Monday, November 21, 2022

রানা জামান | গল্পগুচ্ছ ২০২২ | Rana Zaman | Bangla Galpa | Story 2022

কাঁটা

- রানা জামান


কালপুরুষের জীবনে অনন্যার প্রেমলাভ আকাশের চাঁদ প্রাপ্তির চেয়েও বেশি, অনেক বেশি। নখদর্পণে হিসাবের জমানায় শতভাগ বেকারের প্রেমে অনন্যা ছাড়া পড়েনি আর কেউ। এই ভাবনায় কালপুরুষ অনন্যার সামনে হয়ে যায় আব্দুর রহমান বয়াতি অথবা লালন শাহ।

অনন্যার প্রেম আগ্রাসী ভীষণ। সপ্তাহ ফুরোবার আগেই অনন্যা ওকে নিয়ে যায় বাড়িতে। কালপুরুষ প্রথমে যেতে চায় না। এতো তাড়াতাড়ি প্রেমিকার বাড়ি গিয়ে হবু শ্বশুর-শাশুড়ির বকা খেতে সে কোন মতেই রাজি হতে চায় না। কিন্তু প্রেমিকা গো ধরলে প্রেমিককে হতেই হয় কুপোকাত। সমস্যা দেখা দেয় ওর নাম ও পোশাক নিয়ে। অনন্যার ভাষায়: এই উদ্ভট নাম ও সয়ে নিলেও মা-বাবা কখনই সইবে না; ভাইটা তো প্রথমে বিদ্রূপ হাসবে, তারপর দিয়ে দেবে একটা আবোলতাবোল নাম। একবার ঐ নাম মা-বাবার পছন্দ হয়ে গেলে পাল্টাবে এমন সাধ্য কারো নেই।

অনন্যার টাকায় কেনা পোশাক পরতে কালপুরুষ রাজি হলেও নাম পাল্টাতে রাজি হয় না কিছুতেই। সে যতবার এই নাম রাখার শানেনূযুল বলতে চায়, ততবার অনন্যা ওকে দেয় থামিয়ে। ঘটনার দিন কালপুরুষকে দেখে অনন্যা বেকুব-রাগবে না কাঁদবে, বুঝতে পারে না। কালপুরুষ ওর কেনা পোশাক না পরে নিজেরটাই পরে আসে, যা অন্যান্য গত এক সপ্তাহ ধরে ওর গায়ে দেখে আসছে: কুচকানো হাফহাতা শার্ট, নিচের দিকে বর্ডার ছেড়া জিন্সের প্যান্ট ও গোড়ালির দিকে ক্ষয়ে ফুটো হয়ে যাওয়া স্পঞ্জের চপ্পল। অনন্যা সেখানেই মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ে ফুটপাতে। পথচারীদের প্রত্যেকেই যাবার সময় ঘাড় বাঁকিয়ে ওকে বারবার দেখতে থাকে। নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় বারবার ফোন আসতে থাকে বাড়ি থেকে অনন্যার মোবাইল ফোনে। অনন্যা আরেক সেট নতুন পোশাক কালপুরুষের জন্য কিনতে পারতো;কিন্তু ওর মনেও জেদ আসে যে এভাবেই ওকে বাসায় নিয়ে যাবে, যা থাকে কপালে। অত্যন্ত কঠিন কষ্ট হবে যদি এই নির্বিকার লোকটা বিয়ের পর গাছতলায় থাকার গো ধরে!
নিঃসঙ্কোচেই কালপুরুষ অনন্যার পাশাপাশি বাসায় ঢুকে।

নাম ও সম্পর্ক জানার সাথে সাথে অনন্যার বড় ভাই ইকরাম ফরিদ তেড়ে আসে ওকে মারতে। ড্রয়িংরুমে হৈ চৈ শুনে মা-বাবা একত্রেই ছুটে আসেন ড্রয়িংরুমে।

বাবা ফরিদ আজহার ছেলের হাত ধরে টেনে রাখেন আর মা আস্রফিয়া ফরিদ মেয়ের কাছে ঘটনা শুনে হাসিতে ফেটে পড়েন। সাথে সাথে ফরিদ আজহারও হাসতে থাকে। অনন্যা ও কালপুরুষকে বসার ইঙ্গিত দিয়ে আস্রাফিয়া একটা একক সোফায় বসেন। ফরিদ আজহার ছেলেসহ একটি সোফায় বসেন।

হাসি থামিয়ে চোখের কোণের অশ্রুবিন্দু মুছে আস্রাফিয়া ফরিদ বলেন, খুশিতে আমার চোখে পানি চলে এসেছে। আমি অনন্যার জন্য এমনই একটা ছেলে খুঁজছিলাম।

ইকরাম ফরিদ বিস্মিত হয়ে মার দিকে তাকিয়ে বলে, কী বলছো তুমি মা!

ছেলের মন্তব্য বিবেচনায় না এনে ফরিদ আজহার বলেন, ঠিক তাই। এই যে বাবা, তুমি কালকেই তোমার মা-বাবাকে নিয়ে এসো। বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করে ফেলবো!

আস্রাফিয়া ফরিদ বলেন, আমরা এখন হবু জামাতাকে নিয়ে হোটেল লা-মেরিডিয়ানে সেলিব্রেট করতে যাবো। ওকে?
কল্পনাতীত হলেও অনন্যা অত্যন্ত খুশি। সে বড় ভাইকে ভেংচি কেটে কালপুরুষের হাত ধরে চলে যায় নিজ শয্যাকক্ষের দিকে।

ওদিকে কালপুরুষ পড়ে যায় ঘোরের মধ্যে। রাতের ঘুম তার উধাও! আসলেও গতকাল ওরকম কোন ঘটনা ঘটেছে কিনা তা যাচাই করার জন্য অনন্যার সাথে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেয় সে। প্রকৃতপক্ষে ওর তরফ থেকে কোন টান সৃষ্টি না হওয়ায় অনন্যার মোবাইল ফোন নম্বর নেবার কথা মনে হয়নি ওর। সে বাসে করে এবং বাকি পথটা হেটে চলে আসে অনন্যাদের এপার্টমেন্টের সামনে।

এপার্টমেন্টের সামনে অনেক লোক। সবাই অনন্যাদের ফ্লাটের দিকে তাকিয়ে। আসলে এরা ফ্লাটটায় ঢুকতে পারছে না-এপার্টমেন্টের সামনে থেকে সিঁড়িঘর হয়ে ওদের দোতলার ফ্লাট পর্যন্ত প্রচুর লোক। অনেক ঠেলাঠেলি টানাটানি গুঁতাগুঁতি করেও কালপুরুষ সিঁড়ি পর্যন্ত যেতে পারে না। উপরে উঠার হাল ছেড়ে দিয়ে উপরে কী হয়েছে একজনকে জিজ্ঞেস করে।

ভদ্রলোক বলেন, ফরিদ সাহেবের ভাস্তিটা গতরাতে ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

পাশের আরেকজন বলেন, মেয়েটা মরে যাওয়াতে ছেলেটার পথ পরিস্কার হয়ে গেলো।

ভালোবাসার ভিন্ন মূল্য

- রানা জামান


মোবাইল ফোনে মিসড কল হতে পারে, ভুল ডিজিট টিপে দেবার কারণে অন্য নম্বরে কল চলে যেতে পারে। কিন্তু ক্রস কানেকশন? এটাও হয়ে যায় মাঝেমধ্যে। গায়ে না লাগালে বিন্দাস জীবন; আর প্রলুব্ধ হলে ভালো বা খারাপের যে কোনো একটা ঘটতে পারে। অর্থাৎ ঘটে যেতে থাকবে ঘটনা।

নাদিয়ার জীবনে তেমনই ঘটনা ঘটে চলেছে। ভাবনার অতীত!

নাদিয়া কল করেছিলো মাকে। সংযোগ হবার পরে হ্যালো বলতে গিয়ে থেমে গেলো নাদিয়া। মার হ্যালোর জবাব না দিয়ে অন্য আরেকটা কথোপকথন শুনছে।
-মাস্ক সমস্যা! মাস্ক পরলে দম নিতে বা ফেলতে সমস্যা হয়! মাস্ক না পরলে করোনাভাইরাস! এখন আবার আরো শক্তিশালী ওমিক্রন ভ্যারাইটি!

অজান্তেই নাদিয়া হেসে দিলে বন্ধ হয়ে গেলো ওদিকের কথোপকথন। নাদিয়া ঠোঁট উল্টে মার সাথে সংযোগ স্থাপন করে কথা বললো। অদরকারি বাঁধা-ধরা কথাবার্তা।
-কেমন আছো মা?

-কী করছো?

-নাস্তা দেরি করে খাও কেন?

-বাবাকে বাজারে না পাঠিয়ে বেকার ভাইয়াকে পাঠালেই পারো!

-আমার লেখাপড়া চলছে!

-অনলাইনে ক্লাসের চাপ কম থাকলেও এসাইনমেন্টের চাপ বিস্তর!

-পরীক্ষা কিভাবে হবে এখনো জানায়নি।

-অটোপ্রমোশন না হলেই ভালো।

মার সাথে কথা শেষ হবার সাথে সাথে একটা অপরিচিত নম্বর থেকে রিং হলো। ও অপরিচিত নম্বরের কল গ্রহণ করে না। পরপর তিনবার রিং এলেও ও ধরলো না।

ম্যাসেজ টোন এলে নাদিয়া খুলে দেখলো একটা অনুরোধ:

-একটু আগে ক্রস-কানেকসনের আমি। কলটা ধরুন। প্লিজ!

কী এক অমোঘ টানে ঐ নম্বর থেকে কলটা এলে নাদিয়া ধরে পড়ে গেলো আটকা। একেবারে জিগারের আঠায়! বাড়তে থাকলো কলের সংখ্যা এবং আলাপের সময়। ওর নাম ইস্তিয়াক। কোনো এক অজানা কারণে ইস্তিয়াকের ফোন নম্বরে ধ্যান দেয়নি নাদিয়া।

ইস্তিয়াক ভিডিও কল করলে নাদিয়া ওর পেছনের দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো, জায়গাটা কোথায় ইস্তি?

ইস্তিয়াক টি-শার্টের কলার নেড়ে বললো, ফুকেট।

অবাক হয়ে নাদিয়া বললো, অনেক সুন্দর ফুকেট! বাংলাদেশের কোথায় এটা? আগামী সপ্তাহে ওখানে বেড়াতে যাবো।

ফুকেট বাংলাদেশে না, থাইল্যান্ডে।

কী বলছো তুমি! কবে তুমি থাইল্যান্ড গেলে?

আমি থাইল্যান্ডে থাকি।

বাহ! আমার থাইল্যান্ডে যাবার খুব সখ।

আমি ভিসা পাঠিয়ে দিচ্ছি। তুমি আগামী সপ্তাহে চলে এসো।

একা আসবো?

সমস্যা কী! আমি হার্মফুল না!

থাইল্যান্ড প্রবাসী জামাই পাবার প্রত্যাশায় মা-বাবা নাদিয়াকে থাইল্যান্ড যাবার অনুমতি দিলেন। নাদিয়ার ভাগ্য দেখে ওর বান্ধবীরা করতে থাকলো ইস্ ইস্!

আজ নাদিয়া থাইল্যান্ড যাচ্ছে। পরিবার ও বান্ধবীরা ওকে বিদায় জানাতে এসেছে। নাদিয়া ছাগলছানার মতো ছটফট করছে। তখন ইস্তিয়াক ফোন করে একটা প্যাকেট নিয়ে আসতে বললো যা ওর এক আত্মীয় দিয়ে যাবে বিমানবন্দরে। লোকটা বিমানবন্দরেই ছিলো। সাথে সাথে এসে হাজির। প্যাকেট খুলে দেখালো:

কুমড়োবড়ি।

প্যাকেট নিয়ে নাদিয়া চলে এলো থাইল্যান্ড। থাইল্যান্ডে তিন দিন অনেক আনন্দে কাটলো নাদিয়ার। আশ্চর্য হয়েছে নাদিয়া সুযোগ পেয়েও ইস্তিয়াক ওকে স্পর্শ না করায়। বেশ কেনাকাটা করে নাদিয়া ফিরে এলো বাংলাদেশে। থাইল্যান্ড বিমানবন্দরে একটা ফলের প্যাকেট আনতে হলো নাদিয়াকে।

নাদিয়া বুঝতে পারলো ইস্তিয়াককে ও খুব ভালোবাসে। ও খুব ভালো ও পরিশীলিত। আনুষ্ঠানিকভাবে 'ভালোবাসি' কথাটা না বললেও ভিডিও ও ননভিডিও কলে প্রেমের কথাই চলে। তিনমাস পরে ফের থাইল্যান্ড যাবার সুযোগ পেলো নাদিয়া। পূর্বের মতো এবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চ্যাপার প্যাকেট পেলো নিয়ে যাবার জন্য। ফেরার সময় একটা ঔষধের প্যাকেট আনতে হলো ওকে।

বার্ষিক পরীক্ষার পরে লম্বা ছুটি নাদিয়ার। চলে এলো ছুটি কাটাতে থাইল্যান্ডে। মা-বাবা সাথে আসতে চাইলে আনন্দ নষ্ট হবে ভেবে নাদিয়া রাজি হলো না। উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালো ইস্তিয়াক এবারও। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি চলে গেলো পাতায়া। চারতারা হোটেলে একক কক্ষ পেলো নাদিয়া। ইস্তিয়াক পাশের কক্ষে। এবার পাঁচ দিনের ভ্রমণ। পাতায়া চষে বেড়ানোর পরে এক রাতের জন্য চলে গেলো ফুকেট। পঞ্চম দিন ওখান থেকে বিমানবন্দরে যাবার প্রস্তুতি চলছে নাদিয়ার।
লাগেজ নিয়ে কক্ষ থেকে বের হলে নাদিয়ার হাত থেকে লাগেজটা নিয়ে ইস্তিয়াক বললো, তুমি লাগেজ নিচ্ছো কেন! এটেন্ডেন্ট নিয়ে আসবে। চলো আমরা লবিতে যাই।

লাগেজ তোলার পরে ওরা বসলো জিপে। বিমানবন্দরে পৌঁছে নাদিয়াকে ইমিগ্রেশনে ঢুকিয়ে ইস্তিয়াক চলে গেলো বিদায় নিয়ে। ডিউটি-ফৃ শপ থেকে কিছু কেনাকাটা করে বিমানে ঢোকার জন্য লাইনে দাঁড়ালে মাইকে নাদিয়ার ডাক পড়লো এবং বিমানবন্দর কাস্টমসের এক কর্মকর্তা ওকে নিতে এলো। নাদিয়া কাস্টমস অফিসে গিয়ে ওর লাগেজ দেখতে পেয়ে হতবাক। লাগেজ খোলা এবং কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে শাদা পলিথিনের প্যাকেট।

নাদিয়া এসব প্যাকেটের বিষয়ে কিছু জানে না বললে ও এতোদিন থাইল্যান্ডে কোথায় কার সাথে ছিলো জানতে চাইলে নাম বলে মোবাইল ফোন থেকে ইস্তিয়াকের ছবি দেখাল।

ছবি দেখে এক কাস্টমস অফিসার বললেন, এর নাম ইস্তিয়াক না, জাফর! ও কুখ্যাত বাংলাদেশি স্মাগলার হায়দার পাঠানের ভাতিজা!


হেলমেট

- রানা জামান


বারবার হাতঘড়ির দিকে তাকাচ্ছেন সার্জেন্ট প্রলয়কান্তি মজুমদার -বুকের নামফলকে যার নাম প্রলয়। প্রলয় বটে এই সার্জেন্ট-সকল প্রকার যানের চালকের জন্য। এবং এই অবস্থাটা অধিক থাকে সকাল আটটা হতে দুপুর দুইটা পর্যন্ত। এই সময়ে প্রত্যেক সার্জেন্টকে যে কোন ধরনের গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পূরণ করতে হয় লক্ষ্যমাত্রা। এই সময়ের মধ্যে পান থেকে চুন খসলেই খবর হয়ে যায়-শীর্ষ পর্যায়ের তদবিরেও হয় না কাজ! তাই ভয়ঙ্কর সময় তখন গাড়িচালকদের। গাড়িচালকরাও চেষ্টা করে নিরানব্বই দশমিক নিরান্নব্বই ভাগ ট্রাফিক নিয়ম অনুসরণ করতে। অন্য সময়ে অন্যরকম ব্যবস্থা চলে।

দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে সময়। আর একটা মামলা দায়ের করতে পারলেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ঐ দিনের জন্য।সার্জেন্ট প্রলয় বারবার হাতঘড়ি ও আসা-যাওয়া গাড়িগুলোর দিকে তাকাচ্ছেন। লক্ষ্যমাত্রার একটা মামলা কম হলে ভর্ৎসনাসহ দশ হাজার টাকা জরিমানা। জরিমানা প্রদান সহ্য হলেও ভর্ৎসনা শোনার চেয়ে মৃত্যু অনেক আরামের! পুলিশের ভর্ৎসনা মানে মা-বাবা-বোনকে নিয়ে অকথ্য গালিগালাজ!

হঠাৎ আশা পূরণের আলো দেখতে পেয়ে সার্জেন্ট প্রলয়ের চোখ চকচক করে উঠলো। পাওয়া গেছে! সময় ফুরিয়ে যাবার আগেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে, ইনশাআল্লাহ!

মোটর বাইক কাছে আসতেই হাত ইশারায় থামতে বললেন সার্জেন্ট প্রলয়। বাইকে দুইজন যাত্রী-চালকের মাথায় হেলমেট আছে; কিন্তু পেছনের ভদ্রমহিলা হেলমেটটা রেখেছেন হাতে।

লঙ্ঘন কী হয়েছে বুঝতে না পারলেও বাইকটা ফুটপাতের কাছাকাছি নিয়ে থামালেন বাইকের চালক। সার্জেন্ট প্রলয় কিছু না বলে কোমরে ঝুলিয়ে রাখা একটা থলে থেকে ছোট মেশিনটা বের করে গটাগট টাইপ করতে লাগলেন।

মোটরবাইক চালক জিজ্ঞেস করলেন, সার্জেন্ট সাহেব, দোষ কী আমার বলবেন দয়া করে? কোনো কিছু জিজ্ঞেস না করে আপনি মামলা করতে পারেন না। আমার কাছে গাড়ির হালনাগাদ কাগজপত্র আছে; ড্রাইভিং লাইসেন্সও হালনাগাদ করা আছে। মাথায় হেলমেট আছে, কোন ট্রাফিক রুলও ভায়োলেট করি নাই।

টাইপ শেষ হলে প্রিন্ট কপি বের করে একটা স্বস্তির হাসি দিয়ে সার্জেন্ট প্রলয় বললেন, আপনার যাত্রী হেলমেট মাথায় না পরে হাতে ধরে রেখেছেন। এর জন্য মামলা হচ্ছে। দুই শত টাকা জরিমানা।

ভদ্রমহিলা বললেন, এর জন্য আপনি মামলা করতে পারেন না সার্জেন্ট সাহেব!

সার্জেন্ট প্রলয় চোখের তারা নাচিয়ে বললেন, কেন মামলা করতে পারবো না, বলবেন কী?

ভদ্রমহিলা হেলমেটটা দেখিয়ে বললেন, এই হেলমেটটা আমার মাথায় ঢুকে না।

ছোট হেলমেট গাড়িতে রেখেছেন কেন? তাহলে বাইকারের বিরুদ্ধে মামলা হবে!

ভদ্রমহিলা বাইকারের হেলমেটটা নিয়ে মাথায় পরার চেষ্টা করে বললেন, এই দেখেন, এটাও লাগে না! আপনার হেলমেটটা দেন দেখাই পরে। আমার মাথায় কোন হেলমেট লাগে না। আমার মাথাটা একটু বড় কিনা!

সার্জেন্ট প্রলয় থমকে গিয়ে বললেন, কী বলছেন আপনি আপা!

বলে পাশে রাখা নিজ মোটরবাইক থেকে হেলমেটটা ভদ্রমহিলার হাতে দিলেন। ভদ্রমহিলা হেলমেটটা হাতে নিয়ে মাথায় পরার চেষ্টা করে দেখালেন-বাস্তবিকই মাথায় ঢুকছে না।

মোটরবাইক ড্রাইভার বললেন, কোন হেলমেট-ই যদি মাথায় না ঢুকে, তাহলে উনি কী করতে পারেন! মামলার ঐ কাগজটা আপনার কাছেই থাকুক সার্জেন্ট সাহেব! আমরা যাই। কেমন? আমাদের একটু তাড়া আছে! সিন্থিয়া, সার্জেন্ট সাহেবের হেলমেটটা ওনার হাতে দিয়ে দাও।

সার্জেন্ট প্রলয় হেলমেটটা হাতে নিলে ওরা মোটরবাইক স্টার্ট দিয়ে গেলো চলে। আর সার্জেন্ট প্রলয় হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলেন লক্ষ্যমাত্রা পূরণের সময় পেরিয়ে দশ মিনিট হয়ে গেছে। হাতে ধরা মামলা দায়েরের স্লিপটার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বললেন: জরিমানা ও গালিগালাজ দুটাই বরাদ্দ হয়ে গেলো আজ! কিন্তু কোন হেলমেট-ই লাগবে না এতো বড় মাথা ভদ্রমহিলার! হাউ স্ট্রেঞ্জ!

নাকানিচুবানি

- রানা জামান


বাইরে হৈ চৈ আনন্দের, আর রোক্সানার মনে উৎকণ্ঠা নিরন্তর। ও কখনো সাহসী হয়ে উঠে, কখনো ভীত। কিছু একটা করা দরকার; কিন্তু সে কিছুই করতে পারছে না। মনে হচ্ছে ওর: ও যেন বাস করছে একটা বিচ্ছিন্ন দ্বিপে। মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়া হয়েছে, ল্যান্ডফোনটাও-কক্ষে একটা টেলিভিশন থাকলেও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে ওয়াইফাই। কীয়েক্টা অবস্থা!

বেঁচে থাকতে হলে পালাতে হবে, এই সিদ্ধান্তটা নিতে পেরেছে রোক্সানা। কিন্তু পালাবে কিভাবে? দরজায় বাইরে তালা। ও উঠে আলগোছে দরজার ছিটকিনি আটকে দিলো। এবং সাথে সাথে ওর মনে হলো ও অনেকটা হয়ে গেছে স্বাধীন-এখন মা-বাবা বা অন্য কেউ ইচ্ছেমতো ঢুকে ওর মনের উপর খবরদারি করতে পারবে না। ও এমনভাবে কক্ষটাকে দেখলো যেন এই কক্ষে সে এই প্রথম ঢুকেছে। কক্ষটায় একটিমাত্র জানালা। জানালায় গ্রিল দেয়া আছে ও জানে। তবুও সে এগিয়ে গেলো জানালায়। পর্দা সামান্য সরিয়ে গ্রিল ধরে খানিক টেনে দেখলো খোলা যায় কিনা। নিজের পেশির দিকে তাকিয়ে নিজকেই বিদ্রূপ হাসলো রোক্সানা। সরে বিছানায় এসে বসলো। এই কক্ষ দিয়ে দরজা ছাড়া বাইরে যাবার অন্য কোন রাস্তা নেই।

কথাটা মনে হতেই রোক্সানা ঢুকলো বাথরুমে। বায়ুরন্ধ্রটা দেখে মুখটা উজ্জ্বল হয়ে উঠলো ওর। ছুটে গেলো বায়ুরন্ধ্রটার কাছে। স্ক্রু-ড্রাইভার দিয়ে খোলা যাবে। কিন্তু কোথায় পাওয়া যাবে স্ক্রু-ড্রাইভার? চলে এলো শয্যাকক্ষে। বিউটিবক্স খুলে নেল-কাটার নিয়ে দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকালো। সময় নাই! যা করার খুব দ্রুত করতে হবে। কমোডের উপর উঠে বায়ুরন্ধ্রের সকল স্ক্রু খুলে ফেললো একে একে। বায়ুরন্ধ্রের গ্রিলটা খুলে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে মনে মনে বললো: শেষ পর্যন্ত একটা পথ করা গেলো। সে উঁকি দিয়ে নিচে দেখার চেষ্টা করলো-চারতলা থেকে রাস্তার মানুষকে তেমন ছোট দেখা যায় না।

এবার নিচে নামার ব্যবস্থা করতে হবে। বায়ুরন্ধের গ্রিলটা নিচে রেখে দ্রুতই কক্ষে ঢুকলো রোক্সানা। বিছানার চাদরটা ফালিফালি করে মাথায় মাথায় গিট দিয়ে ঢুকলো ফের বাথরুমে। কমোডের গোঁড়ায় একমাথা বেঁধে চাদরের দড়ির বাকিটা বায়ুরন্ধ্র দিয়ে ফেলে দিলো বাইরে।

এখন রোক্সানার সাহস বেড়ে ডিঙ্গিয়ে যাচ্ছে আকাশ। সে ওড়নাটা গায়ে চমৎকার করে পেঁচিয়ে নিলো যাতে দড়ি বেয়ে নামার সময় সমস্যার সৃষ্টি না করে। কিছু টাকাও তো সঙ্গে নেয়া দরকার। এটা ওটা হাতড়ে যা পেয়েছে তা গুঁজে নিলো কোমরে। এবার দুঃসাহসের কাজটা করতে হবে ওকে। শেষবারের মতো বাথরুমে ঢুকার আগে শয্যাকক্ষের দিকে তাকালো রোক্সানা। গত পাঁচ বছর সে এই কক্ষটায় রাত কাটিয়েছে নিজের কক্ষ হিসেবে।

আর কি ফিরে আসতে পারবে এই শয্যাকক্ষে? আবেগে চোখের কোলে চলে এলো অশ্রুবিন্দু। সে হাতের পোছায় অশ্রু মুছে ঢুকে গেলো বাথরুমে। কমোডের উপর দাঁড়িয়ে বাইরে ছুড়ে দেয়া দড়ি টেনে এনে কোমড়ে প্যাঁচানো ওড়নার ভেতর দিয়ে বের করে ফের ছুড়ে দিলো বায়ুবন্ধ্র দিয়ে বাইরে। এবার বায়ুরন্ধ্রে উঠার পালা। বেশ কঠিন কাজ। আগে পা দিতে পারলে সহজ হতো। কিন্তু অনেক উঁচু থাকায় তা সম্ভব না।

দুই হাতে বায়ুরন্ধ্রের কিনার ধরে আস্তে আস্তে উপরে উঠে মাথা গলিয়ে দিলো বাইরে। উঁচুকে তেমন উঁচু মনে হচ্ছে না আর। বায়ুরন্ধ্র দিয়ে পুরো শরীর বের করে ঝুলে পড়লো দড়িতে। দড়ি ছেড়ে আস্তে আস্তে নামতে থাকলো নিচের দিকে। হঠাৎ বাথরুমে ঘট করে বিকট শব্দ হওয়াতে উপরে তাকালো রোক্সানা। সরসর করে দড়ি নিচে নামতে থাকায় বেশ ভয় পেয়ে গেলো। দড়ি ছিঁড়ে গেলো নাকি? একটা ঝাঁকি দিয়ে দড়ি নামা গেলো থেমে এবং সাথে সাথে এক ঝাপটা পানি পড়লো ওর মুখের উপর। উপরে তাকিয়ে দেখে কমোডটা আটকে আছে বায়ুরন্ধ্রের মুখে।

ব্রাশ ফায়ার

- রানা জামান


মনের সুখে ভাটিয়ালি গাচ্ছে কদ্দুস। ওর বাম হাত লাঙ্গলের কটিতে এবং ডান হাতে একটা বাঁশের চিকন লাঠি। গানের ফাঁকে ফাঁকে হাই হাট হাট বলার সাথে যে বলদ একটু শ্লথ ওটার পাছায় খোঁচা মারছে লাঠি দিয়ে। তাতে বলদের চলার গতি বেড়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে তাকাচ্ছে সূর্যের দিকে। দুপুর হবার আগে আরেকটা চাষ দিতে হবে ক্ষেতে। পেট ভরে পান্তাভাত খেয়ে এসেছে; তাই পেট নিয়ে চিন্তা নাই! হুকা টানতে পারলে আরো জোশ পেতো; আশেপাশে কোনো হাল চলছে না, বা কেউ কোনো ক্ষেতে কাজও করছে না- ও-ও হুকা নিয়ে আসেনি। হুকা টানার তৃষ্ণা ভুলতে জোরে 'ও মাঝি রে!' গানে লম্বা টান দিয়ে দক্ষিণে তাকিয়ে সামনের পাড়া থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখে থেমে গেলো ওর গান। ও থামায় থেমে গেলো হালও।

দূরে লোকজনের ছুটাছুটি দেখে কদ্দুস ভাবলো সবাই আগুন নিভাতে যাচ্ছে। ওর-ও যাওয়া দরকার। হাল থেকে লাঙ্গলটা খুলে দুই বলদের কাঁধের জোয়াল একটু ঢিলা করে দৌড়াতে শুরু করলো আগুনের উৎসের দিকে। কাছাকাছি গিয়ে উল্টো পরিস্থিতি দেখে বিস্মিত হয়ে একজনকে জিজ্ঞেস করলো, কী ব্যাপার? তোমরা আগুন না বুজাইয়া দৌড়াইয়া এদিকে আইতাছো ক্যান?
দৌড়ানো না থামিয়ে একজন বললো, পাক বাহিনী আয়া পড়ছে। মতিন চাচার বাড়িতে আগুন দিছে। বাড়িত গিয়া বৌ পোলাপান নিয়া পালাও!
কিন্তু কদ্দুস না পালিয়ে এগিয়ে যেতে থাকলো ওদিকে। ও মনে মনে বললো: পাক বাহিনী কী করতাছে দেখতে হইবো! কদ্দুস বাড়িটার কাছাকাছি গেলো। অনেক লোক দাঁড়িয়ে আছে বাড়িটার সামনে।
একজন কথা বলছে সবাইকে উদ্দেশ্য করে, তোমাদের কুনু ডর নাই। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আমাদের ভাই। আমাদের সাহায্য করতে আসছে। মতিন পাকিস্তানের শত্রু। এই গ্রামে পাকিস্তানের আরো কুনু শত্রু থাকলে নাম কও। আইজ আমরা সবাইকে উচিত শিক্ষা দিয়াম।
গ্রামের লোকেরা কেউ কিছু না বললে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মেজর আকরাম পাঠান লোকটির কাছে এসে বললো, কোউ কুচ নেহি বলরাহারে। দ্যান উই উইল কিল অল অব দেম!
মসজিদের ইমাম মৌলানা ছানাউল্যা পায়ে পায়ে এগিয়ে এলো ওদের কাছে। মেজরকে একবার দেখে এগিয়ে গেলো লোকটার দিকে। লোকটাকে ও চিনে। রাউতি ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট জহির উদ্দিন।
মৌলানা ছানাউল্যা জহির উদ্দিনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বললো, আফনের ভুল হইতাছে চেয়ারম্যান সাব। এই গেরামে কুনু পাকিস্তানের শত্রু নাই। অহনো কেউ মুক্তিযুদ্ধে যায় নাই।
মেজর আকরাম কিছু কিছু বাংলা বুঝে। সে হোলস্টার থেকে পিস্তল বের গুলি করে দিলো ছানাউল্যাকে। গুলিটা লাগলো ছানাউল্যার কপালের মাঝখানে। তৎক্ষনাৎ ছানাউল্যা মারা গেলেন। ওর লাশটা কাটা কলাগাছের মতো পড়লো জহির উদ্দিনের পায়ের কাছে। ভয় পেয়ে এক চিৎকার দিয়ে দুই পা পিছিয়ে গেলো জহিরউদ্দীন।
তখন দুটো পাঞ্জাবি সেনা আব্দুল মতিন ও তাঁর স্ত্রী কুলসুমকে টেনে নিয়ে এলো বাড়ির বাইরে। কুলসুম মুখে শাড়ির আঁচল দিয়ে কাঁদলেও আব্দুল মতিন নির্বিকার। তিনি তাকিয়ে আছেন জহির উদ্দিনের দিকে।
মেজর আকরাম জহির উদ্দিনকে বললো, আস্ক হিম হোয়ার হিজ সান।
ইয়েস স্যার!
বলে ভয়ার্ত জহির উদ্দিন এগিয়ে গেলো আব্দুল মতিনের দিকে। আব্দুল মতিনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলো, তোমার পোলা কোথায় আছে না কইলে ওরা তোমাদের দুই জনরে মাইরা ফালাইবো। তোমার একটা মাইয়া আছে না? হে কই?
তখন আব্দুল মতিন হাউমাউ করে কেঁদে দিলেন। স্বামীকে ডুকরে কাঁদতে দেখে কুলসুমকে ডুকরে কাঁদতে লাগলেন।
কিছু বুঝতে না পেরে জহির উদ্দিন জিজ্ঞেস করলো, কী হইলো? অমন কইরা কান্দাছো ক্যান?
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আব্দুল মতিন বললেন, আমার মাইয়াডা ডরায়া উগারের নিচে লুকাইছিলো। ঘরে আগুন দেওয়াতে পুইড়া মইরা গেছে।
আব্দুল মতিনের কথা শুনে মেজর আকরাম এগিয়ে এলো ওঁর দিকে। সামনে এসে জিজ্ঞেস করলো, টোমার ছেলে কোটায়?
আব্দুল মতিন বুঝতে পারলেন পাক বাহিনীর এই সৈন্যরা ওদের মেরে ফেলবে। আগুনে পুড়ে মেয়েটা মারা গেলো। ছেলে যুদ্ধ থেকে বেঁচে ফিরতে পারবে কিনা আল্লাহ জানেন। এরা দেশের শত্রু, বাঙালির শত্রু। অস্ত্র না থাকায় এদের হত্যা করতে না পারলেও ঘৃণা ছুড়তে পারবেন। এই ভাবনা ভাবার সাথে সাথে মন থেকে মৃত্যুভয় উধাও হয়ে গেলো আব্দুল মতিনের।

আব্দুল মতিন প্রতিটি শব্দে জোর দিয়ে বললেন, আমার পোলা শহীদ যুদ্ধে গেছে। দেশের জন্য যুদ্ধ করতে গেছে।
মেজর আকরাম হো হো করে হেসে দিলো। হাসি থামিয়ে বললো, তোমার সান আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে কী করিবে? পাকিস্তানি সেনাবাহিনী অনেক অনেক শক্তিশালী। আমাদের কাছে একে ফরটি সেভেন আছে। তোমার সানের কাছে কী অস্ত্র আছে?
আব্দুল মতিন খুব বুদ্ধি খাটিয়ে উত্তর দিলেন। তিনি বললেন, বাংলার দামাল ছেলেদের কাছে সাহস আছে। আর আছে বঙ্গবন্ধুর সাত-ই মার্চের ভাষণ।
মেজর আকরামের রাগ উঠে গেলো চরমে। সে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সৈনিকের একে ফরটি সেভেন রাইফেলটা নিয়ে বেয়নেটটা ঢুকিয়ে দিলো আব্দুল মতিনের পেটে। বেয়নটটা টেনে বের করতেই আব্দুল মতিনের রক্তাক্ত দেহটা পড়ে গেলো সেখানে। এক চিৎকার দিয়ে কুলসুম হানাদার সৈনিকের হাত থেকে নিজকে ছাড়িয়ে এদিকে ছুটে আসতে থাকলেন।
তখন মেজর আকরাম হুকুম দিলো, ফায়ার!
সাথে সাথে সৈনিকরা কুলসুমকে ব্রাশ ফায়ার করলো। চার সৈনিকের একে ফরটি সেভেনের ব্রাশ ফায়ারে কুলসুমের রক্তাক্ত মরদেহটা আব্দুল মতিনের পায়ের কাছে পড়ে গেলো। চারদিকে দাঁড়িয়ে থাকা গাঁয়ের লোকগুলো হয়ে গেলো হতভম্ব।

না বলা কথা

- রানা জামান


যুদ্ধ চলছে, তুমুল যুদ্ধ চলছে ক'দিন যাবৎ; থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে আকবর।একাই চালিয়ে যাচ্ছে যুদ্ধ। নিজের মনের সাথে যুদ্ধ করছে ও। যুদ্ধে ব্যস্ত থাকায় সারারাত ঘুম হয়নি। কিন্তু ঘুম দরকার। সকালে একটা সিডেটিভ খেয়ে গেলো গভীর ঘুমে। কিন্তু ঘুম পুরা হবার আগেই ডাক পড়লো ওর।

সকাল আটটায় বাহির থেকে প্রথম ডাকটা এলো, আকবর...

ঘুম ভাঙল না আকবরের। ভোরের দিকে যে ঘুমের ঔষধ খেয়ে ঘুমিয়েছে, ওর কি এক ডাকে ঘুম ভাঙ্গে? এবার দুটো ডাক এলো; কিন্তু ঘুম ভাঙল না আকবরের।

তৃতীয় ডাক দেবার আগেই আকবরের বড় ভাই নেকাব্বর আলী বাড়ির বাইরে এসে বললেন, এইভাবে ডাকাডাকি না কইরা তুমি ঘরে গেলেই পারো লুৎফর!

লুৎফর বললো, ও এখনো ঘুম থেকে উঠে নাই বড় ভাই?

না লুৎফর!

কী করে রাত জাইগা ও?

কী জানি কী করে! তোমার কী জরুরি দরকার ওরে?

কিছুটা বড় ভাই।

তাহলে ঘরে গিয়া ওরে জাগাও যেভাবে পারো। আমি হাটে যাইতাছি।

নেকাব্বর চলে যাচ্ছেন নিজ গন্তব্যের দিকে। লুৎফর ঢুকলো বাড়ির ভেতরে। আকবরের কক্ষটা আলাদা। আকবরের কক্ষের দরজা ভেজানো। লুৎফর বারান্দায় উঠে আকবরের কক্ষের দরজা খুলে ঢুকলো ভেতরে। আকবর কোলবালিশ আঁকড়ে ধরে উপুড় হয়ে বেঘোরে ঘুমুচ্ছে। ওর গায়ে ধাক্কা দিয়ে ডাক দেবার জন্য ডান হাত বাড়িয়েও ফিরিও নিলো লুৎফর।একটা দুষ্টুমি করার ইচ্ছে জেগে গেলো ওর মনে। সংলগ্ন ওয়াশরুমে ঢুকে মগে করে পানি এনে আকবরের মাথার কাছে দাঁড়িয়ে মুখ টিপে একবার হেসে ঢেলে দিলো মগের পুরো পানি আকবরের মাথায়।

নাকে-মুখে পানি ঢুকায় কাশতে কাশতে ধড়ফড়িয়ে বিছানায় উঠে বসলো আকবর। পানি ঢালার জন্য বকা দিতে যাবে, তখন লুৎফরকে দেখে মুখ বন্ধ করে দুই হাতে মুখমণ্ডলের পানি মুছে বললো, সারারাত ঘুমাতে পারি নাই। তাই ফজরের আগে ঘুমের ঔষধ খেয়ে শুইছিলাম। কী খবর বন্ধু? কোনো জরুরি বিষয়?

সিলভিয়াকে দেখতে আসছে আজ।

সিলভিয়া কে?

লুৎফর আকবরকে মারার জন্য ডান তুলে বললো,সিলভিয়াকে চিনিস না! আমার ছোট বোন!

হঠাৎ ঘুম থেকে উঠলাম, তাই মনে আসছিলো না!

কী হয়েছে ওর?

ওকে দেখতে আসছে আজ।

ওকে দেখতে আসছে মানে?কে দেখতে আসছে? ও আগে ওকে দেখে নাই?

ওর বিয়ে দিতে হবে না? ওকে দেখতেই নেত্রকোণা থেকে ছেলেপক্ষ আসছে।

কথাটা শোনা মাত্রই আকবরের মাথা ঝিম ধরে উঠলো। সে পড়ে গেলো বিছানায়। লুৎফর ভয় পেয়ে গেলো।গায়ে ধাক্কা দিয়ে বুঝতে পারলো জ্ঞান হারিয়েছে আকবর! কী করবে বুঝতে না পেরে একবার দরজা দিয়ে বাইরে তাকালো। কাউকে দেখতে না পেয়ে মগটা নিয়ে ফের ওয়াশরুমে ঢুকলো। এবার মগের পানির পুরোটা গায়ে না ঢেলে এক আঁজলা পানি তুলে ছিটিয়ে দিলো আকবরের মুখে।

আকবর ফের উঠে বসে জিজ্ঞেস করলো, আমি কোথায়?

এবার লুৎফরের রাগ হলো খানিকটা। একটু কণ্ঠ চড়িয়ে বললো, তামাশা করছিস ক্যান? ছেলেপক্ষ দুপুরে আসছে। তোকে নিতে আসলাম সাহায্য করার জন্য। না গেলে না কর, আমি চলে যাবো!

আকবর এবার বললো, আগে ছেলে দেখতে হয়। ছেলে পছন্দ হবার পর না মেয়ে দেখাতে হয়!

ছেলে আমাদের পছন্দ হয়েছে।

আমাকে না নিয়েই সিলভিয়ার জন্য ছেলে দেখে পছন্দ করে ফেলেছিস তোরা! তাহলে আমার দরকার কী! আমি যাবো না!

কী মুস্কিল! আমরা ছেলে দেখি নাই।

এই না বললি দেখেছিস!

ছবিতে দেখেছি।

ছবিতে দেখেই পছন্দ করে ফেললি!কী আশ্চর্য!

সমন্ধটা এনেছে আমার বড় মামা।

যেই আনুক ছেলের খোঁজ-খবর নিয়েছিস?

আজকে ওরা সিলভিয়াকে দেখে যাক, তারপর ছেলের খোঁজ খবর নিতে থাকবো।

তোরা গাড়ি উল্টা চালাতে চাচ্ছিস। এতে আমার সায় নাই!

তোর কী হয়েছে বল আকবর? সেই প্রথম থেকেই না না করে যাচ্ছিস। তুই কি চাচ্ছিস না সিলভিয়ার বিয়ে হোক?

না চাচ্ছি না!

কী বলছিস তুই! তোর ছুটি শেষ হবে কবে?

পরশু?
তুই খুলে বল, কী সমস্যা তোর? তোর জন্য মেয়ে দেখবো?

দরকার নাই!

তাহলে চল।

না..মানে?
আবার মানে মানে করছিস কেন?

ছেলেপক্ষকে আসতে মানা করে দে।

কোনো কারণ ছাড়াই?

আমার না বলা কথা থেকে কারণটা খুঁজে বের কর!

রানা জামান | Rana Zaman







কাঁটা | না বলা কথা | না বলা কথা কবিতা | কথা লিরিক্স | হেলমেট | নাকানিচুবানি | বার্স্ট ফায়ার | ব্রাশ ফায়ার | ভালোবাসার ভিন্ন মূল্য | ভালবাসার মূল্য কত | ভালোবাসার মূল্য | ভালোবাসার ভিন্ন বাসা | ভালোবাসার রঙ চিনুন | ভালোবাসার ফুল কেনা | ভালোবাসার উপহার | ভালোবাসার সপ্তাহ শুরু | কাঁটা অর্থ | কাঁটা সমার্থক শব্দ | গোলাপের কাঁটা | কাঁটা খায় যে উট অর্থ | মাছের কাঁটা | ঘড়ির কাঁটা | স্কেল ও কাঁটা কম্পাস | মাছের কাঁটা পথের কাঁটা | কাঁটা আর ক্যাকটাস | শব্দদ্বীপের লেখক | শব্দদ্বীপ | সেরা বাংলা গল্প | গল্প ও গল্পকার | সেরা সাহিত্যিক | সেরা গল্পকার ২০২২ | বাংলা বিশ্ব গল্প | বাংলা গল্প ২০২২ | বাংলা ম্যাগাজিন | ম্যাগাজিন পত্রিকা | শব্দদ্বীপ ম্যাগাজিন


Kanta Laga | Na Bola Kotha | Vega helmets | Ladies helmet | Axor helmets | Helmet under 500 | AGV helmets | Helmet flipkart | Steelbird Helmet | Studds Helmet | brush fire | Brushfire | Brushfires causes | What is a brushfire | Brush fire gun | Brush fire California | Brush fire information | Brush fire or bushfire | Brush fire Los Angeles | Brush fire today | Burst fire | What is burst fire | Modes of fire | 3 round burst legal | List of burst fire weapons | Burst fire pistol | Burst rifles | Weapon fire | bengali poetry | bengali poetry books | bengali poetry books pdf | bengali poetry on love | bangla kobita | poetry collection books | poetry collections for beginners | poetry collection online | poetry collection in urdu | poetry collection submissions | poetry collection clothing | new poetry | new poetry 2022 | new poetry in hindi | new poetry in english | new poetry books | new poetry sad | new poems | new poems in english | new poems in hindi | new poems rilke | new poems in urdu | bangla poets | indian poetry | indian poetry in english | indian poetry in urdu | indian poems | indian poems about life | indian poems about love | indian poems about death | bengali story | bengali story books for child pdf | bengali story books for adults | bengali story books | bengali story books for child | bengali story books pdf | bengali story for kids | bengali story reading | short story | short story analysis | short story characteristics | short story competition | short story definition | short story english | short story for kids | short story generator | short story ideas | short story length | long story short | long story short meaning | long story | long story instagram | story writing competition | story writing competition topics | story writing competition for students | story writing competition malayalam | story writing competition india | story competition | poetry competition | poetry competitions australia 2022 | poetry competitions uk | poetry competitions for students | poetry competitions ireland | poetry competition crossword | writing competition | writing competition malaysia | writing competition london | writing competition hong kong | writing competition game | writing competition essay | writing competition australia | writing competition prizes | writing competition for students | writing competition 2022 | writing competitions nz | writing competitions ireland | writing competitions in africa 2022 | writing competitions for high school students | writing competitions for teens | writing competitions australia 2022 | writing competitions 2022 | writing competitions uk | bengali article writing | bangla news article | bangla article rewriter | article writing | article writing ai | article writing app | article writing book | article writing bot | article writing description | article writing example | article writing examples for students | article writing for class 8 | article writing for class 9 | article writing format | article writing gcse | article writing generator | article writing global warming | article writing igcse | article writing in english | article writing jobs | article writing jobs for students | article writing jobs work from home | article writing lesson plan | article writing on child labour | article writing on global warming | article writing pdf | article writing practice | article writing topics | trending topics for article writing 2022 | what is article writing | content writing trends 2022 | content writing topics 2022 | Bangla Prabandha | Probondho | Definite Article | Article Writer | Short Article | Long Article | Bangla kobita | Kabitaguccha 2022 | Galpoguccha | Galpo | Bangla Galpo | Bengali Story | Bengali Article | Shabdodweep Writer | Shabdodweep

1 comment: