Monday, August 1, 2022

পৌষবালক | আলিবাবা | কথাশিল্পী | জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় | কবিতাগুচ্ছ ২০২২ | Poetry 2022

পৌষবালক

- জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়


প্যাঁচা ডাকের সঙ্গে পৌষের সম্পর্ক সাদা জমিনের লাল পাড়টির মতো
গ্রামজীবনের কথা কমবেশি একইরকম রাঢ় বাংলার শুকনো মাঠ আর
ওই বাংলার পলিমাঠে বস্তুত কোনো পার্থক্য নেই; বলা যেতে পারে
পৌষ কোনো তফাত রাখে না।

প্যাঁচারা সীমানা চেনে না শিশুরা ভেদ জানে না এবং পাখি প্রজাপতি আর
মেঘেরা কাঁটাতার বা এল-ও-সি মানে না।

সীমানার আম গাছে প্যাঁচা ডাকলে হঠাৎ পৌষ এসে যায়
আগুন চাঁদের আলো বড়ো অবিশ্বাসী নলেন গন্ধে মোয়ার আগে
নলিন দাদুর মুখ ভেসে ওঠে,সেই চাঁদির চশমা আর নিরীহ কৌতূহল
তোমরা ইস্কুলে যাচ্ছো ? অনেক বড়ো হবে দাদা।

দাদু এক শীতরাতে আগুন-বিছানায় ঘুমিয়েছিলেন।

শীত যায় শীত আসে বড়ো আর হলাম কই ? দাউদাউ উনুনের সামনে আমরা
এখনো সেই উন্মনা বালক হয়েই আছি;নবদ্বীপের চাদর জড়িয়ে
গরম পিঠের গন্ধে উৎসুক নিতান্ত বালক।পৌষবালক।

আলিবাবা

- জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়


এখনও সেই আলিবাবা হয়ে আছি।
নিতান্ত বোকাসোকা দরিদ্র কাঠুরে আলি।

চারদিক অন্ধকার। জোনাকির ঘুম।
গাছের পাতায় আলোর গন্ধটুকু নেই।
প্রতিদিন মাঝরাতে আমার যাত্রা।
মাঠ ঘাট মরুভূমি ঠেলে গভীর জঙ্গলে
ভালো কাঠের সন্ধান।
বিশাল আরবের অতিক্ষুদ্র এক কাঠুরে কীভাবে বাঁচে,জানে না কেউ।
আমার বিশ্বস্ত সঙ্গী গাধা আমারই মতন
ভীতু বোকা ও দুর্বল।
গা ছমছম বনে পাহাড়ি ঝরনার কাছে দাঁড়িয়েছি খিদের আগুনে,জল দেবো,
বিধাতা তাও লেখেননি,দূরে ঘোড়ার খুরে
ওঠে প্রবল বিক্ষোভ সভয়ে লুকাই
পাথরের আড়ে,গাধাটিও ভীত।

ওরা চল্লিশজন জমকালো পোশাক
পাগড়ি মাথায় কোমরবন্ধে ঝনঝনে
তলোয়ার।
যুদ্ধ জয়ের ভাবে মত্ত।
ঘোড়ার পিঠের দু-পাশে ভারী বস্তায়
ওগুলো যে কী? ওরা কি দস্যু?
ভাবনায় কেঁপে উঠি।
খাড়া পাহাড়ের কাছে ওরা থেমেছে,
নেতা জাতের লোকটি কী এক মন্ত্র বলছে, স্পষ্ট শুনি,চিচিং ফাঁক!
আর পাহাড় ফেটে চওড়া পথ হয়ে গেলো,ভিতরে বিশাল গুহা।
ওরা ঢুকে যেতেই
গুহা বন্ধ হয়ে গেলো।

অনেকক্ষণ পর ওরা গুহা থেকে বেরিয়ে
চলে গেলো দূর সীমানায়।
আমি সভয়ে পাহাড়ের কাছে যাই,
জানি সেখানে হাজার রাজার ধন,
তবু চিচিং ফাঁক বলে কিছু ধন
নিয়ে যেতে পারি,ভাবি,হাত-পা-বুক
ঠকঠক কাঁপে।
মন্ত্রটা অজান্তেই বলি,গুহামুখ খুলে যায়
ভিতরে মণিমাণিক্য ঝকঝক করে ওঠে,
আমি দেখি....  ভাবি.....নেবো
কি নেবো না....
মনে পড়ে গল্পের আলি বস্তায় ভরে
সম্পদ এনে রাজার মতো ধনী হয়েছিলো,
আমি হতে চাই না।ইচ্ছেও নেই।

আমি বোকা আলি।
খানিক পরে দরজা বন্ধ হয়ে গেলে
অবহেলায় ফিরি নিজের কুটিরে
মাত্র কটি কাঠ নিয়ে।
তারপর চুলার পাশে পোড়া রুটি
নিয়ে বসি।

আজ আমি রাজা আলিবাবা।

বউয়ের পোশাকের তাপ্পিগুলো
আমাকে দাঁত খিঁচোয়
ছেঁড়া ওড়নার ফাঁকে রুখুচুল প্রায় জটা
প্রসাধনী স্বপ্ন মাত্র
ভাঙা থালা মাটির জালা
টালি ফুঁড়ে নির্দয় চাঁদের আলো হেসে ওঠে
আমি সব পেয়েও কিছু নিতে পারিনি
আমি দুনিয়ার সবচেয়ে বোকা
আমি আলি আলিবাবা
বাগদাদের ভিখিরি রাজা।

কথাশিল্পী

- জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়


আপনার উপন্যাস মুগ্ধ করেছে,
হে কথাকার,নায়কের বাল্য কৈশোর
যৌবন লীলায় আপনি
কৃষ্ণের মতো রামধনু সাজিয়েছেন
যে কেউ
ভাবতে বাধ্য এসব তাঁরই কথা।
আদর আবদার ভালোবাসা
মান অভিমান সবই মানবিক
সবই পাঠকের
কৈশোর অনুশাসনের ঘেরাটোপ ছিঁড়ে
কৃতি ও কৃতিত্ব মিশিয়ে দিয়েছেন
দুর্লঙ্ঘ্য বাধা ডিঙিয়ে জয় ছিনিয়ে আনা
মাঠে,পথে বা নদীতে অদম্য উৎসাহে
দৃষ্টান্ত তৈরি করেই চলেছে সে যে নায়ক।

তার মিষ্টিমুখ নায়িকার ছবি এঁকেছেন
আপনি খুঁত খুঁজে খুঁজে
তাকে নিখুঁত করেই চলেছেন

কাহিনী পূর্বরাগ অনুরাগ বিরাগ
কপট-রাগ পাঁচরাগে সাজিয়েছেন
সব পাঠকই তাই নায়ক বা নায়িকা।

বাল্যের লীলাক্ষেত্র ছাড়ার বাধ্যতায়
মিলিয়ে দেন দেশভাগের আগুন
পাঠকের মন পুড়ে ছারখার
বুকে কান্নার প্রবল তুফান

আমি দেশভাগ দেখিনি,আমি জানি,
দেশ ভেঙে দিলেও মায়ের আঁচল
অক্ষত অন্তরিন
আমি ওপারে কখনো যাইনি,
বাস্তুহারাদের রক্তাক্ত কাহিনী জানি
কখনো মনেই হয়নি আমি
সে উদ্বাস্তু দলের নই
গভীরে যন্ত্রণা বাজে পুড়ে যাই .....

আমিও এক বিতাড়িত পরাজিত বাঙালি
তিক্ত জীবন যুদ্ধটা যে আমারই !

আপনি প্রেম-বিরহ-প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি-ব্যথা-আনন্দের
যে-সব টেবিল সাজিয়েছেন সবই আমার
ভাবতে ভাবতে আমি কারণের পিছনে
গোয়েন্দা হয়ে গেছি,
বহু ব্যর্থতার পর শেষে রহস্য
সমাধান করে ফেলেছি :
আপনি নিজেকে নায়ক ভেবেছেন,
নিজেই নায়িকা;
কখনো নিজের প্রেমিকার মুখ বসিয়ে দিয়েছেন
নায়িকার পটে।
আপনিই কূট-নায়ক,আপনিই বন্ধু।
নিজের বাল্য কৈশোর যৌবন
প্রেম আনন্দ বেদনা
উপযুক্ত অনুপাতে সাজিয়ে
তাক লাগিয়ে দিয়েছেন

আপনি সার্থক এক কথাকার মশাই
সব্বাইকে নায়ক বানিয়ে দিয়েছেন
হার্টের রোগীকে তুলেছেন এভারেস্টে
অক্সিজেন লাগেনি,
প্যারালাইজড পায়ে
অলিম্পিক ছুটিয়েছেন
আপনার জাদু হাত রঙের মোহন

আপনি ধন্য এক শিল্পী কথাশিল্পী।


পৌষবালক | আলিবাবা | কথাশিল্পী | আলিবাবা গ্রুপ | ৪.১৮ আলিবাবা ও চল্লিশ চোর | আলিবাবা আসলে করেছে কী | আলিবাবা পণ্য | আলিবাবা ৪০ | আলিবাবা আলিবাবা | আলিবাবা চল্লিশ চোর | আলিবাবা চল্লিশ চোর গল্প | আলিবাবা কার্টুন | আলিবাবা বিডি | আলিবাবা ইতিহাস | আলিবাবা উদ্ভাবনের পেছনের গল্প | আলিবাবা নামের অর্থ কি | কথাশিল্পী সমার্থক শব্দ | কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় | অমর কথাশিল্পী | অপরাজেয় কথাশিল্পী | কথাশিল্পী রবীন্দ্রনাথ | কথাশিল্পী কাকে বলে | শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচনা | ঔপন্যাসিক হিসেবে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মূল্যায়ন করো | শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উপন্যাস | শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছোট গল্প সমগ্র | শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রবন্ধ রচনা | শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গল্প সমগ্র | বাংলা সাহিত্যে শরৎচন্দ্রের অবদান | কবিতাগুচ্ছ | বাংলা কবিতা | সেরা বাংলা কবিতা ২০২২ | কবিতাসমগ্র ২০২২ | বাংলার লেখক | কবি ও কবিতা | শব্দদ্বীপের কবি | শব্দদ্বীপের লেখক | শব্দদ্বীপ | বাংলা ম্যাগাজিন | ম্যাগাজিন পত্রিকা | শব্দদ্বীপ ম্যাগাজিন


Alibaba.com | Bengali Poetry | Bangla kobita | Kabitaguccha 2022 | Poetry Collection | Book Fair 2022 | Bengali Poem | Shabdodweep Writer | Shabdodweep | Poet | Story | Galpoguccha | Galpo | Bangla Galpo | Bengali Story | Bengali Article | Bangla Prabandha | Probondho | Definite Article | Article Writer | Short Article | Long Article | Article 2022


জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় | Jayanta Chattopadhyay






No comments:

Post a Comment