Sunday, August 7, 2022

অ-শরীরী মায়ানমারের ডায়েরীর পাতা থেকে | পর্ব ২ | কুহেলী দাশগুপ্ত | গল্প ২০২২ | Story 2022

অ-শরীরী মায়ানমারের ডায়েরীর পাতা থেকে | পর্ব ২

- কুহেলী দাশগুপ্ত


  বনানীর অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার খবর সৌরেন বাবুর কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। গার্ডরা অফিসার্স ক্লাবে খবর দিয়েছিল। ততক্ষণে আশেপাশের বাংলো থেকে অন্যান্য পরিবারের লোকজন জড়ো হয়েছে।
চোখে মুখে জলের ঝাপটা দিয়ে বনানীর জ্ঞান ফেরানো হয়েছে। দু'জন প্রতিবেশী মহিলা ওকে ঘরে নিয়ে গিয়ে শুইয়ে দেয়। সৌরেন আসার পর তারা নিজেদের ঘরে ফিরে যায়। ছেলে মেয়েরা তখনও ভয় পেয়ে আছে। সৌরেন এসে জানতে চায় কি হয়েছিল। চিনু যেটুকু বলতে পেরেছিল, তাতে বোঝা গেল বারান্দা দিয়ে যাওয়ার সময় মা ভয় পেয়েছিল।
--বিনু, আবার তুমি মনে ভয় পুষে রাখছ! তোমায়  না বলেছি সন্দেহ  হলে টর্চের আলো ফেলে দেখবে! চলো তো দেখি, কি এমন দেখলে?
---না গো  আমি আবার কেন? তেঁতুল গাছে কিছু ছিল। আমি স্পষ্ট দেখেছি। আর ওদিকটা যাব না।
--চলো,চলো। এই তোরা ও চল।
একরকম জোর করেই সবাই কে নিয়ে যান বারান্দায়। টর্চের আলো জ্বেলে দেখা গেল তেঁতুল গাছে বেশ বড় সাইজের একখানা প্যাঁচা ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে আছে। চোখে আলো পড়াতে একটু বিরক্ত হোল বোধ হয় ।ঘাড়টা চারপাশে একবার ঘুড়িয়ে নিলো। ওরা অবাক হয়ে দেখল।
-- এই জন্যই বলি ভালো করে পরখ করতে।  বলি,তুমি গাঁয়ের মেয়ে  হয়ে প্যাঁচা দেখে ভয় পেলে! ছাড়ো,  চলো বিশ্রাম নাও।
প্যাঁচা দেখে ছেলেমেয়েরা মজা পেলো। কিন্তু বনানীর সারা রাত ঘুম এলো না। একপাশ ফিরে জেগে ছিলো। বেশি নড়াচড়া করলে  যদি কত্তা জেগে যান!অনেক কথা মনে আসছে। ও স্পষ্ট আগুনের ফুলকি দেখেছে। চিনু তখন বাথরুমের কাছে,তাই হয়তো লক্ষ্য করেনি। এ নিয়ে বেশি কথা আর বলবে না বনানী। সত্যিই তো, বাচ্চারা ও ভয় পেয়ে যাবে।

ম্যান্ডেলে ফোর্টে ওদের দিন কাটে নানা  ব্যস্ততায়। বনানী ছেলেমেয়েদের বাংলা শেখাতে চেষ্টা করতো। এখানকার স্কুলে বার্মিজ ভাষার চর্চা হয়। চিনু, পিকু রা বাড়িতে ও নিজেদের মধ্যে এই ভাষায় কথা বলতো। বনানীর ভালো লাগতো না। বাঙালির সন্তান হয়ে বাংলা জানবে না! অক্ষর পরিচিতি শুরু হোল তাদের। বনানী যত্ন করে বাংলা শেখাতো ছেলেমেয়েদের। বাংলাদেশ থেকে আত্মীয়দের মাধ্যমে কিছু ছড়া আর গল্পের বই আনিয়েছিল। অবসরে ওদের পড়ে শোনাতো। পিকু, টুকুদের জন্য একজন বার্মিজ টিচার  আসতেন। ভদ্রমহিলা খুব মিশুকে ছিলেন। অল্প স্বল্প হিন্দী জানতেন। বনানী হিন্দীতে অতটা সাবলীল না হলেও বুঝতো। বলার চেষ্টা করত। ওঁর নাম ছিল মিস জোয়া। ফোর্টের অনেক অফিসারদের বাচ্চাদের পড়াতেন। বনানীর খুব রান্নার শখ ছিল। জোয়া ম্যামকে ও বানিয়ে খাওয়াতো। দুজনের গল্পের মাঝে আবার এক মন খারাপ করা গল্প এসে পড়ে। দু'তিন টি কটেজের আগে একখানা খালি রয়েছে। ওটাতে কেউ থাকেনা।  এক অফিসারের মিসেস গলায় দড়ি দিয়েছিল। নিঃসঙ্গ জীবন। স্বামী  সময় দিতে পারতেন না। সন্তান হয়নি তাদের। স্বামীকে খুব সন্দেহ করত। প্রায়ই ঝামেলা হোত। একদিন অমন ঝগড়ার পর এই কান্ড ঘটিয়েছিল। বনানীর মনে আবার যেন ভয় জমে উঠলো। এ ব্যাপারে ও আর কাউকে কিচ্ছুটি বলল না। মাঝে মাঝে চমকে উঠতো। সৌরেন ফিরতে দেরি হলে ছেলেমেয়েদের শুইয়ে দিতো। নিজেও ঘুমিয়ে পড়তো কখনো।
এরকম একদিন রাতে কত্তার নাইট ডিউটি চলছে। বাচ্চাগুলো ঘুমিয়ে  পড়েছে। বনানীর খুব জোর বেগ চেপেছে।  একরকম দৌড়ে বারান্দা পেরিয়ে টয়লেট গেল। ফেরার সময় দ্যাখে বন্ধ ঘরের একটা  দরজা দুম দুম আওয়াজ করে খুলছে আর বন্ধ হচ্ছে। বনানী ঘামতে লাগলো। এক ছুটে ঘরের দিকে গেলো কোনদিকে না তাকিয়ে। ঘরে ঢুকে দরজা আটকে  সোজা নাকে মুখে চাদর চাপা। চাদরের নিচে ঘেমে অস্থির । তবুও মুখ বার করবে না। চারদিকে কোন হাওয়া বইছিল না। তবুও কিভাবে ওই বন্ধ ঘরের দরজা খোলা বন্ধ হচ্ছিল! যতই সৌরেন বলুক, অত সাহসী ও হতে পারবে না। ভোরের দিকে ওর চোখের পাতা ভারী হয়ে এলো।

আরেকদিন  রাতে বনানী রান্নাঘরে কিছু কাজ সারতে সারতে জানালার দিকে চোখ যায়। বাইরের মৃদু আলোতে মনে হোল, একটা ছায়া সরে গেল। ও সব ফেলে এক ছুটে ঘরে যেতেই দেখে  কত্তা ফিরেছে। বনানীকে ছুটতে দেখে সৌরেন ব্যাপার জানতে চায়। বলতে না চেয়ে ও ওকে বলতে হোল কত্তার ধমক খেয়ে। সৌরেন অমনি বাইরে গিয়ে গার্ডদের  ডেকে নিয়ে চারপাশটা  ঘুরে দেখে এলো। কিছুই দেখতে পেলো না তারা। বনানী এবার যেন দমে গেল একটু। বার বার ও যা দেখছে বাকিরা কেন দেখতে পাচ্ছে না ! সৌরেনও একটু বিরক্ত। ওদের দ্বিতীয় সন্তান পিকু একটু ভিতু প্রকৃতির।  রাতে মাঝে মাঝে ঘুম ভেঙে উঠে কান্না জুড়তো। কখনো সে বাবার ধমক খেয়ে চুপ হয়ে যেত। বনানী ভাবতো হয়তো কোন খারাপ স্বপ্ন দেখেছে ! এই ফোর্টে ওর একদম ভালো লাগে না। ওর প্রতিবেশী এক বার্মিজ অফিসারের মিসেস বনানীর বন্ধু হয়ে গিয়েছিল।  ওর কাছে বনানী সামান্য বার্মিজ ভাষা ও শিখেছিল। থিরি ওর নাম। থিরিকে বনানী ওর অভিজ্ঞতার কথা জানালে, ও বলেছিল-
--আমরা মানি এখানে অস্বাভাবিক কিছু ঘটে চলে। সবাই দ্যাখে এমনটা নয়। তবে আমরা ফয়া (বুদ্ধদেব)কে খুব মানি। উনি কাছে থাকলে তুমি সব বিপদ থেকে রক্ষা পাবে। বাড়িতে ফয়াকে নিয়ে এসো।
বনানী এবার শ্বেত পাথরের বৌদ্ধ মূর্তি নিয়ে এলো । দোকানে কেনার সময় সৌরেন জিজ্ঞাসা করলে বলেছিল,
--এখানে সবাই খুব মানে ওনাকে। আমাদের কাছে ও থাক।
কাঁচ দিয়ে ঘেরা কাঠের বাক্সে ফয়া এলেন। বনানীর ঠাকুর সেবার সাথে উনিও সেবা পেতে লাগলেন।


অ-শরীরী মায়ানমারের ডায়েরীর পাতা থেকে | অশরীরী | মায়ানমারের ডায়েরী | বার্মা ডায়েরি | ডায়েরি সাহিত্য | ডায়েরি কথা | সোমার ডায়েরী | ব্যক্তিগত ডায়েরি | ডায়েরি বানান | ডায়েরি অর্থ | ডায়েরি ছবি | ডায়েরি লেখা | কাব্য | ডাইরি ইংরেজি | অশরীরী আত্মা | অশরীরী শক্তি | অশরীরী অর্থ | অশরীরী মুভি | অশরীরী মূর্তি | অশরীরী সমার্থক শব্দ | মাছ এর সমার্থক শব্দ | ভূত সমার্থক শব্দ | বৃষ্টির সমার্থক শব্দ | নন্দন অর্থ | শব্দদ্বীপের লেখক | শব্দদ্বীপ | সেরা বাংলা গল্প | গল্প ও গল্পকার | সেরা সাহিত্যিক | সেরা গল্পকার ২০২২ | বাংলা বিশ্ব গল্প | বাংলা গল্প ২০২২ | বাংলা ম্যাগাজিন | ম্যাগাজিন পত্রিকা | শব্দদ্বীপ ম্যাগাজিন | ডায়েরীর পাতা থেকে


Myanmar Diaries | Myanmar movies | Myanmar Diaries reviews | Myanmar Diaries imdb | Myanmar Film Collective | Variety Myanmar | Human Rights Film Festival | Myanmar bless movies 2022 | Diary and Notebook | Diary with lock | Diaryer Pata Theke | Oshoriri | Bengali Poetry | Bangla kobita | Kabitaguccha 2022 | Poetry Collection | Book Fair 2022 | Bengali Poem | Shabdodweep Writer | Shabdodweep | Poet | Story | Galpoguccha | Galpo | Bangla Galpo | Bengali Story | Bengali Article | Bangla Prabandha | Probondho | Definite Article | Article Writer | Short Article | Long Article | Article 2022


কুহেলী দাশগুপ্ত | Kuheli Dasgupta


No comments:

Post a Comment