Sunday, August 7, 2022

সারেঙ্গীটা বাজছে | লিওনার্দোর মোনালিসা | সাতসকাল | কাঁচিসুচ,ভালোবাসছ কি? | অসম্পর্ক | সে অন্যের | লুচির চলতি রূপ

সারেঙ্গীটা বাজছে

- দেবারতি গুহ সামন্ত


ফাঁকা আওয়াজে ড্রাম বাজাচ্ছিলাম বসে বসে,
ওই টাইম পাস আর কি, নষ্ট সময়ের পরকীয়া।
তাল কেটে যাচ্ছিল বারে বারে,তবু বাজাচ্ছিলাম,
চেষ্টা করছিলাম  মরণ বাঁশির সুরটা তোলার।

ভারতনাট‍্যম নৃত‍্যে তখন মুখোশের ঢল,
আমি,শুকনো বাদাম চেবাতে চেবাতে নেভাচ্ছিলাম সময়।
গিটারের ছেড়া তার ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে,অসহায়,
এককোণে পড়ে আছে দোতারা,বেজে বেজে বড়োই ক্লান্ত।

করুণ সানাইয়ের সুরে বিদায়ী কন্যার নীরব অশ্রু,
বিদেশী পিয়ানোটায় প্রেমিক সুর তুলছে কোন রোমান্টিক গানের।
ওর প্রেমিকার জন্যে,সেই কোন সুদূরে,সাত সমুদ্র তের নদীর পারে,
হারমোনিয়ামে ও পাড়ার কাকিমার গান সাধনা।

তবু যেন কাটছে না সময়,দিচ্ছে না ধরা,
আমি নদীর ধারে বসে বসে গুনছি ঢেউ।
নদীর ছলছল শব্দে কোথায় যেন হারিয়ে যাচ্ছে মনটা,
একটা দুটো নৌকা ভাসছে,মনে দুলছে বিবাগী সুর।

গলার হারটা বড্ড ভারী মনে হচ্ছে,যেন গলার ফাঁস,
উদার কন্ঠ,খালি গলায় গাইতে ইচ্ছে করছে গান।
"হারে রেরে রেরে আমায় ছেড়ে দেরে দেরে",কিংবা
"কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা,মনে মনে......."

লিওনার্দোর মোনালিসা 

- দেবারতি গুহ সামন্ত


মুখচোরা মোনালিসা বড়োই লাজুক,
ঠোঁটের কোনে ঝুলেই আছে রহস্যময় হাসি।
কতো লেখা,আঁকা,গান গাওয়া হলো মোনালিসাকে নিয়ে,
তবুও মোনালিসা শান্ত, নীরব, নির্বিকার।

আচ্ছা,কোনদিনও কি ফ্রান্সের এই গৃহবধূ ভেবেছিল?
তাকে নিয়ে তৈরী হবে কোন অয়েল পেইন্টিং!
যা কিনা আবার বিশ্বরেকর্ড গড়বে ভবিষ্যতে,
ভেবেছিল কি মোনালিসা? যার রহস্যময় হাসিতে ঘায়েল দুনিয়া।

ধনী রেশম ব‍্যবসায়ীর বউ ও দুই সন্তানের জননী,
মোনালিসা, জীবন্ত ফুটে উঠেছিল দি ভিন্সির পোর্টেটে।
ছিল না সে কোন বিখ্যাত মডেল, ছিল না কোন অশালীন নগ্নতা,
তবুও কি দারুণ, সুন্দর, সাবলীল লিওনার্দোর মোনালিসা।

অপার মুগ্ধতা ছিল লিওনার্দোর চোখে, মোনালিসার প্রতি,
তাইতো প্রাণে ধরে ছবিখানা আর দেওয়া হয়ে ওঠেনি।
এখন মোনালিসার স্থান মিউজিয়ামে,
যার প্রকাশ হয়েছিল লিওনার্দোর মৃত‍্যুর পর।

সাতসকাল

- দেবারতি গুহ সামন্ত


জানালা দিয়ে চুঁয়ে চুঁয়ে রোদ ঢুকছে ঘরে,
হাবে ভাবে জানান দিচ্ছে,সকাল হয়ে গেছে।
একটু পরেই মানুষের ঢল নামবে রাস্তায়,
বাস আর চারচাকার রেষারেষিতে থাকবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

নরম রোদ যখন আলতো করে গালে চুমু খাবে,
ঠিক তখনই চোখের পাতায় ভেসে উঠবে সেই স্বপ্নটা।
বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন, নিজস্ব, ভীষণ ব‍্যক্তিগত,
মার্কেটের সেরা পারফিউমের গন্ধটা ঘরময় ছড়িয়ে পড়বে।

হেডফোন আর চশমাটা ততক্ষণে খুনসুটি শুরু করেছে,
বালিশের তলায়, অন্যের চোখের আড়ালে।
এলার্ম ঘড়িটা মোরগের ডাক ডেকে ডেকে ক্লান্ত,
কলিং-বেলের মিষ্টি সুরেলা আওয়াজ দূর থেকে ভেসে আসছে।

গাঢ় ঘুমটা পাতলা হতে শুরু করেছে এবার,
রান্নাঘরে জল পড়ার শব্দ,রাস্তায় সাইকেলের ক্রিং ক্রিং।
লিকার চা টা মেরী বিস্কুট চাইছে অনেকক্ষণ ধরে,
স্বপ্নটা ভাসতে ভাসতে মিলিয়ে গেল হাওয়ায়।

কাঁচিসুচ,ভালোবাসছ কি?

- দেবারতি গুহ সামন্ত


আজকাল সুচ,কাঁচি,কিছুই সময় মতো,
খুঁজে পাই না,রেগে যাই অকারণ।
কখন ঠোঁটটাকে সেলাই করব আর,
কখন কোন সম্পর্ক কাঁচি দিয়ে কাটব, সত‍্যিই বুঝি না।

মুখের আদল খুলে গেলে বলতে থাকি অনর্গল,
সামনের শ্রোতাটি যেন কতই আপন, যেন গত জন্মের সাথী।
এর আফটার এফেক্ট হয় বেশ কিছুদিন পরে,
বুঝে উঠতে না উঠতেই সবকিছু হাতের নাগালের বাইরে।

মুখ মুখোশের রদবদলে আমি বলদই থেকে যাই চিরকাল,
চাই না ঠকতে,বোকা হতে,কিন্তু একই ভুল করি আবার,বারবার।
ভুলের মাশুল চোকাতে নিজের জীবনটাই শুধু দিতে বাকি,
তবুও কারোর মুখে ফোটাতে পারি না সন্তোষের হাসি।

কেউ তো বলে না,"শুধু তোমাকেই ভালোবাসি,
নীরবে,নিঃস্বার্থে,বদলে চাই না কোন প্রতিদান।"
বড্ড ভালোবাসার কাঙাল আমি,আজও অপেক্ষায়,
সেই প্রেমিক মুহূর্তের,যখন চারিদিক ভরে থাকবে গোধূলি আলোয়।

ততদিন অব্ধি তর সওয়াতেই হবে আমায়,
এই আমার হৃদয়ে দিলাম তালা চাবি,শক্ত করে।
যাই,আয়নার সামনে দাড়িয়ে একটু সেজে নি,
আরে,আরে,ওই তো বাক্স থেকে উঁকি দিচ্ছে নির্লজ্জ সুচ, নির্বিকার কাঁচি।

অসম্পর্ক

- দেবারতি গুহ সামন্ত


ঠান্ডা অনুভূতির ভাব সম্প্রসারণে,
উষ্ণতার অকাল মৃত‍্যু, নেপথ‍্যে
বিষ বাক্যবাণ।
সন্দেহের তীরে ছিন্নভিন্ন  মনোবীনার তার,
নীল গরল স্বেচ্ছায় পান করার তীব্র বাসনা।

কোন এক অবেলায় ঘুমহীন বিকেলে,
আচমকা কালবৈশাখীতে তছনছ সাজানো সংসার।
ষড়যন্ত্র নাকি ইচ্ছাকৃত,অজানা আজও,
মরা কাঠগোলাপের শুকনো পাতায় বিপদের আভাস।

দূরে,বহুদূরে,উড়ন্ত শকুনের কুদৃষ্টিতে বিচলিত আদম ইভ,
আপেলের ভাগ নিয়ে দুজনে মনকষাকষিতে মত্ত।
মরুভূমির উটটা তখন পাড়ি দিয়েছে আরব বেদুইনদের দেশে,
যেখানে জুলিয়েটের সঙ্গে প্রেমিকের অপেক্ষায় আনারকলি।

সে অন্যের

- দেবারতি গুহ সামন্ত


কম্পিউটার স্ক্রিনটা বড্ড জ্বলজ্বলে,
বাকি চারপাশটা কেমন ধোঁয়া ধোঁয়া।
জানলার বাইরে হলুদ রাধাচূড়া ফুল দোল দিচ্ছে,
আর কানে কানে বলছে,"সে অন্যের"।

স্ট‍্যাটাসটা আপডেট করানো হয়নি অনেকদিন,
ব‍্যাকডেটেড কিনা,যুগোপযোগী নয় একেবারেই।
টকজল আলু-মাখা দিয়ে ফুচকা আর চমচমেই সন্তুষ্ট,
চোখে ভারী ফ্রেমের চশমা,সামনে খোলা গল্পের বই।

কফিটা কখন জুড়িয়ে ঠান্ডা,
শিরশিরে হাওয়া বইছে,কাঁটা দিচ্ছে গায়ে।
অবুঝ মনটা আর একটা সুযোগ চেয়েছিল শুধু,
সামনের কম্পিউটার স্ক্রিনে ওদের উষ্ণ ভালোবাসা।

লুচির চলতি রূপ

- দেবারতি গুহ সামন্ত


ঠাণ্ডা ন্যাতানো লুচিগুলোয় কেমন বাসি বাসি গন্ধ,
না না, প্রেম বাসা বাসি নয়, ভ‍্যাপসা পুরনো গন্ধ।
চামড়ার মতো টানটান, সহজে ছিঁড়তেই চাইছে না,
রসগোল্লার রস, আলুর দমের ঝোলটাও ফেল মেরে গেছে।

আমি তো দেখতে চাইনি আমার প্রিয় লুচির এ রূপ!
তবু আমার অবাধ‍্য চোখ বারবার চলে যাচ্ছে লুচির দৃশ্যে।
ঝকঝকে কাঁসার থালায় নয়, মরচে পড়া সাধারণ স্টিলের থালায়,
দুটো ন্যাতানো লুচি, সাথে লোকের ফেলে যাওয়া রস আর ঝোল।

কতই বা বয়স হবে ছেলেটার, বড়জোর দশ কি এগারো,
পরনে শতচ্ছিন্ন ময়লা জামা, ছেড়া ফাটা তালিমারা প্যান
কলতলায় ডাঁই করা এঁটো বাসন, ওদিকে ঘড়ির কাটা দৌড়াচ্ছে,
ব‍্যস্ত শহরের রোজনামচায় বড়োই বেমানান কালো রোগা ছেলেটা।

সস্তার পাইস হোটেল,উনুনে তেলচিটে কড়াইয়ে পোড়া তেল ফুটছে,
সামনে বসে ভীমদর্শন এক মানুষ,চোখ ঘুরছে বনবন।
টেবিলে খাবার পৌঁছাতে দেরী হলেই চিৎকার বাজখাঁই গলায়,
কেঁপে উঠল রোগা ছেলেটা,হাতের প্লেট গেল উল্টে।

আমার সাধের  পরম প্রিয় লুচি এখন কাঁদায় গড়াগড়ি,
টপ করে দু ফোঁটা চোখের জল এসে পড়ল লুচির গায়ে।
আধপেটা রোগা ছেলেটার ক্লান্ত দুচোখের জল,
আরও কদর্য কুৎসিত হয়ে উঠছে আমার লুচি।

ইচ্ছে করছে এক ছুটে পালিয়ে যাই ওখান থেকে,
আর দেখতে পারছি না আমার লুচি,নাকি ওই ছেলেটার দুর্দশা?
কিন্তু পারছি নাতো!পা দুটো কেউ যেন সেঁটে দিয়েছে মাটির সাথে,
যেন বলতে চাইছে,এটাই লুচির বাস্তব রূপ,রোগা ছেলেটার ভুখা পেটের অন্ধকূপ!


সারেঙ্গীটা বাজছে | লিওনার্দোর মোনালিসা | সাতসকাল | কাঁচিসুচ,ভালোবাসছ কি? | অসম্পর্ক | সে অন্যের | লুচির চলতি রূপ | এখনও সারেঙ্গীটা বাজছে | লিওনার্দো দা ভিঞ্চি | লিয়োনার্দোর খোঁজে | মোনালিসার রহস্যময় হাসি | মোনালিসার হাসি | মোনালিসা রহস্য | মোনালিসা ছবি | মোনালিসা বিখ্যাত কেন | মোনালিসা ছবি কার আঁকা | মোনালিসা ছবির দাম | লিওনার্দো ভিঞ্চি উক্তি | মোনালিসা স্রষ্টা | দ্য ভিঞ্চির মোনালিসা ছবি | সাতসকাল ই-পেপার | দৈনিক দেশ দর্পণ | দৈনিক বঙ্গভূমি | দৈনিক মতপ্রকাশ ই পেপার | ই সুখবর | দৈনিক ভোরের দর্পণ ই পেপার | দৈনিক দিন পরিবর্তন ই পেপার | দৈনিক দেশজগত ই পেপার | ভালোবাসা মানে কী | ভালোবাসা কিভাবে হয় | আসল ভালোবাসা কি | প্রেম ভালোবাসা কি | ভালোবাসা কি হুমায়ুন আহমেদ | নিঃস্বার্থ ভালোবাসা কি | ভালোবাসা মানুষ | ভালোবাসার জন্য কি দরকার | রোমান্টিক ভালোবাসা কাকে বলে | ভালোবাসার অনুভূতি | ভালোবাসার বৈজ্ঞানিক সূত্র | সে অন্যের কাছে | যে অন্যের হক নষ্ট করে | আটার লুচি | লুচি ছবি | লুচি বানানো | তুমি লুচি খাবে | লুচি লুচি ফুলকো লুচি | নরম তুলতুলে লুচি রেসিপি | লুচি আলুর দম ছবি | কবিতাগুচ্ছ | বাংলা কবিতা | সেরা বাংলা কবিতা ২০২২ | কবিতাসমগ্র ২০২২ | বাংলার লেখক | কবি ও কবিতা | শব্দদ্বীপের কবি | শব্দদ্বীপের লেখক | শব্দদ্বীপ | বাংলা ম্যাগাজিন | ম্যাগাজিন পত্রিকা | শব্দদ্বীপ ম্যাগাজিন


Bengali Poetry | Bangla kobita | Kabitaguccha 2022 | Poetry Collection | Book Fair 2022 | Bengali Poem | Shabdodweep Writer | Shabdodweep | Poet | Story | Galpoguccha | Galpo | Bangla Galpo | Bengali Story | Bengali Article | Bangla Prabandha | Probondho | Definite Article | Article Writer | Short Article | Long Article | Article 2022


দেবারতি গুহ সামন্ত | Debarati Guha Samanta






No comments:

Post a Comment