Tuesday, September 21, 2021

আতঙ্কের চোরাবালিতে সমাজ - বারিদ বরন গুপ্ত

আতঙ্কের চোরাবালিতে সমাজ

- বারিদ বরন গুপ্ত


মনে হচ্ছে পৃথিবীর বৃত্তটা ছোট হয়ে আসছে, আর আমাদের জীবনটাও ছোট বৃত্তের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে, সেই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে যাবার কোন পথ দেখতে পাচ্ছি না। বর্তমানে গোটা পৃথিবীটা একটা গোলকধাঁধার মতো ছোট বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে, এই বৃত্তের মধ্যে জীবনের রূপ, রস, গন্ধ সব হারিয়ে যেতে বসেছে, মনে হচ্ছে আধমরা জীবন যেন নির্জীব বস্তুর মতো অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। সত্যিই কি তাই! আমরা দিনদিন আতঙ্কের চোরাবালির মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে যাচ্ছি? এ থেকে উদ্ধার পাওয়ার কি কোন উপায় আমাদের কাছে নেই?

             ‌ সবচেয়ে বড় কথা হল যেটা, বর্তমানে গোটা পৃথিবীটা একটা আতঙ্কে ভাসছে, মনে হচ্ছে যেন একটা অজানা জগত! আতঙ্ক যেন তাড়া করে বেড়াচ্ছে, আর সেই আতঙ্কে আমরা ভয়ে ছোট্ট বৃত্তের মধ্যে লুকিয়ে পড়ছি। মনোবিদদের মতে একবার  মানুষের মনে আতঙ্কের বাসা বাধলে, মানুষ তার থেকে নিস্তার পায়না, সব সময় আতঙ্ক যেন তাড়া করে, শুভবুদ্ধি হারিয়ে যায়, জীবন ছন্দহীন হয়ে পড়ে, ঠিক এমনটাই হয়েছে বর্তমানে কোভিড পরিস্থিতিতে।

              বর্তমানে মানুষের মন থেকে সব আনন্দ, অনুভূতি,উদ্দীপনা, সৃজনশীলতা, মোদ্দাকথা বাঁচার মতো বেঁচে থাকার ইচ্ছা টা যেন হারিয়ে যাচ্ছে। কি হয়! কি হয় ! এই আছি! এই নেই! এই আতঙ্ক যেন মানুষকে নিংড়ে নিংড়ে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে ভয়, উদ্বেগ, মানসিক চাপকে সামাল দিতে পারছে না, ফলে ক্রমশ মানসিক স্বাস্থ্য ভেঙ্গে যাচ্ছে , রোগ প্রতিরোধ করার সহজাত ক্ষমতাও হারিয়ে যাচ্ছে।

              এই মুহূর্তে দেশ-বিদেশের বুদ্ধিজীবি মহল কে যথেষ্ট হতাশ ও বিব্রত দেখাচ্ছে, অনেকটা আতঙ্কগ্রস্ত মনে হচ্ছে, অর হওয়ারই কথা, এই কোভিড পরিস্থিতিতে আমরা দেশ-বিদেশের বেশ কয়েক জন বুদ্ধিজীবীকে হারিয়ে ফেলেছি। কোভিড সংগ্রামে অনেক বড় বড় ডাক্তার নার্স বা চিকিৎসা কর্মীকেও আমরা হারিয়েছি, ফলে পৃথিবীব্যাপী একটা মানসিক চাপ বেড়েছে, সমাজের সর্বক্ষেত্রে এই চাপ প্রসারিত হচ্ছে, ফলে শুভবুদ্ধি ধ্বংস হতে বসেছে, বলতে গেলে পৃথিবীব্যাপী একটা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

              পৃথিবীব্যাপী প্রসারিত এই মহামারী জনিত আতঙ্ক থেকে বেরিয়ে আসতে আগে মানুষকে আতঙ্ক থেকে মুক্ত হতে হবে, সবচেয়ে আগে যেটা করনীয় সেটা হল, মানুষকে এই আতঙ্কজনিত পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বর্তমানে মহামারী জনিত পরিস্থিতিতে মানুষের মনে একটা ভয় আতঙ্ক বাসা বেঁধে আছে, সেই আতঙ্ক বা ভয় থেকে বেরিয়ে আসতে প্রথমেই আমাদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে, মানসিকভাবে নিজেদেরকে তৈরি করতে হবে, কারণ আমরা জানি আতঙ্ক মানসিক শক্তি কে শেষ করে দেয়, তাই এই ক্রমবর্দ্ধমান কঠিন পরিস্থিতিকে সামাল দেয়ার জন্য আমাদের মানসিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করা ছাড়া এই মুহূর্তে আর কোনো উপায় নেই।

              অবশ্যই আর একটা কথা আমাদের মনে রাখতে হবে যে, অযথা অযৌক্তিক ভয় আতঙ্ক নেতিবাচক অবস্থা তৈরি করে, ফলে শরীর এবং মন দুর্বল হয়ে পড়ে, তাই এই কঠিন পরিস্থিতিকে সামাল দেয়ার জন্য যৌতিক কাজের পরিধি বাড়াতে হবে, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রসার ঘটাতে হবে, ঠিক এই কারণেই হয়তো বিভিন্ন দেশ কোয়ারটাইন সেন্টারগুলোতে মনোবিদ রাখার ওপর জোর দিয়েছেন, যাতে কোনোভাবেই করনা আক্রান্ত রোগীর মনে আতঙ্ক বা  ভয় বাসা বাঁধতে না পারে। বর্তমানে আমাদের অযৌক্তিক ভয় বা আতঙ্ক থেকে সরে এসে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রসার ঘটিয়ে মনকে শক্তিশালী করে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হতে হবে।

              এহেন অবস্থায় কঠিন পরিস্থিতিতে আমাদের প্রথম কাজ হবে পৃথিবী জুড়ে যে আতঙ্কের ঝড় বইছে তাকে থামানো, মনে যে আতঙ্কের মেঘ জমেছে তাকে অবিলম্বে সড়িয়ে দেওয়া, মনে অযৌক্তিক আতঙ্ক আমাদের কুঁরে কুঁরে খাচ্ছে, একটা ছোট্ট বৃত্তের মধ্যে ঢুকিয়ে দিচ্ছে, তাই অযৌক্তিক চিন্তাধারার কে সরিয়ে শুভ চেতনার উদয় ঘটিয়ে, জীবন সংগ্রামে জয়ী হওয়ার মানসিকতা তৈরি করে, আতঙ্কের চোরাবালি থেকে সমাজকে উদ্ধার করতেই হবে।

No comments:

Post a Comment