Thursday, April 7, 2022

ভালোবাসার টান - আফছানা খানম অথৈ [গল্প | Galpo | Story] 2022

ভালোবাসার টান

- আফছানা খানম অথৈ


ইন্টারমিডিয়েটে পড়া নূপুর প্রেমে পড়ে রায়হানের। রায়হান ডিগ্রীতে পড়ে। দুজনের মাঝে গভীর সম্পর্ক। একে অপরকে না দেখে থাকতে পারেনা।গোপন অভিসারে মিলিত হয়। বিষয়টা জানতে পারে নূপুরের বাবা। রায়হান খুব গরীব। বাবা দিন মজুর।এমন একটা হাভাতে ঘরের ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে, না তা কিছুতেই সম্ভব না।তাই তড়িঘড়ি করে মেয়ের বিয়ে দেন ব্যবসায়ী সবুজ শিকদারের সঙ্গে।

বধূবেশে চলে যায় নূপুর। স্বামী কক্ষে প্রবেশ করে নূপুরের গায়ে হাত দিতে একি! নূপুর ঝাপটা দিয়ে তার হাত সরিয়ে দিয়ে কড়া ভাষায় বলল,
"ডোন্ট টাচ্ মি"
সবুজ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
তোমায় টাচ্ করবোনা মানে, তুমি আমার বউ না।
স্পষ্ট ভাষায় কোন দ্বিধা ছাড়ায় উত্তর দেয় নূপুর,
না আমি তোমার বউ না।
তাহলে কার বউ?
রায়হানের বউ। আমি তাকে ভালোবাসি। তাকে ছাড়া আমি অন্য কাউকে স্বামী হিসেবে মেনে নিতে পারবো না।
তাহলে আমাকে বিয়ে করলে কেন?
বাবা জোর করে তোমার সঙ্গে আমার বিয়ে দিয়েছেন। আমি রাজি ছিলাম না।
এখন কি করবে?
আমি রায়হানের কাছে ফিরে যাব।
শুনো নূপুর বিয়ের আগে এসব ভালোবাসাবাসি অনেক হয়। বিয়ের পর এসব মনে রাখতে নেই। তুমি আমার বিবাহিতা স্ত্রী। বিয়ের পর বউয়ের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হওয়াটা আল্লাহপাকের দেয়া নেয়ামত। আমি এ নেয়ামত থেকে তোমাকে বঞ্চিত করতে পারবো না। তুমি আমার বউ, আমি তোমাকে ভালোবাসব। এসব ফালতু ভালোবাসা ভুলে যাও।
না আমি কিছুতেই রায়হানকে ভুলতে পারবো না।
বললে হলো। এসো দুজন মিলে...।
নূপুরকে জড়িয়ে ধরতে চাইলে সে তাকে সরিয়ে দেয়।এমনি ধস্তাধস্তি ও সংগ্রামের মধ্যে পার হলো সারারাত। নূপুরকে ভালোবাসাতো দূরের কথা, টাচ্ও করতে পারলো না সবুজ। পরদিন ও একই অবস্থা।
নূপুর ভুলতে পারছে না রায়হানকে। আর সবুজ নূপুরের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য ব্যাকুল। রোজ রাতে তাদের মাঝে এক প্রকার যুদ্ধ চলে। সবুজ আর সহ্য করতে পারছেনা। বাধ্য হয়ে শ্বশুরকে ফোন করে সবকিছু জানাই। শ্বশুর জামাইকে বুঝ ভরসা দেয় ধৈর্যধারণ করতে বলে।
সবুজের ধারনা সত্যি নূপুর একদিন তাকে ভালোবাসবে। রোজ রাতে বউকে বুঝায়, ভালোবাসতে চায়। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছেনা। নূপুর তাকে কাছে ঘেষতে দিচ্ছে না। এভাবে কেটে গেল বিশ দিন। নূপুরের মনে সবুজের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হলো না। তার হৃদয়ের  সমস্ত আকাশ জুড়ে আছে রায়হান। সে রায়হানের কাছে ছুটে যায়। খবর পেয়ে ছুটে যান নূপুরের বাবা।
মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে কেঁদে বলেন,
নূপুর তুই একি করলি, আমার মান সম্মান ধুলায় মিশে দিলে। ফিরে চল মা স্বামীর কাছে।
না বাবা আমি যাবনা। আমি রায়হানের কাছে থাকব।
পাগলামি করিস না মা। এ সম্ভব না।লোকে শুনলে বদনাম রটাবে। আমি সমাজে মুখ দেখাতে পারবো না।
তবুও আমি যাবনা। তুমি চলে যাও।
বাবা অনেক বুঝাল মেয়েকে। কিন্তু মেয়ে কিছুতেই বাবার কথায় সাড়া দিলো না। এবার বাবা কৌশলে তাকে রায়হানের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার কথা বলে বাড়ি নিয়ে আসে। তারপর স্বামী সবুজের হাতে তুলে দেয়। সবুজ তাকে বাড়ি নিয়ে যাই। নূপুরকে একান্ত আপন করে পাওয়ার জন্য জড়িয়ে ধরে।সে তাকে সরিয়ে দিয়ে বলে,
বলেছি না তুমি আমাকে ছুঁবে না। তবুও কাছে আসছ কেন?
বউ আমি যে তোমার ভালোবাসা ছাড়া থাকতে পারবো না।
কিন্তু আমিতো তোমাকে ভালোবাসি না। তবুও জোর করছ কেন?
বউ দেখে নিও, রায়হানের চেয়ে তোমাকে আমি আরও বেশি ভালোবাসব। শুধু একবার ভালোবাসার সুযোগ দাও।
না তোকে আমি ঘৃণা করি। তুই আমার কাছে ঘেষবি না।
রায়হান আর থেমে থাকতে পারলো না। ক্ষুব্ধ হয়ে উঠল। চোখ রাঙিয়ে বলল,
শুন নূপুর, আমি অনেক সহ্য করেছি। আর না। তুই আমার না হলে আর কারো হবি না। আজ তোকে আমি ছাড়ব না। দেখি কে ঠেকায়।
এক প্রকার জোর করে সে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে চায়। নূপুর বাধা দেয়। সে কষে দেয় এক চড় ।তারপর এলোপাথাড়ি কিল, ঘুষি মারতে লাগল। নূপুর কাত হয়ে বিছানায় পড়ে যায়। অজ্ঞান হয়ে যায়। সবুজ ভয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। তালা বন্ধ করে দেয়। জ্ঞান ফেরার পর বলে,
যেদিন তুই আমাকে ভালোবাসবি, সেদিন এ দরজা খুলব। এর বাইরে না।
তুই ও মন দিয়ে শুন, জোর করে, মারপিট করে, বন্দি করে কখনো ভালোবাসা পাওয়া যায় না। ভালোবাসা সম্পূর্ণ অন্তরের অনুভূতি। তা অন্তর দিয়ে অনুভব করতে হয়।আমি মরে গেলেও তোকে ভালোবাসব না।
নূপুর কিন্তু থেমে নেই। বের হওয়ার চেষ্টা...। শেষে গভীর রাতে জানালা ভেঙ্গে রায়হানের কাছে ছুটে যায়।তাকে দেখে রায়হান বলে,
নূপুর তুমি আবার কেন এলে। চলে যাও।
না আমি যাবনা।
অযথা জেদ করো না। তোমার বাবা আবার এসে তোমাকে নিয়ে যাবে।
আমি সেই সময় আর তাকে দেব না। আমরা এখনি বিয়ে করব। তুমি বিয়ের ব্যবস্থা কর।
না আমি পারব না। আমার ভয় করে। তোমার বাবা আবার যদি কিছু করে বসে।
রায়হান ভয় করলে চলবে। আমি তোমার ভালোবাসা ছাড়া বাঁচতে পারব না। তোমার মতো অন্তরের অনুভূতি দিয়ে এত ভালো কেউ আমাকে বাসবে না। তোমার অন্তরের ছোঁয়া যে আমার অন্তরে লেগে গেছে। তাই বারবার তোমার "ভালোবাসার টানে" ছুটে আসি। তবুও যদি না কর, আমি আত্মহত্যা করব। তবুও ওর কাছে ফিরে যাব না।
না নূপুর তা করো না। আমি এখনি বিয়ের ব্যবস্থা করছি।

ঠিক সেই মুহূর্তে উপস্থিত হলো সবুজ শিকদার ভিলেনবাহিনী নিয়ে। নূপুরকে নিশানা করে গুলি ফায়ার করলো। নূপুরের বক্ষভেদ করলো।
তাকে বাঁচাতে সামনে দাঁড়াল রায়হান। তাকে ও রেহায় দেয়া হলো না। গুলি তারও বক্ষভেদ করলো। দুজনে কাত হয়ে মাটিতে পড়ে গেল। তখনি সবুজ বলল,
বলেছি না তুই আমার না হলে আর কারও হবি না।
কাতরাতে কাতরাতে উত্তর দিলো নূপুর,
আমাদের এ জনমে মিলন না হোক, পরজনমে তো হবে।
নূপুর আর কথা বলতে পারলো না। মারা গেল। পাশাপাশি দুটো লাশ পড়ে রইল। দু-পরিবারের লোকজন কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল। পুলিশ সবুজকে ধরে নিয়ে গেল।

[ বি:দ্র: সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্পটি লেখা। ]


ভালোবাসার টান | প্রেম ভালোবাসা | ভালোবাসা কি বার্তা | ভালোবাসা উইকিপিডিয়া | প্রকৃত ভালোবাসা কি | ভালোবাসা উক্তি | ভালোবাসার মেসেজ | সেরা ভালোবাসার গল্প | খুব কষ্টের ভালোবাসার গল্প | নতুন ভালোবাসার গল্প | ভালোবাসার গল্প কাহিনী | লেখা ভালোবাসার গল্প | শর্ট ভালোবাসার গল্প | ভালোবাসার গল্প ২০২২ | শব্দদ্বীপের লেখক | শব্দদ্বীপ | সেরা বাংলা গল্প | গল্প ও গল্পকার | সেরা সাহিত্যিক | সেরা গল্পকার ২০২২ | বাংলা বিশ্ব গল্প | বাংলা গল্প ২০২২


Bengali Poetry | Bangla kobita | Kabitaguccha 2022 | Poetry Collection | Book Fair 2022 | Bengali Poem | Shabdodweep Writer | Shabdodweep | Poet | Story | Galpoguccha | Galpo | Bangla Galpo | Bengali Story | Bengali Article | Bangla Prabandha | Probondho | Definite Article | Article Writer | Short Article | Long Article | Article 2022 | Valobasar Golpo


আফছানা খানম অথৈ | Afsana Khanam






No comments:

Post a Comment