Thursday, December 23, 2021

একটি আন্তর্জাতিক পরিণয় - কুহেলী দাশগুপ্ত [ছবি দেখে লেখা - পর্ব ১৩]

একটি আন্তর্জাতিক পরিণয়

- কুহেলী দাশগুপ্ত


গুহ বাড়িতে রমরমিয়ে বিয়ের বাজার চলছে। সুকন্ঠী কোকিলা কন্যা নীপার শুভ পরিণয় সংঘটিত হতে চলেছে। ইমপোর্টেড জজ পাত্র।তায় আবার জজিয়তী পরীক্ষায় প্রথম স্থানাধিকারী। বংশানুক্রমে পরিবারটি আইন ব্যবসার সাথে যুক্ত। পাত্তর নিলাদ্রী ঘোষ সুদর্শন, বহু ভাষায় পারদর্শী। ফটোগ্রাফিতে জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত। সুকন্ঠী কন্যাটি ও কম যায় না। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর স্বীকৃতি পুরস্কার প্রাপ্ত জেলার  সেরা শিল্পী সম্মানে ভূষিতা। দোঁহের দেখা হোল মুখ  পুস্তিকার দেয়াল  পরিক্রমণকালে। সঙ্গীতানুরাগী নিলাদ্রী নীপার হৃদয় জুড়ে মনের খাতা খুলে দিলেন। অতএব, শুভস্য শীঘ্রম। ভারত বাংলাদেশ  যৌথ প্রযোজনায় একটি আন্তর্জাতিক  বিবাহ পরিণতির রূপ পেতে চলল। 

   যথাসময়ে বর বাবাজী বিমানে চড়ে ব্যাটেলিয়ান নিয়ে  পৌঁছে গেলেন ওপার বাংলায়। সাথে পরিবার পরিজন, সাহেব মেম স্প্যানিশ বন্ধু প্রবর আর কিছু কলকাত্তাইয়া বন্ধু। ধূতি পাঞ্জাবী আর শাড়ি পরিহিত সাহেব মেমদের দেখে তাক লেগে গেল কনে মহলে। 
 বিয়ের আসরে বর বাবাজী বেঁকে বসলেন। উনি টোপর নামক শিরোস্ত্রাণ পড়ে যুদ্ধ করতে অরাজি। পুরোহিত মশাই  অগত্যা বিধান দিলেন-"Every thing is fair in love and war". বিনা টোপরে শ্রীমান পৃথ্বীরাজ চৌহান সংযুক্তা উদ্ধারে নেমে পড়লেন। যথাসময়ে যুদ্ধ থুড়ি বিবাহ  সুসম্পন্ন হইলো। পুস্পমাল্য, চন্দনে শোভিত বর বধূ বন্ধু পরিজনের  সমাবেশ ও ঘেরাটোপের মাঝে অভিষিক্ত হোল। কনের পিতা প্রিয়তোষ বাবু বরপক্ষ ও আমন্ত্রিত অভ্যাগতদের আপ্যায়নে স্বাদু সেরা ইলিশ হতে শুরু করে রেয়াজী খাসি, ডেজার্টে রকমারি ফল-কিছুই বাদ রাখেন নি।

     আহার পর্ব সমাধা হলে পরে বন্ধুবর্গের অনুরোধের আসরে নীপার সুলোলিত কন্ঠে গান পরিবেশিত হয়। একের পর এক গান গেয়ে সুর ও স্বরের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখে নব্য পরিণীতা বধূমাতাটি। এর পরের অধ্যায়ে বর  কনের ডুয়েট পরিবেশন সকলের আবেদনে সাড়া দিয়ে। আইনজ্ঞ জজ সাহেব কোর্টে সওয়াল করতে করতে বধূর গানের সাথে সুরের  দামামা বাজিয়ে ফেলেছেন। 
"তুমসে মিলকে, অ্যায়সা লাগা"-গাইতে গিয়ে দুজনে দুটি ভিন্ন  স্কেলে গান  ধরেছেন। বন্ধুদের মজার হুজুগে মেতে আবার  ঝিঙ্ চাক নেত্য পরিবেশনে মেতেছে সকলে। সারাটি রাত  বিবাহ বাসর হুল্লোরে মেতে থাকে।  ভোর সকালে কনে বিদায়ের সাক্ষ্মী হয়ে থাকে উদীয়মান রবি। বিমান রথে মা দুগ্গা কৈলাসে থুড়ি পতি গৃহে যাত্রা করেন। অশ্রুসজল পিতা মাতা পরিজনের আলিঙ্গন ছেড়ে সিক্ত নয়নে পতির অনুগামী নবোঢ়া পত্নীর স্বপ্নের উড়ান  মাতৃভূমির সীমানা ছাড়িয়ে ভিন দেশের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছে।বিবাহোত্তর বউভাত অনুষ্ঠানে সকলের আমন্ত্রণ রইলো।

No comments:

Post a Comment