Sunday, December 26, 2021

তিস্তা তোমায় - কুহেলী দাশগুপ্ত [ছবি দেখে লেখা - পর্ব ১৬]

তিস্তা তোমায়

- কুহেলী দাশগুপ্ত


  পাহাড়ের  কোল ঘেঁষে এগিয়ে চলা নদী তিস্তা। কাছাকাছি গ্রাম জনপদ গুলি সকাল,  বিকেল তার  চলার  ছন্দ  বুকে নিয়ে এগিয়ে পড়ে ।কোথাও সে গভীর, অতল।বাহ্য রূপে মোহিত  হয়ে তার  হৃদয়ের  তল পাওয়া কঠিন। কোথাও  চপলা কিশোরীর মতো অস্থির। সেথায় তার গভীর  গর্জন যেন মেঘ ভাঙা বৃষ্টি মতো কড়কড়ে। পাহাড় বেষ্টনী করে চলতে চলতে কখনও সে শ্লথ গতিতে এগিয়েছে।কোথাও পাহাড়ি ঝর্ণা আছড়ে পড়ে তাকে আলিঙ্গন করে। এগিয়ে চলতে চলতে স্রোতস্বিনী তিস্তা উপনদী রঙ্গিতের  প্রেমে আবিষ্ট হয়।হদয়ে বয়ে চলা ফেনিল শুভ্র স্রোত কোথাও গাঢ় সবুজ  রঙের জলের গভীরতা নিয়ে গম্ভীর প্রকৃতি ধারণ  করেছে। পাহাড়ের গাম্ভীর্যকে উপেক্ষা করে নিজের ছন্দে অবিরাম বয়ে চলে সে।
     
      পাহাড়ি জনপদ মানখেমে বেড়ে ওঠে বায়জু তামাং।স্নো ভিউ হোমস্টে তে দেখাশোনার কাজ করে সে। সিজন চলাকালীন তার দম ফেলার ফুরসত হয়না। ট্যুরিস্ট দের একেক রকম ফরমায়েশ। যতটা পারে হাসি মুখে আপ্যায়ন করে। কাজের অবসরে ঢালু পথ বেয়ে কখনো বায়জু তিস্তার পাড়ে গিয়ে বসে। এখানে নদী শ্লথ গতিতে চলে। মৃদুমন্দ ঢেউ এসে নুড়ি পাথরের গায়ে ধাক্কা দেয়। পেলব জল ধারায় পা ভিজিয়ে আমোদিত হয় সে। মনে মনে গহন গোপন কথা জানায় নদীর কাছে। কত ট্যুরিস্ট আসে যায়, গত বার ঘুরতে আসা মেয়েটি, কি যেন নাম! ও হ্যাঁ সিন্থিয়া। গভীর কালো দুটি চোখ। নদীর গভীরতা তার দৃষ্টিতে।কাজের ফাঁকে চোখ চলে যেত। ভালো লাগা চোখ দুটি তাকে উদাস করে দিত। বায়জু তার সীমা জানে। পরিসেবা দেয়ার বেশি কিছু ভাবা তার অন্যায়। মায়াবী চোখ নেশা ধরিয়ে পাড়ি দেয় অন্য গন্তব্যে।
       
       তিস্তা পাড়ে  সন্ধ্যে নামে। বায়জুর ফিরে যাওয়ার  তাড়া থাকে। ফেরার আগে বলে মনে মনে, কত ঢেউ আসে ,যায়। তোমার স্রোতের সাথে আমার  মনে ঝড় তোলা ,ভালো লাগার স্মৃতি ও ভাসিয়ে দিতে চাই। এমনি করেই তোমার কাছে বসে শান্ত হব বার বার।

No comments:

Post a Comment