Monday, December 27, 2021

ছুঁয়ে যাই বার বার - কুহেলী দাশগুপ্ত

ছুঁয়ে যাই বার বার

- কুহেলী দাশগুপ্ত


  অনেক বছর পেরিয়ে গেল মানুষটাকে  ছাড়া। থাকাকালীন  সময়ে এতটুকু সমস্যা কাউকে বুঝতে হয়নি। প্রতি ক্ষণে মহামায়া দেবীর মনে হয়, এই তো সেদিন। স্নেহাশীষ চৌধুরী স্বর্গত হওয়ার পর  থেকে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বড় জটিল মনে হয় মহামায়া দেবীর কাছে। চিরকাল বলেছেন উনি, সমস্যা থেকে পালিয়ে বাঁচা নয়, সমস্যার মুখোমুখি হওয়া প্রয়োজন।  এতসব জটিল কথা ভাবতে বা বুঝতে চাইতেন না মহামায়া।চিরকাল  উনি ছাতা হয়ে সবটুকু আগলেছেন।ঘরকন্নার বাইরে জগতের খবর শুধু টিভি, খবরের কাগজ আর ম্যাগাজিনের পাতায়। স্নেহাশীষ  বাবু মেয়েকে পাত্রস্থ করেছেন। পুত্রবধূ অন্তরা বড্ড  উদাসীন।মহামায়ার অভিযোগ উনি আমল না দিয়ে বলতেন , সময় দাও, সব আপনিই সামলে নেবে।বই পাগল অন্তরাকে শ্বশুরমশাই খুব স্নেহ করতেন। স্নেহাশীষ  বাবুর সংরক্ষণে ভালো ভালো বই আছে।এক সময় সরকারি  কূপন সংগ্রহ  করে উনি রবীন্দ্র, শরৎ, বঙ্কিম রচনাবলী স্বল্প মূল্যে কিনেছেন। বিভিন্ন ধরনের এনসাইক্লোপিডিয়া ওনার  সংগ্রহে। সংসারের কাজ কোনভাবে সেরে অন্তরা বইয়ে ডুবে থাকতো।মাঝে মাঝেই শ্বশুরমশাই, বউমা গভীর আলোচনায় সময় পার করে দিত।কবি কালিদাস হতে শুরু করে শেলী বায়রন, শেক্সপীয়ার কিছুই বাদ যেত না। মহামায়ার  বিরক্তি লাগত। চা জুড়িয়ে ঠান্ডা হয়। ঘরের কাজ এলোমেলো। সেসব কাল পেরিয়েছে কবে!উনি নেই। অন্তরা অনেক  পরিণত। সংসারে সে আজ সর্বময় কর্ত্রী। মহামায়ার অসহায় বোধ করেন। বই পাগল অন্তরা এখন আর বইয়ের তাকে হাত দেয় না।ছেলে স্বামী নিয়ে সে বড়ই ব্যস্ত। ধুলো পড়া বইয়ের তাক ঝাড়তে থাকেন মহামায়া। বইগুলি কত্তার বড় প্রিয় ছিল। স্মৃতিজুড়ে থাকে পুরনো দিন গুলি। কত অভিমান  জমে ছিল! মহামায়া পুরনো বইয়ের পাতায় পাতায় স্বামীর আন্তরিক ভালোবাসাকে ছুঁয়ে দেখতে চান। কখনো ও কি তিনি বইগুলির এতো যত্ন করেছেন? বরং বই পাগল মানুষটাকে ভুল বুঝেছেন। ধূলো ঝাড়তে বসে এক বুক হতাশা ঘিরে ধরে তাকে।

No comments:

Post a Comment