Tuesday, September 7, 2021

কবিতাগুচ্ছ - অলোক মিত্র

ইদানিং মেন্টালিটি, এক প্রকার পাবলিসিটি
- অলোক মিত্র

আমি আপনি সব্বাই সোস্যালওয়ার্কারদের 
কাজে বাহবা দেই। 
কিন্তু সেক্সওয়ার্কারদের কাজে বাহবা দেই না৷ 
বারবার বলি, প্রতিবাদ করি... 
পতিতালয় কিংবা এ ব্যবসা উঠিয়ে নেয়া হোক।
আমরা রক্ষিতাকে রক্ষিতা বলতে 
আদিকাল থেকে আজ পর্যন্ত অভ্যস্ত। 
অথচ, কে বা কারা হাজারো বোনের 
দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে রক্ষিতা বানালো 
তাকে আমরা রক্ষক কিংবা ভক্ষক বলি না।
এটা সম্পূর্ন আপনার আমার এ পুরুষতান্ত্রিক
সোস্যাইটির মেন্টালিটির ব্যাপার।
আবার কেউ বলবেন না,
এটা জীবনের কপি হয়ে গেল।
আমি আজ ভাবি, যে ব্যক্তি ভ্যান নিয়ে রাস্তায়
ভরপুরে দাঁড়িয়ে আছে, ভ্যাপসা গরমে
কখন ভাড়া জুটবে কপালে?
কিংবা যে দাদা চটপটি নয়তো ফুচকা
বানিয়ে আমাকে আপনাকে খাইয়ে
কিছু পয়সা কড়ির সাথে খুব ভালো হয়েছে, 
দাদা গো.. এ কথাটি শুনে তার বুক ভরে যায়, 
যার আত্মতৃপ্তিতে। 
আমরা কী এই প্যান্ডেমিক 
প্রিয়ডে তার ঘরের চুলো জ্বলে কি না
অন্ন ঘরে আছে কিনা খোঁজ নেব কেহ?
কিংবা তাকে একবারও বাহবা দিয়েছি,কখনো।
কিংবা সেই ভ্যান নিয়ে রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে
থাকা আমার বাবার বয়সী বৃদ্ধাকে
বলেছি, বাবাজি আজ থেকে
তোমাকে এ কাজ করতে হবে না।
আমি কিছু টাকা কড়ি দেই
একটা ছোট খাটো ব্যবসা করো।
কিংবা তাকে বাহবা দেই কিংবা শ্রেষ্ঠ ভ্যান চালক
সদালাপী প্রতিভার কোন মূল্যায়ন!
সব আপনার আমার এ সোস্যাইটির
এক প্রকার উঠ বস মেন্টালিটি।
আমরা কেউ কেউ ফেসবুকে গল্প লিখি
গল্পপাঠ করি, ফেসবুকে নিজে নিজে
রাজা রাণী হয়ে যাই, 
সেরা লেখক ভাবতে শুরু করি,
একটিবারও ঘুড়ে এসেছি বিশ্বসাহিত্যের দুয়ার।
সেখানে আমি আপনি কেহ রাজা রাণী নই
প্রচারবিমুখ দাঁড়িয়ে আছে এক জ্ঞানপীঠ।
আমরা আদি থেকে রবীন্দ্র নজরুল সুকান্তে
সীমাবদ্ধ তারা ছাড়া বিশ্বসাহিত্য পরিবারে
আর কেহ আছে ফেসবুক রাজা রাণীরা
হয়তো জানি না। নেই নি বিশ্বসাহিত্যের 
খোঁজ, সময় হয়নি। ফেসবুক এন্ড্রয়েড
সেট মেশিনখানা পায়ের নিচে নিয়ে
চালাতে চালাতে জীবনের করেছি
ক্ষয় কত? সবই বাহবার জন্য।
এটাও এক প্রকার বদ্ধ উন্মাদনার মেন্টালিটি
পাঠ অভ্যেস না গড়ে হতে পারি যদি
রবীন্দ্র নজরুল, ক্ষতি কী? 
একটু না হয় মদ ও মেদের ঘোরে থাকি।
সব মেন্টালিটি। আমি আপনি
আমরা সবাই ছুটে চলেছি
মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ লাইক
কপালে সেটে রাজা রাণী,
এটাও একপ্রকার বদ্ধ উন্মাদনা,
মদন দার বুড়ো বয়সের ভীমরতি
আনলিমিটেড মাস্তি খিস্তি।
সবই মেন্টালিটি, এক প্রকার পাবলিসিটি।


ঈশ্বর এসেছিল আমার শহরে
- অলোক মিত্র

ইদানিং স্বপ্নে দেখি ঈশ্বর এসেছে আমার শহরে
তাকে বলি প্রভু, এ শহরে রবীন্দ্রনাথ নেই
নেই জীবনানন্দ, সে রকম আপ্যায়নের নেই
আয়োজন শব্দের পরিযায়ী বাক্যে। 

দেখি, বিমর্ষতা নিয়ে বিমূর্ত দাঁড়িয়ে
একটা লম্বা হাত প্রশস্ত করে দিল শান্তির জল, 
নিসর্গ তখন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হা 
করে দেখছিল আমাদের। 

দেখি শান্তির জলে গড়িয়েছে
আমার অনুশোচনার তপ্ত অশ্রু।
আমি শেকড়ে শেকড়ে খুঁজি নিজেকে
মৃত্তিকার শরীর থেকে খুলে নেই,
দোআঁশের পাটপাট গন্ধ।

রূপশালি ধানের ক্ষেত জুড়ে ম্লান আমার হাসি
আমি জটাধারী এক বটবৃক্ষকে শুধাই, 
আমার শহরে ঈশ্বরের নেমে আসার নাটকীয় গল্প...
সে বলে, আমি নাকি বদ্ধ উন্মাদ।

আমার শহরে ঈশ্বর রেখেছে পা 
শূন্যতা ভেদ করে দেখি, 
শেকড়ে শেকড়ে মায়ায় জড়িয়ে আছে 
আমার প্রাণেরও পাড়ে এক ছটাক আঁশটে ঘ্রাণ।

No comments:

Post a Comment