Saturday, December 18, 2021

শেরউড ক্যাসল - কুহেলী দাশগুপ্ত [ছবি দেখে লেখা - পর্ব ৮]

শেরউড ক্যাসল

- কুহেলী দাশগুপ্ত


 বাচ্চাগুলোকে ধমকে শার্লিন কাঠের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে যায়। সত্তরের কাছাকাছি বয়স তার। এখন আর বাচ্চাদের প্যানর প্যানর তার ভাল্লাগেনা। নিজের ঘরে ঢুকে আরাম কেদারায় গা এলিয়ে দেয়। তার পোষা কালো হুলোটা পায়ের কাছে কুণ্ডলী পাকিয়ে এসে বসেছে। "ম্যাঁয়াউ "-ডাক শুনে শার্লিন হুলোটাকে কোলে নিয়ে গায়ে হাত বুলিয়ে দিতে থাকে। দরজার কাছে ডিকিকে দেখতে পেয়ে, কারণ জানতে চায় বৃদ্ধা। "ম্যাম, গতকাল ধরে আনা বাচ্চাটা কিছুই খাচ্ছে না। শুধুই কেঁদে যাচ্ছে"। "পরে দেখছি"-বলে, হাতের ইশারায় ডিকিকে চলে যেতে বলে শার্লিন। 

    কিছুদিন ধরেই ওয়াটার লু স্ট্রিটের আশেপাশের অঞ্চলে বাচ্চা হারানোর খবর পাওয়া যাচ্ছিল। কখনো পার্ক থেকে, কখনো আবার স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাচ্চা গুলো হারিয়েছে। পুলিশের কাছে এমনই খবর ছিল। এখানকার বাড়িগুলি ততটা কাছাকাছি নয়। চারদিকে সবুজ বনানীর মাঝে এক একটা খামার বাড়ি। একটু দূরে পাইন গাছের সারির ফাঁক দিয়ে শেরউড ক্যাসল দেখা যায়। ওখানটা বড় নির্জন। কেউ খুব একটা যায় না। ঘুম পালানো দুষ্টু বাচ্চাদের মায়েরা ভয় দেখিয়ে ঘুম পাড়াতো এই বলে, এক ডাইনি বুড়ি মন্ত্রপূত ঝাঁটায় চড়ে তার পোষ্য কালো বেড়াল কে নিয়ে পাইন গাছের ফাঁক দিয়ে সারারাত ঘুরে বেড়ায়। বাচ্চারা না ঘুমোলে ,ভুলিয়ে তাদের নিয়ে শেরউড ক্যাসল এ বন্দি করে রাখে। শিশুরা ভয়ে ঘুমিয়ে পড়ত।

  শার্লিন এখনও সেদিনকার কথা ভুলতে পারেনা। তার একমাত্র  নাতনী মিসেলকে ডিকি অচৈতন্য ও রক্তাক্ত  অবস্থায় দেখতে পায় পাইন জঙ্গলের পাশে। ডিকি শেরউড এর পুরনো চাকর। শেরউড ক্যাসল অনেককাল আগে অত্যাচারী কাউন্ট রজারের প্রাসাদ। শার্লিনের গ্র্যান্ড পা এর বাবা। সে সব পুরনো গল্প। শার্লিনের নাতনী মিসেল অপরিণত, বোধহীন ছিল। তার হাত পায়ের আঙুলের বিকৃতির কারণে সে স্বাভাবিক ভাবে হাঁটা চলা করতে পারতো না। ছেলে, বৌমা এক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর  থেকে  মিসেলকে গ্র্যানি শার্লিন বেশি করে আগলে রাখতো। তবে লোকজন এই পরিবারকে এড়িয়ে চলত। পূর্বপুরুষের অর্জিত অর্থ সম্বলে তাদের জীবনযাপনের কোন ঘাটতি ছিলনা। দরজা খোলা পেলে মিসেল বেড়িয়ে পড়ত।  বাচ্চাদের খেলতে দেখলে তাদের সাথে খেলতে চাইতো। অন্য বাচ্চারা তার শারিরীক বিকৃতির কারণে তাকে ক্ষ্যাপাত, তার সাথে খেলতে চাইতো না, কখনো ঢিল ছুঁড়তো। অনেক বার ডিকি ওকে খুঁজে এনেছে। আঘাত পেয়ে অসহায় মেয়েটা অদ্ভুত রকম আওয়াজ করে চেঁচিয়ে কাঁদত। ডিকি বাচ্চাদের বকাঝকা করলে ও কোন ফল হয়নি।

        সেদিনকার ঘটনা কেউ সঠিক জানতে পারেনি। তবে অচৈতন্য মিসেলের রাতে ধুম জ্বর এলো। ডঃ ফ্রেডরিক যখন এলেন, তখন মিসেল অন্য জগতের পথে পাড়ি দিয়েছে। শার্লিনের মনে প্রতিহিংসা জেগে উঠেছিল। বাচ্চাদের চুরি করে আনতো ডিকি। মনিবের অনেকদিনের বিশ্বস্ত সে।
   পুলিশ শেরউড ক্যাসলের চারপাশ ঘিরে ফেলেছে। দরজা ভেঙ্গে ঢুকে তারা বাচ্চাদের হাত, মুখ ,পা বাঁধা অবস্থায় পেয়েছিল। ডিকি পেছনের দরজা দিয়ে চেষ্টা করে ও পালাতে পারেনি। দোতলায় বৃদ্ধা শার্লিনকে বিছানায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় পাওয়া গেল।অনেক গুলো ঘুমের ওষুধ খেয়েছিল সে। কালো বেড়ালটা পায়ের কাছে ম্যাঁয়াউ, ম্যাঁয়াউ করছিল।

No comments:

Post a Comment