments:

Post a Comment