Tuesday, September 7, 2021

ফিরবে,ফিরতেই হবে স্রোতে - প্রবীর কুমার চৌধুরী

ফিরবে,ফিরতেই হবে স্রোতে

- প্রবীর কুমার চৌধুরী


বরাবরই আমি আশাবাদী ,  চোখজোড়া স্বপ্নও  ভালোবাসি - সাথে তোমাদের।
রোগাতঙ্কে   তোমরা  কেউ ,কেউ নিজেদের দুমড়ে-মুচড়ে কুঁচকে  রাখো,দ্বীপের নিচের কালো ছায়া প্রতীয়মান  তোমাদের হরিণচোখের নিচে। প্রগলভ হাসি আর বাজেনা  ও  প্রিয়মুখে।

অহর্নিশি চোখের জল ভাসায় দেবমূর্তির চরণ - মুক্তির  কামনায়, কামনায়।এতো যে উদ্দ্যেগে আর হতাশার  কথা ভরছ মোবাইলে, ওর যে একটু  বিশ্রাম দরকার-তোমরা বিশ্বাস-ই করো না।
দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য আর তারস্বরের চিৎকার- চেঁচামেচিতে বিদীর্ণ হয় নীলাকাশ - এই কেমন আছিস, ওরা কেমন আছে ..উৎকণ্ঠায়র প্রশ্ন, উত্তর ,আর কৌতূহলে  পরিপূর্ণ অলস, অবহেলিত সময়।

দিন নেই-রাত নেই কেবলই শোকবার্তায় আলোড়ন উঠছে , কেউ  বলছে নাতো বয়স ছিল সত্তর, সাথে ছিল ব্রঙ্ক-নিমুনিয়া ,আরও ছিল প্রেসার, সুগার? বলছো নাতো কেমো চলছিল, বাড়ির লোক ঠিকমতো নিয়ম মানেনি তাতেই হয়েছিল সংক্রমিত ! বেপরোয়া,উদাসীন,নির্লিপ্ত  - কেন  মুখোশ আঁটছে না কিংবা রাখছে নাকের ও মুখের নীচে।
দেখতে হবে তো কে এখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে খৈনি ডোলছে দূষিত  হাতে,কিংবা লোভের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে পথের ধুলো মাখিয়ে খাচ্ছে মুখরোচক কুখাদ্য।

কেবলি উনি আর নেই, আর কখনো আসবেন না, ইস কি ভালোবাসতেন আমায়..........বেকার চোখের জলে, নাকের জলে ভাসতে ভাসতে জড়ানো কথার প্রলাপ বকাটা  নিষ্ফল অরণ্যে রোদন মাত্র। এখুনি ,এই মুহূর্তে কঠোর নিয়মে সংযত থাকতেই হবে। ছুটতে হবে রক্ষণাত্বক, যাতে কেউ না পড়ে আতান্ত্বরে।আর না পড়ে মুখে মাছি,অটুট থাকে  হাসি।

এইখানেই তোমাদের সাথে আমার দ্বন্দ্ব ,মতবিরোধ।
তোমরা হতাশায় নিমগ্ন আর সরল বিশ্বাস গুলো ধুকে,ধুকে মরছে।
 অনেক বিধ্বস্ত ,পঙ্গু বিশ্বাস  এখনও আমার বুক জুড়ে খেলা করে ।তারাই আমায় সান্ত্বনা দেয়,মনোবল বাড়ায়। নিশীথের একাকীত্বের অবসরে জোনাকির আলোয়পথ করে  তারা একে,একে প্রতীয়মান পৌঢ়ত্বের এ চোখে, গভীর সোহাগে গলা জড়িয়ে বলে - তুমি কি ভাবছো, প্রত্যয় রাখো খুব শীঘ্রই  এ বিপর্যয় কেটে উঠবে পৃথিবী। আমি,তুমি আমরা সকলেই আবার হাসবো আগের মতোই। 

রোজ ভোরবেলার স্নিগ্ধ,শীতল ,নির্মল হওয়া দৌড়াতে দৌড়াতে আমার দক্ষিণ জানালা দিয়ে ঢুকে আমার গায়ের চাদর টেনে নিয়ে  ঘুম ভাঙায় আর উচ্ছলতায় বলে - ওঠো ,চোখ মেলো, দেখো পূবের আকাশ কেমন লালিমায় আরক্ত। মুক্ত বিহঙ্গ ডানা মেলে উড়ছে নীল গগনে, আনন্দে উদ্ভাসিত সবুজ প্রকৃতি। এখনও সিন্দুরহীন সিঁথি ভরায় লাল নিশানে । ক্রমেই পথে পথে
প্রাণ সঞ্চার হচ্ছে,ফুটছে কথাকলি। দোকান খুলছে,
কাগজের হকার ছুটছে সাইকেলে সংবাদের বোঝা বয়ে।
প্রতিটি বেলায় ফেরিওলা ছুটছে আপন কাজে ,বলছে - এখনো প্রাণ আছে তাই এখনও  আশা আছে ।চোখ ভরা স্বপ্ন আছে  এখনও ।

সময়ের কাঁটায়, কাঁটায় ভোরের রবি  সমগ্র পৃথিবী কোলে নিয়ে তার কিরণ চুম্বনে উদীপ্ত করবে মানুষকে - আমরা ছুটবো  জীবন সংগ্রামে।
কেউ থেমে থাকবে না।থেমে তো থাকা যায়না।শুধু 
নিয়ম কে আঁকড়ে ধরে চলতে হবে," জন্মিলে ,মরিতে হবে,অমর কে কোথা কবে "এটাই যে বিধির বিধান।
তাহলে মরার আগেই মরে থাকতে রাজি হবো কেন ?

আমি জানি প্রাণপ্রাচুর্যে মেতে উঠবে সবাই। স্রোতস্রিনি ফল্গু ধারার মতোই বয়ে চলবে জীবনধারার গতি। হৃদয়ের গহনে  থেমে থাকা  প্রেম জেগে উঠবে দুঃস্বপ্ন ভুলে।,চারিজোরা চোখ খুঁজতে খুঁজতে খুঁজে পাবে পরস্পরের প্রিয়জনকে । মহামিলনের  সানাই বাজবে প্রথম প্রহরে ,আনন্দে ভরে উঠবে নিথর,স্তব্ধ পৃথিবী। আবার কফিহাইসের সেই আড্ডাটা জমে উঠবে ,খোলা কলমের উর্গিরিত মুখের অক্ষরে,অক্ষরে। কাঁটাতারের বেড়া ডিঙিয়ে ছুটবো ওপারে প্রাণের বন্ধুর আহবানে। কলেজ স্ট্রিটের পথে পথে পুরানো বইয়ের দোকানে আবার  দুটি হাত সচল হয়ে খুঁজবে সুনীল গাঙ্গুলি,শক্তি চ্যাটার্জি,জয় গোস্বামী,সুবোধ সরকার, বিনয় মজুমদার আর জীবনানন্দ কে। আবার সবাই মিলিত হবো নন্দনে, চিৎকারে চিৎকারে চমকে দেবো- থমকে দাঁড়াবে পথ চলতি মানুষ ,কৌতূহলী দৃষ্টিতে খোঁচাবে প্রেমিকা-প্রেমিককে। মোড়ের মাথায় ফুচকার ঝুড়ির সামনে উপচে পরবে ফুচকা প্রেমিকার দল। সারাদিনের কর্মক্লান্ত মানুষ ফিরে আসবে হাসিমুখে তাঁর নিজস্ব নারীর কাছে।

আমরা চেনা ছন্দে,চেনা পথে হাঁটবো নতুন দিনের,নতুন পথের সন্ধানে।

" আকাশ ভরা সূর্য-তারা ,বিশ্ব ভরা প্রাণ " 
সবার মাঝে ভালোবাসার থাকুক আহ্বান।

No comments:

Post a Comment