Wednesday, October 20, 2021

বেকারত্বের আর্তনাদ - বাহাউদ্দিন সেখ

বেকারত্বের আর্তনাদ
- বাহাউদ্দিন সেখ

   ছোট থেকেই বাবার মুখে শুনে এসেছি জীবনে নাকি উন্নতি করতে হবে। আর উন্নতি করার জন্য নাকি অসীম পড়াশোনা করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে এই বাস্তব জীবনের ঘটে যাওয়া বেশ কিছু বিষয়ে আর জীবনের উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে ইচ্ছা বা কোন অঙ্গীকার নেই।

ঠিক এমনই আমার নজরে পড়া আমাদের চট্টগ্রামের উজ্জল কুমার মজুমদার এক রবীন্দ্র পাঠ ভবনের প্রাইভেট টিচার । তিনি সেই রবীন্দ্র পাঠ ভবন পাঠশালা থেকে আর্থিক আয় করেন প্রতি মাসে মাত্র ৩০০০ টাকা। সে ছোট থেকেই মেধাবী ছাত্র ও পড়াশোনায় ভালো ছিল। সে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলায় অনার্স কোর্স করে আজ ঘরের পর্দায়। এখন বর্তমানে অনার্স কোর্স ও পড়াশোনা করে সে বেকারত্বের জীবন কাটাচ্ছে আর বেশকিছু ছাত্র-ছাত্রী পড়ায় ও প্রাইভেট টিচার হিসাবে নিযুক্ত। তিনি ভেবেছিলেন বাংলায় অনার্স কোর্স করে মাস্টারি চাকরির পরীক্ষার ইন্টারভিউ দেবে।কিন্তু বর্তমানে আজ যে এই পুরো দেশটি রাজনীতিতে ভক্ত হয়ে গেছে, চাকরি নিতে গেলে নাকি আট দশ লক্ষ টাকা দিতে হবে। কিন্তু উজ্জল কুমার মজুমদার নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান তার পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। তার পিতা ছিলেন অসীম কুমার মজুমদার এবং তিনি কাজ করতেন ছোটখাটো অট্টালিকা বাড়ির আর তার মধ্য দিয়ে উজ্জল কুমার মজুমদারের চাকরির জন্য এত লক্ষ টাকা তার পিতা দিতে পারবেন না। তার মনে একটাই প্রশ্ন উঠেছিল ছোট থেকে এত অসীম জ্ঞান নিয়ে জীবনে করেছি টা কি? যদি আমাকে চাকরি নিতে গেলে টাকায় দিতে হবে তবে আমার এত শিক্ষা এত ডিগ্রী পাশের মূল্যায়ন কোথায়,সে ভেবে নিল এ এক বর্গির দেশ। যেখানে বেকারত্ব ছেলের কোন চাকরির সুযোগ বা কোন সুবিধা নেই শুধু ঘুষ দিয়ে সুযোগ থাকে।

এখন দিন দিন উজ্জ্বল কুমার মজুমদারের পিতার বয়স বেড়েছে,বাড়ির সংসারের খরচ বেড়েছে কারণ তার পিতার প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা ওষুধ লাগে। এখন বেকারত্বের জীবনে শুধু তার মাথায় বড় বড় আর্তনাদ বিশৃঙ্খলা পাহাড়ের বোঝা নেমে পড়েছে। এখন শুধু সে অতীতের পড়াশোনার কথাগুলি ভাবতে থাকে, তার মনে মনে প্রশ্ন ওঠে বাবার ঘাম ঝরানো লক্ষ টাকা দিয়ে জীবনে কি না উন্নতিটা করেছি। সে ভাবতে থাকে দিন দিন বিয়ের বয়স প্রায় কাছে এসেছে। এতটা মাথায় চিন্তিত নিয়ে কোথায় যাবে কোথায় চাকরি খুঁজবে এসব ভেবে তার মাথার ওপর উন্মাদের বোঝা নেমে পড়েছে।

সে সময় তার মা কাছে এসে তাকে বলে..'"তোর একটা চাকরি হলে আমি চিন্তিত মুক্ত হতাম, তোর একটু সুখ খুজে দিতে পারলে একটু শান্তি বোধ করতাম হতাশ তোর জীবনে আর কি চাওয়া।"

ঘরের বাহিরে যাওয়ার পথে একজন হঠাৎ বলে উঠলেন... ওই দেখো ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রী পাস ছেলে ঘুরে বেড়ায় আর মা বাবার কাঁধে পড়ে রয়েছে একথা শুনে উজ্জ্বল কুমার মজুমদার কিছু বললেন না কারণ সে সময়ের কালচক্র পথে। বেকারত্ব জীবনে কতই না কিছু সইতে হয় সে সময়ের মধ্যে বুঝে নিয়েছে। বেকারত্বের জীবনে প্রিয় মানুষগুলো অন্যরকম হয়ে যায় বা বেকারত্বের কারণে বিসর্জন দিতে। সে এখন রবীন্দ্র ভবন পাঠশালার ছাত্র-ছাত্রী পড়াই ও নিজের সময়ের ফাঁকে চাকরির জন্য পড়াশোনা করতে থাকে।

সে মাস্টারি চাকরি পরীক্ষার কথা মাথা থেকে উঠিয়ে ফেলেছে,কারণ মাস্টারি চাকরি নিতে গেলে তাকে বিনিময় লক্ষ টাকা ও নেতা সভার পেছনে ছুট দিতে হবে। তাই এখন সে পুলিশের চাকরির জন্য এপ্লাই করে এবং ঠিক পাঁচ মাস পর পরীক্ষা দেবার সময় আসে ও পরীক্ষা দেয়। এবার রেজাল্ট আসিবার পালা। সে এখন রেজাল্টের দিনের প্রহর গুনছে ও পুলিশের জন্য দিনরাত সে পরিশ্রম করতে থাকে। তার মধ্যেই সাফল্যের দিক উত্থান খুঁজছে। এবং সে এপিজে আব্দুল কালামের শুধু একটি কথা মনে করেন - "স্বপ্ন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত তোমাকে স্বপ্ন দেখতে হবে। আর স্বপ্ন সেটা নয় যেটা তুমি ঘুমিয়ে দেখ, স্বপ্ন হলো সেটাই যেটা পূরণের প্রত্যাশা তোমাকে ঘুমাতে দেয় না।"
সুতরাং, আমাদের দিবা স্বপ্ন দেখতে হবে না, স্বপ্ন দেখার সাথে সাথে সেটা পূরণের জন্য নিজেকে সেই ভাবে প্রস্তুতও করতে হবে। তিনি আরো বলেছেন- 
End is not the end, in fact E.N.D. means "Effort Never Dish"

So give your Effort, fate will come to you. Never give up hope.

সে এই এপিজে আব্দুল কালাম এর কথাগুলি মনে করে সাফল্যের উত্থানে দিনরাত বিগত টান দিয়ে যায়, এবং বুকের মধ্যে চাকরির আশা বেঁধে রেখেছে।

এখন বর্তমানে এদেশেতে বেকারত্বের যেমন হার বেড়েছে ঠিক তেমনি চাকরিরও হার কমেছে। প্রতিটা বেকারত্বের জীবনের ঝরে যাওয়া পাতা গুলো শুকনো ও কাঠিন্য হয়ে পড়েছে। এখন শিক্ষিত ছেলের এখনো পর্যন্ত কোন চাকরি নেই, সমাজেও নাম নেই , সমাজে বর্তমানে তাদেরই নাম রয়েছে যারা অশান্তি দুর্ভিক্ষ প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছে ।

No comments:

Post a Comment