Tuesday, September 21, 2021

বন্দি বনি - সৌরভ কর্মকার

বন্দি বনি
- সৌরভ কর্মকার 

প্রথম সেদিনের তারিখ মনে নেই আর কিন্তু সেই চোখদুটির নড়নচড়ন আর মৃদু হাসিটা যেন কোনো এক অলৌকিক হাত আমার মনে সেলাই করে রেখেছে। চোখের পাতায়, মনের পর্দায় বারবার ভেসে ওঠে অনুমতি ছাড়াই। কিন্তু এটা আমাকে মানতেই হয় 
"সেই হাসি আর চক্ষু নড়নচড়ন হীরা মূল্যের চেয়েও দামী হয়ে উঠেছে"।
চোখের দরজায় তাকে পাওয়ার আগে আত্মশক্তি, আত্মবিশ্বাস, ভাগ্যচক্র প্রভৃতির খরা দেখা দিয়েছিলো জীবনে। মনটা একটা শুষ্ক মরুভূমির মতো পরিণত হয়েছিলো। সেই মরুভূমির উদ্ভিদগুলির প্রাণ পানিয় জলাশয়ের মতো জায়গা চায়। আমি তাকে আমার "মরুভূমির উদ্ভিদদেহের প্রাণ" ভাবি।
 গুপ্ত কষ্ট আর হতাশা এক নিমেষে শেষ হয়ে গেলো, কালী মায়ের অপরূপ কৃপা আমি মুখ ফুটে চাওয়ার আগেই লক্ষ্ণীর মতোন দর্শন দেখালো। 
তার পড়নে কালো আর প্লাজো প্যান্ট, তাকে কালো পোশাকে ভিষণ সুন্দর লাগছিলো। বাড়ির পৌঁছানোর পরে শুধু একটাই প্রশ্ন জাগছিলো তাকে আবার কবে দেখতে পাবো? এই আশায় আমি প্রায়শই যেতে লাগলাম সেখানে। অনেকদিন পর অপেক্ষা করার আমি তার দেখা পেলাম। মনে খুশির জোয়ার এলো কতোটা দীর্ঘ্য অপেক্ষা করার পর এই খুশি মন থেকে উথলে উঠছে। সচরাচর আমি মন্দিরেই বসে থাকি কিন্তু সেই একটু আগে বসেছিলো ; বাড়ি ফেরার পথে তাকে পেয়েছি। সে একা বসেছিলো, কল্পনায় মনে হলো সে প্রচুর আকাশপথ ভ্রমণের পর একটা পথহারা পরির মতো বসে রয়েছে। তার পাশদিয়ে যেতেই শেষ ঝলকে সেই হাসিটা দেখতে পেলাম আবার। গতবারের মতো বরংচ গতবারের চেয়েও বেশি খুশি হলাম। উথলে পড়ে যাওয়া ফুটন্ত দুধের মতো মুখ থেকে মৃদু হাসি বেড়িয়ে আসছিলো। 
শেষ দেখার কিছুদিন পরই তাকে ফেসবুকে পেলাম তার সাথে  কথা বলার সুযোগ এতো তাড়াতাড়ি পেয়ে যাবো আমি ভাবতে পারিনি। তার সাথে পরিচয় থেকে শুরু করে প্রতিটি কথা এমনভাবে বলার চেষ্টা করতে লাগলাম যাতে তাকে খুশি করতে পারি আর সে যেন আমার কথাতে হাসে। যখন সে খুশি হয় অথবা হাসি প্রকাশ করে ইমোজির মাধ্যমে তখন আমিও প্রচন্ড খুশি হই।

    আমি শুধু কল্পনায় ভাবি তার সেই হাসিটা যদি দেখার সুযোগ পেতাম কতোই না ভালো লাগতো কিন্তু সে হাসছে তাকে অপরূপ লাগছে আমি সরাসরি দেখতে পাচ্ছি না ঠিকই কিন্তু সে আমার দ্বারা খুশি হয়েছে এইটুকু যথেষ্ট।
    যদি তাকে লক্ষ্ণীর মতো সাজানো হয় আর তাকে গহনাগাঁটি পড়িয়ে দেওয়া হয় আর লাল লিপস্টিক ঠোঁটে এই হাসিটা দেখতে পাওয়া যায় তাহলে তাকে দেখা মাত্রই ছোটো স্বর্গভ্রমন করে ফেলতাম। এক কথায় তার হাসিতে "স্বর্গদ্বার" দেখতে পেতাম। আলতা পায়ে বিবাহিত বউ যখন গৃহপ্রবেশ করে তার পায়ে লক্ষ্ণীপদ ছাপের কোনো অমিল থাকবে না।
       যদি সে কোনো একদিন  বৃষ্টিভেজা বিকেলে     একসাথে একটি স্তম্ভের নীচে তাকে শুধু দীর্ঘক্ষণ দেখতে পেতাম একনজরে তাহলে আশেপাশে ভেসে গেলেও তার থেকে একটি মুহুর্তের জন্য চোক্ষু পথ সরবে না।
    যদি কখনও তাকে নিয়ে ঘুরতে যেতে পারি তাহলে তাকে আগলে রাখবো হাজার ভীড়ের মাঝেও যেমনটি একটি পুস্তকের পৃষ্ঠাগুলিকে কভার আগলে রাখে। 
   "যদি তার ভেজা চুলের স্পর্শ আমার মুখে লাগতো,
          যদি তার হাতের স্পর্শ কপালে পেতাম,
     যদি তার গলার আওয়াজ রাতে ঘুমানোর আগে      
               আর ঘুম থেকে ওঠার পর পেতাম,
     যদি কাছ থেকে নানানদিক হয়ে নানানরকমভাবে    
                 তাকে হাসতে দেখতে পেতাম,
      যদি কখনও তাকে নিজে হাতে বিরিয়ানি খাইয়ে দিতে পারতাম, নিজে রান্না করে খাওয়াতে পারতাম,
      যদি তাকে রঙ-বেরঙের ফুল দিয়ে সাজাতে পারতাম"।

        প্রভৃতি ভাবনায় তাকে বন্দি রেখেছি, প্রথম দেখা থেকে এখনও পর্যন্ত কিভাবে কতোটা সুন্দরভাবে দেখেছি, ভেবেছি তার কাছে বিষ্ময়কর ব্যাপার হবে এটা আমি সুনিশ্চিত। 
 তার থেকে এমন একটা আবদার পেয়েছি সেটি তাকে আমার কাছে আরও দামী করে দিয়েছে। তার আবদারটি ভারী মিষ্টি; আমি চেয়েছিলাম কেউ তো এমন চাই যে এরকম মিষ্টি মিষ্টি আবদার করবে। 
 যদি প্রকাশ কম করি কিন্তু সে খুব বিশেষ তাই যতোটা পারি প্রকাশ করি সে কতোটা বিশেষ। তার লেখা ম্যাসেজগুলি যখন পড়ি তখন মনে হয় তার গলার আওয়াজ চোখের মাধ্যমে মনে প্রবেশ করছে। 
        তাকে তো চোখে-মনে বন্দি করে রেখেছি, সে জানতেও পারছে না আমি কোন অনুভূতির শক্তি দিয়ে বন্দি করে রেখেছি আর আমিও জানতে চাই কোন শক্তি আছে তার ভিতরে? আমার চোখ-মন টেনে নিলো তার প্রতি।

No comments:

Post a Comment