Monday, February 21, 2022

কবিতাগুচ্ছ ২০২২ - নিমাই জানা [কবিতা | Kobita | Poetry]

ট্রায়াঙ্গেল দরজা অথবা সাইপ্রোহেপটাডিন অ্যালকোহল

- নিমাই জানা


ট্রায়াঙ্গেল সাপের মুখে সাত স্বর্গের বিসর্গ মৌলিক দরজাগুলো সমকৌণিক হয়ে মঞ্জিরা বাজায়,
তারা সবাই প্রাচীন জলভূমিতে সাইপ্রোহেপটাডিনের কোকিল পাখিকে নিজের পালক দিয়ে হত্যা করে ৩৫ মিনিটের অ্যালকোহল ঘোরে
রাতের প্রতিটি নাবিক একবার পিচ্ছিল ঘরে এসে নিজেই ধূমপান করে যায়,
আগুন বড়ই চক্রাকার নিজেকেই বিদ্ধ করে শ্বসনযন্ত্রের মতো,
একাকী নগ্ন রাগপুর বলে একটি প্রাচীন স্থাপত্যের নিচে দাঁড়িয়ে থাকি সকালের ইলোরা বিভঙ্গ মূর্তি হয়ে
আমাদের উঠোনে মৃতপ্রায় পাথরকুচি ফুলগুলো কালো কঙ্কালের চাষ করছে আমার মেহগিনির ডালভাঙ্গা পাতাবাহারের তলায়,
এখানে কেউ বৈষ্ণবীয় পোশাক পরে না এক সহস্রকাল ধরে
আমি এক মাথুর পর্বের মূলরোম ওঠা বিবিধ ক্ষেত্রফলের বিশাখা,
আমাকে মৃত্যুর আগে ষষ্ঠ দিনের মৃত্যু উড়িয়ে নিয়ে যায় ঠিক সন্ধ্যার মুখে ,
আমি কার নাভি পোড়াবো, নাভিটি আমাকেই পোড়ানোর জন্য এক শতাব্দী বসে আছে নৈর্ঋতে দুর্গন্ধ মুখ রেখে
আমার নাভি থেকে বিশুদ্ধ পচনশীল গন্ধপুষ্পের কমলালেবুটি কিশোরীর নরম স্তনের শিশু হয়ে খুঁটে যাচ্ছে আগুন দ্রবণকে,
বিশল্যকরণীর মরীচিকা তলপেটে তিন দশাংশের জন্মস্থান ছিল দ্বারকানগরীতে
আমলকি বনে সকলেই ব্রাহ্মণীর মন্ত্রপূত পোশাক পরে

গোবিন্দপুর ও চৈতন্য শরীরের উপাংশ

- নিমাই জানা


গোবিন্দপুরের প্রতিটি জনপদে এসে মহেশ্বরের উমাবন গড়ে তোলেন লাল রঙের কৌণিক দ্রাঘিমাংশের কৌপীন
আমি তিনটি জননতন্ত্রের দাঁত খেতে অভ্যস্ত ছিলাম সিলভিয়া প্লাথের সময় থেকে,
অরণ্য থেকে ফিরে আসলে অগম্য নারীর আর বিশ্বাসের ঘনত্ব থাকে না
সবাই একা নোঙর খুলে সমতল তরঙ্গের নিচে ধারালো বাসস্থান গড়ে তোলে,
আমাদের কোন যৌগিক সঙ্গমের প্রয়োজন হয়নি প্রায় ৩৩ বছর
আমরা ঠোঁটের ভেতরে অজস্র কাল্পনিক শিশুর জন্ম দিয়েছি স্বমেহনে প্রোজেস্টেরনে,
আগুন থেকে উদ্ভূত শিশুরা সাপের মতো কিলবিল করে, তাদের জিভে অজস্র আগুনের স্ফোটক বিন্দু আছে,
বিষের থলিকে রাখে শিরদাঁড়ার জিওল শ্বাসযন্ত্রের কাছে
সব প্রাচীন অন্তর্বাস খুলে রেখে যাবে স্বরবর্ণের খোলস বরফের পাশে,
ধারালো বৃত্তাকার উলম্ব উপত্যকা থেকে প্রতিটি ঋণাত্মক রাশিচক্র বের করে আনবে ম্যানগ্রোভ ঔষধি বৃক্ষ
আমি একটি মিষ্টি আমড়ার চারা লাগিয়ে দেখেছি
এখানে সকলেই রানীপুত্র সেজে ভৌগোলিক জনন ছিদ্রকে মেপে যাবে তিন আঙ্গুলের প্রসবদ্বার
মৃত শরীরের কম্পাংক নির্ণয় করতে নেই বলে বায়বীয় সেবিকার গর্ভপাতের জন্য তিনঘন্টা লেগেছিল
সেবিকার ডান পায়ে পলিসিসটিক ওভারি রেখেছিল মেথারজিন রাত,
সন্ধের পর প্রতিটি মানুষ নপুংসক হয়ে যায়

সাইকোটিক ওষুধ ও পর্ণমোচী ধ্রুবপদ

- নিমাই জানা


উপপল্লব থেকে ফিরে আসা রোগগ্রস্ত দরজার পিঠে সমস্ত ক্ষয়জাত মরুচক্রের সরীসৃপেরা বুকের ক্ষতমুখ দিয়ে ঘুমায়,
প্রাচীন অশ্লীল কথাগুলো পেঁচিয়ে ধরবে নরম দ্রাঘিমা শরীর,
৩১টি নৈর্ঋত ভূমন্ডলকে আমার বিছানায় ছেড়ে দিলেই প্রচ্ছায়া রঙের গভীর গিরিখাত তৈরি করবে অ্যামোনিয়াম সালফেট
কাকে হত্যা করার পর আমি সাইকোটিকের ওষুধ খেয়েছিলাম মনে নেই আর, 
প্রথম সান্তনু পুরুষটি আমার জিভে তিন ফোঁটা প্যারাফিন ঢেলেছিল
আর আমি একটি ক্যাকটাসের ঘুম ফলের ভেতর চারাগাছ পুঁতে দিয়েছিলাম আমার দক্ষিণ দরজার পাশে
আমি বৃত্তচাপ থাকা নারীদের কাছে এলেই অসুস্থ হরিণীর নকল শিরদাঁড়া হয়ে যাই,
এখনো অজৈব প্রচ্ছায়ার ভূমি সংলগ্ন অসদ বিম্বেরা আর ঘাতককে দেখতে পায় না
কোকিলের মতো ব্যঞ্জনবর্ণ নিয়ে প্রতিসরাঙ্ক জ্বেলে বাড়ি ফির,
ঘরভর্তি তরলের ভেতর বাবা সহস্র পুরুষরেণু ছড়িয়ে সাঁতার কেটে যাচ্ছে গৃহত্যাগী হয়ে যাওয়ার আসায়
অথচ আমরা কামড়ে ধরেছি তার সরীসৃপ লেজ,
বিষধর সরীসৃপ কামড়ে দেওয়ার পরও আমার মৃত্যু হল না,
আমি কাচময় কঙ্কাল ভাঙ্গা ক্লোরোফিল লাল ঠোঁট নিয়ে বিভাজিত বুকের ভেতর স্নান করি নয়ানজুলিতে
আমি রামায়ণ বলতে ফিজিক্যাল সাইন্সের আলোক চ্যাপ্টা বুঝি
মৃত্যু এসে কাছে দাঁড়ালে আমি পর্ণমোচীর পোশাক খুলতে খুলতেই গভীর নাব্যতায় নেমে যাব ১০৮টি বেলপাতা নিয়ে
আমার পৌন্ড্রেয় শঙ্খ মানে শ্মশান,  বিছানার পিশাচ সর্বদা ধ্রুব হয়ে উঠবে


ট্রায়াঙ্গেল দরজা | সাইপ্রোহেপটাডিন অ্যালকোহল | সাইকোটিক ওষুধ | পর্ণমোচী ধ্রুবপদ | গোবিন্দপুর | চৈতন্য শরীরের উপাংশ | বাংলা কবিতা | বাংলা কবি | নতুন কবিতা ২০২২ | কবিতাগুচ্ছ | সেরা কবিতা | কবি ও কবিতা

Bengali Poetry | Bengali Poem | Bangla Kobita | Natun Bangla Kabita | Kabita Guccha | Writer | Poet


নিমাই জানা | Nimai Jana





No comments:

Post a Comment