Friday, January 21, 2022

বন্ধুর বিয়েতে গিয়ে (১ম পর্ব) - প্রবোধ কুমার মৃধা [সেরা বাংলা গল্প ২০২২]

Top Story 1st

[গল্পে প্রথম সেরা]

[জানুয়ারি ২য় সংখ্যা] [পঠন / দর্শন সংখ্যার ভিত্তিতে বিচার]

বন্ধুর বিয়েতে গিয়ে (১ম পর্ব)

- প্রবোধ কুমার মৃধা


সন্ধ্যা হতে তখন ও বাকি ।ফাল্গুনের গোধূলির রাঙা বেলায় বাড়িতেই ছিল পার্থ।হঠাৎ কলিং বেলটা বেজে উঠতে সে নিজেই গিয়ে দরজা খুলে চমকে উঠল ।'আরে বিশু,তুই? আয় আয় ঘরে আয়। ওঃ ,কত দিন পরে তোর সঙ্গে দেখা।'
'কত দিন আর হবে, বোধহয় মাস ছয়েক ।'
'তাই বা কম কী!'
ওদের দুজনের কথাবার্তার মাঝে পার্থের মা ঘরে ঢুকলেন ।
'এই যে বাবা বিশ্বরূপ ‌,অনেক ‌দিন পর এলে, বাড়ির সবাই ভালো আছে তো?'
'হ্যাঁ কাকিমা ,সবাই.....' বলতে বলতে উঠে কাকিমাকে প্রণাম করে গিয়ে বসল।
অনেকক্ষণ অনেক কথা হলো, বিশুর একটু তাড়া ছিল, সে কাকিমায়ের হাতে একটা নিমন্ত্রণ পত্র ধরিয়ে দিয়ে মুখে ব্যাপারটি খুলে বলল ।আসছে ২৮শে ফাল্গুন তার বিয়ে ।অনেকটা আচমকাই ঠিক হয়ে গেছে ।
পার্থ বিশ্ব একই কলেজে পড়াশুনা করত ।বিশ্বরূপের বাড়ি সুন্দর বনের লাটে, সেই গরানকাটি ।গড়িয়ার নস্কর মেসে থেকে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়ত।ডিগ্ৰী কমপ্লিট হয়ে যেতে গ্ৰামের বাড়িতে ফিরে যায় ।কলেজ জীবনে পার্থের সাথে বিশেষ ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ে, ‌ আরও তিন জনের সঙ্গে হৃদ্যতা থাকলেও পার্থের সাথে বন্ধুত্বটা নিবিড় ছিল। মেসে থাকা কালীন প্রায়‌ই পার্থদের গড়িয়ার বাড়িতে ‌ বিশ্বর  যাতায়াত ছিল ‌।পার্থ ও দু'একবার  গরানকাটিতে গিয়েছে ।

'তুই রাতে থাকবি তো?'
'না রে পার্থ, অর্কদের বাড়ি হয়ে আজ রাতেই ক্যানিং -এ বড় দিদির বাড়িতে যেতেই হবে, সময় খুব কম, তুই কিন্তু অন্তত দুটো দিন আগে যাস ভাই ।' পার্থ কোন সম্মতি না দিলে ও বিশ্ব জানে ও ঠিক যাবে ।

বিয়ের দিন সকালে কুয়াশা কেটে গেলে দেখা গেল মাঝ আকাশে হালকা হালকা মেঘ ।বেলার দিকে অবশ্য  মেঘ কেটে গিয়ে চড়া রোদ উঠল ।নদীপথে যাত্রী সমেত বর যাবে,তাই একটা লঞ্চ ভাড়া করা হয়েছিল ।বিকেল বিকেল বাড়ির ও পাড়ার মেয়েরা সাজসজ্জা শুরু  করে দিল, পুরুষদের প্রস্তুত হতে দশ পনেরো মিনিট‌ই যথেষ্ট। দেখভালের প্রধান দায়িত্বটি ছিল পার্থের উপর, তার উপর আজ  অর্ক এসে সঙ্গ নিয়েছে ।সন্ধ্যার পর বর সমেত যাত্রী সব ডোঙ্গাজোড়ায়  কনে বাড়িতে পৌঁছে গেল।পথে কোন দুর্ভোগ ঘটল না , অবশ্য আরো আগেই পৌঁছানো যেত, জোয়ার না থাকার কারণে বিলম্ব  হলো ।পাড়া গাঁয়ের বিয়ে অনুষ্ঠান দেখার অভিজ্ঞতা পার্থের ছিল না; যাত্রীদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি ছিল মহিলা। পার্থ দেখল,বছর বাইশের  এক তরুণী বেশ দক্ষতার সাথে সব মেয়েগুলোকে সামলে নিল, পার্থ তাকে চেনে না, তবে তার ম্যানেজ করার ক্ষমতা তাকে মুগ্ধ করল ।

                     সবাইয়ের ভোজন পর্ব মিটে গেলে বর পক্ষের যাত্রীরা লঞ্চে ফিরে গেল ।বরের সঙ্গে থাকল  বিশ্বর দুই জামাইবাবু ,পার্থ আর অর্ক ।বিয়ে পর্ব মিটতে অনেক রাত হলো।
নতুন জায়গায় রাতে ভালো ঘুম হয়নি পার্থদের ।দুপুরে বর-কনেকে নিয়ে বাড়ি ফিরে  চান-খাওয়া করে পার্থ আর অর্ক গেল পাশের বাড়িতে একটু নিরিবিলি ঘুমুতে ।
রাত পোহালেই বৌভাত ।কর্ম কর্তারা সবাই মহা ব্যস্ত । এক ফাঁকে পার্থ অর্ককে সঙ্গে নিয়ে গেল বিশ্বর নতুন বৌয়ের সাথে আলাপ  করতে । তনুজা অর্থাৎ. বিশ্বরূপের  স্ত্রী সুন্দরবন কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিল ।তিন ভাইয়ের এক বোন, মুমূর্ষু ঠাকুর মায়ের নাতজামাই দেখার শেষ ইচ্ছাকে মান্যতা দিতে তনুজা শেষ পর্যন্ত বিয়েতে সম্মতি দেয় । উজ্জ্বল শ্যামবর্ণা মেয়েটির কথা বার্তায় এবং মিষ্ট ব্যবহারে দুই বন্ধু বেশ  প্রীত হলো ।

বৌভাতের দিন কনেপক্ষ থেকে প্রায় শ'খানেক যাত্রী হলো ।বেশির ভাগ মহিলা ।পৌঁছাতে সন্ধ্যা উত্তীর্ণ হয়ে গেল । বিশ্বদের আত্মীয় স্বজন,পাড়া প্রতিবেশী ও নিমন্ত্রিত অতিথি সব মিলে প্রায় তিনশ' লোকের আয়োজন ।কনে পক্ষকে আপ্যায়নের দায়িত্ব পার্থদের ‌উপর থাকলেও পার্থ দেখল, বিয়ের রাতের সেই অপরিচিত তরুণীটিই প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বেশ চমৎকারভাবে সমাধা করল।একটা ব্যাপার পার্থ ও অর্ককে বেশ অবাক করল দেখে যে, মেয়েটি একেবারে সাধারণ সাজসজ্জায় অথচ বেশ পরিপাটি আদব কায়দায়, স্বচ্ছন্দ চলনে-বলনে,দ্বিধাহীন অনায়াস ভঙ্গিতে আর সবার থেকে স্বতন্ত্র একটা বৈশিষ্টে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে ।

           পরের দিন প্রথম সকালেই  অর্ক বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ল ।পার্থ ও বিশ্বরূপের ছোট ভাই অরূপ লঞ্চঘাট পর্যন্ত সঙ্গে গেল ।


বন্ধুর বিয়েতে গিয়ে | বন্ধুর বিয়েতে মজার উপহার | বিয়ের গল্প | উৎসবের গল্প | বিবাহ বার্ষিকী | বিবাহ জীবন | বিয়ের গল্প | বন্ধুর গল্প | প্রেমের গল্প | বাংলা গল্প | সেরা গল্প ২০২২ | গল্পকার | সাহিত্যিক | Bengali Story | Bangla Galpo | Galpokar | Best Story 2022


প্রবোধ কুমার মৃধা Probodh Kumar Mridha








No comments:

Post a Comment