Sunday, October 24, 2021

মুখাগ্নি (১ম পর্ব) - ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী

মুখাগ্নি (১ম পর্ব)

- ত্রিভুবন জিৎ মুখার্জী


এ.সি.পি. চক্রবর্তী তাঁর পাঁচ জনের টিমকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন চার জন শার্প সুটার খলিল, আসলাম, রোহিত ও জনকে ধরতে । খবর একদম পাকা ওরা সমাজ সেবক রহমন চাচা কে হত্যা করে গা ঢাকা দিয়েছে বনগাঁ র আসে পাশে কোন গ্রামে । পুলিশ তাদের খুঁজবে জানে তাই সঙ্গে অটোমেটিক ডিট্যাচেবেল ম্যাগাজিন যাতে 13 রাউন্ড গুলি থাকে । আত্মরক্ষার জন্য যথেষ্ট । দরকার হলে পুলিশ কে গুলি করতেও ছাড়বেনা এরা । বেগতিক দেখলে বাংলাদেশ এ বর্ডার পেরিয়ে ঢুকে পড়বে । সেইরকম ই নির্দেশ আসলামের চাচার । আসলাম ওদের দল পরিচালনার ভার নিয়েছে ।
এই দলে রোহিতের মতন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া ছেলে কি করে ঢুকল?
রোহিতের ব্যাপারে বলা প্রয়োজন । রোহিতের বাবা রঞ্জিত ব্যানার্জী এক নামি কোম্পানির জেনেরাল ম্যানেজার, মা সুনয়না ব্যানার্জী এক ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের প্রিন্সিপাল । ওনাদের মেয়ে রিঙ্কি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ।
ব্যাপারটা এই রকম রোহিত এক প্রাইভেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে কম্পিউটার সাইন্স নিয়ে বি টেক পড়ছিল । ছেলেটা মার আদুরে ছেলে । সেটাই ওর মাথা খায় । কম বয়েসে সেকেন্ড ইয়ারে পড়া এক সহপাঠিনীর প্রেমে পড়ে । মেয়েটি মুসলিম নাম তসলিমা বানু । দেখতে খুব সুন্দর মানে তাক লাগানোর মতন চেহারা । কিন্তু ও রোহিতকে পাত্তা দেয়না । রোহিত ও ছাড়ার পাত্র নয় । ও তসলিমার চার্চেরা ভাই আসলামের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে । আসলাম খিদিরপুরে এক জেরক্সের দোকান চালাত । নামেই জেরক্সের দোকান আসলে ড্রাগ, ব্রাউন সুগার, আফিম,গাঁজা এই সব চোরা কারবারের সঙ্গে জড়িত । চাচা স্মাগলিং করতেন কখনো সোনা তো কখনো হীরে, মারণাস্ত্র যেমন রিভলভার, কার্তুজ, হাওলার কারবার, বিদেশী টাকা যেমন $,€র কারবার । খুব কম দিনে চাচা বিরাট সম্পত্তির মালিক হয়ে জান । আসলামের কাছে যাওয়া আসা করতে করতে তসলিমার সঙ্গে কখনো কখনো দেখা সাক্ষাৎ হোতো । তসলিমা মেয়েটা কিন্তু সাচ্চা ছিল ও রোহিতকে পাত্তা না দিলেও ওর খারাপ চাইতো না । রোহিতকে বারে বারে বলতো ওর ভাইয়ের সঙ্গে যেন না মেশে । কারণ গোপন রাখতো কিন্তু মনে প্রাণে চাইতোনা রোহিত ঐ ফাঁদে পা দিক ।
একদিন কলেজে রোহিতকে ডেকে বলে তুমি আসলামের সঙ্গে মিশবেনা আমাকে কথা দাও ।
রোহিত সর্ত রাখে, তাহলে তুমি আমার বান্ধবী হবে কথা দাও । আমি আর ওর সঙ্গে মিশবোনা তাহলে । 
- ঠিক আছে
রোহিত যেন হাতে স্বর্গ পায় । কিন্তু ততদিনে ও ড্রাগের নেশা শুরু করে দিয়েছে । আসলামের কাছে তার হাতে খড়ি হয় । মায়ের কাছ থেকে কলেজের নানা বাহানা করে যে টাকা আনে সেই টাকায় ড্রাগ নেয় ।
এই কথা মা বাবা কেউ জানতেন না । একদিন ওর বোন রিঙ্কি ওকে ওর রুমে ড্রাগ নিতে দেখে । তখন রিঙ্কি সি.বি.এস.সি পরীক্ষা দেবে । রিঙ্কি মাকে ঐ কথাটি বলে দেয় । রোহিতের মা রোহিতকে ড্রাগ নিতে দেখে রাগ সামলাতে পারেন না । তিনি রেগে মাথা ঠিক রাখতে না পেরে ছেলেকে ঘর থেকে বার করে দেন ।
রোহিত অত্যন্ত জেদি ছেলে ছিল সে সেই যে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল আর ফেরেনি বাড়ি ।
রোহিত সোজা আসলামের কাছে গেল । আসলাম ওকে ওদের ডেরায় যেখানে রিভলভার চালানো সেখান হয় সেই নিরিবিলি জায়গায় নিয়ে যায় । রোহিত এমন ই নেশাসক্ত ছিল যে ড্রাগের জন্য পাগল হয়ে যেত । এই সুযোগটাই আসলাম নেয় ।

2 comments:

  1. দারুন লিখেছেন। অসাধরণ রচনা । খু্ব ভাল লাগল।

    ReplyDelete
  2. অনেক ধন্যবাদ l আমি ঋদ্ধ হলাম আপনার প্রতিক্রিয়া পড়ে l

    ReplyDelete