Thursday, January 20, 2022

আমার আকাঙ্ক্ষা - রূপশঙ্কর আচার্য্য [নিবন্ধ] [সেরা বাংলা প্রবন্ধ ২০২২]

Top Article 2022

[প্রবন্ধে সেরা]

[জানুয়ারি ২য় সংখ্যা] [পঠন / দর্শন সংখ্যার ভিত্তিতে বিচার]


আমার আকাঙ্ক্ষা

- রূপশঙ্কর আচার্য্য


এই সমাজে বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন বিষয়ে আকাঙ্ক্ষিত হয়ে থাকেন। একজন মানুষের হৃদয়ে বিভিন্ন ধরনের কামনা-বাসনা, স্বপ্ন আকাঙ্ক্ষা প্রতিবিম্বিত হয়। আমি যেহেতু এই মনুষ্য শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত দৈহিক গঠনে দেখতে সামান্য দোষে- গুণে ভরা মানুষ সেহেতু আমার হৃদয়েও বিভিন্ন আকাঙ্ক্ষা আছে। এই আকাঙ্ক্ষার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা হল যখন আমি এই সুন্দর ভুবনকে  পরিত্যাগ করব প্রকৃতির নিয়ম অনুসারে, প্রকৃতির যেমন নিয়ম অনুসারে কোন কিছুর সৃষ্টি করলে তা ধ্বংস করে, কোন কিছুর উত্থান হলে তার পতন হয় তেমনই কোনো জীব জন্মালে তার মৃত্যু নিশ্চিত।

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভাষায় বলা যায়, "জগতের সবকিছুই অনিশ্চিত কিন্তু মৃত্যু নিশ্চিত।" এই মৃত্যু নামক বিষয়টির বাইরে আমরা কেউ থাকতে পারবো না। যেহেতু জন্মগ্রহণ করেছি আমাদের মৃত্যু নিশ্চিত। সুতরাং আমি মৃত্যুকালীন অবস্থায় আমার নিজস্ব আকাঙ্ক্ষা যেটা তা হলো আমার হৃদয়ে যাদের জন্য এত স্নেহ, এত ভালবাসা, যাদের এত শ্রদ্ধা আমি পেয়েছি, যাদের এত স্নেহ -ভালোবাসা পেয়েছি যাদের আশীর্বাদ পেয়েছি, যাদের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক আছে আবার হৃদয়ের সম্পর্কও আছে ,মনের সম্পর্কও আছে, সেই সমস্ত মানুষজন যারা আমার শুভাকাঙ্ক্ষী ,যারা এখনো নিজের হৃদয়ে আমাকে রেখেছে,যারা এখনো পর্যন্ত আমার অস্তিত্বকে রক্ষা করার জন্য আশীর্বাদ করে গেছেন ....

যে সমস্ত ছোট ছোট পুত্র-কন্যা  আমার সন্তানতুল্য পুত্র-কন্যা আমাকে সুস্থ থাকার জন্য ভালো থাকার জন্য তাদের নিজ নিজ ধর্মনৈতিক কৌশলে মানসিক ভাবনার ভিত্তিতে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছে সেই সমস্ত সন্তানদের এবং আমার প্রত্যেকটা আত্মীয়-স্বজনকে যাদের আমি জানি আবার যাদের কে আমি জানিনা অথচ তারা নিজেদেরকে অন্তরালে রেখে আমার কল্যানের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছেন, সেই সমস্ত গুরুজনদের সকলকে যখন ওই শমন আমায় ধর্মরাজের কাছে অর্থাৎ যমরাজের কাছে নিয়ে যাবে তখন আমি আমার বাসনা, আমার কামনা এবং আকাঙ্ক্ষা যমদূত -এর কাছে অর্থাৎ শমনের কাছে তুলে ধরতে চাই।

আমি বলতে চাই হে শমন মৃত্যু কালীন অবস্থায় যখন আমার শরীর থেকে প্রাণ বেরিয়ে যাবে তার পূর্বক্ষণে আমাকে এই শক্তি দাও আমি যেন আমার সেই সমস্ত শুভাকাঙ্ক্ষীদের যারা এখনো আমাকে নিজের ভেবেছে রক্তের সম্পর্ক থাকলেও নিজের ভেবেছে ,রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও নিজের ভেবেছে।সেই সমস্ত মানুষজনকে যেন আমি এক পলকের জন্য দেখতে পাই। তারপরে শ্রীকৃষ্ণের বাণী রূপে সবকিছুই অনিশ্চিত কেবলমাত্র মৃত্যুই নিশ্চিত --এই বিবৃতি টাকে মৃত্যুবরণ করে সত্যরূপে নিজেকে  ঈশ্বরের কাছে আমি সঁপে দিতে চাই।

আমি জানিনা আমি মানুষরূপে ভাল না মন্দ। কারণ, মানুষ অপূর্ণ সত্ত্বা। মানুষের মধ্যে প্রতি মুহূর্তে কিছু চাওয়া পাওয়া থাকে। মানুষ জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে বহু ভুল করে থাকে। যেহেতু আমি মানুষ ,আমিও বহু ভুল করেছি। আমার যেমন ভালো গুণ রয়েছে তেমন মন্দ গুণও রয়েছে ।
এটা কখনো হতে পারে না যে আমার ভালো গুণ রয়েছে মন্দ গুণ নেই। আমার মধ্যেও জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে বহু ভুল হয়েছে,আমার দ্বারা মন্দকর্ম হয়েছে আবার ভাল কর্মও হয়েছে। তাই আমি নিজেকে কখনো ভালো না মন্দ সেই হিসেবে মূল্যায়ন করতে পারব না।

জন্মগ্রহণ করার মুহূর্ত থেকে মৃত্যুর আগের মুহূর্ত পর্যন্ত মানুষ যে কর্ম করে মানুষকে সেই কর্মের ফল ভোগ করতে হয়। প্রকৃতি বা স্রষ্টা বা ঈশ্বর আমার এই কর্মের মূল্যায়ন করে আমাকে তার ফল ভোগ করাবে। আমি ঈশ্বরের দ্বারা আমার কর্মের মূল্যায়ন স্বরূপ ফল ভোগ করবই।
 তাই কর্মফল ভোগের পর আমি যখন এই পৃথিবী ত্যাগ করবো তখন আমি ঈশ্বরলোকে যাব অর্থাৎ স্বর্গে যাব? না নরকে যাবো অর্থাৎ পাতাললোকে যাব?- আমি নিজেও জানিনা ।

যেখানেই স্থান হোক না কেন আমার চরম আকাঙ্ক্ষা মৃত্যুর পূর্বক্ষণে যেন আমি আমার সেই শুভাকাঙ্ক্ষীদের মুখমণ্ডল খানি দেখে দীর্ঘশ্বাস নিয়ে  আমার জীবনকে "সৃষ্টি থাকলে ধ্বংস হবে, উত্থান থাকলে পতন হবে , জন্ম থাকলে মৃত্যু হবে"--সেই নিয়ম অনুসরণে বিলীন করে দিতে চাই। আমার শরীর থেকে ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ, আকাশ পঞ্চভূত পৃথক পৃথক হয়ে যখন বিলীন হয়ে যাবে তখনই আমি মুক্তি পাব।

যদি মুক্তিও না পাই আমার চিরকালীন আকাঙ্ক্ষা এটাই থাকবে মৃত্যু কালীন অবস্থায় আমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের যেন এক মুহূর্তের জন্য আমি দেখতে পাই তাদের দেখেই যেন মৃত্যুবরণ করি।


শব্দদ্বীপ | আমার আকাঙ্ক্ষা | আকাঙ্ক্ষা কাকে বলে | ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীবনী | ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাণী | আমি ঈশ্বরের প্রতিনিধি | বাংলা নিবন্ধ | নিবন্ধ লেখার নিয়ম | article | bangla prabandha | bengali article | definite article | writer | poet | story | Shabdodweep


রূপশঙ্কর আচার্য্য Rupsankar Acharya







1 comment: