Friday, December 24, 2021

প্রতীক্ষার প্রহর - কুহেলী দাশগুপ্ত [ছবি দেখে লেখা - পর্ব ১৪]

প্রতীক্ষার প্রহর

- কুহেলী দাশগুপ্ত


    অরুণাচলের পাহাড়ি এলাকা তাওয়াং। ভারত সরকারের  আধাসামরিক  বাহিনীর কাজে বহাল হয়ে ইয়াসি চডাক এখানে অবস্থান করছে। পাহাড়ি এলাকার রাস্তা সারাইয়ের কাজ নিয়ে তাদের  ব্যস্ততার  শেষ নেই। শীতের মরসুমে অরুণাচলের তাওয়াং এর শেষ  প্রান্ত বরফে ঢাকা পড়ে যায়। কুয়াশা ঢাকা পথে বরফের  আস্তরণ সরিয়ে রাস্তা সাফাই করে ইয়াসি ও অন্যান্য সহকর্মীরা। কাছাকাছি একটি গুম্ফা রয়েছে। কাজের  মাঝে ফুরসত পেলে ইয়াসি গুম্ফায় যায়। বৌদ্ধ  মনাস্ট্রির শান্ত পরিবেশে তার  মন ভালো হয়ে যায়। ইয়াংগামের কথা খুব মনে পড়ে। ইয়াংগাম কোয়ু চডাক তার নব পরিণীতা বধূ। ইয়াসির পুরো পরিবার  দাপুরুচু তে রয়েছে। বিয়ের পর বেশিদিন সাথে  থাকা হয়নি তাদের। ছেলেবেলা থেকে চেনাজানা ছিল তাদের।  স্কুলে পড়ার সময় থেকে গালে গোলাপী আভা ছড়িয়ে লজ্জা পাওয়া মেয়েটিকে তার খুব ভালো লাগতো।  ভালো লাগা মনের খাঁচায় বন্দি থেকে হৃদয়ে ভালোবাসার রঙ ছড়িয়ে দিয়েছিল। বলার সুযোগ পায়নি ইয়াসি। কাজের তাগিদে বেড়িয়ে পড়তে হয়েছিল।

        তাওয়াং ভ্যালি সীমান্তবর্তী এলাকায়। ওধারে চীনের  বর্ডার। ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সবসময় সচেতন থাকতে হয়। মিলিটারির গাড়ি যাতায়াতের সুবিধার্থে ইয়াসি ও দলের অন্যান্য  সদস্যেরা বরফের চাঁই সরিয়ে রাস্তা পরিচ্ছন্ন করে রাখে। দেশের রক্ষাকারীদের দেখে তার খুব গর্ব হয়। রাতে তাবুতে শুয়ে গাছের পাতায় বরফ পড়ার শব্দ শোনে সে।  কোন রাতে দু'চোখের পাতা এক হয়না তার। এইভাবেই  কি জীবন কেটে যাবে ?প্রেমাস্পদকে জীবন সাথী রূপে বাহুডোরে পেয়ে ও দূরে থাকতে হচ্ছে। অভাবের  সংসারে একমাত্র উপার্জনশীল কে এমন ত্যাগ  স্বীকার করতেই হয়। 
            
         ডিসেম্বর মাসে সন্ধ্যে নামার  আগের এক বিকেল, কাজ শেষে ফেরার  পথে নৈসর্গিক দৃশ্য  দেখে আনমনা হয় ইয়াসি। পথের দুধারে বরফে ঢাকা। পাম গাছের পাতার গায়ে বরফের চাদর জড়ানো। রাস্তা সোজা এগিয়ে চলে গেছে দৃষ্টিসীমার বাইরে। এই দৃশ্য যদি ইয়াংগামকে দেখানো যেতো! মাঝে মাঝে কথা হয় ফোনে। লাজুক মেয়েটা মন খুলে কথা বলে না। "এমন পরিবেশে কাছে টেনে উষ্ণতায় ভরিয়ে দিতাম ওকে। লজ্জা রাঙা মুখে অধর শিহরিত  হয়ে কম্পিত হোত তপ্ত ওষ্ঠ স্পর্শ পেয়ে"। রোমাঞ্চিত হয় মন। এই সময়টা কাজের  চাপ  বেশি। হিমশীতল বরফের কাঁপুনিতে উষ্ণতার স্পর্শ পেতে মন চাইলেও এখনো দু'মাস অপেক্ষার পর ছুটির আবেদন করা যাবে।

No comments:

Post a Comment