Monday, March 7, 2022

কবিতাগুচ্ছ - মোঃ আসাদুজ্জামান আসলাম [শব্দদ্বীপের বসন্ত সংখ্যা] ২০২২ [কবিতা | Kobita | Poetry]

জীবনের প্রান্তে ভাবনা

- মোঃ আসাদুজ্জামান আসলাম


যখন পূর্ব গগনের বৃহৎ লাল মৃদু উত্তাপের রক্তিম সূর্যটা বিরামহীন ঘূর্ণনে 
উত্তপ্ত হতে হতে পশ্চিমের অন্তরিক্ষে দিন শেষে যখন অস্ত যাবে, 
ঠিক তখনই কি বুঝবে যে মৃত্যুর পরে একটা স্থায়ী জীবন আছে?

যখন তেজদীপ্ত উচ্ছ্বাসে চলা পথটি বন্ধুর মনে হবে,
আর হাঁটতে পারবেনা দুটি পদ ফেলে একা একা,
শক্তি পাবেনা দু-হাত ভরে,অন্ধকার দেখবে চারিদিক,
ঠিক তখনই কি বুঝবে যে মৃত্যুর দূত হাতছানি দিয়ে ডাকছে তোমাকে?

মুক্ত আকাশে উড়ে যাওয়া বিহঙ্গের ডানা ঝাপটানোর শব্দ,
সমুদ্রের পাহাড়সম ঢেউয়ের গর্জন যেদিন আর শুনতে পাবে না,
দু'চোখে দেখবে সব আবছা আবছা, ঠিক সেদিনই কি বুঝবে সৃষ্টিকর্তার ডাকে দিতে হবে পাড়ি ওপারে?

যেদিন দাঁতগুলো খসে পড়ে যাবে,চুলগুলো সব সাদা হয়ে যাবে,
কুঁজো ভঙ্গিতে হাতে লাঠি থাকবে আর নেত্রে হাই পাওয়ারি চশমা,
ঠিক সেদিনই কি বুঝবে তুমি একদিন পৃষ্ঠ গর্ভে মাটিচাপা হবে?

যেদিন টেবিলে সাজানো সুস্বাদু খাবার ডাক্তারের পরামর্শে খেতে পারবে না,
টানটান সুন্দর ত্বক ঢিলেঢালা হয়ে ঝুলে পরবে,
ঠিক সেদিনই কি বুঝবে ধর্মীয় নিয়ম মেনে আমল কেন করলাম না?

যেদিন গোলাপ ভরা কানন,নয়নতারা ফুল থাকবে দৃষ্টির অগোচরে,
প্রিয়জনের ডাক শুনবেনা আর অকেজো কানে,
ঠিক সেদিনই কি বুঝবে তুমি শায়িত হতে যাচ্ছ সমাধি ঘরে?

যেদিন দেখবে তোমার পাশের বাড়ির অর্ধেক বয়সের যুবকরাও মারা যাছে,
চোখের সামনে থেকেই ছোটো বড় তাজা দেহ সাদা কাপড় পেঁচিয়ে কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছে খুশবু মেখে,
ঠিক সেদিনই কি বুঝবে তোমাকেও পাড়ি দিতে হবে একই পথে?

যেদিন হাহাকারে পড়ে থাকবে তোমার দুরন্তপনার পদচিহ্নের সেই মাঠ,
যেখানে ইচ্ছে করলেই আর খেলতে পারবেনা প্রিয় খেলা,
গোলের আনন্দে আর দৌড়াতে পারবেনা দিক্বিদিক,
ঠিক সেদিনই কি বুঝবে জীবন পূষন তলিয়ে যাচ্ছে মেঘলা খোলক ঘেঁষে?

যেদিন শিশুদের মতো কথা বলতে পারবেনা স্পষ্ট,
আননে তুলে ভাত খেতে পারবেনা নিজ হাতে,
এক মগ পানি খেলে অর্ধেক তার বেয়ে পড়বে বদন কোনা ভিজে,
ঠিক সেদিনই কি বুঝবে এক পা তোমার কবরেই চলে গেছে?

যেদিন ইবাদতে গিয়ে মহানের কদমে মাথা নত করে সিজদা দিতে হবেন ব্যর্থ,
বৃদ্ধ চোখে খুঁজে পাবে না অনুতপ্তের পানি একফোঁটাও,
ঠিক সেদিনই কি বুঝবে সবকিছু ছেড়ে কবর দেশে চলে যেতে হবে?

রঙিন এ জীবন অবহেলায় নয়, কাজে লাগাও তাজা জোয়ান।
মাথা নত করো মসজিদে গিয়ে কোরআন পড় বারে বার।
মৃত্যুর জম দাঁড়ালে সামনে তোমার সময় পাবেনা আর!

টগবগে দেহ মাটিতে লুটায়ে ইবাদতে পড়ো নুয়ে।
কপাল ঠেকিয়ে কেঁদে কেঁদে তুমি ক্ষমা চাও প্রভুর কাছে। আসমান-জমিন, লাওহে-মাহফুজ,
আরশে আজিমের কর্তা তোমায় ভাসাবে নুরের আলোয়।

নয়নতারা ভাল মেয়ে

- মোঃ আসাদুজ্জামান আসলাম


সুন্দর একটা মেয়ে দেখলাম হঠাৎ সেদিন ঘরে
নামটি তাহার নয়নতারা সবাই চুন্নি বলে।
ডিমের চুন্নি নামটি তারে এমনিতে নয় বলা
প্রতিদিনই খাবে সে যে তিনটি ডিম আর কলা।
ভীষণ রাগে মাঝে মাঝে মুখ ঘুমরে সে থাকে
কষ্ট তবে পায় সে আবার আমার কষ্ট দেখে।
প্রতিদিন না দেখলে তারে ঘুম হয় না মোর রাতে
খুশি খুশি লাগে মনে দেখা হলে তার সাথে।
লোচন দুটি ডিম্বাকার তার মাথায় লম্বা চুল
কষ্টে নয়ন লাল করে দেয় যদি করি কোন ভুল।
চালাক দুষ্ট যাই বলি সে তীক্ষ্ণ বুদ্ধির বটে
সবকিছু সে বুঝে ফেলে যদি কিছু ঘটে।
এসব কথা পরে বলি লিখি অন্য কিছু
রাগ করলে সে কারো সাথে চেয়ে থাকে নিচু
কথায় কথায় হাসাহাসি সারাক্ষণই হাসে
জীবনে কেউ দেখেনি তো কখনও সে কাঁদে।
দুষ্টু মানুষ চালাক যেমন মনটাও খুব ভাল
আমার কষ্ট দেখলেই তার মুখ হয়ে যায় কালো।
হাসি হর্ষে মন মাতানো গানে বাজে টুঁটি 
খিদে পেলে খেয়ে ফেলে আনাম একটা রুটি।
খাবার পেলে মন খুশি তার পড়ালেখা বাদ
ভাগ বসাতে চাইলে বলে তাড়াতাড়ি ভাগ।
পড়া যদি পড়তে বলি মুখ চাপিয়ে হাসে
বই খুলে বলতে থাকে পড়িনি আজ রাতে।
কষ্ট এখন যদিও সে করে একটু বেশি
তারপরেও শুকনো মুখে লেগে থাকে হাসি।
পড়ার জন্য কভু বিচার করি যদি আমি
হেসে হেসে বলতে থাকে ব্যথা পাই না আমি।
ভাল আমার চায় সে যে সত্যি করে জানি
তারপরও তার রাগের জন্য রুক্ষ সাজি আমি।
ফোন যদিও করে না সে দূর কোথাও গেলে
আমিও তাই বসে থাকি নেত্র করে ছলছলে।
রাগ যদিও করে সে যে সর্বোচ্চ দুই দিন
তিন দিনে তার রাগ ভেঙে যায় থাকেনা তো জীন।
কলেজ শেষে যায় সে হেঁটে ভর্তি কোচিং করে
পরীক্ষায় সে টিকে যেন দোয়া করি তারে।
সুন্দর মেয়ে ভাল মেয়ে আরও লক্ষ্মী মেয়ে
তার বিশেষণ শেষ হবে না বৃহৎ কোন কাব্যে।

সূর্য

- মোঃ আসাদুজ্জামান আসলাম


পূর্ব নভেঃ উদয় তোমার
পশ্চিম নভেঃ তুমি অস্ত
তোমার রক্তিম রশ্মিতে তাই
পৃথিবীটা হয় উত্তপ্ত।

দিনভর খেলা কর ভেসে
দুরের ওই নীল শূন্যলোকে
আলোর শেষে ডুবে যাবে
পাবে না কেউ তোমায় খুঁজে।

চেয়ে চেয়ে দেখ কতো
পাহাড় পর্বত উত্তাল নদী
সব সিন্ধুতে হেলাও তুমি
তোমার রক্তিম আলোক রশ্মি।

ঘুরতে ঘুরতে এসে সন্ধ্যায়
লুটিয়ে যাও প্রান্তে তুমি
পৃথিবী আবার অন্ধ হয়
হয়ে যায় এক অন্ধভূমি।

যে সময় দিয়েছে তোমায়
তোমার ওই যে বড় মালিক
সময় শেষে যাবে মিশে
ধার ঘেঁষে পরপারের দিক।

রাখবে না কেউ তোমায় ধরে
করবেনা কেউ প্রসূন আদর
পাওনা শেষ হলেই তুমি
অনাদরে হবে যে পর।

যতো দিবে আলো তুমি
ততো ভাল সবার দ্বারে
তুমি চলে গেলে আলোর-
হিসাব মিলায় কলম করে।

তোমায় ভালবাসে না কেউ
ভালবাসে তোমার আলো
তোমার আলো আছে বলে
বাসে তোমায় সবাই ভাল।

আলোর খেলায় মত্ত তুমি
ছড়াও রঙের রঙিন আলো
আলো শেষ হলেই তুমি
সবার কাছে হবে কালো।

বৃষ্টির সুফল

- মোঃ আসাদুজ্জামান আসলাম


গগনে শুধু মেঘের খেলা
কোথাও থামে না একটু
অজোড় ধারায় পড়ে বৃষ্টি
ফোঁটায় ফোঁটায় শুধু।
বৃষ্টির ফোঁটা হয়ে ডিম্বাকার
লুটিয়ে পড়ে মাটির উপর
গড়িয়ে গড়িয়ে ভরে খাল বিল
পূর্ণ হয় বালুচর।
রাখাল ছেলেরা লাঙল ঠেলে
সামনে হাটায় গরু
আনন্দে বুক ভরে ওঠে তাদের
যদি বৃষ্টি হয় শুরু।
বৃষ্টির ফোঁটাগুলো বীজপত্রের
উৎকৃষ্ট ইউরিয়া পটাশ
লাফ দিয়ে বেড়ে ওঠে
বৃষ্টি হলে এক ধাউস ।
মাস তিনেকে ফসল হয় দেরি
আলয়ে সবাই বসায় কল
সবুজ অরণ্যে কিংবা সোনালী ধান
সব কিছুই বৃষ্টির সুফল।

উৎকন্ঠায় মোর নয়নতারা

- মোঃ আসাদুজ্জামান আসলাম


কিভাবে ভাবলে নয়নতারা তোমার দেয়া এতোটা আঘাত আমি সহ্য করতে পারবো?
কিভাবে ভাবলে তুমি-তোমার চাঁদমুখ না দেখে এতদিন কাটিয়ে দিতে পারবো আমি?
নয়নতারা তুমি এটাও কিভাবে ভাবলে - তুমি দূরে গেলে আমি সারারাত নাক ঢেকে ঘুমাবো?
তুমি তো জানতে তোমাকে ছাড়া অসহায় আমি।
তোমাকে ছাড়া এক বিভীষিকাময় রাত কাটাই বাহিরে আমি!
তুমি তো জানতে তোমার ওই চাঁদ মাখা মুখ না দেখলে খেতেই পারি না, মুখগহ্বর চুপসে আসে।
তুমি তো এয়ো জানতে যে,তুমি নড়ে গেলে আমি নিঃসন্দেহে নিঃস্ব হয়ে যাই, স্রেফ একটা পাগল সাজি।
তুমি তো আরো জানতে -তোমাকে বুকে চেপে না রাখলে শ্বাস-প্রশ্বাস রুদ্ধ হয়ে আসে।
নয়নতারা তুমি কিভাবে ভাবতে পারলে যে-তোমাকে ছাড়া আমি খুব তাজা প্রাণে থাকি?
কিভাবে তুমি মন স্থির করলে যে- তোমার অবহেলায় আমি তোমার থেকে দূরে সরে থাকবো?
এসব মিথ্যে ভাবনা কিভাবে আসলো তোমার মনের মধ্যে? 
কে-ই-বা আনলো এসব অস্বচ্ছ ভাবনা তোমার মনে?
এসব প্রশ্ন আমি সারাক্ষণ ভাবি! 
আর ভাবতে ভাবতে ক্লান্ত আত্মায় পানি ভরা দু'চোখ নিয়ে জ্ঞানহীন হয়ে পরি,
কিন্তু সবাই ভাবে আমি ঘুমিয়ে গেছি।
আমি তো জানতাম নয়নতারা আমার হাত না ধরে হাঁটতেই পারে না এক কদম।
কিন্তু আজ তুমি সর্বত্র ঘুরে বেড়াও নিশ্চিন্তে নির্বিঘ্নে, এমনকি বিদেশ যাওয়ার ইচ্ছেও জাগে তোমার!
আমাকে ছাড়া এতোটা পথ চলার সাহস কিভাবে আসলো তোমার ওই ভালবাসাপূর্ণ নিচ্ছিদ্র নিষ্কলঙ্ক মনে?
নয়নতারা,আগে তো আমাকে সারাদিন পর একটু..শুধু একটু দেখার জন্য,
আমার হাতের একটু স্পর্শ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে মুখ ভার করে।
মিনিটে মিনিটে দরজার দিকে কান রাখতে কখন আমার আঙুলের চাপে কলিং বেলটি বেজে ওঠে।
আর এখন কোথাও যাওয়ার কথা শুনলেই সেজেগুজে নির্বিঘ্নে বেড়িয়ে পড় খুব তাড়াহুড়ো করে।
নয়নতারা, তুমি কি সত্যিই সব ভুলে গেছো?
নাকি ভুলে যাওয়ার মিথ্যে অভিনয় করছো?
নাকি আমাকে দূরে রাখার কৌশল আঁকছো?
তুমি তো জানতে নয়নতারা -
তুমি চোখের আড়ালে গেলেই আমার স্বচ্ছ সুন্দর আত্মাটা নীল আত্মায় পরিণত হতো এক বিষাক্ত বিষের যন্ত্রণায়!
তুমি তো এটাও জানতে -
মানুষ যখন সমুদ্র সৈকতে খুব সকালে গিয়ে সূর্য ওঠা দেখার জন্য নিষ্পলক দাঁড়িয়ে থাকে স্থির হয়ে,
আমিও ঠিক সেরকমই চেয়ে থাকি আমার নয়নতারা নামের চাঁদটা কখন উঠবে ঘুম থেকে।
সারাদিন অপেক্ষা করতাম কখন নয়নতারা নামের কলটি ভেসে উঠবে আমার ফোনে।
তোমার একটু কথা শুনলেই আমার নিস্তেজ আত্মাটায় প্রাণ ফিরে পেতো,
দুর্বল দেহটা পেতো মৃগেন্দ্রের শক্তি।
নয়নতারা তুমি তো জানতে -
তোমার অনুপস্থিতি আমাকে দুর্বল করে দেয়, হাঁটতে পারি না-পা ভেঙে আসে,
কথা বলতে পারি না-মুখ শুকিয়ে আসে;শরীরটা কাঁপতে থাকে ভীষণ ক্ষীণতায়।
কিভাবে ভাবলে নয়নতারা -
আমি সারাদিন তুমিহীন ঘুরতে পারি!
কিভাবে ভাবলে তুমি -
তোমাকে ছাড়া চাইনিজে গিয়ে আনন্দ -ফুর্তিতে মজার সব খাবার খেতে পারি?
তুমি তো জানতে নয়নতারা -
তোমাকে প্রতিনিয়ত না দেখলেই আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে,
তারকারাজিরা খসে পড়ে আমার সমস্ত শরীর ক্ষত বিক্ষত করে।
তুমি ছাড়া পাখির গান, দক্ষিণা সমীরণের মিষ্টি শব্দও বিরক্ত লাগে!
তোমার জন্যই তো সমুদ্রে ডুব দিয়ে আবার উঠে আসার ইচ্ছে জাগে,সাহস পাই বাধা পেরোনোর।
আর নয়নতারা তুমি না থাকলে -
সমুদ্রের ওই উত্তাল ঢেউয়ে ডুব দিয়ে তলিয়ে যেতে মনে চায়।
মনে চায় সলিল সমাধি বরন করে হারিয়ে যাই নিশ্চিহ্নে।

নরকে ভাসাই ফুলের তরী

- মোঃ আসাদুজ্জামান আসলাম


কোথায় যাচ্ছি আমরা সবে!
অনিয়ম আর অবিচারে ধ্বংস করে দেশটা সবে,পার হয়ে যায় স্বার্থ ভরে।অর্থ করি কালো ব্যাগে, দুর্নীতি সব কর্ম প্রান্তে রন্ধ্রে রন্ধ্রে আটকাবে আর কেবা তাকে?

আমি হবো হত্যাকারী, যতোসব অত্যাচারী, সবাইকে তাড়িয়ে গড়বো আমি সুন্দর একটা পৃথিবী।

যন্ত্র মন্ত্রে বিভীষিকা তীব্র রুদ্ধ জাতী অবহেলায় ক্ষিপ্র,জওয়ানে জওয়ানে ভরা বিষাক্ত উগ্র রক্ত! খারাপ জলে সিক্ত। বিহঙ্গ উড়ে আকাশ নীলে ধরবে ছুঁয়ে আর তাকে কে?

তাইতো আমি হত্যাকারী, ওদের আমি অত্যাচারী, সবাইকে তাড়িয়ে গড়ব আমি নতুন একটা পৃথিবী।

যুদ্ধে দেশটা স্বাধীনতা পেল সব অপরাধী সুযোগ গিলো,বক্ষ চিঁড়ে হৃদপিণ্ডটা বাইরে নিল শকুনগুলো। মুখোশ পরে কৃষ্ণ মুখে কলঙ্কের চেয়ার ঘুরায় নিজে, ইচ্ছে হলেই তাকে আর ধরবে কে?

তাইতো আমি হত্যাকারী, বেহিসাবি অত্যাচারী, সবাইকে তাড়িয়ে গড়ব আমি সুন্দর একটা মহী।

সর্প ছোবলে কুঁড়ে কুঁড়ে সমাজটাকে ধ্বংস করে,ক্ষীণ মানুষ আর্তনাদে আসমান ফাটে উচ্চ স্বরে।মনিব ধনে সিন্ধুক ভরে উৎকর্ষে রাজা অট্ট হাসে গরিব কৃষক ভিক্ষা করে।

তাইতো আমি হত্যাকারী,ওদের সব অত্যাচারী, তরবারি হাতে কাটবো আমি বৃত্তশালীর বৃত্তের গিরি।

নরকের ওই দরজা ভেঙে অগ্নি মশাল জ্বালিয়ে হাতে, রাজপথের ওই কুপথগুলো বীভৎস দহনে ছাই করে দে।

মন্ত্রী মশাই চুরুট হাতে নকশা করে পালানো পথের, নেত্রর তোয় মুছে ফেলে সব রক্ত ঝরাও রক্ত ঝরাও। আগুন লাগাও আগুন লাগাও লুটেপুটে যে করলো প্রলয়।

ঘুষের টাকার ব্যবসা ওদের নেশার চালান ঘরে, মদের বোতল হস্তে ওদের আবোলতাবোল বকে ধূ-ধূ ।আমলা কামলা
পকেটওয়ালা, মুখোশধারী সব ভন্ড সাধু।

লাথ্বি মার্, বক্ষ পাঁজর চূর্ণ কর্, উপল আঘাত মস্তক ভেদে কন্ঠ ধর্। টুঁটি চেপে বদ-পেটুকদের রুদ্ধ কর্।

সমাজটাকে বাঁচাই চল্,তর সয়না আর জলদি চল্। উরগ মুখে কামড় দে সিংহের মুখে থাবা মার্।

আতসবাজির ফুলকি পায়ে পেট্রোল হাতে বহ্নি ধর্।যুদ্ধ বিমান আছড়িয়ে সব সমুদ্র ন্যায় তুফান তোল্।বৃদ্ধ ঘরে আমরা কেন,তাড়াতাড়ি মাঠে চল্,রুধির স্রোতে ভিজাই পথ নতুন সূর্য উঠাই চল্।

কষাঘাতে ওদের বক্ষ ফাটাই হয়ে আমি অত্যাচারী, নিশ্চিহ্ন করি সমাজ বৈরি, নৃশংস আমি হত্যাকারী। বিষদাঁত সব উপড়ে ফেলি নরকে ভাসাই ফুলের তরী।


স্মৃতির পটে জীবনের ছবি | জীবনস্মৃতি প্রশ্ন উত্তর | জীবন স্মৃতি কার আত্মজীবনী | জীবন স্মৃতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | জীবন স্মৃতি | জীবনের প্রান্তে ভাবনা | নয়নতারা ভাল মেয়ে | নয়নতারা | সূর্য কত দূরে আছে | সূর্যের বিভিন্ন নাম | সূর্য পৃথিবী থেকে কত দূরে | সূর্য কি গ্রহ না নক্ষত্র | সূর্য মন্ত্র | সূর্য প্রণাম মন্ত্র | সূর্যের পূর্ণগ্রহণ কীভাবে হয় | সূর্য (দেবতা) | সূর্য | নয়ন তারা সিরিয়াল আজকের গান | নয়নতারা সিরিয়াল সান বাংলা | নয়ন তারা আজকের সিরিয়াল | নয়ন তারা নতুন পর্ব | উৎকন্ঠায় মোর নয়নতারা | বৃষ্টির সুফল | মেঘ ও বৃষ্টি | বৃষ্টি কিভাবে তৈরি হয় | ঘূর্ণ বৃষ্টি কাকে বলে | ঘূর্ণ বৃষ্টি কাকে বলে | অধিক বৃষ্টির সুফল কি | কবিতাগুচ্ছ | বাংলা কবিতা | সেরা বাংলা কবিতা ২০২২ | কবিতাসমগ্র ২০২২ | বাংলার লেখক | কবি ও কবিতা | শব্দদ্বীপের কবি | শব্দদ্বীপের লেখক | শব্দদ্বীপ | নরকে ভাসাই ফুলের তরী | ফুলের তরী

Bengali Poetry | Bangla kobita | Kabitaguccha 2022 | Poetry Collection | Book Fair 2022 | Bengali Poem | Shabdodweep Writer | Shabdodweep | Poet


মোঃ আসাদুজ্জামান আসলাম | Asaduzzaman Aslam








No comments:

Post a Comment