Tuesday, December 21, 2021

এইটুকু চাওয়া - কুহেলী দাশগুপ্ত

এইটুকু চাওয়া

- কুহেলী দাশগুপ্ত


‐‐"আমি ম'লে তুই কান্দিবি তো?
-"ক্যানে? একথা জিগাও ক্যানে?
‐-না,কই,তুই না কান্দিলে আমি স্বগ্গে যামু ক্যামনে?
-ক্যাডা কইছে? আমি মানি না। তুমি মরার কথা কবা না।ক্যান গো ?বাবারে মনত পড়েনা। হেই ছোডকালে মরছে। অহন তুমিও যাতি চাও ক্যান?
---"মা রেএএ হগ্গলরে যাতি হয়। মাইয়া না কান্দিলে বাপ মা স্বগ্গি যায় না। ব্যাবাকে কয়"। 
-ব্যাবাকে যা খুশি কউক,তুমি কবা না। এই কথা গুলান ঠিক না। মা গো,তোমরা বড় পিছাইয়া আছ। তুমি জান বাবায় অখন কনে আছে?আমি ছোড আছিলাম, কিছু বুঝি নাই, কান্দিও নাই।  তয় কি বাবা স্বগ্গ যায় নাই?তোমরা কিচ্ছু জান না মা,কেউ কুনোখানে যায় না। শরীল নষ্ট হয়,পরাণের বাতাস উড়ি যায়। অন্য খানে উড়ি যায়,নতুন শরীল পায়। ইস্কুলে পড়ছিলাম।পরাণ হইলো শক্তি। শক্তি নষ্ট হয় না। ভেন্ন রূপ পায়"।
---"কতডি জানছস মা! আমি তো ইস্কুল যাই নাই, পড়তি ও পারিনা।ঠাওর তরে আরো বুদ্ধি দিক"।

মালতি পাশ ফিরে জড়িয়ে ধরে মেয়েকে। বছর তেরোর বিন্দিয়ার চোখের নোনা জল গড়িয়ে বালিশ ভিজছে। সে যে জেনে গেছে মা আর বেশিদিন নেই। নেলীর মা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাজ করে। সে ডাক্তার দিদিরে বলতি শুনেছে,মালতির কিডনি খারাপ হইছে। শহর গেলি পরে চিকিচ্ছে হবে। বিন্দিয়া জানে, তাগো ট্যাঁকা নাই। মায়ের  ও বেশিদিন আর নাই। মনে মনে শরণ করে ঈশ্বরকে-ঠাওর,মায়েরে অখনই নিওনা।আমি পাশ দিয়া  বড় খানে কাজ পেলি,মায় য্যান দেখি যাতি পারে। রাতের আঁধারে মালতি জানতে পারেনা,ওপাশে ফিরে থাকা বিন্দিয়ার নিদ্রাহীন চোখে জলের ধারা বইছে।

No comments:

Post a Comment