19 types of Mashan Thakur | মাসান ঠাকুর | Ranabir Chanda

Sharing Is Caring:

মাসান ঠাকুর: উত্তরবাংলা, আসাম ও নেপালের এক অতিপরিচিত লৌকিক উপদেবতা – রণবীর চন্দ

লোকসংস্কৃতির অন্যতম প্রধান উৎস লৌকিক দেবতা। মানবসভতার ঊষালগ্ন থেকেই নানারকম বিশ্বাস ও সংস্কারের ফলে লৌকিক দেবতার উৎপত্তি হয়। বাংলা তথা ভারতবর্ষের প্রতিটি রাজ্যের প্রায় প্রতিটি গ্রামে এরকম একজন করে লৌকিক দেবতার অধিষ্টান হয়ে আছেন। বিশেষকরে বাংলার গ্রামে গ্রামে তো লৌকিক দেবতার ছড়াছড়ি। এ সমন্ধে লৌকিক সংস্কৃতির উৎস নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মন্তব্য প্রাণিধানযোগ্য। কবিগুরুর মতে, ” দেশের লোক সংস্কৃতির মধ্যেই অতীত যুগের সংস্কৃতির এমন বহু নিদর্শনাদি সংগুপ্ত আছে যে সেগুলি আমাদের জাতির পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনার মূল্যবান উপকরণ হতে পারে। ঐ নিদর্শনগুলি গ্রামে গ্রামে ঘুরে সংগ্রহ করে একান্ত প্রয়োজন।” উত্তরবাংলার মানুষদের কাছে জনপ্রিয় এক লৌকিক উপ বা অপদেবতা মাসান ঠাকুর। ইন্দোমঙ্গলয়েড জাতীর প্রায় সব গোষ্ঠীর লোকজনই মাসান ঠাকুরকে মানেন, তবে কুচবিহারের কোচরাজবংশী সমাজেই মাসান ঠাকুরের পূজার ব্যাপকতা দেখা যায়। কোচবিহারের আদি মুসলিম সম্প্রদায়, মানে নস্য মুসলিমরাও মাসান ঠাকুরে বিশ্বাসী। উত্তরবাংলার সবকটি জেলায়, নেপালের ঝাপামোরাং জেলা, আসামের ধুবড়ি, গোয়ালপাড়া, বঙ্গাইগাঁও, কোকরাঝাড় ও নলবাড়ি জেলায় মাসান ঠাকুরের পূজা ব্যাপকভাবে হয়ে থাকে।

বেশীরভাগ গবেষকদের মতে মাসান দেবতা উর্বরতার প্রতীক। মাসান দেবতার মন্ত্রতন্ত্রের মধ্যে কৃষিকার্য, শস্য উৎপাদন, বৃষ্টিপাত, ইত্যাদির প্রাধান্য দেখা যায়। কোনোরকম ধর্মীয় সংস্কার বা রীতিনীতির ঘেরাটোপে বন্দী না থাকার জন্য মাসান দেবতার গ্রহনযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। গোটা উত্তরবাংলা ও নিন্ম আসাম জুড়ে ছড়িয়ে আছে মাসান ঠাকুরকে ঘিরে নানা কিংবদন্তী। এইসব কিংবদন্তী মাসান ঠাকুরকে ঘিরে যেমন ভয়ের জন্ম দেয়, তেমনি ভালোবাসা ও সম্প্রীতিরও জন্ম দেয়। বিভিন্ন কিংবদন্তী ও লোকগাথা অনুসারে মাসান মা কালী ঠাকুরের সন্তান। শ্মশানে-মাসানে থাকেন বলে উনার নাম মাসান ঠাকুর। রাজবংশী সমাজে অনেকে বিশ্বাস করেন শ্মশানচারী শিবই মাসান ঠাকুরে পরিণত হয়েছেন। আগে মাসান ঠাকুরের পূজা শ্মশানে হতো। অর্থাৎ শ্মশানের দেবতাই পরবর্তীকালে মাসান হয়ে যান। মাসান ঠাকুর একধারে দেবতা ও উপদেবতা দুই। তবে মাসান ঠাকুরকে সাধারণত অপকারী উপদেবতা হিসাবেই পূজা করা হয়। মাসান ঠাকুর সন্তুষ্ট হয়ে যাতে কোনো ক্ষতি না করে সেই চেষ্টাই করা হয়।

আবার কোচবিহারের সিতাই অঞ্চলের লোকজনের বিশ্বাস মাসান বুড়ি মায়ের সন্তান। আবার অনেক অঞ্চলের লোকের বিশ্বাস মাসান ঠাকুর শিবেরই আরেক রূপ। ডঃ চারুচন্দ্র সান্যাল তাঁর Ranjbanshis of North Bengal গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন “Masan is said to be the offspring of the union of Kali (Mother) and Dharma (Father),” – মানে মাসান ঠাকুর মা কালী ও ধর্ম ঠাকুরের সন্তান। আবার কোচবিহার ও আসামের রাজবংশী সম্প্রদায়ের লোকজন বিশ্বাস করে যে মা কালীর ১৮ সন্তানের মধ্যে প্রথম সন্তান হলো মাসান ঠাকুর। ভাদ্র মাসের শনিবার মাসান ঠাকুরের জন্ম, আর জন্মের পরেই ধাইমা মাসানের নাড়ীকুণ্ডলী জলে ফেলে দেয়। আর থেকেই কলমী শাকের জন্ম হয়। এইজন্য রাজবংশীদের মধ্যে অনেকেই ভাদ্র মাসে কলমী শাক খান না। কোচবিহারে এই নিয়ে একটা ছড়া প্রচলিত আছে।

” ভাদর মাসে কলমুসকে যে বা জন খায়।
মাসানের নাড়ি সে অবশ্য চবায়।”

— ভাদ্র মাসে যে কলমি শাক খায়, মাসানের নাড়িও সে খায়।

ডঃ গিরিজা শঙ্কর রায়ের মতে মাসান ঠাকুর কুবেরেরই আরেক রূপ। দিনহাটার আলোকবাড়ি গ্রামে যে মাসান ঠাকুরের পূজা দেওয়া হয় সেখানে মাসান ঠাকুরকে কুবের বলেই পূজা করা হয়। আবার রাজবংশীদের মধ্যে অনেকে মনে করেন কুবেরের দ্বাররক্ষী যক্ষই মাসান ঠাকুরের আর এক রূপ। আবার অনেকে এও মনে করেন যে মাসান যক্ষ ও যক্ষীর ছেলে, সোনারায়ের বৈমাত্রেয় ভাই। দিলীপ কুমার দে কোচবিহারের লোকসংস্কৃতি নামে গবেষণাপত্রে মাসান ঠাকুর সম্পর্কে বলেছেন -” তুফানগঞ্জ মহকুমার নাটাবাড়ি ও কদমতলা অঞ্চলে মাসানের জন্ম সম্পর্কে লোক বিশ্বাস হলো – তেঘাটায় কালীর আনন্দে নৃত্যরত অবস্থায় প্রতি ঘর্ম বিন্দু থেকে সৃষ্টি হয় একেকটি মাসানের।

“নাচিতে নাচিতে কালী আইয়র
চুইয়া পড়ে ঘাম
তাতে সৃষ্টি হইল
এ জনা মাসান। “

—  কোন এক ভাদ্র মাসের শনিবার। মা কালী একবার আনন্দে নাচ করছিলেন। নাচতে নাচতে তাঁর শরীর ঘেমে উঠে, আর সেই ঘামের বিন্দুগুলি থেকে জন্ম নেয় একেকজন মাসান ঠাকুর – ড্যামশা মাসান, ছুচিয়া মাসান, বারিকা মাসান, কুহুনিয়া, কাল, পিছলা, শুখনা, ভুলা, বহিতা ইত্যাদি অসংখ্য মাসান ঠাকুর।

তবে জন্মকথা যাই হোক না কেন সকলে মাসান ঠাকুরকে এক শক্তিশালী লৌকিক দেবতা হিসাবে ভয়-ভক্তি করে। দই, কলা, চিড়া সহযোগে শনি ও মঙ্গলবার মাসান ঠাকুরের পূজা দেওয়া হয়। রোগব্যাধির থেকে মুক্তির জন্য ও নানাকারণে সবাই মাসান ঠাকুরের কাছে মানত করে থাকেন। ভাদ্রমাসের শনিবারে মাসান ঠাকুরের জন্ম বলে, অনেক জায়গাতেই ভাদ্রমাসেই মাসান ঠাকুরের বাৎসরিক পূজা করা হয়ে থাকে। চিঁড়ে, কাঁচা দুধের দই, আটিয়া বা বিচি কলা, আখের গুড় মাসান ঠাকুরকে নিবেদন করা হয়। পরে তা একসাথে মেখে প্রসাদ হিসাবে বিতরণ করা হয়। অনেক জায়গাতেই মাসানঠাকুরকে জোড়া হাঁসের ডিম্ দিয়ে পূজা করা হয়ে থাকে।

লৌকিক বিশ্বাস অনুসারে শিব গাঁজা ভাঙ খেয়ে শ্মশানে পরে থাকেন। শ্মশানের কোনো পুরানো বট গাছ তলায় শিবের আস্তানা। এই শিবই মাসান ঠাকুর। তবে মাসান ঠাকুরের থান সাধারণত দেখা যায় কোনো রাস্তার তেমাথায়, বাঁশ ঝাড়ের নিচে, পুরানো গাছের নিচে। মাসান ঠাকুরকে উপকারী ও অপকারী এই দুই হিসাবেই দেখা হয়। গ্রামীন মানুষের মধ্যে অনেকের বিশ্বাস আছে যে কোনো রুগী যদি অনেকদিন ধরে রোগে ভুগে থাকেন এবং ডাক্তার বদ্দিতে রোগ না সারে, তবে ধরে নেওয়া হয় যে রোগীর শরীরে মাসান ঠাকুর ভর করেছেন। রোগীর শরীর থেকে মাসান ঠাকুরকে দূর করার জন্য অনেক লৌকিক মন্ত্র পাঠ করা হয়।

“সুচ মুচ ছুচিয়া তিয়র জাতি
কুন্ঠে ছুচিয়া তোর উধোপতি
বাপ্ তোর ধরম, মা তোর কালী
তার গর্ভে হৈলেক মাসনা
শুন তোর জন্মের শিলুক
শুনেক কান পাতিয়া
ফ্যান্নার অষ্টাং দেহা ছারিয়া
যা তুই কৈলাস নাগিয়া। “

— এর মানে ওরে ধুর্ত মাসান, তুই একটা বেজন্মা, তুই কি জানিস কোথায় তোর জন্ম ? ধর্ম তোর বাবা আর কালী হলেন মা। এঁদো মাসানে তোর জন্ম। তুই কি তোর জন্ম কাহিনী শুনছিস ? মন দিয়ে শুনছিস ? রুগীর দেহ ছেড়ে চলে যা , চলে যা কৈলাসে, যেখানে তোর বাড়ি।

উত্তরবাংলা ও আসামের রাজবংশী সম্প্রদায়ের কাছে মাসান হচ্ছে এক ভয়ঙ্কর উপ বা অপদেবতা। এইসব অঞ্চলে দেউসি, ওঝা, ভৌরিয়া, কীর্তনীয়া ইত্যাদি পূজক সম্প্রদায় মাসান ঠাকুরের পূজা করে থাকেন। কাউকে মাসান ঠাকুরে ধরলে লোকজন ওঝা ইত্যাদি পূজক সম্প্রদায়ের কাছে যায়। কাউকে মাসান ঠাকুরে ধরলে বা কারুর শরীরে ভর করলে সে রান্না করা খাবার খেতে চায় না। উনুনের মাটি , কাঠকয়লা, ভাজা-পোড়া জিনিস খেতে ভালো বাসে। রোগী পেটের অসুখে ভোগে ও ক্রমশ রোগ হয়ে পরে। পাড়াগাঁয়ের লোকজনের বিশ্বাস সংক্রান্তির দিন, শনি বা মঙ্গলবার অথবা অমবস্যা দিন মাসান ঠাকুরের কোপ পরে। যার ঘাড়ে মাসান ঠাকুর ভর করেন, সেই আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে থাকে তুড়ি মারে, ঢিল ছোড়ে, হঠাৎ হঠাৎ আগুন জ্বালায়, মাঝরাতে মাছ ধরতে বেরিয়ে পরে, এমনকি পোড়ামাটি খেতে শুরু করে। সাথে সাথে সেই আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়া হয় মাসান ঠাকুরের থানে। থান বলতে টিনের চাল দেওয়া ঘর বা বট ও অন্যকোন বড় গাছের নিচে ফাঁকা জায়গা। সেখানেই মাসান ঠাকুর থাকেন। কোথাও মাসান ঠাকুরের মূর্তি কালচে বা নীল রঙের হয়। বেশির ভাগ জায়গাতেই দেখা যায় যে ঝাঁকড়া চুল, মাথায় ফেট্টি বাঁধা, বড়, মোটা গোঁফ, বড় বড় চোখ, মোটা শরীর , একহাতে গদা। বাহন কোথাও হাতি, কোথাও কচ্ছপ, কোথাও সিংহ। এমনকি উত্তরবাংলা ও আসামের রাজবংশী সম্প্রদায়ের কাছে মাসান হচ্ছে এক ভয়ঙ্কর উপ বা অপদেবতা। এইসব অঞ্চলে দেউসি, ওঝা, ভৌরিয়া, কীর্তনীয়া ইত্যাদি পূজক সম্প্রদায় মাসান ঠাকুরের পূজা করে থাকেন। কাউকে মাসান ঠাকুরে ধরলে লোকজন ওঝা ইত্যাদি পূজক সম্প্রদায়ের কাছে যায়। কাউকে মাসান ঠাকুরে ধরলে বা কারুর শরীরে ভর করলে সে রান্না করা খাবার খেতে চায় না। উনুনের মাটি , কাঠকয়লা, ভাজা-পোড়া জিনিস খেতে ভালো বাসে। রোগী পেটের অসুখে ভোগে ও ক্রমশ রোগ হয়ে পরে। পাড়াগাঁয়ের লোকজনের বিশ্বাস সংক্রান্তির দিন, শনি বা মঙ্গলবার অথবা অমবস্যা দিন মাসান ঠাকুরের কোপ পরে। যার ঘাড়ে মাসান ঠাকুর ভর করেন, সেই আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে থাকে তুড়ি মারে, ঢিল ছোড়ে, হঠাৎ হঠাৎ আগুন জ্বালায়, মাঝরাতে মাছ ধরতে বেরিয়ে পরে, এমনকি পোড়ামাটি খেতে শুরু করে। সাথে সাথে সেই আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিয়ে যাওয়া হয় মাসান ঠাকুরের থানে। থান বলতে টিনের চাল দেওয়া ঘর বা বট ও অন্যকোন বড় গাছের নিচে ফাঁকা জায়গা। সেখানেই মাসান ঠাকুর থাকেন। কোথাও মাসান ঠাকুরের মূর্তি কালচে বা নীল রঙের হয়। বেশির ভাগ জায়গাতেই দেখা যায় যে ঝাঁকড়া চুল, মাথায় ফেট্টি বাঁধা, বড়, মোটা গোঁফ, বড় বড় চোখ, মোটা শরীর , একহাতে গদা। বাহন কোথাও হাতি, কোথাও কচ্ছপ, কোথাও সিংহ। এমনকি শোলমাছ, ভেড়া এসবও মাসান ঠাকুরের বাহন হিসাবে দেখা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে মাসান ঠাকুর পদ্মাসনে বসে আছেন। অনেক মাসান ঠাকুরেরই মাথা থাকে না। বুকের মধ্যে বড় বড় একজোড়া চোখ আঁকা থাকে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে মাসান ঠাকুরের সামনে একটা কাঠের পিঁড়িতে মূর্তির বাঁদিকে বসানো হয়। মূর্তির সামনে লেপাপোছা করে দেওয়া হয় পাঁচটা সিঁদুরের ফোঁটা। সামনে পূজার উপকরণ হিসাবে কলাপাতার ওপর উনানের পোড়ামাটি, মাটির প্রদীপ, শোলমাছ, একজোড়া পায়রা, আটিয়া বা বিচি কলা, ঘটিতে পাতানো কাঁচা দই , পাঁচটা বা দশটা কলার খোলে নৈবেদ্য হিসাবে চিড়া, দুইটা লাল নিশান, আর চাল ভাজা। পূজা হয় ভর দুপুর বেলায় বা গভীর রাতে। ওঝা বা পুরোহিত লৌকিক মন্ত্র উচ্চারণ করে মাসান ঠাকুরের পূজা করে থাকেন – এস কালী, বস চালে, কথা কও কর্ণমূলে। কর্ণের কথা কর্ণে কও যত মিথা মনে খাবি। করম করম ধরম ধরম সাতালি পর্বত চালং। নরং লোকের নাক চালং, মরা বর্তা মাসান।

19 types of Mashan Thakur

এলাকাভেদে মাসানের মূর্তির ভিন্নতা দেখা যায়। উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে একটা মুখোশকে মাসান ঠাকুর হিসাবে পূজা করা হয়। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় মাসানের মূর্তি শোলা দিয়ে তৈরি হয়। কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলার এক অংশে মাটি দিয়ে মাসান ঠাকুরের মূর্তি তৈরী করা হয়। অনেক জায়গায় মাটির ঢিবি বা পাথরের খন্ডকে মাসান ঠাকুর হিসাবে পূজা করা হয়। নেপালে রাজবংশী ও ধামাল জনজাতির লোকজন পাথরকে মাসান ঠাকুর হিসাবে পূজা করে থাকেন। মাসান ঠাকুরের পূজায় কিছু মন্ত্র সুর করে গাওয়া হয়।

মাসান ঠাকুরের সংখ্যা নিয়েও মতভেদ আছে। তবে বেশিরভাগ গবেষকের মতে মাসান ১৯ রকমের। এই ১৯ রকমের মাসান হলো,

(১) বাড়িকা মাসান: এই মাসানের আবাস বাড়ির পাশের বাগান বা বাঁশঝাড়ে, কোনও দোষ পেলেই শরীরে ভর করে।

(২) পিচলা মাসান: এই মাসান জলে থাকে। দুপুরে বা সন্ধ্যায় কাউকে একা পেলে ভয় দেখায়। পিচলা মাসানকে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। যেমন তিসিলা মাসান, কুচিয়ামারী মাসান, চাপিলা মাসান, এবং গদাধর নদীর আশেপাশে গদাধর মাসান নামেও ডাকা হয়।

(৩) ঘটিয়া মাসান: এই মাসান নদী বা পুকুরের ঘাটে থাকে। পিচলা মাসানের মতো কাউকে একা পেলে ভয় দেখায়।

(৪) ছুঁচিয়া মাসান: এই মাসান মাঠে বাস করে। সন্ধ্যায়, গভীর রাতে কাউকে এক পেলে তার শরীরে ভর করে।

(৫) চালান মাসান: রাস্তার ধারে কোনো বড় গাছের উপরে চালান মাসান থাকে। এই মাসানকে আবার নানা জায়গায় নানা নাম ডাকা হয় , যেমন, গড়কাটা মাসান, ঘোড়া মাসান, ভ্যাড়া মাসান, সিংহ মাসান ইত্যাদি।

(৬) বহতা বা বহিতা মাসান: খাল, বিল, নদী বা পুকুরের পরিত্যক্ত ভেলায় বহতা বা বহিতা মাসান থাকে।

(৭) কালা বা কালী মাসান: কালা বা কালী মাসান শ্মশানে থাকে। সন্ধ্যায় বা রাতে একা পথচারীকে ধরে।

(৮) কুহুলিয়া মাসান: গাছে থাকে। কোকিলের সুরে ডেকে পথচারীকে বিপদে ফেলে।

(৯) নাঙ্গা মাসান: উলঙ্গ বা নাঙ্গা হয়ে এই মাসান ঘুরে বেড়ায়। এই মাসান কাউকে ধরলে তার অবধারিত মৃত্যু।

(১০) বিষুয়া মাসান: বিষুয়া মাসান সব জায়গায় ঘুরে বেড়ায়। এই মাসান ধরলে সারা শরীরে ব্যাথা হয়।

(১১) অবুয়া মাসান: এই মাসান পহড়ি মাসান, ওবুয়া মাসান, সুর মাসান, টসা মাসান ইত্যাদি নানা নাম পরিচিত। গর্ভবতী নারীকে এই মাসান বেশী ধরে। এই মাসান ধরলে সারা শরীরে ব্যাথা অনুভূত হয়।

(১২) জলুয়া মাসান: সিতাই-এর চামটা গ্রামে অশোকাষ্টমী স্নান উপলক্ষ্যে জলুয়া মাসানের পূজা ও মেলা বসে। জলুয়া মাসানের বাহন শোল মাছ। এই মাসান ভর করলে লোকে নিশিরডাকের মত মাছ ধরার সরঞ্জাম নিয়ে বেরিয়ে পরে।

(১৩) শুকনা মাসান: শুকনা মাসান হাওয়া মাসান নামেও পরিচিত। এই মাসান ধরলে পেটের অসুখ হয় ও শরীর শুখিয়ে যায়।

(১৪) ভুলা মাসান: সাধারণত ফাঁকা মাঠে ভুলা মাসান থাকে। এই মাসান একলা পথিককে পথ ভুলিয়ে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলে।

(১৫) ড্যামসা মাসান: ড্যামসা মাসান ভেজা ঝোপে থাকে। ড্যামসা মাসান টসা মাসান বা কালা মাসান নামেও পরিচিত। এই মাসান ধরলেই আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর হয় ও কানে কম শোনে।

(১৬) অঙ্গিয়া মাসান: অঙ্গিয়া মাসান বহুরুপী মাসান নামেও পরিচিত। এই মাসান ছলনা করে মানুষকে বিপদে ফেলে।

(১৭) এলিনা মাসান: এলিনা মাসান স্বপ্নে মানুষকে আক্রমণ করে।

(১৮) চান্দিয়া মাসান: চান্দিয়া মাসানকে নেড়া মুন্ডির মাসানও বলা হয়। কারুর শরীরে এই মাসান ভর করলে তার চুল উঠতে থাকে। এই মাসান দেখতে ভয়ঙ্কর। এই মাসানের মাথা নাই। বুকে চোখ। হাতে গদা ও মৃত শিশু। এই মাসানের গায়ের রং গাঢ় নীল।

(১৯) কলির মাসান: সবচেয়ে শক্তিশালী মাসান। এই মাসান ধরলে আর রক্ষে নেই।

কিছু মাসান ঠাকুর আবার খালি কোচবিহার জেলাতেই দেখতে পাওয়া যায়, যেমন,

(১) পোড়া মাসান: রাজবংশী ও রাভা জনজাতির লোকেরা তুফানগঞ্জে বাঁশরাজা নামে পোড়া মাসান ঠাকুরের পূজা করে থাকেন। চৈত্র মাসের অশোকাষ্টমীতে বাৎসরিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এই পূজার মূল নৈবেদ্য হলো, কাঁচা দুধের দই, চিঁড়ে, বিচি বা আড়িয়া কলা, পোড়া মাটি, মাছ। এছাড়াও পাঁঠা, পায়রা, মুরগীও নৈবেদ্য হিসাবে দেওয়া হয়ে থাকে।

(২) ভেড়া মাসান: দিনহাটা মহকুমার লরিচাপড়া গ্রামে ভ্যাংরা পুলের কাছে ভেড়া মাসান ঠাকুরের মন্দির। এই মাসান ঠাকুরের বাহন ভেড়া। এখানে মাঘ মাসে বাৎসরিক পূজা হয়ে থাকে।

(৩) টসা মাসান: মাথাভাঙ্গা মহকুমার ড্যাংকোবা গ্রামে টসা মাসানের মন্দির। টসা মাসানের বাহন শুকর ও শোল মাছ। রাসপূর্ণিমায় টসা মাসানের বাৎসরিক পূজা হয়ে থাকে।

(৪) ঘুনরা মাসান: তুফানগঞ্জের বারো কোদালী ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের দ্বীপরপার গ্রামে রায়ডাক নদীর পাশে এই মাসানের পূজা হয়ে থাকে। এই মাসান ঠাকুর ১২ হাত উঁচু হয়ে থাকে। স্থানীয় রাজবংশী, রাভা, পূর্ব পাকিস্তান বা বাংলাদেশ থেকে আগত নমঃশূদ্র , জেলে কৈবর্ত্য সম্প্রদায়ের লোকজন এই মাসান ঠাকুরের পূজা করে থাকেন। ঘুনরা মাসানকে ঘরুয়া মাসানও বলা হয়ে থাকে।

(৫) শূর মাসান: কোচবিহার থেকে নিউ-কোচবিহার যাবার পথে ডোমপাড়া পরে। এখানেই শূর মাসানের পূজা হয়। শূর মাসানের বাহন শূকর ।

(৬) গড়কাটা মাসান: দিনহাটা মহকুমার আলোঝাড়ি গ্রামে গড়কাটা মাসানের মন্দির বা থান। ১৫ই থেকে ৩১শে বৈশাখ বাৎসরিক পূজা উপলক্ষে এখানে ১৫ দিনের একটা মেলা বসে। এই মাসান ঠাকুরের পূজাতেই একমাত্র সংস্কৃত মন্ত্র ব্যবহার করা হয়।

(৭) খেতাওরা মাসান: দিনহাটা মহকুমার ত্রিমোহিনী গ্রামে তিন রাস্তার মোড় বট-পাকুড় গাছের নিচে খেতাওরা মাসানের থান। এই মাসান ঠাকুরের বাহন শোল মাছ। মনস্কামনা পূর্ণ করতে এখানে সবাই সুচ, সুতো মানত করে থাকেন।

এইসব মাসান ছাড়াও আরও অনেক মাসান ঠাকুর আছেন, যেমন, কুশিমারি মাসান, কানারদীঘি মাসান, সুন্দরমালা মাসান, ঘোড়া মাসান, হাতি মাসান, সিংহ মাসান, পানি মাছ মাসান, কচ্ছপ মাসান, নিষ্কিন্দা মাসান, মুড়িয়া মাসান, শ্মশান মাসান, মহাদেব মাসান, যথা মাসান, পোষা মাসান ইত্যাদি ইত্যাদি।

বিভিন্ন রকম মাসান ঠাকুর নিয়ে বেশ মজার মজার কাহিনী ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। যেমন নাঙ্গা মাসান। এই মাসান ঠাকুর সবসময় উলঙ্গ অবস্থায় থাকেন। তবে কেউ যদি উলঙ্গ মাসানের দেখা পেয়ে থাকে, সাথে সাথে তার মৃত্যু হয়। কুহুলিয়া মাসান ঠাকুর গাছে থাকেন আর গান করেন। গানে মানুষজনকে বিভোর করে মৃত্যুর দিকে টেনে নিয়ে যান। এখানে মানুষ সাধারণত পুকুরে বা জলাশয়ে ডুবে মারা যায়। অঙ্গিয়া আর ছলনা মাসান নানারকম রূপ ধরে , কৌশল করে মানুষের ওপর ভর করে থাকেন। ভুলা মাসান আবার ভুল রাস্তায় নিয়ে গিয়ে , লোকজনকে গোলকধাঁধায় ঘুরাতে থাকেন। সাধারণত ভর দুপুরে এই মাসানের দেখা পাওয়া যায়।

গোটা উত্তর বাংলা, নিন্ম আসাম, পূর্ব নেপাল জুড়ে মাসান ঠাকুরের থান বা মন্দির ছড়িয়ে আছে। এসব জায়গায় নিয়ম করে মাসান ঠাকুরের পূজা হয়। কোথাও কোথাও মেলাও বসে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই মাসান ঠাকুর উপ বা অপদেবতা হিসাবে পূজিত হন। তবে অনেক জায়গায় দেবতা হিসাবেও মাসান ঠাকুরের পূজা করা হয়। অপদেবতা মাসান ঠাকুরগুলি সাধারণতঃ একটু ভয় দেখানোর চেহারার হয় , যেমন এই মাসান ঠাকুরদের অনেকেরই বুকের মধ্যে চোখ থাকে। অনেকে আবার হাতে মুগুর নিয়ে থাকে। আবার কিছু কিছু মাসান ঠাকুরকে দেবতা হিসাবেও পূজা করা হয়ে থাকে। এই ধরণের মাসান ঠাকুরের চেহারা অনেক নরম হয়ে থাকে। এরা সাধারণতঃ ঘোড়ার পিঠে চেপে থাকেন।

মাসান ঠাকুরের নানারকম বাহন দেখা যায়। শোলমাছ, শালমাছ, হাতি, শুকর, ঘোড়া ইত্যাদি নানারকম বাহন মাসান ঠাকুর ব্যবহার করে থাকেন। কোথাও মূর্তি বানিয়ে মাসান ঠাকুরের পূজা হয়ে থাকে, আবার কোথাও কোনো পাথরের খন্ড বা মাটির ঢিবিকেও মাসান ঠাকুরের পট হিসাবে পূজা করা হয়ে থাকে। তবে যেভাবেই পূজা হয়ে থাকুক না কেন, মাসান ঠাকুরের পূজার জায়গায় একটা লাঠি বা বাঁশের মাথায় একটা লাল পতাকা বা নিশান লাগান হয়ে থাকে। মাসান ঠাকুরের থানে বিভিন্ন ধর্ম ও জাতির লোক ভক্তি ও বিশ্বাসে পূজা দিতে আসেন। জাতপাত, ধর্ম, রাজনৈতিক ভাগাভাগীর উর্ধে উঠে মাসান ঠাকুর এখনও সর্বত্রই নানা ধর্ম, জাতি, উপজাতি লোকজনের মাঝে বিরাজ করে আছেন। এই বিশ্বায়নের যুগেও মাসান ঠাকুর উত্তরবাংলার মাটির মানুষদের কাছে বিশ্বাসের আশ্রয় ও নির্ভরতার প্রতীক হিসাবেই বিরাজ বিরাজ করে আছেন।

এখানে বিভিন্ন রকমের মাসান ঠাকুরের কিছু ছবি দেওয়া হলো।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার

এই প্রবন্ধটি লেখার সময় আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্রামের কামাখ্যাগুড়ি গার্লস হাই স্কুলের ইতিহাসের শিক্ষিকা আলোকপর্ণা মান্তা অনেক তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছেন। ওনার সহযোগিতা না পেলে হয়ত এই লেখাটা সম্পূর্ণ করাই হত না। ওনার এই সহযোগিতার জন্য অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।

তথ্যসূত্র

(১) ডঃ চারুচন্দ্র সান্যাল, Rajbangshis of North Bengal, Asiatic Society, Kolkata, India, 2002

(২) হারুন উর রশীদ স্বপন, লোকসংস্কৃতি’ জীবনের সংস্কৃতি, https://p.dw.com/p/2ps6j

(৩) লোকাচারের আঙ্গিনায় উত্তরবঙ্গ, শারদীয়া কবিতাউৎসব, ১৪২৬

(৪) গিরিজা শঙ্কর রায়, উত্তরবাংলার রাজবংশী সমাজের দেবদেবী ও পূজা পার্বন, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাপত্র, http://hdl.handle.net/10603/171598

(৫) দিলীপ কুমার দে, কোচবিহারের লোকসংস্কৃতি, https://shodhganga.inflibnet.ac.in/handle/10603/171433

(৬) দেবদেবী, পূজা-পারবেন ও ব্রত, United-Sodhganga, www.shdhganga.inflibnet.ac.in

(৭) উত্তরবঙ্গের লোকসংস্কৃতি ও প্রবন্ধ , প্রেমানন্দ রায় , ধানসিড়ি প্রকাশনী, রায়গঞ্জ, উত্তরদিনাজপুর, পশ্চিমবাংলা, ভারত

রণবীর চন্দ | Ranabir Chanda

Bengali Article 2023 | সুভাষচন্দ্রের আত্মজীবনীঃ বিভিন্ন মনীষী প্রসঙ্গ

Bengali Article 2023 | কবিগুরুর মানবতার ভাবরূপ

Tebhaga Movement | বাংলায় “তেভাগা আন্দোলন” এবং সলিল চৌধুরীর গণসঙ্গী

Traditional Seth Family Durga Puja | চন্দননগরের ঐতিহ্যবাহী হরিহর শেঠ পরিবারের দুর্গাপূজা

মাশান ঠাকুর | মাশান রহস্য | মাশান ঠাকুরের থান | প্রবন্ধ | বাংলা আর্টিকেল | বাংলার লেখক | মাশান ঠাকুরের থান | মাশান রহস্য | লৌকিক দেবদেবী | কালিয়া মাসান | বাংলা প্রবন্ধ | বাংলার লেখক | প্রবন্ধ ও প্রাবন্ধিক | সেরা প্রবন্ধ ২০২২ | শব্দদ্বীপ | শব্দদ্বীপের লেখক | বাংলা ম্যাগাজিন | ম্যাগাজিন পত্রিকা | শব্দদ্বীপ ম্যাগাজিন | লৌকিক দেবতা | মাশান ঠাকুর | মাশান রহস্য | মাশান ঠাকুরের থান | মাশান ঠাকুরের শ্রেণি নির্ধারণ | মাশান ঠাকুরের জন্মবৃত্তান্ত | মাশান ঠাকুরের নাম করণ | মাশান ঠাকুরের ভূমিকা | বৈদিক দেবতা | পৌরাণিক দেবতা | মাশান ঠাকুরের প্রভাবিত অঞ্চল | মাসান ঠাকুর | মাশান ঠাকুরের পূজার উপাচারাদি | মাশান ঠাকুরের রূপভেদ | পিছলা মাশান | বাড়িকা মাশান | ছুঁচিয়া মাশান | চালান মাশান | বহতা মাশান | কালা মাশান | নাঙ্গা মাশান | কুহুলিয়া মাশান | বিষুয়া মাশান | অবুয়া মাশান | জলুয়া মাশান | শুকনা মাশান | হাওয়া মাশান | ভুলা মাশান | ড্যামসা মাশান | অঙ্গিয়া মাশান | এলিনা মাশান | চান্দিয়া মাশান | কলির মাশান | শ্মশান মাশান | বাংলা প্রবন্ধ | শব্দদ্বীপ | সবুজ বাসিন্দা স্টুডিও | মাশান ঠাকুরের পূজার নিয়ম | মাষান ঠাকুর

Mashan Thakur | Masan Thakur | Masan Mandir | Bangla Prabandha | Bengali Article | Definite Article | Writer | Lekhak | Story | Poem | Galpo | Kabita | Shabdodweep | Sabuj Basinda Studio | Masan bhoot | Masan korea | Masaan | Bengali Poetry | Bangla kobita | Kabitaguccha 2022 | Poetry Collection | Book Fair 2022 | Bengali Poem | Shabdodweep Writer | Shabdodweep | Poet | Story | Galpoguccha | Galpo | Bangla Galpo | Bengali Story | Bengali Article | Bangla Prabandha | Probondho | Definite Article | Article Writer | Short Article | Long Article | Article 2022 | Shabdodweep Founder | 19 types of Mashan Thakur | 19 types of Mashan Thakur – new article | 19 types of Mashan Thakur – history | pdf article – 19 types of Mashan Thakur | new journal – 19 types of Mashan Thakur | History India – 19 types of Mashan Thakur | 19 types of Mashan Thakur 2023 | Best article – 19 types of Mashan Thakur | News article – 19 types of Mashan Thakur | Video article – 19 types of Mashan Thakur | Trending topics – 19 types of Mashan Thakur | topic – 19 types of Mashan Thakur | full article – 19 types of Mashan Thakur | uncommon article – 19 types of Mashan Thakur | Read article – 19 types of Mashan Thakur | full pdf – 19 types of Mashan Thakur | video download – 19 types of Mashan Thakur | youtube – 19 types of Mashan Thakur | wikipedia – 19 types of Mashan Thakur | 19 types of Mashan Thakur wikipedia | Backlink – 19 types of Mashan Thakur | backlink 2023 – 19 types of Mashan Thakur | Shabdodweep article – 19 types of Mashan Thakur | Image download – 19 types of Mashan Thakur | article book – 19 types of Mashan Thakur | 19 types of Mashan Thakur – article collection | 19 types of Mashan Thakur – journal 2023 | 19 types of Mashan Thakur – web series | God – 19 types of Mashan Thakur | 19 types of Mashan Thakur – Festival

1 thought on “19 types of Mashan Thakur | মাসান ঠাকুর | Ranabir Chanda”

  1. The information given in these blogs and websites are well researched and awesome. I never found this kind of blog anywhere. I love to share my experiences and recommendations about this website.

    Reply

Leave a Comment