Tuesday, September 7, 2021

মুখ দেখে - শ্যামা পদ প্রামাণিক

মুখ দেখে
- শ্যামা পদ প্রামাণিক

মুখের চিত্র নিয়ে অনেকে ছবি আঁকতে পারে 
কেউ আবার শব্দ অলংকারে  শব্দের ব্যঞ্জনায় নির্মাণ করতে পারে  আশ্চর্য কবিতা
মনের নদীতে বিপন্ন সময় থেমেছে
সময়গুলি নিয়ে ভাঙছি গড়ছি আর নদীর  অসংখ্য 
ঘূর্ণি স্রোতের সঙ্গে হলুদ ফ্যাকাশে গোলাপী জীবন মিল অমিলের  ধূসর সূত্র  খুঁজে চলেছি
একটু দূরে  পতিত জমিতে ভিন্ন ভিন্ন বৃক্ষের সারি দাঁড়িয়ে বাতাসে নৃত্যশিল্পীদের  মতো দুলছে
যেন কত্থক মনিপুরী, ব্রতচারী,ভারতনাট্যম, কথাকলি কত রকমের নৃত্যের চিত্র....
প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে  বৃক্ষগুলি ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে বৃক্ষের ওই  অনিন্দ্য শোভা রাতের আকাশে মিশে গিয়ে হাজার নক্ষত্র হয়ে যাচ্ছে.......
আমার মনের অলিন্দে ভিড় করা গোলাপি মন কে ভিক্ষাবৃত্তি মানুষের মতো ফিরিয়ে  দেব না

মনের নানা রংয়ের বিবর্তন আমাদের অজানা
রমনীর  মন ভাঙলে জোড়া লাগে না 
অথচ একজন মেয়ে পুরুষের কাছে তার মনের রং ঢেলে দেয় কিংবা বিলিয়ে দেয়
আমরা অথবা তরুণেরা একটি  মন পেতে চাতকের মতো অপেক্ষায় থাকি
তাই উদাসীন মনগুলি মনমিলনে মন নদীর ধারে ঘুরে ঘুরে অদৃশ্য মন  খুঁজে মনের নীল কথা
এইসব নিয়ে  অনুসন্ধানে  থেকে এই শব্দের কাছে পৌঁছে যাই
মুখ দেখে চেনা যায় মুখের ভূগোল
মন দরিয়ায় মন পাখিরা ডানা ঝাপটায়
বিপন্ন মনে জমে থাকা নদীর পলি মাটির মতো 
কিছু সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম যন্ত্রণা দূর করার মত কোন সূত্র আছে কিনা
আমি সুখ পাখির নীড়ে গিয়ে আমার নিস্পাপ দু'চোখে দেখতে চাই
অলিন্দের ফাঁক দিয়ে ভেসে আসা ঠান্ডা বাতাস  আমাকে কি  দিতে পারে সাবলীল রেখার সবুজ  ঠিকানার ভূমি...
ও মন পাখিরে তুই কি আমার মনের আঙিনায় জমে থাকা  খড়কুটোগুলিকে  নিয়ে নতুন বাসা বেঁধে 
আমার মনের আবর্জনাগুলো কি শুদ্ধ করে দিবি ?বলনা মন পাখি ...বলনা মন পাখি .. এই বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যায়...

1 comment:

  1. শব্দদ্বীপ বলিষ্ঠ পত্রিকা। শ্যামা পদ প্রামাণিক।

    ReplyDelete