Thursday, October 21, 2021

শকুনেরা - আভা সরকার মন্ডল

শকুনেরা
- আভা সরকার মন্ডল

যন্ত্রণায় গাছটির শেকড় কুঁকড়ে ওঠে মুহুর্মুহু
কবেই তো হৃদপিণ্ড চিরে দু'ফাঁক হয়েছিল তার ।
অনবরত ক্ষরিত রক্ত মুছতে মুছতে ক্লান্ত আজ--
ডালপালা, কান্ড, এবং  পুষ্প-পল্লবও।

গাছটি হলেন স্বয়ং ঈশ্বর--
তাঁর একেকটি ডাল হল, একেকটি ধর্ম ।
ধর্মের কারবারিরা যে ডালেই আঘাত করুক
ক্ষতরূপে তা নেমে আসে ঈশ্বরের বুকে ।

মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলা মানুষ আজ, হয়েছে হিংস্র পশু
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে মানুষ তৈরি ক'রে
ঈশ্বরও যেন খানিকটা অনুতপ্ত আজ !
ধর্মের আগে যদি‌ মানবতা জেগে না ওঠে
বিলুপ্ত হবে তাঁর সৃষ্টি।

তাঁর-ই অপার মহিমায় মাটি নিঃশেষে শেকড়কে দেয়
বেঁচে থাকার যাবতীয় রসদ,
তাঁর-ই ইচ্ছেয় আলোর ভান্ডারে
আজন্ম সমান অধিকারের নিশ্চয়তা বিলিয়ে
একটিই সূর্য উঠে -- পূর্ব ও পশ্চিমে 
উত্তর ও দক্ষিনে ।

তবু, ধর্মহীন ধর্মের কারবারিরা শকুন পোষে, 
শকুন খ্যালায় ---
শকুন ওড়ায়---।
শকুনেরা নির্বংশ হয় না কখনও 
বরং মেঘমুক্ত আকাশকে তারা সর্বদা করে কলুষিত!

প্রশয় পাওয়া সেই শকুনদের ঘৃণ্য লোলুপ ঠোঁট 
ছিঁড়ে ফেলে অসহায়ের অনাঘ্রাতা যোনি
হাজার কুঁড়ি শুকিয়ে যায়, হাজার ফুল পড়ে ঝরে !
একঘরে হয়ে থাকে ক্ষতবিক্ষত শুভবুদ্ধি
---দুঃসহ যন্ত্রণায় 
জল শুকিয়ে, চোখ থেকে  রক্ত ঝরে  মায়ের ।

প্রশয় দাতা শকুন 
এবং পোষ্য শকুনদের কোন ধর্ম নেই 
এরা না হিন্দু, না মুসলমান !
গীতা,বাইবেল ,কোরআন, ত্রিপিটক
রক্তে ভিজে যায় প্রতিনিয়ত
এদের বর্বরতা সয়ে ।
ধর্মগ্রন্থের পাতায় আঁকা প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ
বেদনায় চিৎকার করে ওঠে----
তারা খুঁজতে থাকে-- কোথায় দেয়া আছে
বিধর্মীদের উপর অত্যাচারের নির্দেশ---
কোথায় লেখা আছে
ধর্মের নামে ধর্ষণের আদেশ --
জন্মভূমিকে ভালোবাসার অধিকার কেড়ে নিয়ে
দেশছাড়া করার নির্মম উপদেশ ?

একই নদীর, গঙ্গা, পদ্মা নাম--
একই মানুষ --- 
হিন্দু হয়ে পান করে সেই নদীর জল
মুসলিম হয়ে পান করে পানি ----
সৃষ্টিকর্তা করেননি বিভেদ---
শকুনেরা করেছে বিভাজন,
ধর্মের নামে শকুনেরাই করে নিত্য হানাহানি ।

No comments:

Post a Comment