Friday, July 8, 2022

নিমাই জানার পাঁচটি কবিতা | কবিতাগুচ্ছ ২০২২ | Poetry 2022

ভাঙা কাঁচ রঙের অজগর ও বিশ্বামিত্র শুশ্রূষা

- নিমাই জানা


মানুষের ছায়াই আসলে সাপ , 
ঠান্ডা শীতল দরজা খুলে সাপের খোলসের ভেতর ঢুকে গেলেই কালবৈশাখী শুরু হয় আমার বৈমাত্রেয় ভাইয়ের শরীরে
আমি তখন দ্বিভূজ রাত নিয়ে গোপন অংক কষে চলি রাত্রিকালীন লম্ব পিরামিডের মতো, মৃত্যুর চোখে মৃত জোনাকিরা জেগে ওঠলে জননতন্ত্র নেশায় সকলেই প্রতিবন্ধী হয়ে যায়
আমার নারীটি মেঘলা রঙের অন্তর্বাস মিলে রেখেছে ভাঙ্গা কাঁচের গায়ে, গম চাষের চাষাবাদ ছেড়ে খানিক উর্বর হয়ে যাচ্ছে কৃষ্ণ,
আমি আনন্দিত আশ্রম থেকে ফিরে আসি বিশ্বামিত্র হয়ে, আমার তলপেটে দীর্ঘ মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে কোন এক কন্টক শরীর যুধিষ্ঠির দ্রোণাচার্য ও অশ্বথামারা
একশত রাখাল বালক মৃত্যু দৈর্ঘ্যের কাছে শতক স্থানীয় পাটিগণিত নিয়ে প্রতিদিন জরায়ু ছায়াকে ভক্ষণ করে চলে উদোম মাধব চক্রের কাছে এসে, প্রতিটি পুরুষের একটি গোপন ছায়াকাঠি আছে
রাতের কোনো ধ্রুবতারা একমুখী সমীকরণ নয়, লম্বোদরের মতো কোন এক সুদর্শন পাতালিক শিলার ধারালো তরোয়াল নিয়ে উড়ে যাচ্ছে কনিষ্কের দিকে
ঋষি মুনিদের মতো উপত্যকাহীন অভয়ারণ্যে উলঙ্গ পোশাকের সদৃশ্য সঙ্গম চিহ্নটিকে মৃত্যু রঙের বৃষ্টিতে প্রতিদিন ধৌত করে রাখি গ্রানাইট ছায়া দিয়ে, ✓২৫ আসলে একটি আয়নার নাম
জ্যামিতির মতো আর কোন ভিটামিন ডি থ্রি ছায়ার কাছে বৈধব্য পোশাক পরে হাঁটতে বেরোয় না কেউ, আমি শুধু নৈর্ঋত নারীর দেহে আকাশমণির বৃক্ষটিকে রোপণ করি
কোন এক নির্ভার ইছামতী নারীর গোপন অন্ধকারের ভেতর থেকে দুটি পাখি কোকতীর্থের দিকে উড়ে যাচ্ছে পর্ণমোচী হয়ে

পাঞ্জাবি রঙের মৃত্যু ও নিজস্ব ছায়াপথ

- নিমাই জানা


মৃত্যুর নিজস্ব ছায়া দৈর্ঘ্য নেই বলে মৃত্যু রংয়ের পাঞ্জাবীটি প্রতিদিন বর্গমূলের লাইসোজোমকে জিভ থেকে ঝুলিয়ে রাখে
অদৃশ্য জানালার ভেতর অন্তঃসার শূন্য পাখিরা নৃত্যহীন উপত্যকার দিকে উড়ে যাবে কোন এক কমলা রঙের বৃষ্টিপাতে ঝরে পড়ার পর
এই শহরে কিছু গ্রস্ত উপত্যকা বলে কিছু নেই, শুধু লাল রং থেকে আগ্নেয়গিরির নগ্ন মানুষেরা নিজেদের অবয়ব ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাবে এক গোছা ত্রিশূল রঙের ক্রোমোজোম দিয়ে
নৈঃশব্দ্যের কাছে এলে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিরা সবুজ রঙের ডানায় ভেসে ভেসে মহাজনপদের অদৃশ্য জীবন চক্র নির্ণয় করে, তৃতীয় নারীরা ঐকিক নিয়ম দিয়ে একটি অভয়ারণ্য গিলে নেয়
পিচ্ছিল রঙের সহবাসের উপর আততায়ীরা কালো পাথরের উপর জমা করে তোলে গম চাষের অদৃশ্য পাচনতন্ত্র
বৃষ্টির পর সব গাছেরা কেমন বানপ্রস্থে চলে যায়
আমি শুধু মৃত্যুর শরীর কল্পনা করি ডান বুকের কাছে ইন্ট্রিগেটেড হিমোগ্লোবিন ছায়া লুকিয়ে রেখে, 
নিষিদ্ধ পুরুষেরা শিরা রক্তের ভেতর জমে ওঠা অন্ধকার ভেঙ্গে ভেঙ্গে কোন এক মুনি ঋষির শীতলক্ষ্যা জলে নেমে পড়ে মোমবাতি রঙের ছায়াগাছ হয়ে
ঈশ্বর বলে ডেকে যায় কেউ, আমি শুধু দুই মুখ ল্যাটেরাইট বাবার এক ঘনফল ঘুমের ভেতর উল্টো মুখ নিয়ে শুয়ে পড়লাম শিব ঠাকুরের দিকে মুখ করে
আমি, চতুর্ভুজ নারী আর আমার পূর্বপুরুষেরা ভেজা ত্রিভুজ খেলায় ডুবে আছি গতকাল রাত থেকে
আমি মনোরোমা নারীর জিভে ক্যাকটাস চারা লাগিয়েছে

ব্রহ্মতালু ও সঙ্গীত প্রদেশের সন্ন্যাসী মানুষ

- নিমাই জানা


ব্রহ্মতালুর উপর আর কোন ঈশ্বরের ছাদ নেই
তীরন্দাজ রঙের পাখিরা সব পেন্সিলের ডগা দিয়ে একটা লাল ঘরের ভেতর কাঁকড়া বিছা হয়ে প্রতিদিন ঘুরে বেড়ায় আমাদের মৃত পূর্বজন্মের মতো
দেয়ালের কাছে এলে নাকি মানুষ একা একা গণিতজ্ঞ হয়ে যায়
ধোঁয়ার কুণ্ডলী নেমে আসে ঈশ্বর চোখের মতো গোল গোল,  একটা অদৃশ্য কালো ছায়ার নিচে আমি প্রতিদিন ভূগোল রচনা করি , ঈশ্বর একটি টক কুল গাছের নিচে দাঁড়িয়ে প্রতিবিম্বের সংখ্যা নির্ণয় করে যাচ্ছে ছেঁড়া অন্তর্বাস দিয়ে , শুধু পরাবৃত্তের কান্না পায় বলে তার জিভে সঠিক বিন্দুর বীর্য লেগে আছে
সন্ন্যাসীর মতো মাঝে মাঝে জলাশয়ে এসে কেউ ব্রহ্মতালু আলগা করে নেমে যায় নভশ্চর আকাশের দিকে
দ্রোণাচার্য পাটিগণিতের কুঠার আলগা করে ধরে রেখেছে রাত্রি বারোটার পর
একটি বিষুবরেখার নিচে আবছায়া সঙ্গীতজ্ঞ রাতের অভিশাপগ্রস্থ হয়ে মৃত্যু নামক আরও এক কঠিন প্রদেশের দিকে শিরোনামহীন রোদ বিছিয়ে রাখে রাতের বেলায় বাবা আসলে মরূদ্যান সৃষ্টি করতে চেয়েছিল,  চতুষ্পদ আকাশকে ঘিরে রাখি আমরা
নির্জীব থকথকে রক্তকণিকা নিয়ে দ্রাক্ষা ফলের মতো সমাকলন গণিতে ঋদ্ধ হয়ে ওঠে কোন আপেল বাগানের এক তন্বী নারী, হিমালয়ের পাদদেশে বসে আমরা সকলেই গোলাপি অভয়ারণ্য খুঁজে বেড়াই ঋণাত্মক আকাশের দিকে মুখ করে
নেফারতিতি স্থাপত্য খুঁজতে গিয়েই ব্রজবাসী পাখি হয়ে গেছে

লবণাক্ত জলের হরিণ অথবা বীজগণিত ভিনিগার

- নিমাই জানা


শ্মশানের চারপাশে দাঁড়ালে আমাদের বৃত্তের পরিধি বেড়ে যায়
ঘরের ভেতরে যারা থাকে তারা ঠিক দেওয়ালের উত্তর কোণের দিকে মুখ করে ওষুধের দানাগুলো জমিয়ে রাখে
আর সকলেই বীজগণিত নামক এক ভৌত শরীর নিয়ে বিপ্রতীপ কোন আদিম খেলা খেলে বেড়ায় ভিনিগারের জমাট কঠিন সাপটির মতো
আমিও বাঁশি বাজাই,  আমাকে বাজায় কেউ
চুপচাপ একে অপরের দিকে আড়মোড়া গণিত নিয়ে বসে পড়ি বৃহৎ পৃথিবীর ওপর, আমার সন্তান একান্তর কোণের কাছে এসে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ হারিয়ে ফেলে তার পোশাকের তৃতীয় বোতামটির হঠাৎ ক্রণিক জ্বরের উপসর্গ দেখা দিল
এতগুলো মানুষ হাঁটতে হাঁটতে কখন হরিণ হয়ে গেছে, আমি প্রতিটি রাতে সাপের ভয়েই দরজায় সূচীছিদ্র অসুখ রেখেছি জমিয়ে
অথচ দেখো এ নৌকার পেছনে থাকা মৎস্যগন্ধা রঙের অসুস্থ মানুষেরা জরায়ুজ পোশাক পেলে দীর্ঘ নৈমিত্তিক অসুখের মতো ডানা নিয়ে উড়ে যাবে আরও এক গভীর বারান্দার অভিমুখে, তৃতীয় শরীর নিয়ে নেমে যায় যারা গোলাপ জামের চারাটিকে ভক্ষণ করতে তারা একেবারেই অন্তস্থ বিন্দুর পরকীয়া জানে না কোনমতেই, মাকে দাহ করার পর আমার প্রিয় আয়নাটি অভিভাবক শূন্য হয়ে পড়ল
ইছামতী নারীটির জ্যামিতিক চিত্রিত হরিণ হারিয়ে যাওয়ার পর একটি আতশ কাচের তলায় নেমে লবণাক্ত জলাশয়ে স্নান সেরে নেবে

অপাদান কারক ও সঙ্গম ধান বীজের কবিতা

- নিমাই জানা


আমি জানালার গোপনকক্ষে দাঁড়িয়ে কিছু অপাদান কারকের অন্তঃস্থ বিন্দু রচনা করি একটি কংক্রিট করিডোর দিয়ে
মৃত্যুর কাছাকাছি বসে থাকলে মানুষ পূর্বজন্মের কথা মনে করে । তখন শরীর জুড়ে এক বেহালা বাদক হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া হয়ে যায় বারানসি ঘাটে,  পালক শুকোতে দিয়েছি গতকাল ভোর বেলায় , সময় সুযোগ করে চলে যাব নিঃসঙ্গ ব্রজ মাঠের দিকে
মৃত্যুর পর আগুনকে পুড়িয়ে পূর্ব জন্মের জন্য নরকুন্ড রেখে যাই নিজের অব্যবহৃত বৃষ্টি ফোঁটার মতো,
বাবার একটি হৃদপিন্ডের ভেতর ধাতব সাপেরা মুখ খুলেই খুঁজে খুঁজে চলে, স্ত্রীলিঙ্গের অসুখ
দরজাটি ছিটকিনি দিয়ে লাগিয়ে রাখি অশরীর মানুষদের উরুভঙ্গ হয়ে বসে থাকার জন্য
দেয়ালে এত মানুষ কতকাল নিশ্চিত হয়ে শুয়ে আছে, আমি শুধু একটি উল্টানো বৃক্ষের ভেতর সুদর্শন চক্র রেখে যাই
বৃষ্টিপাত কোন এক আবহবিদ রচনা করেছিল সঙ্গম ধান বীজ দিয়ে, মেগাস্থিনিস আমাদের ঋতু কথা জানতেন বলে আমরা নোনাচরে আজ ও সমাধি পরীদের সাজিয়ে দিচ্ছি ,
তখন আমাদের বর্ষাকাল বলে কিছুই নেই
নিজের ম্যালপিজিয়ান দুর্গের ভেতর একগুচ্ছ শ্বেতাঙ্গ মানুষদের ভ্রুপক্ষের ওপর তৃতীয় নৌকা নিয়ে ক্লোরোফিল প্রদেশ থেকে ঘুরে আসার একটি প্রচেষ্টা মাত্র
আগুনের কাছে দাঁড়ালে ভয় হঠাৎ করে পাথর হয়ে যায় আগ্নেয়গিরির ভেতরে থাকা প্লাসমোডিয়াম ঈশ্বর দুই হাতে বিচিত্র বীর্য মেখেছেন


ভাঙা কাঁচ রঙের অজগর | বিশ্বামিত্র শুশ্রূষা | পাঞ্জাবি রঙের মৃত্যু | নিজস্ব ছায়াপথ | ব্রহ্মতালু | সঙ্গীত প্রদেশের সন্ন্যাসী মানুষ | লবণাক্ত জলের হরিণ| বীজগণিত ভিনিগার | অপাদান কারক | সঙ্গম ধান বীজের কবিতা | কবিতাগুচ্ছ | বাংলা কবিতা | সেরা বাংলা কবিতা ২০২২ | কবিতাসমগ্র ২০২২ | বাংলার লেখক | কবি ও কবিতা | শব্দদ্বীপের কবি | শব্দদ্বীপের লেখক | শব্দদ্বীপ | বাংলা ম্যাগাজিন | ম্যাগাজিন পত্রিকা | শব্দদ্বীপ ম্যাগাজিন


Bengali Poetry | Bangla kobita | Kabitaguccha 2022 | Poetry Collection | Book Fair 2022 | Bengali Poem | Shabdodweep Writer | Shabdodweep | Poet | Story | Galpoguccha | Galpo | Bangla Galpo | Bengali Story | Bengali Article | Bangla Prabandha | Probondho | Definite Article | Article Writer | Short Article | Long Article | Article 2022


নিমাই জানা | Nimai Jana


No comments:

Post a Comment