Thursday, February 3, 2022

অবাধ্য স্প্লিন্টার | অমুদ্রিত স্বরলেখা | গার্হস্থ্য অসুখ - যুবক অনার্য [কবিতা | Poetry]

গার্হস্থ্য অসুখ

- যুবক অনার্য


আমি আমার চেয়ে আলাদা কিছু নই আমারও শরীরে রয়েছে মাংসপিন্ড এক
যাকে তোমরা 'হৃদয়' দিয়েছো নাম ভালোবেসে।
আমি নই  কিন্তু হৃদয়  সে তো যেতে পারে শূন্যতায় -সীমানার অধিক কোনো দূরে
এ হদয়ে রক্তের মতন লাল লাল
 উপমাময় স্রোতস্বিনী ক্ষত আছে
 -আছে শিরা উপশিরা -মিশে আছে
 সোনালি অসুখ-
                 অদম্য নিশাচর। 
এ হৃদয়  ছলনা জানে না,নেই 
মাথা নোয়াবার সাধ,ওকে আর 
প্রাসাদে ডেকো না, ভুল হবে,বোলো না- 
দুধের  মাছি হয়ে কাটাতে প্রহর - 
যেরকম বসন্ত ফুরোলে 
মানুষেরা  লৌকিক সম্পর্ক- সুতোয়  
কালিমা লেপে 
                  কেটে পড়ে।

এ হৃদয় অভিমানী খুব কেননা সে 
জেনে গেছে -বধূরা বরের ঘরে থাকে 
তবু বরের জন্যে থাকে না কোনোদিন!
সভ্যতার অযাচার,বঞ্চনার, তুচ্ছতার
মহিরুহ ভেঙে দিয়ে সে তো মানুষেরই প্রেমের নির্দলীয় বন্টন 
বেটে দিতে 
বাড়িয়েছে পা;
তাকে ফিরিয়ে দিও না, বোলো না -
চলে যেতে - বড়ো অবেলায় এলে হে 
দেরি হয়ে গেছে!

সময়ের মৌনতায় আপোষী সংঘতায়
ছড়াতে চেয়েছে সে তো 
দ্রোহেরই আগুন  
সে তো দিনশেষে  খুঁজে খুঁজে 
হারিয়েছে নিজেরই পায়ের নিচে মাটি। 

তবু তাকে ফেরাতে চাও কেন
যেখানে জেগে রয় গার্হস্থ্য অসুখ 
জেগে রয় আত্মার অনন্ত প্ররোচনা - 
মোহ আর মোহন রমণীয় সুখ!
তাকে তবে ফিরে নাও দগ্ধ আত্মার পোড়াগন্ধের কাছে - যেখানে নেই 
ঘুমন্ত বাসনার চোরাবালি, আছে 
নিজেকে নিজের কাছ থেকে 
সরিয়ে রেখে বেদনায় নিঃস্বতায় 
মানুষেরই কাছে ফিরে আসা।

অমুদ্রিত স্বরলেখা

- যুবক অনার্য


এতোটা পথ হেঁটে এলে তবু কি 
টের পেলে- হেঁটে যাবার সমস্ত সড়ক 
বন্ধ হয়ে গেছে
তবু কি টের পেলে সাপ কেন
আড় ভেঙে হাঁটে
কেন দ্রোহ নিষিদ্ধ হ'লে 
জ্ব'লে ওঠে বিকল্প বিপ্লব
সূর্য তার আত্মায় কতোটা অগ্নি নিয়ে 
তবে জেগে ওঠে! 

কতো না বছরভর স্বপ্ন দেখে এলে
শস্যিতা মাঠ গাভিন নদীর
তবু যে হারিয়ে গেছে আবাদি লাঙল,
তার দীর্ঘ ছোবল।
কতো না রাজপথ অট্টালিকা
ভুবনজোড়া কুমারী  রাত 
তবু কি জানা হলো নারী কেন
এতোটা রমণীয়- সোনালি পালক- 
তবু কেন এতোটা চাবুক 
ধরে রাখে জিভে
রূপসী কেন এতোটা রূপ নিয়ে 
নিঝুম দুপুরে নিশ্চুপ কাঁদে!

জানা কি হলো আজও-  
এতদিন কতদিন তুমি 
আসবে বলেও 
চলে গেছো -'ভালোবাসি 
খুব বেশি ভালোবাসি'-বোলে!
প্রেমিকা কেন এতটা খ'সে পড়ে 
তারার মতন 
কী নিবিড় স্খলনে পুষ্ট হয়ে 
তবু চলে যায়! 
কেন এই অগ্নি দহন 
অবেলায় এমন এই আত্মহনন 
এই বদ্ধভূমির খোলা হাওয়া  -
তবু কি জানা হলো!
আজও কেন নির্দোষ কয়েদি আর প্রেমিকের খিদে পেলে 
রোদ্দুর হারিয়ে ফেলে উষ্ণ ভূমিকা 
আর মানুষেরা কেন তবু 
মেঘের অপেক্ষায় থেকে বজ্রাহত 
হতে ভালোবাসে
একজন কবি কেন এতোটা অসহায় 
কেন তুমি বেসেছিলে ভালো 
কবিতা আমার আর আমাকে 
বাসোনি ভালো- জানা কি হলো তবু 
আজও জানা হলো!

অবাধ্য স্প্লিন্টার

- যুবক অনার্য


তুই জানান দিয়েছিলি অস্ত্বিত্ব তোর
 তীব্র চিৎকারে 
মনে হলো পৃথিবীতে এসেছে 
  এক অবাধ্য স্প্লিন্টার
লন্ডভন্ড করে দিয়ে  সে 
সাজিয়ে দেবে সুন্দরের প্রথম প্রহর।

শুরু হলো এক অকে এক দুই অকে দুই...

চিরায়ত মাতৃক্রোড়, ঘুচিয়ে দিলি
পিতাজির বন্ধ্যাত্ব অপবাদ
হামাগুড়ি হাঁটি হাঁটি পা পা
আধোবোল পরাশ্চর্য পংক্তিমালা
শাশ্বত নিয়মের গণ্ডি বেয়ে  শৈশব
আর কৈশোর ছুঁই ছুঁই কররেখা; 
বলেছিলি- বাবা, হৃদয়ে গেঁথে তোমার হননযন্ত্রণা  
 একদিন আমিও জিতেন্দ্রিয়  হবো 
তোমারই মতন
এক পৃথিবী স্বপ্নশালুক বেঁধে দেবো মায়ের আঁচলে গার্হস্থ্য চাবির মতন
দেখো বাবা, একদিন অসুন্দরের বিরুদ্ধে একটি কলি রক্তাক্ত হতে হতে হয়ে উঠবে সোমত্ত গোলাপ।

প্রতিজন পিতার মতো আমারও বুক,
 মধ্যবয়সী  চোখ আর্দ্রতা নিয়ে 
নিমীলিত হলো; 
কিশোরগন্ধা তোর চোখের দিকে তাকিয়ে অনিয়ন্ত্রিত আমি বলতে চেয়েছিলাম-
 আজন্ম লালিত তোর স্বপ্নগুলি ঘাসফুলনদী হয়ে ছড়িয়ে যাক ৭১  বিধৌত আমার বদ্বীপখানি জুড়ে- আমি থাকি, নাই বা থাকি আর।

বলেছিলি- আব্বু তুমি খোলা আকাশ,
 ভালোবাসার চেয়ে অধিক  ভালোবাসি শুধু তোমায়; 
আম্মু তুমি নয়নমণি,
 ভালোবাসার চেয়ে অধিক ভালোবাসি শুধু তোমায়। 

কথা ছিলো -
ফুল ফুটাবি
চাঁদ উঠাবি
পদ্মপাতায় জল ভাসাবি।-

এসব কথা রাখলি না তুই
ফুটলো না ফুল উঠলো না চাঁদ
জলে ভেসে পদ্মপাতা হারিয়ে গেলো!

কার কি-ই বা এলো গেলো
শুধু আমি শূন্যতাকে দারুণ রকম শূন্য করে
"আমার একটি যায়ান আছে"- বলতে গিয়ে থেমে গেলাম; 
বলতে হলো, বলতে হবে জন্মপোড়া জলের মতো- "আমার একটা যায়ান ছিলো"।


কবিতা | অবাধ্য স্প্লিন্টার | অমুদ্রিত স্বরলেখা | গার্হস্থ্য অসুখ | Poetry | Poet | Writer | Bangla Kobita

যুবক অনার্য







No comments:

Post a Comment